সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর (Class 10) | মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা, তোমাদের বাংলা পাঠ্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কবিতা হল সৈয়দ আলাওলের লেখা ‘সিন্ধুতীরে‘। এই কবিতা থেকে প্রতি বছরই বড় প্রশ্ন আসে। তাই, আজকের এই পোস্টে আমরা সিন্ধুতীরে কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই প্রশ্নগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করলে তোমরা পরীক্ষায় অবশ্যই ভালো ফল করতে পারবে এবং সিন্ধুতীরে কবিতা থেকে আসা যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে।

সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর (Class 10) মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন

সিন্ধুতীরে
সৈয়দ আলাওল
দশম শ্রেণী ( সাহিত্য সঞ্চয়ন )

MCQ & SAQ
প্রশ্নোত্তর আলোচনা

১. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি কার লেখা?
উঃ- সৈয়দ আলাওলের লেখা।

২. সৈয়দ আলাওল কোন সময়ের কবি?
উঃ- মধ্যযুগের কবি।

৩. সৈয়দ আলাওল কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
উঃ- আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন।

৪. কবি সৈয়দ আলাওল কোন সময়ে জন্মগ্রহণ করেন?
উঃ- ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে।

৫. সৈয়দ আলাওলের আদি নিবাস কোথায় ছিল?
উঃ- ফাতেহাবাদ মুলুকের জালালপুর গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত)।

৬. আমাদের আলোচ্য ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উঃ- সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ৩৫ তম খণ্ড ‘পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৭. ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটির রচনাকাল উল্লেখ করো।
উঃ- আনুমানিক ১৬৪৫ – ১৬৪৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।

৮. সৈয়দ আলাওল তাঁর ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি কোন কাব্য অনুসরণে রচনা করেন?
উঃ- সুফি সাধক ও বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্য অনুসরণে রচনা করেন।

৯. ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে বর্ণিত চিতোর রাজ্যের রাজা কে ছিলেন?
উঃ- রত্নসেন।

১০. পদ্মাবতী কে?
উঃ- রানা রত্ন সেনের স্ত্রী এবং সিংহলের রাজকন্যা।

১১. সৈয়দ আলাওলের প্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
উঃ- ‘পদ্মাবতী’ কাব্য।

১২. সৈয়দ আলাওল কার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি রচনা করেন?
উঃ- আরাকান রাজ্যের প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায়।

১৩. ‘কন্যারে ফেলিল যথা’- কন্যা কে?
উঃ- পদ্মাবতী।

১৪. কন্যাকে কোথায় ফেলা হয়েছিল?
উঃ- সমুদ্রের মাঝে যেখানে দিব্যপুরী অবস্থিত।

১৫. সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত দিব্যপুরীটি কেমন?
উঃ- অতি মনোহর।

১৬. ‘মনোহর’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- অতি সুন্দর/চিত্তাকর্ষক।

১৭. ‘দিব্যপুরী’ – বলতে কী বোঝায়?
উঃ- স্বর্গীয় স্থানকে বোঝায় (এখানে সুন্দর প্রাসাদকে বোঝানো হয়েছে)।

১৮. “নাহি তথা দুঃখ ক্লেশ” – কোথায় দুঃখ ক্লেশ নেই?
উঃ- সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত স্বর্গীয় প্রাসাদে।

১৯. ‘ক্লেশ’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- কষ্ট।

২০. কোথায় সত্য ধর্ম সদাচার বিরাজ করে?
উঃ- সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত মনোহর দেশে।

২১. ‘সমুদ্র নৃপতি সুতা’ সমুদ্র নৃপতি সুতা কে?
উঃ- পদ্মা।

২২. ‘পদ্মা নামে গুণযুতা’ এখানে ‘গুণযুতা’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- পদ্মা নামে পরিচিত/যাকে পদ্মা নামে জানি।

