Madhyamik History Suggestion 2026: মাধ্যমিক ইতিহাস সম্পূর্ণ পাঠ্যবই-ভিত্তিক অধ্যায় অনুযায়ী প্রশ্নাবলী | WBBSE Class 10
নমস্কার, মাধ্যমিক ২০২৬-এর সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগত।
ইতিহাস বিষয়ে ভালো নম্বর পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরি। তোমাদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে আমরা দশম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় থেকে ২ নম্বর, ৪ নম্বর এবং ৮ নম্বরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাজেশন তৈরি করেছি।
এই প্রশ্নগুলি তোমাদের প্রথম ইউনিট টেস্ট থেকে শুরু করে ফাইনাল মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সাহায্য করবে। নিচে অধ্যায়-ভিত্তিক প্রশ্নাবলী তালিকা আকারে দেওয়া হল।
প্রথম অধ্যায় – ইতিহাসের ধারণা Madhyamik History Suggestion 2026
বহুবিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১)
১. আধুনিক ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কী?
(ক) স্মৃতিকথা, (খ) সরকারি নথিপত্র, (গ) সংবাদপত্র, (ঘ) ব্যক্তিগত পত্র
উত্তরঃ (খ) সরকারি নথিপত্র।
২. কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের ইতিহাস কোন শাখায় অন্তর্ভুক্ত হবে?
(ক) ফোটোগ্রাফির ইতিহাস, (খ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ইতিহাস, (গ) পরিবেশের ইতিহাস, (ঘ) খেলাধুলার ইতিহাস।
উত্তরঃ (খ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ইতিহাস।
৩. কোন শহরকে ‘বাণিজ্য শহর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়?
(ক) কলকাতা, (খ) বিহার, (গ) মুম্বাই, (ঘ) গুজরাট।
উত্তরঃ (গ) মুম্বাই।
৪. কলহনের ‘রাজতরঙ্গিনী’ এর ইতিহাসের কোন শাখার অন্তর্গত?
(ক) সামরিক ইতিহাস, (খ) পরিবেশের ইতিহাস, (গ) স্থানীয় ইতিহাস, (ঘ) খেলাধুলার ইতিহাস।
উত্তরঃ (গ) স্থানীয় ইতিহাস।
৫. দাদাসাহেব ফালকে কিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
(ক) চলচ্চিত্রের সঙ্গে, (খ) ক্রীড়া জগতের সঙ্গে, (গ) পরিবেশের ইতিহাসচর্চার সঙ্গে, (ঘ) স্থানীয় ইতিহাসচর্চার সঙ্গে।
উত্তরঃ (ক) চলচ্চিত্রের সঙ্গে।
৬. মোহনবাগান ক্লাব আই এফ এ শিল্ড কোন সালে জয় করেছিল?
(ক) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে, (খ) ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে, (গ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে, (ঘ) ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ (ক) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে।
৭. নীলকরদের অত্যাচারের তথ্য পাওয়া যায় কোন পত্রিকায়?
(ক) তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায়, (খ) বঙ্গদর্শন পত্রিকায়, (গ) সোমপ্রকাশ পত্রিকায়, (ঘ) সঞ্জীবনী পত্রিকায়।
উত্তরঃ (গ) সোমপ্রকাশ পত্রিকায়।
৮. ‘চিপকো আন্দোলন’ ভারতে কোন ধরনের আন্দোলন ছিল?
(ক) পরিবেশ আন্দোলন, (খ) শ্রমিক আন্দোলন, (গ) ভাষা আন্দোলন, (ঘ) কৃষক আন্দোলন।
উত্তরঃ (ক) পরিবেশ আন্দোলন।
৯. ইতিহাসের জনক কাকে বলা হয়?
(ক) হেরোডোটাসকে, (খ) ইবন খালদুনকে, (গ) থুকিডিডিসকে, (ঘ) ভিনসেন্ট স্মিথকে।
উত্তরঃ (ক) হেরোডোটাসকে।
১০. ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, (খ) সুভাষ চন্দ্র বসু, (গ) বিপিন চন্দ্র পাল, (ঘ) সরলা দেবী চৌধুরানী।
উত্তরঃ (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১১. ভারতে প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি ছিল?
(ক) বালিকা বধূ, (খ) রাজা হরিশচন্দ্র, (গ) জামাই ষষ্ঠী, (ঘ) বিল্ব মঙ্গল।
উত্তরঃ (খ) রাজা হরিশচন্দ্র।
১২. ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা জওহরলাল নেহেরুর চিঠিগুলোর হিন্দি অনুবাদ করেছেন কে?
(ক) মুন্সি প্রেমচাঁদ, (খ) খুশবন্ত সিং, (গ) সাদাত হাসান মান্টো, (ঘ) কৃষ্ণন চন্দরা।
উত্তরঃ (ক) মুন্সি প্রেমচাঁদ।
১৩. ‘সোমপ্রকাশ’ কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
(ক) সাপ্তাহিক পত্রিকা, (খ) মাসিক পত্রিকা, (গ) দৈনিক পত্রিকা, (ঘ) পাক্ষিক পত্রিকা।
উত্তরঃ (ক) সাপ্তাহিক পত্রিকা।
১৪. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কোন সালে?
(ক) ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে, (খ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে, (গ) ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে, (ঘ) ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ (খ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে।
১৫. ‘জীবনের ঝরাপাতা’ গ্রন্থটি কী ধরনের গ্রন্থ?
(ক) আত্মজীবনী, (খ) কাব্যগ্রন্থ, (গ) জীবনীগ্রন্থ, (ঘ) উপন্যাস।
উত্তরঃ (ক) আত্মজীবনী।
১৬. বিপিনচন্দ্র পাল কোন গ্রন্থ লিখেছিলেন?
(ক) সত্তর বৎসর, (খ) আনন্দমঠ, (গ) জীবনস্মৃতি, (ঘ) এ নেশন ইন মেকিং।
উত্তরঃ (ক) সত্তর বৎসর।
১৭. ‘অ্যানালস’ পত্রিকা গোষ্ঠী কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) ইংল্যান্ডে, (খ) ফ্রান্স, (গ) জার্মানি, (ঘ) রাশিয়া।
উত্তরঃ (খ) ফ্রান্স।
১৮. “তথ্য অনুসন্ধানের আগে ঐতিহাসিককে তাদের উপলব্ধি করতে হবে” — এই মতবাদটি কে করেছেন?
(ক) লর্ড অ্যাকটন, (খ) ডঃ হার্টার, (গ) জি.এম. ট্রেভেলিয়ান, (ঘ) জে.বি. বিউরি।
উত্তরঃ (গ) জি.এম. ট্রেভেলিয়ান।
১৯. “ইতিহাস হল অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে অবিরাম আলোচনা” — এই উক্তিটি কোন ইতিহাসবিদের?
(ক) থুকিডিডিস, (খ) লর্ড অ্যাকটন, (গ) এডমন্ড বার্ক, (ঘ) ই.এইচ. কার।
উত্তরঃ (ঘ) ই.এইচ. কার।
২০. পেশাদারি ইতিহাস রচনা শুরু করেন –
(ক) মার্ক ব্লখ, (খ) লুসিয়েন ফেভর, (গ) লিওপোল্ড র্যাঙ্কে, (ঘ) জুরগেন কোকা।
উত্তরঃ (গ) লিওপোল্ড র্যাঙ্কে।
২১. ‘হিস্টোরিয়া’ (Historia) শব্দটি কী ভাষা থেকে এসেছে, যার মাধ্যমে ‘হিস্ট্রি’ (History) শব্দটি উদ্ভূত?
(ক) ইংরেজি, (খ) স্পেনীয়, (গ) গ্রিক, (ঘ) জার্মানি।
উত্তরঃ (গ) গ্রিক।
২২. ইতিহাসের প্রথম পেশাদার ইতিহাসবিদ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি কে?
(ক) থুকিডিডিস, (খ) হেরোডোটাস, (গ) টাসিটাস ফ্ল্যাবিয়াস, (ঘ) জোসেফাস।
উত্তরঃ (খ) হেরোডোটাস।
২৩. ক্রিকেটে খেলা প্রথম কোথায় শুরু হয়েছিল?
(ক) অস্ট্রেলিয়া, (খ) ওয়েস্ট ইন্ডিজ, (গ) জার্মানি, (ঘ) ইংল্যান্ড।
উত্তরঃ (ঘ) ইংল্যান্ড।
২৪. নতুন সামাজিক ইতিহাসের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত কোনটি?
(ক) সোস্যাল সায়েন্স হিস্ট্রি, (খ) সোশ্যাল হিস্ট্রি, (গ) দ্য ক্রিপ্টোপেট্রা, (ঘ) সোসাইটি ফর হিস্ট্রি।
উত্তরঃ (ক) সোস্যাল সায়েন্স হিস্ট্রি।
২৫. নতুন সামাজিক ইতিহাস গবেষণা শুরু হয় কখন?
(ক) ১৯৬০ – এর দশকে, (খ) ১৯৫০ – এর দশকে, (গ) ১৯২০ – এর দশকে, (ঘ) ১৯৪০ – এর দশকে।
উত্তরঃ (ক) ১৯৬০ – এর দশকে।
২৬. নতুন সামাজিক ইতিহাসে আলোচ্য বিষয় কোনটি?
(ক) ভদ্রলোক, (খ) সাধারণ মানুষ, (গ) চাকরিজীবী, (ঘ) বুদ্ধিজীবী।
উত্তরঃ (খ) সাধারণ মানুষ।
২৭. ভারতে নিম্নবর্গের ইতিহাসের সূচনা কে করেছিলেন?
(ক) এ.এল. রাউজ, (খ) দাদভাই নৌরজী, (গ) সি.এম. যোশী, (ঘ) রণজিৎ গুহ।
উত্তরঃ (ঘ) রণজিৎ গুহ।
২৮. ভারতের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
(ক) রাজতরঙ্গিনী, (খ) রামচরিতমানস, (গ) অর্থশাস্ত্র, (ঘ) বাবরনামা।
উত্তরঃ (ক) রাজতরঙ্গিনী।
২৯. রণজিৎ গুহ কোন ধরনের ঐতিহাসিক ছিলেন?
(ক) নিম্নবর্গীয় ঐতিহাসিক, (খ) জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিক, (গ) সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিক, (ঘ) মার্কসবাদী ঐতিহাসিক।
উত্তরঃ (ক) নিম্নবর্গীয় ঐতিহাসিক।
৩০. ‘দ্য অ্যানালস’ পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কে ছিলেন?
(ক) লুসিয়েন ফেভর, (খ) যদুনাথ সরকার, (গ) মার্ক অ্যান্টনি, (ঘ) কীথ চ্যাপস।
উত্তরঃ (ক) লুসিয়েন ফেভর।
৩১. অ্যানালস পত্রিকার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
(ক) সামাজিক ইতিহাস, (খ) সামরিক ইতিহাস, (গ) আঞ্চলিক ইতিহাস, (ঘ) লোকসংস্কৃতি।
উত্তরঃ (ক) সামাজিক ইতিহাস।
৩২. ভারতে ফুটবল খেলার সূচনা কারা করেছিলেন?
(ক) ফরাসিরা (খ) ইংরেজরা (গ) পোর্তুগিজরা (ঘ) ওলন্দাজরা।
উত্তরঃ (খ) ইংরেজরা।
৩৩. ১৯১১ সালে আইএফএ শিল্ড বিজয়ী দলের অধিনায়ক কে ছিলেন?
(ক) গোষ্ঠ পাল (খ) শিবদাস ভাদুড়ী (গ) শৈলেন মান্না (ঘ) চুনি গোস্বামী।
উত্তরঃ (খ) শিবদাস ভাদুড়ী।
৩৪. ভারতে প্রথম হকি ক্লাব কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) মাদ্রাজে (খ) কলকাতায় (গ) গোয়ায় (ঘ) বোম্বেতে।
উত্তরঃ (খ) কলকাতায়।
৩৫. ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কোন সালে?
(ক) ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ (খ) ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে।
৩৬. ভারতে রেলপথ ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন –
(ক) লর্ড ডালহৌসি (খ) লর্ড আমহার্স্ট (গ) লর্ড ডাফরিন (ঘ) লর্ড ক্যানিং।
উত্তরঃ (ক) লর্ড ডালহৌসি।
৩৭. ভারতে প্রথম রেলপথ চালু হয়েছিল –
(ক) ১৮৫৩ সালে (খ) ১৮৫০ সালে (গ) ১৮৫২ সালে (ঘ) ১৮৭২ সালে।
উত্তরঃ (ক) ১৮৫৩ সালে।
৩৮. স্থানীয় ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়গুলো কী কী?