২৩. কোথায় দিব্যস্থান অবস্থিত?
উঃ- সিন্ধুতীরে।

২৪. ‘দিব্যস্থান’ – বলতে কী বোঝায়?
উঃ- স্বর্গের মতো মনোরম স্থানকে বোঝায়।

২৫. পদ্মা কোথায় উদ্যান রচনা করেছিল?
উঃ- দিব্য স্থানটির উপরে অবস্থিত পর্বতের পাশে।

২৬. ‘ফলে ফুলে অতিরেক’ – এখানে ‘অতিরেক’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- অধিক/প্রচুর।

২৭. ‘নানা পুষ্প মনোহর’ – পুষ্প গুলি কেমন?
উঃ- অধিক সুগন্ধ যুক্ত।

২৮. ‘সুগন্ধি সৌরভতর’ – শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- অধিক সুগন্ধযুক্ত।

২৯. পদ্মার উদ্যানে কী ধরনের বৃক্ষ দৃশ্যমান?
উঃ- সুলক্ষণ যুক্ত বৃক্ষ দৃশ্যমান।

৩০. ‘সুলক্ষণ’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- শুভ লক্ষণ যুক্ত।

৩১. “তাহাতে বিচিত্র টঙ্গি” – ‘টঙ্গি’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- প্রাসাদ।

৩২. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ” – কোথায় কে সর্বক্ষণ থাকে?
উঃ- সমুদ্রের মাঝে ফলে ফুলে সমৃদ্ধ, হেম রত্নে মণ্ডিত এক অতি মনোহর রাজপ্রাসাদে সমুদ্র কন্যা পদ্মা থাকে।

৩৩. “হেমরত্নে নানা রত্নী”- লাইনটির সরল অর্থ লেখো।
উঃ- বহু বর্ণের সোনা শোভা পাচ্ছে।

৩৪. ‘পিতৃপুরে ছিল নিশি’- কে সারা রাত্রি পিতৃপুরে ছিল?
উঃ- পদ্মা।

৩৫. ‘পিতৃপুর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উঃ- পিতার গৃহে বা প্রাসাদে।

৩৬. পিতৃপুরে পদ্মার কীভাবে নিশি কেটেছিল?
উঃ- নানা সুখে এবং হাসি খেলার মাধ্যমে নিশি কেটেছিল।

৩৭. ‘প্রত্যুষ’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- ভোর।

৩৮. পদ্মা কাদের সঙ্গে উদ্যানে এসেছিল?
উঃ- সখীদের সাথে।

৩৯. পদ্মা সখীদের সঙ্গে কেমন ভাবে উদ্যানে এসেছিল?
উঃ- রঙ্গ বা হাসি আনন্দ করতে করতে।

৪০. “সিন্ধু তীরে রহিছে মাঞ্জস’ – ‘মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- ভেলা।

৪১. ‘মনেতে কৌতুক বাসি’ কার মনে কৌতূহল দেখা দিয়েছিল?
উঃ- পদ্মার মনে।

৪২. ‘তুরিত গমনে আসি’ – ‘তুরিত’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- অতি দ্রুত।

৪৩. তুরিত গমনে এসে পদ্মা কী দেখতে পেলেন?
উঃ- মাঝখানে অতি সুন্দর একটি কন্যা এবং পাশে চারটি সখী অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে।

৪৪. ‘চারিভিত’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- চারিদিক/চারপাশে।

৪৫. ‘মধ্যেতে যে কন্যাখানি’- মাঝের কন্যাটির পরিচয় দাও।
উঃ- মাঝের কন্যাটি হলেন রানা রত্ন সেনের স্ত্রী এবং সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতী।

৪৬. মাঝের কন্যার রূপ সৌন্দর্যের পরিচয় দাও।
উঃ- মাঝের কন্যা অর্থাৎ পদ্মাবতী অপরূপ সুন্দরী। যেন স্বর্গের রম্ভাকেও সৌন্দর্যে পরাজিত করেছেন।