(ক) স্থানীয় ব্যক্তি বা সম্প্রদায়, (খ) স্থানীয় স্থাপত্য, (গ) স্থানীয় বিষয়, (ঘ) এগুলোর সবকটি।
উত্তরঃ (ঘ) এগুলোর সবকটি।
অতিরিক্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নঃ
১. কোন বড়লাট ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন? উত্তরঃ লর্ড লিটন ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।
২. ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? উত্তরঃ লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সরলাদেবী চৌধুরানী।
৩. কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? উত্তরঃ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. ভারতবর্ষে প্রথম जनगणना কবে শুরু হয়েছিল? উত্তরঃ ভারতবর্ষে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম জনগণনা শুরু হয়েছিল।
৫. ‘নমো হিন্দুস্তান’ সঙ্গীতটির রচয়িতা কে? উত্তরঃ ‘নমো হিন্দুস্তান’ সঙ্গীতটির রচয়িতা সরলাদেবী চৌধুরানী।
৬. ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটির রচয়িতা কে? উত্তরঃ ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৭. সরকারি নথিপত্র কোথায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়? উত্তরঃ সরকারি নথিপত্র সরকারি মহাফেজখানা এবং লেখ্যাগারে সংরক্ষণ করা হয়।
৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরে ভারতীয় নৃত্যকে জনপ্রিয় করেছিলেন কে? উত্তরঃ উদয় শংকর।
৯. ভারতের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থের নাম কী? উত্তরঃ রাজতরঙ্গিনী।
১০. ভারতে প্রদর্শিত প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র কোনটি? উত্তরঃ জামাইষষ্ঠী।
১১. ভারতে প্রদর্শিত প্রথম ভারতীয় সবাক চলচ্চিত্র কোনটি? উত্তরঃ আলম আরা।
১২. কেকের দেশ হিসেবে কোন দেশকে অভিহিত করা হয়? উত্তরঃ স্কটল্যান্ড।
১৩. ‘পঞ্চ রসগোল্লা’ প্রথম তৈরি করেছিলেন কে? উত্তরঃ নবীন চন্দ্র দাস।
১৪. রসগোল্লা তৈরি করেছিলেন কে? উত্তরঃ হারাধন ময়রা।
১৫. খেলাধুলার ইতিহাসে ক্রিকেট নিয়ে গবেষণা করা একজন ভারতীয় নাম লেখানো। উত্তরঃ বোরিয়া মজুমদার।
১৬. প্রথম অলিম্পিক খেলা কোন সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল? উত্তরঃ ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দ।
১৭. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা কখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? উত্তরঃ ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (সাপ্তাহিক হিসেবে)।
১৮. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? উত্তরঃ ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ।
১৯. বাংলা ভাষায় প্রথম রাজনৈতিক পত্রিকার নাম কী? উত্তরঃ বাংলা ভাষায় প্রথম রাজনৈতিক পত্রিকা ছিল ‘সোমপ্রকাশ’।
২০. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা কখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? উত্তরঃ ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে।
২১. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? উত্তরঃ ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
২২. প্রথম বাঙালি পুস্তক বিক্রেতা এবং সংবাদপত্র প্রকাশক কে ছিলেন? উত্তরঃ প্রথম বাঙালি পুস্তক বিক্রেতা এবং সংবাদপত্র প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
২৩. ভারতের প্রথম সংবাদপত্র কোনটি? উত্তরঃ ভারতের প্রথম সংবাদপত্র ছিল ‘বেঙ্গল গেজেট’।
২৪. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্রের নাম কী? উত্তরঃ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ছিল ‘সংবাদ প্রভাকর’।
২৫. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম কী? উত্তরঃ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল ‘সমাচার দর্পণ’।
২৬. ‘দিগদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? উত্তরঃ ‘দিগদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জোশুয়া মার্শম্যান।
২৭. ‘লেটার্স ফ্রম এ ফাদার টু হিজ ডটার’ বইটি ৩০টি চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
উত্তরঃ ‘লেটার্স ফ্রম এ ফাদার টু হিজ ডটার’ বইটি ৩০টি চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
২৮. জওহরলাল নেহেরুর চিঠি ‘ইন্দিরা গান্ধীকে’ হিন্দিতে কে অনুবাদ করেছিলেন? উত্তরঃ মনসি প্রেমচাঁদ নেহেরুর চিঠি গুলি হিন্দিতে অনুবাদ করেছিলেন।
২৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম কী? উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম ‘জীবনস্মৃতি’।
৩০. ‘জীবনস্মৃতি’ বইটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল? উত্তরঃ ‘জীবনস্মৃতি’ বইটি প্রকাশিত হয়েছিল প্রবাসী পত্রিকায়।
৩১. ‘জীবনের ঝরাপাতা’ বইটি কার রচনা? উত্তরঃ ‘জীবনের ঝরাপাতা’ বইটি রচনা করেছিলেন সরলা দেবী চৌধুরানী।
৩২. ‘সত্তর বছর’ বইটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল? উত্তরঃ ‘সত্তর বছর’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল প্রবাসী পত্রিকায়।
৩৩. ভারতের প্রথম শব ব্যবচ্ছেদকারী চিকিৎসক কে ছিলেন? উত্তরঃ ভারতের প্রথম শব ব্যবচ্ছেদকারী চিকিৎসক ছিলেন মধুসূদন গুপ্ত।
৩৪. ‘হিস্ট্রি অব দ্য হিন্দু কেমিস্ট্রি’ বইটি কে লিখেছেন? উত্তরঃ ‘হিস্ট্রি অব দ্য হিন্দু কেমিস্ট্রি’ বইটি লিখেছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।
৩৫. ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ কবে শুরু হয়েছিল এবং এর নেত্রী কে ছিলেন? উত্তরঃ ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং এর নেত্রী ছিলেন মেধা পাটেকর।
৩৬. চিপকো আন্দোলন’ ভারতে কবে শুরু হয়েছিল? উত্তরঃ ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে চিপকো আন্দোলন ভারতে শুরু হয়েছিল।
৩৭. ‘ইকোলজিক্যাল ইম্পেরিয়ালিজম’ বইটির লেখক কে? উত্তরঃ ‘ইকোলজিক্যাল ইম্পেরিয়ালিজম’ বইটির লেখক হলেন আলফ্রেড ক্রসবি।
৩৮. বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ কখন পালিত হয়? উত্তরঃ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
৩৯. ‘দ্য সাইলেন্ট স্প্রিং’ বইটির রচয়িতা কে? উত্তরঃ ‘দ্য সাইলেন্ট স্প্রিং’ বইটির রচয়িতা ছিলেন রাচেল কারসন।
৪০. ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমার পরিচালক কে ছিলেন? উত্তরঃ ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমার পরিচালক ছিলেন সত্যজিৎ রায়।
৪১. ইকো ফেমিনিজমের প্রতিষ্ঠাতা কে? উত্তরঃ ইকো ফেমিনিজমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফ্রাঁসোয়া দোবান।
৪২. মান্না দে’র আত্মজীবনীর কী নামে পরিচিত? উত্তরঃ মান্না দে’র আত্মজীবনীর নাম ‘জীবনের জলসাঘরে’।
৪৩. ভারতের কোন শহরকে ‘সংস্কৃতির নগরী’ বলা হয়? উত্তরঃ কলকাতাকে ভারতের ‘সংস্কৃতির নগরী’ বলা হয়।
৪৪. সামরিক ইতিহাস চর্চা কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল? উত্তরঃ ইংল্যান্ডে প্রথম সামরিক ইতিহাস চর্চা শুরু হয়।
৪৫. রাধিকা শাড়ি পরার রীতি কোথা থেকে প্রচলিত হয়েছিল? উত্তরঃ রাধিকা শাড়ি পরার রীতি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার থেকে প্রচলিত হয়েছিল।
৪৬. বাংলার লোকনৃত্যের নাম কী? উত্তরঃ বাংলার লোকনৃত্য ‘ছৌ নাচ’ নামে পরিচিত।
৪৭. ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ রচয়িতা কে? উত্তরঃ ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ রচনা করেছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ।
৪৮. একাত্তরের ডায়েরি কে লিখেছেন? উত্তরঃ একাত্তরের ডায়েরি লিখেছেন সুফিয়া কামাল।
৪৯. ‘বন্দেমাতরম’ গানটি কোন উপন্যাসের অংশ? উত্তরঃ ‘বন্দেমাতরম’ গানটি ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অংশ।
৫০. ভারতের প্রথম সংবাদপত্রের নাম কী? উত্তরঃ ভারতের প্রথম সংবাদপত্র ছিল ‘বেঙ্গল গেজেট’ (১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে, সম্পাদক অগাস্টাস হিকি)।
৫১. সরকারি নথিপত্র কোথায় সংরক্ষিত হয়? উত্তরঃ সরকারি নথিপত্র সংরক্ষিত হয় মহাফেজখানায় দিল্লিতে অবস্থিত।
৫২. ভারতে প্রথম বন সংরক্ষণ আইন চালু হয় কোন সালে? উত্তরঃ ভারতে প্রথম বন সংরক্ষণ আইন চালু হয় ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে।
৫৩. চিপকো আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন? উত্তরঃ চিপকো আন্দোলনের নেতা ছিলেন সুন্দরলাল বহুগুণা।
৫৪. অ্যানাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? উত্তরঃ অ্যানাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফারনান্দ ব্রদেল।
৫৫. ভারতে নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চা কে শুরু করেছিলেন? উত্তরঃ ভারতে নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চা শুরু করেছিলেন রণজিৎ গুহ এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
৫৬. ভারমাতা ছবিটি কে আঁকেন? উত্তরঃ ভারমাতা ছবিটি আঁকেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫৭. ‘নবান্ন’ নাটকটি কে রচনা করেন? উত্তরঃ ‘নবান্ন’ নাটকটি রচনা করেন বিজন ভট্টাচার্য।
৫৮. ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকের নাম কী? উত্তরঃ ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক হলেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী।
৫৯. সোমপ্রকাশ পত্রিকাটি কবে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল? উত্তরঃ সোমপ্রকাশ পত্রিকাটি ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
১. নিম্নবর্গের বা নিম্নবর্গীয় ইতিহাসচর্চা বলতে কী বোঝ?* অথবা, সাবলটার্ন স্টাডিজ কী? উত্তরঃ নিম্নবর্গের মানুষের জীবন ও ইতিহাস নিয়ে গবেষণার কাজ বেড়ে গেছে। এই ইতিহাসচর্চাকে ‘নিম্নবর্গের ইতিহাস’ বা ‘সাবলটার্ন স্টাডিজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ২. নতুন সামাজিক ইতিহাস বলতে কী বোঝ?*
উত্তরঃ ১৯৬০-৭০ এর দশক থেকে বর্তমানে ইতিহাসচর্চায় শুধু রাজা-মহারাজা বা অভিজাত সমাজের মানুষদের নয়, বরং সমাজের নিম্নবর্গের সাধারণ মানুষের, যেমন কৃষক, শ্রমিক, মজুর, নারী প্রভৃতি সকলের জীবন ও অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এই ধরনের ইতিহাসচর্চা শুরু হয়, যা ‘নতুন সামাজিক ইতিহাস’ নামে পরিচিত।
৩. ‘সরকারি নথিপত্র’ বলতে কি বোঝায়?
উত্তরঃ সরকারি কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র, দলিল – দস্তাবেজ, প্রতিবেদন, বিবরণ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় নথিপত্রকে, সরকারি নথিপত্র বলা হয়। মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রগুলি সংরক্ষণ করা হয়; এই কাজের জন্য আলাদা সরকারি দপ্তর ছিল। জাতীয় স্তরে তো বটেই জেলা এবং নিরক্ষর প্রশাসনিক স্তরেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়।
৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী কোনটা এবং এই গ্রন্থ থেকে ইতিহাস রচনার জন্য কী কী তথ্য পাওয়া যায়?***
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী কোন একটি গ্রন্থ থেকে ইতিহাস রচনার জন্য কী কী তথ্য পাওয়া যায়? ‘জীবনস্মৃতি’।
‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে ঠাকুরবাড়ির বিভিন্ন দিক, তৎকালীন ইংরেজি ভাষা ও বিদেশি প্রথা সম্পর্কে বাঙালি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, হিন্দুমেল ও স্বদেশী আন্দোলনে বাঙালির আগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনায় সহায়ক।
৫. ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের গুরুত্ব কতখানি? ***
উত্তরঃ ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
১) সরকারি নথিপত্রের পাঠ, বিশ্লেষণ ও পুনঃপাঠের মাধ্যমে সমসাময়িক ঘটনাগুলিতে সরকারের ভূমিকা এবং মনোভাব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারা যায়।
২) আধুনিক ভারতের ইতিহাস বিশ্লেষণে ঔপনিবেশিক শাসকদের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোচনা করা সম্ভব হয়।
৬. ইতিহাসচর্চায় ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্রের গুরুত্ব কী?***
অথবা, ফটোগ্রাফ কিভাবে আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চার উপাদান হয়ে উঠেছে?