৪৭. ‘রূপে অতি রম্ভা জিনি’ – লাইনটির সরলার্থ লেখো।
উঃ- রূপের সৌন্দর্যে যেন রম্ভাকেও জয় করেছেন।

৪৮. ‘জিনি’ – শব্দের অর্থ কী?
উঃ- জয় করা।

৪৯. ‘বিস্মিত হইল বালা’ – এখানে বালা কে?
উঃ- সমুদ্র রাজার কন্যা পদ্মা।

৫০. বালার বিস্মিত হওয়ার কারণ কী?
উঃ- সিন্ধুতীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পঞ্চকন্যার মধ্যে মাঝের কন্যাটির রূপ সৌন্দর্য দেখে বালা অর্থাৎ পদ্মা বিস্মিত হয়েছিলেন।

৫১. রম্ভা কে?
উঃ- রম্ভা হলেন স্বর্গের অপ্সরী।

৫২. ‘নিপতিতা চেতন রোহিত।।’ লাইনটির সরলার্থ লেখো।
উঃ- অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে।

৫৩. ‘অনুমান করে নিজ চিতে’ – ‘চিতে’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- চেতনাতে/মনে/হৃদয়ে।

৫৪. পদ্মা মাঝের কন্যাটিকে দেখে কী অনুমান করেছিল?
উঃ- হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে বিদ্যাধরি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে অচৈতন্য অবস্থায় ভূমিতে পড়ে আছে।

৫৫. ‘বিদ্যাধরি’ কে?
উঃ- স্বর্গের গায়িকা।

৫৬. ‘বেকত দেখিয়া আঁখি’ – ‘বেকত’ শব্দের অর্থ লেখো।
উঃ- প্রকাশিত।

৫৭. ‘তেন স-বসন সাক্ষী’ – লাইনটির সরলার্থ লেখো।
উঃ- তার কাপড় সাক্ষী।

৫৮. ‘বেথানিত হৈছে কেশ বেশ’- ‘বেথানিত’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- এলোমেলো বা অবিন্যস্ত।

৫৯. ‘বুঝি সমুদ্রের নাও ভাঙিল প্রবল বাও’ – কে এটি অনুমান করেছেন?
উঃ- পদ্মা অনুমান করেছেন যে, সমুদ্রের প্রবল বাতাস হয়তো অচৈতন্য পঞ্চকন্যাদের নৌকা ভেঙে দিয়েছে।

৬০. ‘মোহিত পাইয়া সিন্ধু ক্লেশ’ – সিন্ধু ক্লেশ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উঃ- পদ্মাবতীকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখে সমুদ্র কন্যা পদ্মা অনুমান করেন যে, সমুদ্র ঝড়ে আক্রান্ত হয়ে নৌকাডুবি হওয়ার ফলে সামুদ্রিক পীড়া বা সমুদ্রের ক্লেশের ফলে তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন।

ন্যস্থান পূরণ করো সিন্ধুতীরে

৮৪. “তাহাতে বিচিত্র টঙ্গি __ নানা রত্নী।”
উঃ- হেমরত্নে।

৮৫. ‘দিব্য পুরী __ মাঝার।’
উঃ- সমুদ্রা।

৮৬. “সিন্ধুতীরে রহিছে _।”
উঃ- মাঞ্জস।

৮৭. “তব্রে মন্ত্রে _ দিয়া।”
উঃ- মহৌষধি।

৭২. ‘দুঃখিনীরে করিয়া স্মরণ’ – আলোচ্য অংশে দুঃখিনী কে?
উঃ- সমুদ্র কন্যা পদ্মা।

৭৩. ‘সখি সবে আজ্ঞা দিল’ – পদ্মা তাঁর সখীদের কী আজ্ঞা দিলেন?
উঃ- বসন দিয়ে ঢেকে পঞ্চ কন্যাদের উদ্যানের মাঝে নেবার জন্য আজ্ঞা দিলেন।

৭৪. ‘পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন’ – পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিল?
উঃ- পদ্মার আদেশে তার সখীদের সেবা যত্নে এবং তন্ত্র-মন্ত্র ওষুধ প্রয়োগে চার দণ্ড চিকিৎসা করার পর পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেয়েছিল।

৭৫. ‘দণ্ড’ কী?
উঃ- সময় মাপার একক।

৭৬. এক দণ্ড সমান কত মিনিট?
উঃ- ২৪ মিনিট।

৭৭. চার দণ্ডে কত মিনিট হয়?
উঃ- ৯৬ মিনিট।

৭৮. পঞ্চকন্যার নাম লেখো।
উঃ- পদ্মাবতী, চন্দ্রকলা, রোহিণী, বিজয়া ও বিধুন্মলা।

৭৯. ‘শ্রীযুত মাগন গুণী’ – মাগন কে?
উঃ- মাগন হলেন আরাকান রাজ থদোমিনতারের প্রধান অমাত্য। এই মাগন ঠাকুরের নির্দেশেই আলাওল পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।

৮০. অচেতন পঞ্চ কন্যাকে কিভাবে সারিয়ে তোলা হয়?
উঃ- তন্ত্র মন্ত্র ঔষধ প্রয়োগ করে।

৮১. ‘হীন আলাওল সুরচন’ কাব্যের মধ্যে কবির এমন আত্মপরিচয় দান করাকে কী বলা হয়?
উঃ- ভনিতা।

৮২. ‘শ্রীযুতগণ গুণী’ কবি আলাওল তাঁর কবিতায় মাগনের নাম উল্লেখ করেছেন কেন?
উঃ- আরাকান রাজ্যের প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সহায়তায় কবি ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি রচনা করেন। তাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা জানাতেই তিনি মাগন ঠাকুরের নাম উল্লেখ করেছেন।

রচনাধর্মী প্রশ্ন ৫ সিন্ধুতীরে

১) ‘অতি মনোহর দেশ’ – এই মনোহর দেশের সৌন্দর্যের পরিচয় দাও। (মাধ্যমিক, ২০১৯)
অথবা
‘অতি মনোহর দেশ’ – সিন্ধুতীরে কবিতাংশ অবলম্বনে মনোহর দেশের সৌন্দর্যের পরিচয় দাও। (পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন)

উত্তরঃ কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা পাঠ্য ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা অনুসারে পদ্মাবতী সমুদ্রের তীরে যেখানে পড়েছিলেন, সেখানে একটি অনন্য সৌন্দর্যময় নগরী অবস্থিত। সেখানে দুঃখদুর্দশার লেশ মাত্র নেই। ন্যায়, সত্যধর্ম ও সদাচার সেখানে সর্বদা বিরাজমান।
সেই সমুদ্র তীরবর্তী স্থানে পর্বত সমীপে সমুদ্ররাজ ও তাঁর কন্যার বাসস্থান। সমুদ্র-অধিপতি-কন্যা পদ্মা সেখানে এক উদ্যান রচনা করেছিলেন। নানা সৌন্দর্যময় ও সুগন্ধি ফুলে সে-উদ্যান সুরভিত।
সেইসব ফুলের সৌরভ মূল্যবান সুগন্ধির চেয়েও সুগন্ধময়। সমুদ্রসুতার এই উদ্যানটি বিভিন্ন ধরনের সুলক্ষণযুক্ত বৃক্ষে পরিপূর্ণ। এইখানে মণিমাণিক্যখচিত প্রাসাদে রাজকন্যা বসবাস করতেন। হতচেতন পদ্মাবতী তাঁর সখীসহ এখানে এসে পড়েছিলেন।
(নীচের অংশে ব্যানার) বাংলা সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্নের সমাধানের জন্য কমেন্ট করো

২) ‘কন্যারে ফেলিল যথা’-কন্যার পরিচয় দাও। তাকে যেখানে ফেলা হয়েছিল, সেই স্থানটি কীরূপ ছিল?