উত্তরঃ আধুনিক ইতিহাসচর্চায় ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১) এটি ইতিহাসের জন্য নতুন ও মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম।
২) কোনো ঘটনার সত্যতা বা প্রচলিত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার ক্ষেত্রে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে কাজ করে।
৭. আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চায় পোশাক – পরিচ্ছদের ইতিহাসের দুটি গুরুত্ব লেখ।
উত্তরঃ ক) সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান – পোশাক পরিচ্ছদের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থান বোঝা যায়। যেমন মধ্যযুগে ফ্রান্সে ধনী ও অভিজাতরাই ব্রগ্রেস (একপ্রকারের লম্বা মোজা) পরতেন, গরীব খেটে খাওয়া মানুষদের ব্রগ্রেস পরার অনুমতি ছিল না। এদের সা কুলোৎ বলা হত।
খ) সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান – পোশাক পরিচ্ছদের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থান বোঝা যায়। যেমন মধ্যযুগে ফ্রান্সে ধনী ও অভিজাতরাই ব্রগ্রেস (একপ্রকারের লম্বা মোজা) পরতেন, গরীব খেটে খাওয়া মানুষদের ব্রগ্রেস পরার অনুমতি ছিল না। এদের সা কুলোৎ বলা হত।
৪ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
১. আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে বঙ্গদর্শন পত্রিকার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূমিকাঃ ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে প্রকাশিত সাময়িক পত্রিকাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ছিল বঙ্গদর্শন। ১৮৭২ খ্রি. সমকালীন বাংলার বাঙালির রাজনীতি ইতিহাস, পুরাতন, সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারাঃ বাঙালি মানসে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার অস্তিত্বেরও ছিল এই পত্রিকা। বঙ্গদর্শন পত্রিকাতেই বঙ্কিমচন্দ্রের সাম্য প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় যা বাঙালি সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার প্রসারে যথেষ্ট সহায়তা করে।
সমকালীন তথ্যঃ বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত রচনাগুলি থেকে সে সময় বাংলার ইংরেজ সরকার ও জমিদারদের শোষণ-অত্যাচার, সামাজিক পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের অবস্থা, সাহিত্য, রাজনীতি, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব প্রভৃতি সম্পর্কে বহু তথ্য পাওয়া যায়।
জনমত গঠনের ভূমিকাঃ এই পত্রিকার জনপ্রিয়তা ছিল অপরিহার্য। অধীর আগ্রহে এই মাসিক পত্রিকাটির জন্য বাঙালি মন অস্থির হয়ে উঠত। রবীন্দ্রনাথ তার ছোটো বেলায় পত্রিকাটির নতুন সংখ্যা হাতে পাওয়ার জন্য মুখিয়া থাকতো এ রকম অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তার কারণেই জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও এই পত্রিকা তাৎপর্যপূর্ণ পালন করেছিল।
উপসংহারঃ ১৮০০-র দশকে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিক পুন:প্রকাশে রবীন্দ্রনাথ উদ্যোগী হয়েছিলেন। ঊনিশ শতকের প্রবীণকালে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের ইতিহাস রচনায় বঙ্গদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম।
২. আধুনিককালে নারী ইতিহাসচর্চা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা নারী ইতিহাসের ওপর একটি টীকা লেখ।***
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ-* সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশে নারীর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা হয়েছে অবহেলিত। যুগে যুগে নারীর ভূমিকা কী ছিল তার চর্চা বর্তমান কালে শুরু হয়েছে। নারীকে তুলে ধরার ইতিহাসচর্চাই হল নারী ইতিহাসচর্চা। 1970-এর দশকে একদল ঐতিহাসিক উপলব্ধি করেন নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তাদের মর্যাদা ও অবস্থানের পর্যালোচনা প্রয়োজন। আমেরিকা ও ব্রিটেনে নারীচর্চার সূত্রপাত ঘটে। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন দেশে নারী ইতিহাস চর্চা বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
নারী ইতিহাসচর্চার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ আধুনিককালে নারী ইতিহাসচর্চার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
i. পুরুষকেন্দ্রিক ইতিহাস সংশোধনঃ- সভ্যতার ইতিহাসে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা নিলেও তার প্রাপ্য ও যোগ্য সম্মান পায়নি। অবহেলিত, উপেক্ষিত নারীর সম্মান পুনরুদ্ধার করার এবং পুরুষকেন্দ্রিক ইতিহাস সংশোধন করাই নারী ইতিহাসচর্চার বৈশিষ্ট্য।
ii. অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাঃ নারী ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নারীর অধিকার আদায় করা ও নারী-পুরুষের সমাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
iii. নারী নির্যাতনের অবসানঃ যুগে যুগে দেশে দেশে নারীরা হয়েছে নির্যাতনের, অত্যাচারের ও সামাজিক কুপ্রথার শিকার। নারী ইতিহাসচর্চার মাধ্যমে নারী নির্যাতনের অবসান ঘটানো এবং এর বৈশিষ্ট্য।
iv. সামাজিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণঃ কোনো সমাজের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় সেই সমাজের নারী অবস্থা থেকে। কোনো দেশে নারীরা কতটা সামাজিক, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কর্তব্যে অংশগ্রহন করতে পারছে তা জানা যায়।
বিশেষ প্রতিবেদনঃ সরকার বিভিন্ন বিষয় সমস্যার জন্য কমিশন গঠন করে এবং সেই কমিশন সরকারকে রিপোর্ট জমা দিত। এই রিপোর্টে বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়। সাইমন কমিশন, হান্টার কমিশন প্রভৃতি প্রতিবেদন থেকে ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করা যায়। তাই এই প্রতিবেদনগুলি গুরুত্বপূর্ণ।
চিপচিপরে আদান-প্রদানঃ সরকারি ব্যবস্থায় চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে প্রাদেশিক শাসকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসকদের চিঠিপত্রের ব্যাপক আদান-প্রদান ঘটত। এই চিঠিপত্রের মাধ্যমে তারা শাসকার্য পরিচালনায় বিভিন্ন প্রস্তাবের যেমন আলোচনা করতেন, তেমনি কোন শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধানের জন্য চেষ্টা করতেন। যেমন 1905 খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি ছিল তা লর্ড কার্জনের চিঠি থেকে জানা যায়।
উপসংহারঃ সরকারি নথিপত্র থেকে ইতিহাস রচনা করতে গেলেও গবেষকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ পুলিশ গোয়েন্দা ও সরকারি আধিকারিকদের রিপোর্টে অনেক ক্ষেত্রে ভুল ও বিকৃত থাকতেও এইসব তথ্যের কে অন্য তথ্যের সঙ্গে যাচাই করে ইতিহাস রচনা করলে প্রকৃত ইতিহাস রচনা করা সম্ভব।
৪. জীবনস্মৃতি থেকে অথবা উনিশ শতকের ভারতের ইতিহাসের কি কি উপাদান পাই?***
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ-* জীবনস্মৃতি হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা স্মৃতিকথামূলক একটি গ্রন্থ। এটি ১৩১৮-১৩১৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এর সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং 1319 বঙ্গাব্দে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি গ্রন্থ থেকে যে সমস্ত তথ্য গুলি পাওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হল-
i. ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলঃ- জীবনস্মৃতি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তথা ঠাকুর পরিবারের শিশুদের ছেলেবেলা, তাদের শিক্ষালাভ, সংগীত চর্চা প্রভৃতি সম্পর্কে এছাড়া অন্দরমহলে নারীদের কথা, পুরুষদের অবস্থা, ভৃত্যদের কাজ-কর্ম উৎসব অনুষ্ঠান প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়।
ii. বাঙালি সমাজের জাতীয় চেতনার প্রসারঃ- এই গ্রন্থ থেকে বাঙালি সমাজের জাতীয় চেতনার প্রসারে লেখা যায়। বাঙালি সমাজে এই সময়েকালে স্বদেশী ভাবধারা প্রসারে যেটা এছাড়াও পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি গ্রহণের পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গ্রহণের প্রসারেও প্রচলিত প্রভাব দেখা যায়। সেকথা জানা যায়। এছাড়াও নবগোপাল মিলে হিন্দুমেলার এবং স্বদেশী কাপড়, স্বদেশী দেশলাই বিষয়ে আরও এক স্বদেশী উদ্যোগ বিষয়ে বিভিন্ন কথা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।
iii. রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক যোগঃ- এই গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে দেশাত্মবোধক কর্মসূচিতে অংশ্রগ্রহণ করতেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, জীবনস্মৃতি কে ইতিহাস উপাদান হিসাবে ব্যবহার করার বিপদ সম্পর্কে বইয়ের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ পাঠক কে সতর্ক করে বলেছেন যে স্মৃতিকথা আর ইতিহাস এক নয়। তাসত্ত্বেও ‘জীবনস্মৃতি’ কে কিছু উনিশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের সামাজিক এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক রচনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
৫. ‘জীবনের ঝরাপাতা’ নামক আত্মজীবনী আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানরূপে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিশ্লেষণ করো।***
অথবা, সরলা দেবী চৌধুরানীর আত্মজীবনী জীবনের ঝরাপাতা ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে কতখানি সহায়ক হয়েছে?
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ-* সরলা দেবী চৌধুরানীর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ সরলা দেবী চৌধুরীর মেয়ে জিয়া জীবনের ঝরাপাতা কাহিনীটি দেশ পত্রিকায় 1944-45 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। জীবনের ঝরাপাতা থেকে সমকালীন ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
i. ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলঃ- এই গ্রন্থ থেকে ঠাকুর বাড়ির শিশুদের জীবনচর্চা, সুসমা-খাইমা দিয়ে সন্তান পালন, গৃহশিক্ষক প্রথা, নারী শিক্ষা, জন্মদিন পালন ইত্যাদি কথা জানা যায়।
ii. স্বদেশিকতাঃ- স্বদেশ ও স্বদেশী আন্দোলনের সময় সরলা দেবী চৌধুরানী স্বদেশী দ্রব্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রচার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লক্ষীর ভান্ডার নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন।
এইসব অনুষ্ঠানে বাংলায় স্বদেশীয়ানাকে কেন্দ্র করে সে সময় জনগনকে গান গেয়ে এবং ও ঐক্যবদ্ধ ভাবে স্বদেশী বস্ত্র পরে দেশাত্মবোধের প্রচার করতে বলা হয়।
বিদ্রোহী নারীদের কথাঃ এই গ্রন্থে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ এবং সিপাহী বিদ্রোহে বেগম হজরত মহলের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের কথা জানা যায়।
উপসংহারঃ নারী জাগরণের অগ্রদূত সরলা দেবী চৌধুরানীর এই আত্মজীবনী ‘জীবনের ঝরাপাতা’ গ্রন্থটি উনিশ শতকের নারীমুক্তি এবং জাতীয়তাবাদী ভাবধারার এক জ্বলন্ত দলিল।
ভারতে খেলাধুলার ইতিহাসচর্চাঃ ভারতে খেলার ইতিহাস নিয়ে চর্চা শুরু হয় 1980-এর দশকে। বাংলা তথা ভারতের খেলাধুলার ইতিহাসচর্চায় যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন বোরিয়া মজুমদার, কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম ভট্টাচার্য, উৎপল শুভ্র, রূপক সাহা প্রমুখ।
উপসংহারঃ খেলাধুলার ইতিহাসচর্চা থেকে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন সময়ের ও বিভিন্ন রকমের খেলার নাম, বিখ্যাত খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব, বিভিন্ন খেলার কৌশল ইত্যাদি কথা জানা যায়। বিভিন্ন কারণে তাই খেলাধুলা আধুনিক ইতিহাসচর্চায় গুরুত্ব লাভ করেছে।
দ্বিতীয় অধ্যায় – সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা
বহুবিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ
১. ভারতের প্রথম বাঙালি সংবাদপত্র প্রকাশক হলেন—
(ক) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) অক্ষয় কুমার দত্ত (ঘ) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
উত্তরঃ- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
২. ঊনিশ শতকের নারীদের অবস্থা জানার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকপত্র ছিল—
(ক) গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা (খ) সমাচার দর্পণ (গ) বামাবোধিনী (ঘ) হিন্দু প্যাট্রিয়ট
উত্তরঃ- বামাবোধিনী
৩. বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকাটির নাম কি?
(ক) দিগদর্শন (খ) সমাচার দর্পণ (গ) বঙ্গদর্শন (ঘ) সোমপ্রকাশ
উত্তরঃ- দিগদর্শন
৪. ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
(ক) ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
৫. ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকা ছিল একটি—
(ক) দৈনিক পত্রিকা (খ) সাপ্তাহিক পত্রিকা (গ) মাসিক পত্রিকা (ঘ) ত্রৈমাসিক পত্রিকা
উত্তরঃ- মাসিক পত্রিকা
৬. বাংলায় প্রথম ইংরেজি সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন—
(ক) হরিনাথ মজুমদার (খ) জেমস অগাস্টাস হিকি (গ) হ্যারিয়েট বিচার সেট (ঘ) উমেশচন্দ্র দত্ত
উত্তরঃ- জেমস অগাস্টাস হিকি
৭. ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার একজন বিশিষ্ট লেখিকার নাম—
উত্তরঃ- বামাবোধিনী পত্রিকার একজন বিশিষ্ট লেখিকার নাম—
(ক) মানকুমারী বসু (খ) চন্দ্রমুখী বসু (গ) কাদম্বিনী গাঙ্গুলী (ঘ) সরোজিনী নাইডু
উত্তরঃ- মানকুমারী বসু
৮. বামাবোধিনী’র ‘বামা’ বলতে কাদের বোঝায়?
(ক) বিধবারা (খ) বালিকারা (গ) নববিবাহিতারা (ঘ) সমগ্র নারী জাতি
উত্তরঃ- সমগ্র নারী জাতি
৯. অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (খ) শিশিরকুমার ঘোষ (গ) উমেশচন্দ্র দত্ত (ঘ) দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তরঃ- শিশিরকুমার ঘোষ
১০. হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম প্রবর্তক ও স্বত্বাধিকারী কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম প্রবর্তক ও স্বত্বাধিকারী কে ছিলেন ?
(ক) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (খ) অক্ষয়কুমার দত্ত (গ) মধুসূদন রায় (ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
উত্তরঃ- মধুসূদন রায়
১১. হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?
(ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ (খ) হরিশচন্দ্র মুখার্জী (গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তরঃ- গিরিশচন্দ্র ঘোষ
১২. ‘দিগদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন ?
(ক) হরচন্দ্র রায় (খ) মার্শম্যান (গ) ঈশ্বর গুপ্ত (ঘ) উইলিয়াম কেরি
উত্তরঃ- মার্শম্যান
১৩. লালন ফকিরের গান প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
(ক) হিন্দু প্যাট্রিয়ট (খ) বামাবোধিনী (গ) সম্বাদ প্রভাকর (ঘ) গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা
উত্তরঃ- গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা
১৪. যে সাহিত্যিক পাবনার কৃষক বিদ্রোহ সমর্থন করেছিলেন তিনি হলেন—
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) মধুসূদন দত্ত (ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তরঃ- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৫. ডালহৌসির নব্য সাম্রাজ্যবাদী নীতির সমালোচনা করা হয় কোন পত্রিকায় ?
(ক) গ্রামবার্তাপ্রকাশিকায় (খ) হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় (গ) বামাবোধিনী পত্রিকায় (ঘ) ভারতী পত্রিকায়
উত্তরঃ- হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায়
১৬. ‘বিদ্যাসাহিনী সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
(ক) হরিনাথ মজুমদার (খ) উমেশচন্দ্র দত্ত (গ) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তরঃ- কালীপ্রসন্ন সিংহ
১৭. সাঁওতাল এলাকায় সামরিক শাসন জারির তীব্র বিরোধিতা করা হয় কোন পত্রিকায় ?
(ক) হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় (খ) দিগদর্শন পত্রিকায় (গ) প্রবাসী পত্রিকায় (ঘ) সঞ্জীবনী পত্রিকায়
উত্তরঃ- হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায়
১৮. ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ -র লেখক হলেন—
(ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ (খ) প্যারীচাঁদ মিত্র (গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তরঃ- কালীপ্রসন্ন সিংহ
১৯. নীলদর্পণ’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের জন্য জেমস লং -এর কত দিনের কারাদণ্ড হয়?
(ক) ১ মাস (খ) ৩ মাস (গ) ১ বছর (ঘ) ১২ বছর
উত্তরঃ (ক) ১ মাস (ঘ) ১২ বছর
২০. ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) লর্ড ক্লাইভ (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস (গ) লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস (ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তরঃ- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস
২১. এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৭৮২ জানুয়ারি, ১৭৮৪ খ্রি. (খ) ১৫ই জানুয়ারি, ১৭৮৪ খ্রি. (গ) ১৫ই জানুয়ারি, ১৭৯২ খ্রি. (ঘ) ১৫ই জানুয়ারি, ১৮৭৪ খ্রি.
উত্তরঃ- ১৫ই জানুয়ারি, ১৭৮৪ খ্রি.
২২. এশিয়াটিক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
(ক) উইলিয়াম কেরি (খ) উইলিয়াম জোন্স (গ) চার্লস উড (ঘ) টমাস মেকলে
উত্তরঃ- উইলিয়াম জোন্স
২৩. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১০ই জুলাই, ১৮০০ খ্রি. (খ) ১০ই জুলাই, ১৮৩০ খ্রি. (গ) ১০ই জুলাই, ১৮০৫ খ্রি. (ঘ) ১০ই জুলাই, ১৮২০ খ্রি.
উত্তরঃ- ১০ই জুলাই, ১৮০০ খ্রি.
২৪. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
(ক) লর্ড ওয়েলেসলি (খ) লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস (গ) লর্ড বেণ্টিং (ঘ) লর্ড আমহার্স্ট
উত্তরঃ- লর্ড ওয়েলেসলি
২৫. মেকলে মিনিট কবে পেশ করা হয় ?
(ক) ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ- ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে
২৬. ভারতের শিক্ষা ক্ষেত্রে চুঁইয়ে পড়া নীতি (Filtration Theory) কে প্রবর্তন করেন ?
(ক) চার্লস উড (খ) টমাস ব্যাবিংটন মেকলে (গ) লর্ড বেণ্টিং (ঘ) লর্ড আমহার্স্ট
উত্তরঃ- টমাস ব্যাবিংটন মেকলে
২৭. বেণ্টিং-এর আমলে জনশিক্ষা কমিটির সভাপতি কে ছিলেন ?
(ক) কলভিন (খ) টমাস ব্যাবিংটন মেকলে (গ) কোল ব্রুক (ঘ) উইলসন
উত্তরঃ- টমাস ব্যাবিংটন মেকলে
২৮. জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন কে ?
(ক) মিন্টন (খ) আলেকজান্ডার ডাফ (গ) উইলিয়াম কেরি (ঘ) মার্শম্যান
উত্তরঃ- আলেকজান্ডার ডাফ
২৯. জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন -এর বর্তমান নাম কি ?
(ক) স্কটিশ চার্চ কলেজ (খ) বেথুন কলেজ (গ) সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (ঘ) প্রেসিডেন্সি কলেজ
উত্তরঃ- স্কটিশ চার্চ কলেজ
৩০. জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
(ক) ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ- ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে
৩১. ‘কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি’ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
(ক) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
৩২. বাংলায় নারীশিক্ষা প্রসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কে ?
(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (খ) রাজা রামমোহন রায় (গ) ডেভিড হেয়ার (ঘ) কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তরঃ- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
৩৩. হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে ?
(ক) ৭ই মে, ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ৭ই মে, ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ৭ই মে, ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ৭ই মে, ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ- ৭ই মে, ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে
৩৪. হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় -র বর্তমান নাম কি ?
(ক) বেথুন স্কুল (খ) ন্যাশানাল স্কুল (গ) হেয়ার স্কুল (ঘ) সেন্ট্রাল স্কুল
উত্তরঃ- বেথুন স্কুল
৩৫. ডেভিড হেয়ার ‘পটলডাঙা একাডেমি’ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন ?
(ক) ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
৩৬. ‘পটলডাঙা একাডেমি’ -র বর্তমান নাম কি ?
(ক) হেয়ার স্কুল (খ) বেথুন স্কুল (গ) ন্যাশানাল স্কুল (ঘ) সেন্ট্রাল স্কুল
উত্তরঃ- হেয়ার স্কুল
৩৭. ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মহিলা কলেজ হল—
(ক) বেথুন কলেজ (খ) স্কটিশ চার্চ কলেজ (গ) বিদ্যাসাগর কলেজ (ঘ) হিন্দু কলেজ
উত্তরঃ- বেথুন কলেজ
৩৮. হিন্দু কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
(ক) ২০শে জানুয়ারি, ১৮১৭ খ্রি. (খ) ২০শে জুন, ১৮১৭ খ্রি. (গ) ২০শে জানুয়ারি, ১৮১৭ খ্রি. (ঘ) ২০শে জুন, ১৮১৭ খ্রি.
উত্তরঃ- ২০শে জানুয়ারি, ১৮১৭ খ্রি.
৩৯. হিন্দু কলেজের বর্তমান নাম কি ?
(ক) বিদ্যাসাগর কলেজ (খ) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় (গ) স্কটিশ চার্চ কলেজ (ঘ) সংস্কৃত কলেজ
উত্তরঃ- প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়
৪০. ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়’ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
(ক) ২৪ জানুয়ারি, ১৮৫৫ খ্রি. (খ) ২৪ জানুয়ারি, ১৮৫৭ খ্রি. (গ) ২৪ জানুয়ারি, ১৮৩৫ খ্রি. (ঘ) ২৪ জানুয়ারি, ১৮৫৭ খ্রি.
উত্তরঃ- ২৪ জানুয়ারি, ১৮৫৭ খ্রি.
৪১. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আচার্য কে ছিলেন ?
(ক) লর্ড লিটন (খ) লর্ড ডালহৌসি (গ) লর্ড উইলিয়াম বেণ্টিং (ঘ) লর্ড ক্যানিং
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং
৪২. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে ছিলেন ?
(ক) লর্ড ক্যানিং (খ) ডেভিড হেয়ার (গ) আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (ঘ) জেমস উইলিয়াম কোলভিল
উত্তরঃ- জেমস উইলিয়াম কোলভিল
৪৩. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক অধ্যাপক ছিলেন—
(ক) রাসবিহারী ঘোষ (খ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) নীলরতন সরকার
উত্তরঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অতিরিক্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নঃ
১. ভারতের প্রথম পাশ্চাত্য শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে কোথায় ?
উত্তরঃ- বাংলায়।
২. কে প্রথম বাঙালি সাংবাদিক সংবাদ পত্রের প্রকাশক ছিলেন ?
উত্তরঃ- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
৩. হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
৪. ডালহৌসির নব্য সাম্রাজ্যবাদী নীতির সমালোচনা করা হয় কোন পত্রিকায় ?
উত্তরঃ- হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায়।
৫. প্রথম কোন পত্রিকায় লালন ফকিরের গানের প্রকাশন হয় ?
উত্তরঃ- গ্রামবার্তাপ্রকাশিকাতে।
৬. ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন ?
উত্তরঃ- কালীপ্রসন্ন সিংহ।
৭. নীলদর্পণ নাটকটি কে রচনা করেন ?
উত্তরঃ- দীনবন্ধু মিত্র।
৮. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেন কে ?
উত্তরঃ- মেকলে।
৯. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা দানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন কে ?
উত্তরঃ- মেকলে।
১০. প্রথম মহিলা স্নাতক কারা ছিলেন ?
উত্তরঃ- কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসু।
১১. স্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক নামে গ্রন্থটি কে প্রকাশ করেন ?
উত্তরঃ- রাধাকান্ত দেব।
১২. পটলডাঙা একাডেমির বর্তমান নাম কি ?
উত্তরঃ- হেয়ার স্কুল।
১৩. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আচার্য কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং।
১৪. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- উইলিয়াম কোলভিল।
১৫. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- অক্ষয়কুমার দত্ত।
১৬. সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে কে প্রথম জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন ?
উত্তরঃ- রামমোহন রায়।
১৭. নববঙ্গ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- ডিরোজিও।
১৮. ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- কেশবচন্দ্র সেন।
১৯. নববিধান কে ঘোষণা করেন ?
উত্তরঃ- কেশবচন্দ্র সেন।
২০. নব্য বেদান্ত বাদ কে প্রচার করেন ?
উত্তরঃ- স্বামী বিবেকানন্দ।
২১. সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে – গানটি কে লিখেছেন ?
উত্তরঃ- লালন ফকির।
২২. ঊনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ কে এলিটিস্ট আন্দোলন বলে কে অভিহিত করেন ?
উত্তরঃ- অনিতা শীল।
২৩. কে বলেছেন “বাংলার জাগরণ আন্দোলন ইউরোপীয় নবজাগরণ আন্দোলনের বিপরীতধর্মী”?
উত্তরঃ- সুপ্রকাশ রায়।
২৪. বামাবোধিনি পত্রিকার প্রতি-ষ্ঠাতা সম্পাদক কে?
উত্তরঃ- উমেশচন্দ্র দত্ত।
২৫. বামা কথার অর্থ কী?
উত্তরঃ- নারী।
২৬. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাঙালি পরিচালিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
উত্তরঃ- বাঙ্গাল গেজেট।
২৭. হুতুমপেঁচা কার ছদ্মনাম?
উত্তরঃ- কালীপ্রসন্ন সিংহ।
২৮. কলকাতায় জাতীয় নাট্য মেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় (বেথুন স্কুল)।
২৯. বাংলার প্রথম বি.এ পাশ নারীদের নাম লেখ?
উত্তরঃ- কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসু।
৩০. হেয়ার স্কুলের পূর্বনাম কি?
উত্তরঃ- পটলডাঙা একাডেমি।
৩১. বেদান্ত কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- রাজা রামমোহন রায়।
৩২. কবে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন?
উত্তরঃ- 1835 সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
৩৩. সতীদাহ প্রথা কবে কে রদ করেন ?
উত্তরঃ- 1829 খ্রিস্টাব্দে (খ) 1853 খ্রিস্টাব্দে (গ) 1860 খ্রিস্টাব্দে (ঘ) 1856 খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ- 1829 খ্রিস্টাব্দে
৩৪. সন্ন্যাস গ্রহণের পর কে অচ্যুতানন্দ সরস্বতী নাম গ্রহণ করেন?
উত্তরঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) কেশবচন্দ্র সেন (ঘ) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী
উত্তরঃ- বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী।
৩৫. বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী কোথায় দেহত্যাগ করেন?
(ক) ঢাকায় (খ) শান্তিপুরে (গ) পুরীতে (ঘ) গয়ায়
উত্তরঃ- পুরীতে
৩৬. সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ কে প্রচার করেন?
(ক) শিবনাথ শাস্ত্রী (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) শ্রীরামকৃষ্ণ (ঘ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তরঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ
৩৭. ‘যত মত তত পথ’ -এর আদর্শ কে প্রচার করেন?
(ক) স্বামী বিবেকানন্দ (খ) শ্রীরামকৃষ্ণ (গ) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী (ঘ) লালন ফকির
উত্তরঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ
৩৮. ‘নব্য বেদান্তবাদ’ কে প্রচার করেন?
উত্তরঃ- স্বামী বিবেকানন্দ
৩৯. রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মুখপাত্র ছিল—
(ক) বেঙ্গলি পত্রিকা (খ) সঞ্জীবনী পত্রিকা (গ) উদ্বোধন পত্রিকা (ঘ) অমৃতবাজার পত্রিকা
উত্তরঃ- উদ্বোধন পত্রিকা
৪০. ‘শ্রীশিক্ষা বিষয়ক’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) রামমোহন রায় (গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (ঘ) রাধাকান্ত দেব
উত্তরঃ- রাধাকান্ত দেব
৪১. ঊনিশ শতকের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বাংলার পরিচিতিল সমাজে বলা হত—
(ক) উচ্চবিত্ত বাঙালি (খ) মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক (গ) নিম্নমধ্যবিত্ত ভদ্রলোক (ঘ) নিম্নবিত্ত ভদ্রলোক
উত্তরঃ- মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক
৪২. নবাবত্র আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন কে?
(ক) রসিককৃষ্ণ মল্লিক (খ) রামগোপাল ঘোষ (গ) দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় (ঘ) ডিরোজিও
উত্তরঃ- ডিরোজিও
৪৩. ‘To India My Native Land’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) প্যারীচাঁদ মিত্র (খ) ডিরোজিও (গ) ওয়ার্ডসওয়ার্থ (ঘ) গালিব্জি
উত্তরঃ- ডিরোজিও
৪৪. নববঙ্গ গোষ্ঠীর মুখপাত্রের নাম কি ছিল?
(ক) বামাবোধিনী (খ) পার্থেনান (গ) সোমপ্রকাশ (ঘ) সমাচার দর্পণ
উত্তরঃ- পার্থেনান
৪৫. ঊনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের কে ‘এলিনিস্ট আন্দোলন’ বলে কে অভিহিত করেছেন?
(ক) বিপিনচন্দ্র পাল (খ) অনিল শীল (গ) জওহরলাল নেহেরু (ঘ) জাস্টিস সুপ্রিমকোর্ট জজ অরবিন্দ রায়।
উত্তরঃ- (খ) অনিল শীল
২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১. ভারতের প্রথম পাশ্চাত্য শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে কোথায়?
উত্তরঃ- বাংলায়।
২. কে প্রথম বাঙালি সাংবাদিক সংবাদ পত্রের প্রকাশক ছিলেন?
উত্তরঃ- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
৩. হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
৪. ডালহৌসির নব্য সাম্রাজ্যবাদী নীতির সমালোচনা করা হয় কোন পত্রিকায়?
উত্তরঃ- হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায়।
৫. প্রথম কোন পত্রিকায় লালন ফকিরের গানের প্রকাশন হয়?
উত্তরঃ- গ্রামবার্তাপ্রকাশিকাতে।
৬. ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
উত্তরঃ- কালীপ্রসন্ন সিংহ।
৭. নীলদর্পণ নাটকটি কে রচনা করেন?
উত্তরঃ- দীনবন্ধু মিত্র।
৮. কলকাতা মাদ্রাসা কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
৯. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা দানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন কে?
উত্তরঃ- মেকলে।
১০. প্রথম মহিলা স্নাতক কারা ছিলেন?
উত্তরঃ- কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসু।
১১. স্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক নামে গ্রন্থটি কে প্রকাশ করেন?
উত্তরঃ- রাধাকান্ত দেব।
১২. পটলডাঙা একাডেমির বর্তমান নাম কি?
উত্তরঃ- হেয়ার স্কুল।
১৩. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আচার্য কে ছিলেন?
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং।
১৪. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
উত্তরঃ- উইলিয়াম কোলভিল।
১৫. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- অক্ষয়কুমার দত্ত।
১৬. সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে কে প্রথম জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন?
উত্তরঃ- রামমোহন রায়।
১৭. নববঙ্গ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কে ছিলেন?
উত্তরঃ- ডিরোজিও।
১৮. ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ- কেশবচন্দ্র সেন।
১৯. নববিধান কে ঘোষণা করেন?
উত্তরঃ- কেশবচন্দ্র সেন।
২০. নব্য বেদান্ত বাদ কে প্রচার করেন?
উত্তরঃ- স্বামী বিবেকানন্দ।
২১. সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে – গানটি কে লিখেছেন?
উত্তরঃ- লালন ফকির।
২২. ঊনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ কে এলিটিস্ট আন্দোলন বলে কে অভিহিত করেন?
উত্তরঃ- অনিতা শীল।
২৩. কে বলেছেন “বাংলার জাগরণ আন্দোলন ইউরোপীয় নবজাগরণ আন্দোলনের বিপরীতধর্মী”?
উত্তরঃ- সুপ্রকাশ রায়।
২৪. বামাবোধিনি পত্রিকার প্রতি-ষ্ঠাতা সম্পাদক কে?
উত্তরঃ- উমেশচন্দ্র দত্ত।
২৫. বামা কথার অর্থ কী?
উত্তরঃ- নারী।
২৬. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাঙালি পরিচালিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
উত্তরঃ- বাঙ্গাল গেজেট।
২৭. হুতুমপেঁচা কার ছদ্মনাম?
উত্তরঃ- কালীপ্রসন্ন সিংহ।
২৮. কলকাতায় জাতীয় নাট্য মেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- 1849 সালে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় (বেথুন স্কুল)।
২৯. বাংলার প্রথম বি.এ পাশ নারীদের নাম লেখ?
উত্তরঃ- কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসু।
৩০. হেয়ার স্কুলের পূর্বনাম কি?
উত্তরঃ- পটলডাঙা একাডেমি।
৩১. বেদান্ত কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- রাজা রামমোহন রায়।
৩২. কবে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন?
উত্তরঃ- 1835 সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
৩৩. সতীদাহ প্রথা কবে কে রদ করেন?
উত্তরঃ- ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে।
৩৪. সন্ন্যাস গ্রহণের পর কে অচ্যুতানন্দ সরস্বতী নাম গ্রহণ করেন?
উত্তরঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) কেশবচন্দ্র সেন (ঘ) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী।
উত্তরঃ- বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী।
৩৫. বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী কোথায় দেহত্যাগ করেন?
(ক) ঢাকায় (খ) শান্তিপুরে (গ) পুরীতে (ঘ) গয়ায়
উত্তরঃ- পুরীতে
৩৬. সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ কে প্রচার করেন?
(ক) শিবনাথ শাস্ত্রী (খ) স্বামী বিবেকানন্দ (গ) শ্রীরামকৃষ্ণ (ঘ) রাজা রামমোহন রায়।
উত্তরঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ।
৩৭. ‘যত মত তত পথ’ -এর আদর্শ কে প্রচার করেন?
(ক) স্বামী বিবেকানন্দ (খ) শ্রীরামকৃষ্ণ (গ) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী (ঘ) লালন ফকির।
উত্তরঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ।
৩৮. ‘নব্য বেদান্তবাদ’ কে প্রচার করেন?