উত্তরঃ সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের থেকে গৃহীত ‘সিন্ধুতীরে’ নামক পদ্যাংশ থেকে কন্যার পরিচয় আলোচ্য অংশটি উদ্ধৃত। কাব্যের মুখ্য চরিত্র পদ্মাবতীকেই এখানে ‘কন্যা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। পদ্মাবতী ছিলেন সিংহল রাজদুহিতা। ইতিহাস ও লোকশ্রুতি অনুসারে এই পদ্মাবতী পরবর্তীকালে চিতোরের রানা রত্নসেনের দ্বিতীয় পত্নীর মর্যাদা লাভ করেন।
(নীচের অংশে ব্যানার)

পাঠ্য ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা অনুসারে পদ্মাবতী সমুদ্রের তীরে যেখানে পড়েছিলেন, সেখানে একটি অনন্য সৌন্দর্যময় নগরী অবস্থিত। সেখানে দুঃখদুর্দশার লেশ মাত্র নেই। ন্যায়, সত্যধর্ম ও সদাচার সেখানে সর্বদা বিরাজমান। সেই সমুদ্র তীরবর্তী স্থানে পর্বত সমীপে সমুদ্ররাজ ও তাঁর কন্যার বাসস্থান। সমুদ্র-অধিপতি-কন্যা পদ্মা সেখানে এক উদ্যান রচনা করেছিলেন। নানা সৌন্দর্যময় ও সুগন্ধি ফুলে সে – উদ্যান সুরভিত। সেইসব ফুলের সৌরভ মূল্যবান সুগন্ধির চেয়েও সুগন্ধময়। সমুদ্রসুতার এই উদ্যানটি বিভিন্ন ধরনের সুলক্ষণযুক্ত বৃক্ষে পরিপূর্ণ। এইখানে মণিমাণিক্যখচিত প্রাসাদে রাজকন্যা বসবাস করতেন। হতচেতন পদ্মাবতী তাঁর সখীসহ এখানে এসে পড়েছিলেন।

৩) ‘তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।”-কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে? কন্যা কোথায় এবং কেন সর্বক্ষণ থাকে?
উত্তরঃ কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা ‘পদ্মাবতী’ কবিতায় উল্লিখিত অংশে ‘কন্যা’ বলতে ‘সমুদ্রকন্যা’ পদ্মার কথা বলা হয়েছে। রাজসভার কন্যা কোথায় এবং কেন সর্বক্ষণ থাকে

কবি আলাওল সিন্ধুতীরের যে অংশে পদ্মাবতী অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিল সেখানকার এক সুন্দর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। ‘সমুদ্রনৃপতিসুতা’ পদ্মা এখানেই তার বাসস্থান গড়ে তোলেন। অপরূপ সৌন্দর্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য স্থানটিকে দিব্যভূমির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেখানে কোনো দুঃখকষ্ট ছিল না। ছিল শুধু সদাচরণ ও সত্যধর্ম পালনের অভ্যাস। সেই দিব্যভূমির উপরের দিকে ছিল এক পর্বত। সেখানে সমুদ্রকন্যা পদ্মা এক উদ্যান তৈরি করেন। যে-উদ্যান ফল ও ফুলের প্রাচুর্য ছিল। নানান ফুলের সুগন্ধে বাগানটি ভরে থাকত। এরই মাঝে পদ্মা রত্নশোভিত বিচিত্র প্রাসাদ গড়ে তোলেন। এইরূপ অপরূপ রূপময় সৌন্দর্যপূর্ণ স্থান পরিত্যাগ করতে কারই বা ভালো লাগে। তাই পদ্মাও সমুদ্রতীরের সেই দিব্যস্থান ত্যাগ না করে সেখানেই সর্বক্ষণ থাকেন।

৪) ‘পঞ্চকন্যা পাইল চেতন/-পঞ্চকন্যা কাদের বলা হয়েছে। পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিল?