উত্তরঃ- স্বামী বিবেকানন্দ।
৩৯. রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মুখপাত্র ছিল—
(ক) বেঙ্গলি পত্রিকা (খ) সঞ্জীবনী পত্রিকা (গ) উদ্বোধন পত্রিকা (ঘ) অমৃতবাজার পত্রিকা।
উত্তরঃ- উদ্বোধন পত্রিকা।
৪০. ‘শ্রীশিক্ষা বিষয়ক’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) রামমোহন রায় (গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (ঘ) রাধাকান্ত দেব।
উত্তরঃ- রাধাকান্ত দেব।
৪১. ঊনিশ শতকের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বাংলার পরিচিতিল সমাজে বলা হত—
(ক) উচ্চবিত্ত বাঙালি (খ) মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক (গ) নিম্নমধ্যবিত্ত ভদ্রলোক (ঘ) নিম্নবিত্ত ভদ্রলোক।
উত্তরঃ- মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক।
৪২. নবাবত্র আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন কে?
(ক) রসিককৃষ্ণ মল্লিক (খ) রামগোপাল ঘোষ (গ) দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় (ঘ) ডিরোজিও।
উত্তরঃ- ডিরোজিও।
৪৩. ‘To India My Native Land’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) প্যারীচাঁদ মিত্র (খ) ডিরোজিও (গ) ওয়ার্ডসওয়ার্থ (ঘ) গালিব্জি।
উত্তরঃ- ডিরোজিও।
৪৪. নববঙ্গ গোষ্ঠীর মুখপাত্রের নাম কি ছিল?
(ক) বামাবোধিনী (খ) পার্থেনান (গ) সোমপ্রকাশ (ঘ) সমাচার দর্পণ।
উত্তরঃ- পার্থেনান।
৪৫. ঊনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের কে ‘এলিনিস্ট আন্দোলন’ বলে কে অভিহিত করেছেন?
(ক) বিপিনচন্দ্র পাল (খ) অনিল শীল (গ) জওহরলাল নেহেরু (ঘ) জাস্টিস সুপ্রিমকোর্ট জজ অরবিন্দ রায়।
উত্তরঃ- (খ) অনিল শীল।
অবশ্যই। আপনার নির্দেশ মতো আমি আগের পর্বের পর থেকে সম্পূর্ণ টেক্সটটি পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী দেওয়া শুরু করছি।
৪৬. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে রাধাকান্ত দেব গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তরঃ- রাধাকান্ত দেব রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা হলেও পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে একজন উৎসাহী সমর্থক ছিলেন। তিনি হিন্দু কলেজের পরিচালনা এবং কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি পরিচালনা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মহিলাদের জন্য বেশ কিছু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪৭. ব্রিটিশ সরকার কী উদ্দেশ্যে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন পাস করে?
উত্তরঃ- ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটানো। এই আইনে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়।
৪৮. ‘উডের নির্দেশনামা’ কী?
উত্তরঃ- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের জন্য একটি নির্দেশনামা বা সুপারিশপত্র পেশ করেন। এটি ‘উডের নির্দেশনামা’ নামে পরিচিত। এই নির্দেশনামায় কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়।
৪৯. শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হয়?***
*উত্তরঃ-* হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও শিক্ষাবিস্তারের কাজ শুরু করে। শ্রীরামপুর এই উইলিয়াম কেরি, ফ্রাসোঁয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড—এই তিনজন পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। এঁদের একত্রে বলা হয় শ্রীরামপুর ত্রয়ী।
৫০. মধুসূদন গুপ্ত বিখ্যাত কেন?***
*উত্তরঃ-* ভারতে আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে মধুসূদন গুপ্ত একটি স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলায় বেদান্তবাগীশ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
অবদানঃ- তৎকালীন পরিস্থিতিতে কুসংস্কার বশত হয়ে তথা সমাজে পণ্ডিত হওয়ার ভয়ে কোনও ছাত্র শবব্যবচ্ছেদে এগিয়ে আসতেন না। কিন্তু 1836 খ্রিস্টাব্দের ২৮ শে অক্টোবর রাজকৃষ্ণ দে, উমাচরণ শেঠ-সহ আরও কয়েকজনের সহায়তায় মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করেন।এজন্য তিনি আজও ভারতের চিকিৎসা জগতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
৫১. নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?
উত্তরঃ- হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ও তৎকালীন সমাজচ্যুত প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন তাদের অনেক মতো ডিরোজিওর অনুগামীদের নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল বলা হত। নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য হলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ শিকদার, রসিককৃষ্ণ মল্লিক প্রমুখ।
৫২. নীলদর্পণ নাটক থেকে কি ধরনের সমাজ চিত্র পাওয়া যায়?***
*উত্তরঃ-* উনিশ শতকে বাংলায় সমাজব্যবস্থার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা সংক্ষেপে লেখা***
*নীলকরদের শোষণঃ-* এই গ্রন্থ থেকে জানা যায়—
(i) বাংলার নীলচাষিদের কীভাবে নীলকরে সাহেবরা নীলচাষে বাধ্য করত,
(ii) নীলচাষের জন্য চাষিদের অগ্রিম বা ‘দাদন’ নিতে বাধ্য করত।
(iii) নীল কেনার সময় ওজন বেশি, দাম কম দিয়ে ঠকাতো চাষিদের ওপর অত্যাচারঃ এই নাটকে তুলে ধরা হয় অনিচ্ছুক চাষিদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ও ঘরছাড়া করা, গো-বাছুর, ছাগল, হাঁস, মুরগি কেড়ে নেওয়া চাষিদের মারধর শিশু ও মহিলাদের আটক রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হত— এসব ঘটনার কথা জানা যায়। অভিযোগ জানিয়েও পুলিশ, প্রশাসন, আইন, আদালতের কোনো সাহায্য চাষিরা পেত না।
চাষিদের প্রতিবাদী আন্দোলনঃ- অতঃপর অত্যাচারের, শোষিত কৃষক অহিংস উপায়ে সংঘবদ্ধ হয়। তাদের এ কাজে প্রতিবাদী সরকার পঞ্চম ও সপ্তম আইন দ্বারা নীলচাষ চুক্তিবদ্ধ ঈশ্বরধীন লিখিত মধ্যবিদ্রোহের ভূমিকাঃ- 1860 খ্রিস্টাব্দে নীলদর্পণ নাটক প্রকাশিত হলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে ইংরেজ-বিরোধী – মানসিকতা তৈরি হয় এবং তারা চাষিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। ইংরেজিতে অনুবাদ করলে দেশ-বিদেশে নীলকরদের অত্যাচার কথা ছড়িয়ে পড়ে।
উপসংহারঃ- নীলদর্পণ সমসাময়িক বাংলা সাহিত্য ও সমাজেস গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই নাটকের তৎকালীন সাধারণ মানুষের জীবনকথা যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অনেকেই নাটকে বাংলা প্রথম গণনাটক হিসেবে স্বীকার করেন। নীলদর্পণ প্রথম বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার কথা বলে মানুষের মনে জাতীয়তাবাদের সঞ্চার করেছিল।
৪ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১. সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ করো।***
অথবা, উনিশ শতকে নবজাগরণে বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।
*বিধবা বিবাহঃ-* হিন্দু-সমাজে অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত নারী সমাজের মুক্তির জন্য বিদ্যাসাগর আজীবন লড়াই করে। সে যুগে হিন্দু সমাজে বাল্য বিবাহের চল ছিল। কন্যাপক্ষীয় পিতারা সমাজের ভয়ে তাদের কমবয়সি মেয়েদের বয়স্ক লোকেদের সঙ্গে বিবাহ দিতেন। তাই অনেক সময় অল্প বয়সেই এই সমস্ত মেয়েরা বিধবা হত এবং তাদের দুর্ভাগার শেষ থাকত না। নারীজাতির এই করুণ অবস্থা তাকে ব্যথিত করে। হিন্দু শাস্ত্র ও পরাশর সংহিতা অধ্যয়ন করে বাল্যবিবাহের পুনর্বিবাহের পক্ষে জনমত গঠনের কাজে তিনি মন দেন। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে দাঁড়ায় এবং 1856 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি 15 নং বিধি দ্বারা বিধবা বিবাহ আইন বলবং করেন। বিদ্যাসাগর মহাশয় নিজের পুত্র নারায়ণের সঙ্গে তাসম্পদী নামে অটাদর্শী এক বিধবার বিবাহ দেন। এ রকম তিনি ৬০টি বিবাহ দেন।
বাল্যবিবাহঃ- হিন্দুধর্মে মেয়েদের বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক ব্যাধি দূর করার জন্য তিনি নিরলস সংগ্রাম করেন। তিনি ‘সর্ব শুভকরী’ পত্রিকায় বাল্য বিবাহের দোষ’ শীর্ষক নিবন্ধ প্রকাশ করে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। এ ব্যাপারে তিনি সফলও হন। 1860 খ্রিস্টাব্দে সরকার আইন করে মেয়েদের বিবাহের বয়স কমপক্ষে 10 বছর ধার্য করে।
উৎসর্গঃ নবজাগরণের প্রতিমূর্তিও এই সংস্কৃত পন্ডিত উপলব্ধি করেছিলেন একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভারতীয় নারীর মুক্তিলাভ সম্ভব।নারীর উন্নতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বিষয়ে তিনি লিখিতভাবে সরকারকে জানান,”নারীর শিক্ষা ছাড়া এদেশ উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী শিক্ষা প্রচারে তিনি দুটি বিষয় উল্লেখ করেন-(i)’বেথুন স্কুল’ নারী উন্নতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
(ii)বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনঃ ব্রিটিশ সরকারের আইন সচিব ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন 1849 খ্রিস্টাব্দে ‘হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়’ স্থাপন করেন।এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে বিদ্যাসাগর তাঁকে সাহায্য করেন।এই বিদ্যালয়ের সম্পাদিকা বর্তমানে এটি ‘বেথুন স্কুল’ নামে পরিচিত।
স্ত্রী-শিক্ষা সম্মিলনী গঠনঃ নারীদের মধ্যে শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি বর্ধমান, হুগলি, মেদিনীপুর প্রভৃতি জেলায় গড়ে তোলেন স্ত্রী-শিক্ষা সম্মিলন।বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তিনি নারী শিক্ষার স্বপক্ষে লেখালেখি শুরু করেন।গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছাত্রী সংগ্রহেরও নিরলস প্রচেষ্টা চালান।
ছাত্রী বিদ্যালয় স্থাপনঃ 1854 খ্রিস্টাব্দে উচ্চের নির্দেশনামায় স্ত্রী-শিক্ষার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।বাংলার ছোটলাট স্যার ফ্রেডারিক হ্যালিডে কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তিনি 1857 খ্রিস্টাব্দে থেকে 1858 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে মাত্র সাত মাসের মধ্যে নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি ও মেদিনীপুর জেলায় 35টি বিদ্যালয় স্থাপন করেন।এগুলিতে প্রায় 1300 ছাত্রী পড়াতেন।করতো।করতো।করতো।এবং পাবলিক ইনস্ট্রাকশন-এর নতুন ডিরেক্টর গর্ডন ইয়ং স্কুলগুলিকে অর্থ বরাদ্দ করতে অস্বীকার করেন।তিনি পরিদর্শক ও সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদে ইস্তফা দেন।তবে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে বিদ্যালয়গুলির জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা আদায় করেন।
মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনঃ বিদ্যাসাগর নিজ উদ্যোগে ও খরচে কলকাতায় ‘মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।বর্তমানে এটি ‘বিদ্যাসাগর কলেজ’ নামে পরিচিত।
ভগবতী বিদ্যালয়ঃ মাতা ভগবতী দেবীর স্মৃতিতে তিনি 1890 খ্রিস্টাব্দে নিজ জন্মভূমি বীরসিংহ গ্রামে ভগবতী বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
৩. স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো।***
*উত্তরঃ-* ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ধর্মসংস্কার আন্দোলনে অচ্যুতবেদে বিশ্বাসী, নিখাদ দেশপ্রেমিক, নির্ভীক যৌবনের প্রতীক, বেদান্তবাদী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।অচ্যুতবেদে বিশ্বাসী স্বামী বিবেকানন্দের মতে, “মানবসেবাই ধর্মের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।”।
বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারঃ
সাম্যবাদ ও মানবতাবাদের আদর্শঃ জাতপাতের ভেদাভেদের সম্পূর্ণ বিরোধী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল সাম্যবাদ।এ উদ্দেশ্যে তিনি দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন -”হে ভারত ভুলিও না, নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই।” বিবেকানন্দ ধর্মের দ্বারা নয় মানুষের মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী ছিলেন, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবতাবাদ।
নব বেদান্তবাদঃ বেদান্তবাদী স্বামী বিবেকানন্দ ঘরের কোনে পূজা করার কল্পনা জনগনের কল্যাণে তিনি বেদান্তকে মঠ থেকে এনেছিলেন।
দেশপ্রেমঃ বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে দেশপ্রেম জাগরিত হয়েছে।তিনি ভারতীয় সমাজকে ‘আমার শিশুশয্যা আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী’ বলে বর্ণনা করে প্রত্যেক ভারতবাসীকে সংঘবদ্ধ হতে বলেছেন।
জাতীয়তাবাদের বাণীঃ পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ ছেড়ে বিবেকানন্দ দেশমাতৃকার মুক্তির ডাক দিয়েছেন।তিনি ‘বর্তমান ভারত’-এ উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ জন্ম থেকেই মায়ের জন্য বলি প্রদত্ত।
পরিশেষে বলা যায়, ‘বর্তমান ভারত’-এ বিবেকানন্দ ভারত ও ভারতবাসীর দুর্বলতাগুলিকে চিহ্নিত করে ও দুর্বলতা কাটিয়ে জাতীয়তাবাদের মহামন্ত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।তাই ঐতিহাসিক আর. জি. প্রধান বিবেকানন্দকে ভারতের জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
৪. ভারতের জাতীয়তাবাদের বিকাশে ‘গোরা’ উপন্যাসের ভূমিকা কি ছিল?*
অথবা, ‘গোরা’ উপন্যাসের দিয়ে কীভাবে স্বদেশভাবনা বা জাতীয়তাবোধ ফুটে উঠেছে, তা লেখ।
অথবা, জাতীয় চেতনা প্রসারে ‘গোরা’ উপন্যাসের অবদান কী?
উত্তরঃ ভূমিকাঃ- যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব তাদের লেখা-লেখির মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করার চেষ্টা করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার রচিত ‘গোরা’ উপন্যাসে স্বাদেশিকতার যুগে রচিত এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র গোরা, যাঁকে রবীন্দ্রনাথ একজন নির্ভেজাল দেশপ্রেমিক রূপে গড়ে তুলেছেন। ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন্দ্রীয় চরিত্রের গোরার বক্তব্য ও কার্যকলাপের মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে গঠনমূলক ও সমন্বয়বাদী জাতীয়তাবাদের কথা বলেছেন।
জাতীয়তাবাদের জাগরণঃ
প্রথমতঃ- গোরা উপন্যাসে গোরার চোখে দেশের দলরিত মানুষের দুঃখকষ্ট ধরা পড়েছে।অশিক্ষিত মানুষের প্রতি এদেশীয় ইংরেজি জানা তথাকথিত শিক্ষিত ও ভদ্রশ্রেণী মানুষের অবজ্ঞা ও বিদ্রুপ তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে।
দ্বিতীয়তঃ- নায়ক গোরার কাছে পার্থিব প্রেম-ভালোবাসা, দেশাত্মবোধের কাছে হার মেনেছে।তাই তিনি তাঁর প্রেমিকা সুচরিতার প্রেমবন্ধন ছিন্ন করে দূরে সরে গিয়েছেন।
তৃতীয়তঃ- ব্রাহ্মনেতা পরেশবাবুকে গোরা একদিন বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানটি।জাতীয় সংস্কৃতি, জাতীয় শিল্প ও জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি করা এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করার ছিল হিন্দুসেলোর প্রধান কর্মসূচি।
উৎসর্গঃ উনিশ শতকে বাংলায় নারীসমাজের সংস্কার আন্দোলনে যে ঘটনা ঘটেছিল তাকে বলা হয় নারীমুক্তি আন্দোলন, পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার, বাংলা নবজাগরণের মতো ঘটনা দেখে মনে হয় সত্যি টিকে ছিল সামাজিক টানাপোড়েন।এই সময়ে বৈশিষ্ট্য সেখানে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপ্রাসঙ্গিকতার বাণী ছাড়িয়ে দিয়ে জাতীয়তাবাদের মূল রূপ কি হতে পারে তা ভারতীয়দের সামনে তুলে ধরেন এ গোরা উপন্যাসের মাধ্যমে। এককথায় বলা যায় যে, ‘গোরা’ শুধুমাত্র একটি সাহিত্যই নয় এটি একটি দেশাত্মবোধক উপন্যাস।
৫. ব্রিটিশ – বিরোধী জনমত গঠনে বাংলার সভা সমিতিরগুলির বিবরণ দাও।
উত্তরঃ দেশের স্বার্থরক্ষা ও সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য সংঘবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন— ভারতীয়দের এই উপলব্ধি থেকেই উনিশ শতকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যেগুলি ব্রিটিশ – বিরোধী জনমত গঠনে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। এইসব নানা সভা সমিতির মধ্যে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, জমিদার সভা, হিন্দুমেল ও ভারতসভা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভাঃ ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে টাকির মুন্সি কালীনাথ রায়চৌধুরি, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং প্রসন্নকুমার ঠাকুরের যৌথ উদ্যোগে ‘ বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’ গড়ে ওঠে। এর বিভিন্ন সভায় ব্রিটিশদের ভালোমন্দ কাজের পর্যালোচনা করা হত। যোগেশচন্দ্র বাগলের মতে, এটি বাঙালি তথা ভারতবাসীদের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
জমিদার সভাঃ ১২ নভেম্বর ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর , রাধাকান্তদেব ও প্রসন্নকুমার ঠাকুরের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে জমিদার সভা। রাধাকান্তদেব ছিলেন এর সভাপতি, এবং দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্রসন্নকুমার ঠাকুরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা জমিদার সভা। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই জনসাধারণ সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের শিক্ষা লাভ করে।
হিন্দুমেলঃ ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্রের উদ্যোগে ‘জাতীয় মেলা’ গড়ে ওঠে, যা ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুমেলার পরিবর্তে হয়। দেশীয় সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির যথার্থ বিকাশের মাধ্যমেই ভারত ও ভারতবাসীর প্রকৃত মঙ্গল সম্ভব — এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় এই প্রতিষ্ঠানটি।
অবশ্যই। আপনার নির্দেশ মতো আমি আগের পর্বের পর থেকে সম্পূর্ণ টেক্সটটি পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী দেওয়া শুরু করছি।
ছাত্রী বিদ্যালয় স্থাপনঃ 1854 খ্রিস্টাব্দে উচ্চের নির্দেশনামায় স্ত্রী-শিক্ষার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।বাংলার ছোটলাট স্যার ফ্রেডারিক হ্যালিডে কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তিনি 1857 খ্রিস্টাব্দে থেকে 1858 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে মাত্র সাত মাসের মধ্যে নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি ও মেদিনীপুর জেলায় 35টি বিদ্যালয় স্থাপন করেন।এগুলিতে প্রায় 1300 ছাত্রী পড়াতেন।করতো।করতো।করতো।এবং পাবলিক ইনস্ট্রাকশন-এর নতুন ডিরেক্টর গর্ডন ইয়ং স্কুলগুলিকে অর্থ বরাদ্দ করতে অস্বীকার করেন।তিনি পরিদর্শক ও সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদে ইস্তফা দেন।তবে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে বিদ্যালয়গুলির জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা আদায় করেন।
মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনঃ বিদ্যাসাগর নিজ উদ্যোগে ও খরচে কলকাতায় ‘মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।বর্তমানে এটি ‘বিদ্যাসাগর কলেজ’ নামে পরিচিত।
ভগবতী বিদ্যালয়ঃ মাতা ভগবতী দেবীর স্মৃতিতে তিনি 1890 খ্রিস্টাব্দে নিজ জন্মভূমি বীরসিংহ গ্রামে ভগবতী বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
৩. স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো।*
উত্তরঃ- ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ধর্মসংস্কার আন্দোলনে অচ্যুতবেদে বিশ্বাসী, নিখাদ দেশপ্রেমিক, নির্ভীক যৌবনের প্রতীক, বেদান্তবাদী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।অচ্যুতবেদে বিশ্বাসী স্বামী বিবেকানন্দের মতে, “মানবসেবাই ধর্মের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।”।
বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারঃ
সাম্যবাদ ও মানবতাবাদের আদর্শঃ জাতপাতের ভেদাভেদের সম্পূর্ণ বিরোধী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল সাম্যবাদ।এ উদ্দেশ্যে তিনি দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন -”হে ভারত ভুলিও না, নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই।” বিবেকানন্দ ধর্মের দ্বারা নয় মানুষের মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী ছিলেন, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবতাবাদ।
নব বেদান্তবাদঃ বেদান্তবাদী স্বামী বিবেকানন্দ ঘরের কোনে পূজা করার কল্পনা জনগনের কল্যাণে তিনি বেদান্তকে মঠ থেকে এনেছিলেন।
দেশপ্রেমঃ বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে দেশপ্রেম জাগরিত হয়েছে।তিনি ভারতীয় সমাজকে ‘আমার শিশুশয্যা আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী’ বলে বর্ণনা করে প্রত্যেক ভারতবাসীকে সংঘবদ্ধ হতে বলেছেন।
জাতীয়তাবাদের বাণীঃ পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ ছেড়ে বিবেকানন্দ দেশমাতৃকার মুক্তির ডাক দিয়েছেন।তিনি ‘বর্তমান ভারত’-এ উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ জন্ম থেকেই মায়ের জন্য বলি প্রদত্ত।
**পরিশেষে বলা যায়, ‘বর্তমান ভারত’-এ বিবেকানন্দ ভারত ও ভারতবাসীর দুর্বলতাগুলিকে চিহ্নিত করে ও দুর্বলতা কাটিয়ে জাতীয়তাবাদের মহামন্ত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।তাই ঐতিহাসিক আর. জি. প্রধান বিবেকানন্দকে ভারতের জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
*৩. 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কি ছিল?**
*অথবা, 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় কেন সমর্থন করেনি?*
উত্তরঃ ভূমিকাঃ- 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে সেই সময়ের শিক্ষিত বাঙালি সমাজ সমর্থন করার তো দূরের তারা বিরোধী ভূমিকা পালন করে।কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই সমস্ত মনীষীরা তাদের লেখার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্বামী বিবেকানন্দ এবং তার লেখা দেশাত্মবোধক উপন্যাস ‘বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি 1905 খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থু আকারে প্রকাশিত হয়।গ্রন্থটিতে বিবেকানন্দের ভারত দর্শন এবং ভারত সম্পর্কে তাঁর দার্শনিক তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে যা জাতীয়তাবাদের বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিয়েছে।
জাতীয় ঐতিহ্যঃ স্বামী বিবেকানন্দ এই গ্রন্থে প্রাচীন ভারতে বৈদিক ঋষিদের দ্বারা সমাজ শাসনকাল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনকাল পর্যন্ত ভারতের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন, পাশ্চাত্যের প্রভাব থেকে ভারতবাসীর মুক্তির প্রয়োজন।কারণ জাতীয় ঐতিহ্য প্রকৃত জাতীয়তাবোধের উৎস।
শিক্ষিত বাঙালি সমাজের বিরোধিতার কারণঃ- শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বিভিন্ন কারণে 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে বিরোধিতা করেছিল।মধ্যযুগীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।তারা মধ্যযুগীয় শাসন পুনর্গঠনের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন।তারা মনে করেছিল বিদ্রোহীরা জয়লাভ করলে ভারতে আবার মধ্যযুগীয় মুঘল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।তারা মনে করেছিল বিদ্রোহী সফল হলে তাদের সামাজিক উন্নয়নে আধুনিক শিক্ষা ও সংস্কারের অবসান ঘটবে।আধুনিকতার অবসানের ভয়েও তারা সমর্থন করেনি।
বিরোধিতাঃ-
a. সভা করে বিরোধিতা করাঃ- বিদ্রোহ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজা রাধাকান্ত দেবের সভাপতিত্বে ব্র্যাঞ্চ সভা ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা হয়।সভায় বিদ্রোহিদের নিন্দা করা হয়।
b. মেট্রোপলিটন কলেজের সভাঃ- রাজা রাধাকান্ত দেবের সভাপতিত্বে বিদ্রোহীভাবিরোধী আরও একটি সভা হয় মেট্রোপলিটন কলেজে (26শে মে, 1857 খ্রি.)।এই সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ববর্গ হলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ, কমলকৃষ্ণ বাহাদুর, হরচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।তারা সরকারকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভায় প্রস্তাব পাস করেন এবং সরকারের কাছে তা পেশ করেন।
c. পত্রপত্রিকায় বিরোধিতাঃ- সংবাদ ভাস্কর, সংবাদ প্রভাকর প্রভৃতি পত্রপত্রিকায় শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বিদ্রোহীদের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত লিখেছিলেন যে, ‘হে বিধু হয়…. ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের জয়পতাকা চিরকাল সমভাবে উড়ীয়মান করা অত্যাচরি অপকারি বিদ্রোহিকার দুর্দিনদিগকে সমুচিত প্রতিফল প্রদান করা।” এছাড়াও বিভিন্ন গ্রন্থু সমূহে বাঙালি মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় নানাভাবে বিরোধিতা যাইহকহোক।যাইহোক।খুব শীঘ্রই বাঙালি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের ভুল ভেঙে যায়, তাদের সামনে ব্রিটিশ সরকারের নগ্ন রূপ উন্মোচিত হয়। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকারের দমন মূলক কার্যকলাপ লক্ষ্য করে শিক্ষিত বাঙালিরা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি মোহ ভঙ্গ হয়েছিল এবং তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হয়েছিলেন।
৪ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১. নববঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন কী? এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য এই আন্দোলনের ক্রিয়া কান্ড কী ছিল? কেন এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল?***
*উত্তরঃ* ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে কিছু তরুণ ছাত্র পাশ্চাত্য ভাবধারার আদর্শে যুক্তিবাদ, যুক্তচিন্তা, মানসিক চিন্তা, সততার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে ব্রতী হয়। তারা ইয়ং বেঙ্গল বা নববঙ্গ গোষ্ঠী নামে পরিচিত। তাদের পরিচালিত আন্দোলনই হল নববঙ্গ আন্দোলন।
আন্দোলনের উদ্দেশ্যঃ নববঙ্গ গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একদিকে হিন্দুসমাজে, খ্রিস্টধর্ম ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব থেকে সনাতন হিন্দুধর্ম ও রক্ষা করা এবং অপরদিকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে হিন্দুসমাজের কৌলীণ্য, কুপ্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা।
নববঙ্গের দলের কার্যকলাপঃ নববঙ্গীয়দের মূল আক্রমণের কারণ ছিল হিন্দুসমাজের চিরাচরিত কুসংস্কারগুলির বিরোধিতা করা। ডিরোজিওর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ ছাত্ররা ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে এক বিতর্ক সভা প্রতিষ্ঠা করেন। সামাজিক কুসংস্কার ও কুপ্রথা দূর করার জন্য এছাড়া পাঠচক্র ও ক্যালাইডোস্কোপ পত্রিকায় তারা হিন্দুসমাজের বহুবিবাহ, নারীর শিক্ষা, ছবির বিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেন।