উত্তরঃ ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি সৈয়দ আলাওল রচিত। এই কবিতায় পঞ্চকন্যা বলতে সিংহল রাজকন্যা ‘পদ্মাবতী’ ও তার চার সখীকে (চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিণী, বিষন্নলা) বোঝানো হয়েছে। প্রাতঃকালে ভ্রমণরতা পদ্মা সমুদ্রতীরে ভেলায় চার সখীসহ অপরূপ পদ্মাবতীকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। তাদের বসন ও কেশ বিন্যাস দেখে পদ্মার মনে হয়েছিল সমুদ্রের প্রবল ঝড়ে তাদের এই অবস্থা। মমতাবশত পদ্মা তাদের পরীক্ষা করে দেখেন যে, তাদের মধ্যে সামান্যতম শ্বাস বর্তমান। স্নেহময়ী পদ্মা বিধাতার ওপর বিশ্বাস রেখে দেবতাদের কাছে অচৈতন্য পঞ্চকন্যার জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি দেবতার কাছে এও অঙ্গীকার করেন যে, তিনি এই কন্যাদের প্রাণপণে চিকিৎসা করবেন। সেইমতো সখীদের তিনি নির্দেশও দেন। সঙ্গীরা পঞ্চকন্যাকে কাপড়ে ঢেকে উদ্যানের মাঝে আনেন। তারপর তাদের মাথায় ও পায়ে গরম সেঁক দেওয়া হয়, এ ছাড়া মন্ত্র-তন্ত্র-মহৌষধ সব কিছুই প্রয়োগ করা হয়। এইভাবে চারদণ্ড চলার পর পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পান।

৫) ‘দেখিয়া রূপের কলা বিস্মিত হইল বালা/ অনুমান করে নিজ চিতে’ – ‘বালা’ শব্দের অর্থ কী? তার বিস্মিত হওয়ার কারণ কী? তাকে দেখে বক্তার কী মনে হয়েছিল?

উত্তরঃ সপ্তদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে আমাদের পাঠ্য ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি গৃহীত। এখানে ‘বালা’ শব্দের অর্থ ‘কন্যা’। কবিতায় ‘বালা’ বলতে সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে।
বিস্মিত হওয়ার কারণ : সমুদ্রকন্যা পদ্মা সমুদ্রতীরে ভেলায় চার সখী পরিবৃতা এক অপরূপা সুন্দরী রমণীকে দেখেছিলেন। তাকে দেখে তাঁর রম্ভা অর্থাৎ স্বর্গের অপ্সরা বলে মনে হয় এবং তিনি তার রূপে বিস্মিত হন।

বক্তার প্রতিক্রিয়া : সখী পরিবৃতা অচৈতন্য পদ্মাবতীর রূপ-লাবণ্য দেখে পদ্মা তাকে স্বর্গের অপ্সরার সঙ্গে তুলনা করেন এবং বিস্মিত হন। তিনি এও চিন্তা করেন যে, কন্যা বুঝি স্বর্গের গায়িকা বিদ্যাধরী। ইন্দ্রের শাপে হয়তো স্বর্গ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছেন। তার (তাদের) অচৈতন্য অবস্থায় অপলক চাহনি, পরনের কাপড় ও মাথার চুলের অবিন্যস্ত অবস্থা দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মার মনে হয় এই কন্যারা প্রবল সমুদ্র ঝড়ের মুখে পড়েছিল। তাই হয়তো তাদের নৌকা ভেঙে গিয়েছিল কিংবা সমুদ্রপীড়ায় কাবু হওয়ার ফলে তাদের এই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অচৈতন্য পদ্মাবতীকে পরীক্ষা করার সময় পদ্মার মনে হয়েছে অপূর্ব সুন্দরী কন্যা যেন পটে আঁকা ছবি।

Leave a Comment