আন্দোলনের নেতৃত্বঃ ডিরোজিও ছাড়াও অন্যান্য অনুগামীদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রাধানাথ শিকদার, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ।
আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণঃ ডিরোজিওর নেতৃত্বে ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন। সামগ্রিকটাতে সমাজকে ভীষণ নাড়া দিয়েছিল। তবে এই প্রভাব ছিল ক্ষণস্থায়ী। বিভিন্ন কারণে এই আন্দোলন ছিল পুরোপুরি শহরকেন্দ্রিক। অঙ্কিত ও গ্রামে বসবাসকারী বিশাল সংখ্যক মানুষ আন্দোলনে যোগ দেয়নি।
(১) কৃষক সমাজের দুর্দশা মোচনে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী পুরোপুরি উদাসীন।
(২) এরা নেতিবাচক চিন্তাভাবনা আঁকড়ে ছিলেন বলে উগ্রভাবে হিন্দু বিরোধীতার পথ বেছে নেন। এর ফলে হিন্দুসমাজ দূরে সরে যায়।
(৩) মুসলিম সমাজের সংস্কারে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী উদাসীন ছিল।
(৪) উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
২. ঊনিশ শতকের বাংলায় সমাজসংস্কার আন্দোলনে ব্রাহ্মসমাজ কিরূপ ভূমিকা নিয়েছিল?*
উত্তরঃ রাজা রামমোহন রায় কলকাতায় ১৮১৫ সালে একটি সমাজ সংস্কারমূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম দেন আত্মীয় সভা, যা পরবর্তীকালে ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা নামে পরিচিত হয় ও কলকাতায় এই সংগঠনেই ব্রাহ্ম সমাজ নামে পরিচিত হয়। ওঠা তৎকালীন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি এর সদস্য হতে পারতেন। ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম পরিবর্তন। একেশ্বরবাদ। ১৮৩৩ সালে রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর ব্রাহ্মসমাজের নেতৃত্বে দেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর্থিক সংখ্যক বাঙালির মনে এই আন্দোলনকে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আরও একজন মুখ্য ভূমিকা নেন, তিনি হলেন কেশব চন্দ্র সেন। ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম হিসাবে সমাজসংস্কারে নতুনভাবে ও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যান।
সতীদাহ প্রথাঃ এই আন্দোলন সমর্থন সমর্থন সমর্থন ও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যান।
(৩) তিনটি ভাবধারাঃ বাংলার নবজাগরণের চরিত্র কিভাবে কয়েকটি ভাবধারার পরিচয় পাওয়া যায়। এগুলি হল উদারপন্থী ভাবধারা, প্রাচ্যের পুনরুজ্জীবনবাদী বা ঐতিহ্যবাদী ভাবধারা এবং সমন্বয়বাদী ভাবধারা। পাশ্চাত্যের উদারপন্থী ভাবধারার প্রভাবে সমাজসংস্কার, ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, নারীমুক্তি আন্দোলন প্রভৃতি শুরু হয়। যুক্তির আলোকে প্রচলিত প্রথা এবং আচারবিচারগুলি যাচাই করে নেওয়ার রীতি চালু হয়। দ্বিতীয় ধারা অর্থাৎ প্রাচ্যের পুনরুজ্জীবনবাদ বা ঐতিহ্যবাদী ভাবধারা অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ লক্ষ করা যায়। তৃতীয় অর্থাৎ সমন্বয়বাদী ভাবধারা অনুযায়ী প্রাচীন যুগের যা কিছু শ্রেষ্ঠ তার সঙ্গে পাশ্চাত্য জ্ঞান বিজ্ঞানের যা কিছু শ্রেষ্ঠ উভয়ের সমন্বয়ে উদ্যোগ শুরু হয়।
(৪) এলিটিস্ট আন্দোলনঃ সমালোচকদের ধারণায় উনিশ শতকে কলকাতার বাইরেও উচ্চশিক্ষিত লোকেদের মধ্যেই এই নবজাগরণ সীমাবদ্ধ ছিল। একাধিক আন্দোলনের মধ্যেই এই নবজাগরণ সীমাবদ্ধ ছিল। শহরেরকেন্দ্রিক। এই নবজাগরণের প্রাণকেন্দ্র ছিল কলকাতা। তাই গ্রামবাংলার গরিষ্ঠ অংশ এই নবজাগরণের ছোঁয়া পায়নি বলা যায়।
(৫) মৌলিকের অভাবঃ বাংলা নবজাগরণের মৌলিকের অভাব ছিল। একদিকে বেদ উপনিষদের প্রভাব, অপরদিকে পাশ্চাত্য চিন্তাধারার আদর্শ এবং এক মিশ্র চিন্তাধারার জন্ম দেয়। এর কূপ্রভাব হিসেবে তারা ইংরেজি গানের সুরে হিন্দুস্থানি গানের চর্চা করতেন এবং বিলাস বেসনে জীবন কাটতেন। এদের অনেকে দেখানো ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা বিলাসপণ্য ঘরে সাজিয়ে রেখে গর্ব অনুভব করতেন।
(৬) শহরকেন্দ্রিকঃ উনিশ শতকের নবজাগরণ ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক। এই নবজাগরণের প্রাণকেন্দ্র ছিল কলকাতা। তাই গ্রামবাংলার গরিষ্ঠ অংশ এই নবজাগরণের ছোঁয়া পায়নি বলা যায়।
তৃতীয় অধ্যায় (প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করাঃ-
১. লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন –
উত্তরঃ- ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে
২. ব্রিটিশ সরকার ‘অরণ্য আইন’ জারি করে –
উত্তরঃ- ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
৩. ভারতে প্রথম অরণ্য আইন পাস হয় –
উত্তরঃ- ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
৪. ১৮৬৫ সালের অরণ্য আইন’কে জোরদার করা হয় –
উত্তরঃ- ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে
৫. চুয়াড় বিদ্রোহের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় –
উত্তরঃ- ১৭৬৯-৬৭ খ্রিস্টাব্দে
৬. ‘পাইক’ সৈনিক গোষ্ঠী যে বিদ্রোহে যুক্ত ছিল—
উত্তরঃ- চুয়াড় বিদ্রোহে
৭. মেদিনীপুরের চুয়াড় অধ্যুষিত অঞ্চলকে বলা হত –
উত্তরঃ- জঙ্গলমহল
৮. ‘দিকু’ কথার অর্থ –
উত্তরঃ- বহিরাগত ব্যবসায়ী
৯. আদিবাসীরা বহিরাগত ব্যবসায়ীদের বলত –
উত্তরঃ- দিকু
১০. সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয় –
উত্তরঃ- ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে
১১. সাঁওতাল বিদ্রোহের একজন নেতা হলেন –
উত্তরঃ- কালো প্রামাণিক
১২. র্যাণ্ডেল বাটের মতে, মহাজনরা সাঁওতালদের যে স্তরে নামিয়ে এনেছিল –
উত্তরঃ- ক্রীতদাসের স্তরে
১৩. বাঙালি ব্যবসায়ীরা সাঁওতালদের উৎপাদিত ফসল কিনত –
উত্তরঃ- সস্তা দরে
১৪. ১৮৫৬ সালে কোম্পানি বছরে ‘দামিনে – ই – কোহ’ থেকে রাজস্ব আদায় করে –
উত্তরঃ- ৪৪,০০০ টাকা
১৫. সিধু ও কানহু ছিলেন—
উত্তরঃ- দুই ভাই
১৬. সাঁওতাল বিদ্রোহের পর তৈরি হয় –
উত্তরঃ- সাঁওতাল পরগনা
১৭. সাঁওতাল বিদ্রোহের ঘটনার কথা লেখা আছে—
উত্তরঃ- ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে
১৮. ভাগনা মাঝির বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়ে –
উত্তরঃ- সিধু
১৯. পাইকের কাজ করার বিনিময়ে চুয়াড়রা যে জমি ভোগ করত তার নাম –
উত্তরঃ- পাইকান জমি
২০. চুয়াড় বিদ্রোহ কটি ভাগে বিভক্ত ছিল ?
উত্তরঃ- তিন
২১. ‘হুল’ শব্দের অর্থ –
উত্তরঃ- বিদ্রোহ
২২. ‘হুল’ হুল –
উত্তরঃ- সাঁওতালদের বিদ্রোহের নাম
২৩. The Santal Insurrection of 1855-57 ‘ গ্রন্থটির লেখক –
উত্তরঃ- কালীকিঙ্কর দত্ত
২৪. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় –
উত্তরঃ- বাদাসামগ্রী লুঠ বা ডাকাতির মাধ্যমে
২৫. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিল –
উত্তরঃ- ভাগনাডিহির মাঠে
২৬. ভাগনাডিহিতে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল—
উত্তরঃ- সাঁওতাল বিদ্রোহের
২৭. মহেশলাল দত্ত, যাঁকে সাঁওতালরা হত্যা করেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন—
উত্তরঃ- দারোগা
২৮. ডোমন মাঝি যে বিদ্রোহের নেতা ছিলেন—
উত্তরঃ- সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা
২৯. কার যে ধরনের শাস্তি হয়, তা হল—
উত্তরঃ- ফাঁসি
৩০. ফ্রেডারিক হ্যালিড ছিলেন বাংলার—
উত্তরঃ- ছোটলাট
৩১. সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় পাকুড়ে সাঁওতালদের নেতৃত্ব –
উত্তরঃ- গোহ মাঝি
৩২. বিদ্রোহী সাঁওতালরা তথ্য সরবরাহ করত –
উত্তরঃ- গোয়ালারা
৩৩. সাঁওতালরা গ্রাম লুট করে সেখানে –
উত্তরঃ- চামড়া – বাঁধা বাঁশ পুঁতে আসতেন
৩৪. সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল একটি –
উত্তরঃ- উইলিয়ম হান্টার
৩৫. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল –
উত্তরঃ- ঢাকায়
৩৬. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের একজন বিখ্যাত নেতা ছিলেন –
উত্তরঃ- ভবানী পাঠক
৩৭. ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে যে বিদ্রোহের উল্লেখ আছে –
উত্তরঃ- সন্ন্যাসী – ফকির বিদ্রোহের
৩৮. ভবানী পাঠক নিহত হন –
উত্তরঃ- ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে
৩৯. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অন্তত –
উত্তরঃ- ৩০ হাজার বিদ্রোহী
৪০. পূর্ণিয়ায় ইংরেজ বাহিনীর কাছে সন্ন্যাসীরা পরাজিত হয়েছিলেন –
উত্তরঃ- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে
৪১. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় রংপুরের যুদ্ধে (১৭৭২ খ্রি.) যে ইংরেজ সেনাপতি নিহত হন, তাঁর নাম –
উত্তরঃ- সেনাপতি টমাস
৪২. বগুড়া জেলায় মজনুর শাহ নিহত হন—
উত্তরঃ- মজনু শাহ
৪৩. চুয়াড় বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন –
উত্তরঃ- দুর্জন সিংহ।
৪৪. মেদিনীপুরে চুয়াড় বিদ্রোহের নেতা
উত্তরঃ- রানী শিরোমণি।
৪৫. রংপুর বিদ্রোহ হয়েছিল –
উত্তরঃ- ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে
৪৬. নুরুলউদ্দিন কোন বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ?
উত্তরঃ- রংপুর বিদ্রোহ
৪৭. ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘবদ্ধ বিদ্রোহ ছিল –
উত্তরঃ- সন্ন্যাসী – ফকির বিদ্রোহ
৪৮. ফকির বিদ্রোহ শুরু হয় ।
উত্তরঃ- ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে
৪৯. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন –
উত্তরঃ- দশनामी সম্প্রদভুক্ত সন্ন্যাসীরা
৫০. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন –
উত্তরঃ- মজনু শাহ
৫১. পাগলপন্থী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
উত্তরঃ- করিম শাহ
৫২. পাগলপন্থী বিদ্রোহ ছিল –
উত্তরঃ- উপজাতি বিদ্রোহ
৫৩. পাগলপন্থীদের দমন করতে এসে পরাজিত হয়েছিলেন—
উত্তরঃ- মেজর বারোস
৫৪. সাঁওতালদের দমন করতে এসে পরাজিত হয়েছিলেন—
উত্তরঃ- মেজর বারোস
৫৫. ভিল বিদ্রোহ সংঘটিত হয় –
উত্তরঃ- ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে
৫৬. রুপপুর বিদ্রোহের নেতা ছিলেন যিনি –
উত্তরঃ- নুরুলউদ্দিন
৫৭. বাংলাদেশের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ ছিল –
উত্তরঃ- সন্ন্যাসী – ফকির বিদ্রোহ
অবশ্যই। আপনার নির্দেশ মতো আমি আগের পর্বের পর থেকে সম্পূর্ণ টেক্সটটি পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী দেওয়া শুরু করছি।
৫৮. বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসে সন্ন্যাসী – ফকির বিদ্রোহের প্রেক্ষিত আছে ?
উত্তরঃ- আনন্দমঠ
৫৯. ভাই উধান ছিলেন –
উত্তরঃ- ভিল বিদ্রোহের নেতা
৬০. রংপুর বিদ্রোহ যার বিরুদ্ধে হয়েছিল –
উত্তরঃ- দেবী সিংহ
৬১. রংপুর বিদ্রোহ হয়েছিল –
উত্তরঃ- ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে
৬২. নুরুলউদ্দিন কোন বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ?
উত্তরঃ- রংপুর বিদ্রোহ
৬৩. ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘবদ্ধ বিদ্রোহ ছিল –
উত্তরঃ- সন্ন্যাসী – ফকির বিদ্রোহ
৬৪. ফ্রেডারিক হ্যালিড ছিলেন বাংলার –
উত্তরঃ- ছোটলাট
৬৫. সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় পাকুড়ে সাঁওতালদের নেতৃত্ব –
উত্তরঃ- গোহ মাঝি
৬৬. বিদ্রোহী সাঁওতালরা তথ্য সরবরাহ করত –
উত্তরঃ- গোয়ালারা
৬৭. সাঁওতালরা গ্রাম লুট করে সেখানে –
উত্তরঃ- চামড়া – বাঁধা বাঁশ পুঁতে আসতেন
৬৮. সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল একটি –
উত্তরঃ- উইলিয়ম হান্টার
৬৯. ‘হুল’ শব্দের অর্থ –
উত্তরঃ- বিদ্রোহ
৭০. ‘হুল’ হুল –
উত্তরঃ- সাঁওতালদের বিদ্রোহের নাম
৭১. The Santal Insurrection of 1855-57 ‘ গ্রন্থটির লেখক –
উত্তরঃ- কালীকিঙ্কর দত্ত
৭২. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় –
উত্তরঃ- বাদাসামগ্রী লুঠ বা ডাকাতির মাধ্যমে
৭৩. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিল –
উত্তরঃ- ভাগনাডিহির মাঠে
৭৪. ভাগনাডিহিতে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল—
উত্তরঃ- সাঁওতাল বিদ্রোহের
৭৫. মহেশলাল দত্ত, যাঁকে সাঁওতালরা হত্যা করেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন—
উত্তরঃ- দারোগা
৭৬. ডোমন মাঝি যে বিদ্রোহের নেতা ছিলেন—
উত্তরঃ- সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা
৭৭. কার যে ধরনের শাস্তি হয়, তা হল—
উত্তরঃ- ফাঁসি
৭৮. ফ্রেডারিক হ্যালিড ছিলেন বাংলার—
উত্তরঃ- ছোটলাট
৭৯. বিদ্রোহের জন্য তৈরি হয় –
উত্তরঃ- সাঁওতাল পরগনা
৮০. সাঁওতাল বিদ্রোহের ঘটনার কথা লেখা আছে—
উত্তরঃ- ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে
৮১. ভাগনা মাঝির বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়ে –
উত্তরঃ- সিধু
৮২. পাইকের কাজ করার বিনিময়ে চুয়াড়রা যে জমি ভোগ করত তার নাম –
উত্তরঃ- পাইকান জমি
৮৩. চুয়াড় বিদ্রোহ কটি ভাগে বিভক্ত ছিল ?
উত্তরঃ- তিন
৮৪. ‘হুল’ শব্দের অর্থ –
উত্তরঃ- বিদ্রোহ
৮৫. ‘হুল’ হুল –
উত্তরঃ- সাঁওতালদের বিদ্রোহের নাম
৮৬. The Santal Insurrection of 1855-57 ‘ গ্রন্থটির লেখক –
উত্তরঃ- কালীকিঙ্কর দত্ত
৮৭. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় –
উত্তরঃ- বাদাসামগ্রী লুঠ বা ডাকাতির মাধ্যমে
৮৮. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিল –
উত্তরঃ- ভাগনাডিহির মাঠে
অতিরিক্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নঃ
১. বিতু মুন্ডা সৃষ্টি কারী আদিবাসীদের শায়েস্তা করতে সরকার কোন আইন পাশ করেন ?
উত্তরঃ- ক্রিমিনাল ট্রাইবস আইন
২. রম্পা বিদ্রোহ কবে শুরু হয়েছিল ?
উত্তরঃ- 1879 সালে।
৩. কোন বিদ্রোহে ‘ডিং খরচা’ নামে চাঁদা সংগ্রহ করত ?
উত্তরঃ- রংপুর বিদ্রোহে।
৪. রংপুরের স্থানীয় স্বাধীন সরকারের নবাব নুরুলউদ্দিনের সহকারী কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- দয়ারাম শীল।
৫. রংপুর বিদ্রোহে কে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন ?
উত্তরঃ- ম্যাকডোনাল্ড।
৬. কে ‘মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাই’ নামে পরিচিত ?
উত্তরঃ- রানী শিরোমণি।
৭. ব্রিটিশ সরকারের অরণ্য সনদ পাশ হয় কবে ?
উত্তরঃ- 1855 সালে।
৮. সরকার কাকে বনবিভাগের ইন্সপেক্টর নিয়োগ করেন ?
উত্তরঃ- ডিয়েট্রিখ ব্র্যান্ডিসকে।
৯. কোল বিদ্রোহ দমন করতে কার নেতৃত্বে ইংরেজবাহিনী এসেছিল ?
উত্তরঃ- কোল বিদ্রোহ দমন করতে ক্যাপ্টেন উইলকিনসনের নেতৃত্বে ইংরেজবাহিনী এসেছিল।
১০. কোলদের সম্রাজ্য কী কী ছিল ?
উত্তরঃ- তির, ধনুক, শূলম প্রভৃতি ছিল কোলদের সম্রাজ্য।
১১. দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি নামক পৃথক অঞ্চল কখন খ্রিস্টাব্দে গঠন করা হয় ?
উত্তরঃ- ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি নামক পৃথক অঞ্চল গঠন করা হয়।
১২. প্রথম ভারতীয় অরণ্য আইন পাশ হয় ?
উত্তরঃ- 1865 সালে।
১৩. দ্বিতীয় অরণ্য আইন পাশ হয় কবে ?
উত্তরঃ- 1878 সালে।
১৪. সাঁওতাল বিদ্রোহ কি নামে পরিচিত ?
উত্তরঃ- হুল।
১৫. মুণ্ডা বিদ্রোহ কি নামে পরিচিত ?
উত্তরঃ- উলগুলান।
১৬. মুণ্ডা বিদ্রোহ কবে শুরু হয়।
উত্তরঃ- ১৮৯৯- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে মুণ্ডা বিদ্রোহ শুরু হয়।
১৭. ‘উলগুলান’ বলতে কী বোঝায় ?
উত্তরঃ- ‘উলগুলান’ বলতে ভীষণ বিশৃঙ্খলা বা বিদ্রোহকে বোঝায়।
১৮. মুণ্ডা সমাজে জমিতে যৌথ মালিকানাকে কি বলা হত ?
উত্তরঃ- খুঁৎকাঠি প্রথা।
১৯. ভিল বিদ্রোহের নেতা কে ?
উত্তরঃ- সেওয়ারাম।
২০. আনন্দ মঠ উপন্যাসে কোন বিদ্রোহের উল্লেখ আছে ?
উত্তরঃ- সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের।
২১. ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে ভারতে সংগঠিত প্রথম কৃষক বিদ্রোহের নাম কি ?
উত্তরঃ- সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ।
২২. খুঁৎকাঠি বা ‘খুৎকাট্টি’ প্রথা মানে কী?
উত্তরঃ- ‘খুঁৎকাঠি’ বা ‘খুৎকাট্টি’ প্রথা মানে জমির যৌথ মালিকানা।
২৩. ওয়াহাবি কথার অর্থ কি?
উত্তরঃ- নবজাগরণ।
২৪. তিতুমীর কর্তৃক ঘোষিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা তৈরি করে সেখানে তার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।
২৫. ফরাজী কথার অর্থ কি ?
উত্তরঃ- ইসলাম নির্ধারিত বাধ্যতামূলক কর্তব্য।
৪ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১. ব্রিটিশ শাসকালে ভারতে সংঘটিত বিভিন্ন কৃষক ও আদিবাসী বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?***
*উত্তরঃ* ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায় ব্রিটিশ শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আরো করে যা পরবর্তীকালে সিপাহি বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করেছিল। এই বিদ্রোহগুলির প্রধান কারণগুলি হল –
খাজনা বৃদ্ধিঃ ব্রিটিশ শাসকালে উচ্চহারে ভূমিরাজস্ব ধার্য হয়েছিল। এই উচ্চহারে ভূমিরাজস্বের বোঝা আদিবাসী কৃষকদের উপর চাপিয়ে দিলে তারা নিজস্ব হয়ে যায়।
ঔপনিবেশিক আইন ও বিচার ব্যবস্থাঃ ভারতের এই প্রাচীন উপজাতি সমাজ নিজেদের আইন ও বিচার ব্যবস্থা দ্বারা চালিত হতো। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনে তাদের আইনগুলিকে বাতিল করে তাদের আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে তারা ক্রুদ্ধ হয়েছিল।
নিয়ন্ত্রণঃ ব্রিটিশ শাসকালে উচ্চহারে ভূমিরাজস্ব ধার্য হয়েছিল। এই উচ্চহারে ভূমিরাজস্বের বোঝা আদিবাসী কৃষকদের উপর চাপিয়ে দিলে তারা নিজস্ব হয়ে যায়।
অনাচারঃ দারিদ্র্য ও অনাহার ছিল এদের নিত্যসঙ্গী। তার উপর ব্রিটিশ সরকার খাদ্যশস্যের পরিবর্তে জোরপূর্বক নীল, পাট, তুলো প্রভৃতি চাষ করতে শুরু করে। ফলে আদিবাসীদের অবস্থা আরো সঙ্গীন হয়।
মহাজনি প্রথাঃ গ্রামে বহিরাগত মহাজনরা নানা অছিলায় আদিবাসীদের ঋণে জড়িয়ে ফেলো। একবার ঋণ নিলে সারা জীবন তার থেকে নিস্তার পাওয়া যেত না।
২. মুন্ডা বিদ্রোহের কারণগুলি আলোচনা করো।***
*উত্তরঃ* বীরাসা মুন্ডার নেতৃত্বে রিচিহ্ চোটানাগপুর অঞ্চলে মুন্ডা উপজাতি মানুষের পুঞ্জীভূত বিক্ষোভ ও স্বাভাবিক অভিযোগ ছিল। মিছ মুন্ডা বিদ্রোহের কারণগুলি আলোচনা করা হল –
(i) নিরীহ মুন্ডাদের দিয়ে সরকারি কর্মচারী, জমিদার, মহাজনরা দিনের পর দিন বিনা মজুরিতে বেটেবেগার প্রথার কাজ করতে বাধ্য করলে অবশেষে মুন্ডারা বিদ্রোহের পা বাড়ায়।
(ii) ইংরেজ শাসন প্রবর্তিত হলে বাইরের থেকে লোভী মানুষরা এসে নিরীহ কৃষিজীবী মুন্ডাদের জমি জালিয়াতি করতে নিতে থাকে। এবং প্রতারিত করে সেই জমিগুলি দখল করে নিতে মুন্ডা ক্ষুব্ধ হয়।
(iii) ধর্মভীরু হিসেবে জীবন শুরু করলেও বীরাসা মুন্ডার সংস্কারমূলক বিবিধ ব্যবস্থা, খ্রীষ্টানমতাবকে দূর করে মুন্ডাদের সাধা উচ্চ করে বাঁচার শিক্ষা ছিল বিদ্রোহের অন্যতম কারণ।
(iv) ব্রিটিশ শাসন প্রবর্তিত হওয়ার পর মুন্ডাদের খুঁৎকাঠি প্রথা বা জমির যৌথ মালিকানার অবসান ঘটিয়ে জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলে মুন্ডারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
(v) মহাজন, জমিদার, জায়গিরদার, ঠিকাদার, চা ব্যবসায়ীদের মিথ্যা প্রলোভন ও শোষণ এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্মপ্রচার এই বিদ্রোহের ইন্ধন জোগায়।
(vi) ব্রিটিশ শাসকালে মুন্ডাদের চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী মুন্ডারি আইন, বিচার ও সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে নতুন ধরনের আইন প্রবর্তন করলে মুন্ডারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
৬. বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব’ এর ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব তিনটি শব্দ আপাতভাবে একইরকম মনে হলেও ইতিহাস প্রেক্ষাপটে তিনটি শব্দের মধ্যে মূলগত পার্থক্য আছে।
৬. কোল বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা।*
উত্তরঃ ভূমিকাঃ ব্রিটিশ সরকার, ব্রিটিশদের মিত্র বহিরাগত জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে ছোটনাগপুর অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী কোলরা ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে শক্তিমানি বিদ্রোহ শুরু করে।
আদিবাসীদের বিদ্রোহঃ কোল বিদ্রোহে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল আদিবাসী কোলরা। তাদের নির্ভরতার অন্যতম চাবি, কামার, কুমোর প্রভৃতি মানুষও যোগদান করে।
ঐক্যবদ্ধতাঃ বিদ্রোহ চালনাকালীন আদিবাসী কোলরা ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে লড়েছিল। বিদ্রোহের ঐক্যবদ্ধতাকে লড়াইতে কঠোরভাবে লড়েছিল। বিদ্রোহের ফল ভালো না হলেও কোলরা ঐক্যবদ্ধতার নজির দেখিয়েছিল।
সহযোগিতার অভাবঃ কোল বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত সম্প্রদায় ও সহযোগিতার অভাব লক্ষ করা গিয়েছিল।
বিদ্রোহঃ যেমন বিদ্রোহের ভিত্তি হল প্রতিবাদ। প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ ও বিরোধিতা করা। স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী, সশস্ত্র বা অস্ত্রছাড়া আন্দোলন মূলত শোষক ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে পারে। এটি একক বা সমষ্টিগত দুইভাবে সংঘটিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ নীল-বিদ্রোহ। তবে এর প্রকৃতি হল ধীরগতিতে পরিবর্তন ঘটে।
অভ্যুত্থানঃ এর মূল চরিত্র হল সামরিক এবং প্রধান লক্ষ্যবস্তু হল কোন সরকার বা রাষ্ট্রব্যবস্থা। এটি আকস্মিকভাবে সংগঠিত হয়ে কখনো কখনো নিজ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি অংশের প্রতিবাদ হিসাবে আকস্মিকভাবে এটি ঘটে থাকে। যেমন- ১৮৫৬ খ্রি. ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর নৌরোহিকে অভ্যুত্থান হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।
বিপ্লবঃ বিপ্লব হল প্রচলিত ব্যবস্থার দ্রুত, ব্যাপক ও আমূল পরিবর্তন। এটি সশস্ত্র বা অস্ত্রহীন অথবা শান্তিপূর্ণ হতে পারে। এটির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাব অনেক বেশি। বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে বা সমাজের সকল শ্রেণীর মধ্যে নতুন একটি ধারণার জন্ম নেয়। নতুন ব্যবস্থার জন্ম দেয়। যা যথার্থ অর্থে বিশ্বময়ভাবে ‘যুগ’ বা একলক্ষে অনেক পথ অতিক্রম করে উদাহরণস্বরূপ- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব।
৭. কোল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল বা গুরুত্ব আলোচনা করো।***
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ* বর্তমান বিহারের ছোটনাগপুর, সিংভূম, মানভূম প্রভৃতি অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনকালে কোল উপজাতির মানুষ বসবাস করত। তাদের ওপর ব্রিটিশ সরকার, বহিরাগত জমিদার ও মহাজনদের তীব্র শোষণের তীব্র শোষণের শুরু করে। কোল বিদ্রোহ (1831-32 খ্রি.) নামে পরিচিত। কোলদের বিদ্রোহে দুঃখী ভূমিকা নিয়েছিল আদিবাসী কোলরা।
কোল বিদ্রোহের কারণঃ কোল বিদ্রোহের বিভিন্ন কারণ ছিল—
(১) রাজস্ব আদায়ঃ আগে কোলরা রাজস্ব দিতে অভ্যস্ত ছিল না। কিন্তু ছোটনাগপুর অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা চালু করে। বহিরাগত (দিকু) হিন্দু, মুসলিম ও শিখ মহাজনদের হাতে এখানকার জমির ইজারা দিয়ে তাদের হাতে রাজস্ব আদায়ের অধিকার তুলে দেওয়া হয়।
(২) রাজস্ব বৃদ্ধিঃ জমিদাররা দরিদ্র কোলদের ওপর রাজস্বের পরিমাণ অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয় এবং নতুন নতুন কর আরোপ করে এই কর আদায় করতে গিয়ে তাদের ওপর চরম অত্যাচার চালাত।
(৩) স্ব স্ব জমি থেকে উচ্ছেদঃ ইজারাদাররা কোলদের সর্বস্ব কেড়ে নিতে থাকে, এমনকি জমি থেকেও তাদের উৎখাত করতে শুরু করে।
(৪) নির্যাতনঃ কোলদের ওপর নানারকম নির্যাতন চালানো হয়। কোল রমণীদের মর্যাদা নষ্ট করা হত এবং নানা অজুহাতে কোল পুরুষদের বেগার শ্রম দিতে বাধ্য করা হত।
(৫) অর্থনৈতিক শোষণঃ রাজস্ব তৈরির জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কোলদের বেগার শ্রম দিতে বাধ্য করা হত। কোলদের ইজহার বিরুদ্ধে তাদের খাদ্যশস্যের পরিবর্তে আফিম চাষে বাধ্য করা হত।
কোল বিদ্রোহের ফলাফল ও গুরুত্বঃ ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বিহারের ছোটনাগপুরে অঞ্চলে আদিবাসী কোলরা ব্রিটিশ সরকার এবং তাদের সহযোগী জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে যে নিরক্ষর করোকোল বিদ্রোহের ফলাফলগুলি ছিল নিম্নরূপ—
ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তনঃ কোল বিদ্রোহে কোল অনুষ্ঠিত হলে অঞ্চল ব্রিটিশ কোম্পানি তাদের নীতির কিছু পরিবর্তন ঘটায়।
দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সিঃ সরকার ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি নামে একটি অঞ্চল গঠন করে।
ব্রিটিশ আইন বাতিলঃ দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি অঞ্চলে প্রচলিত দেশীয় আইনকানুন কার্যকর হবে বলে সরকার ঘোষণা করে।
জমি ফেরতঃ জমিদাররা কোলদের যেসব জমিজমা অন্যায়ভাবে দখল করেছিল তা তাদের কাছে থেকে কেড়ে নিয়ে কোলদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
৮. সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণগুলি আলোচনা করো।*
উত্তরঃ সাঁওতাল উপজাতি, ভারতের প্রাচীন বাসিন্দা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের একটি অংশ। ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে সাঁওতালদের ওপর ইংরেজ কর্মচারী, দেশীয় জমিদার ও মহাজনদের অত্যাচারের ফলে ১৯ শতকের মধ্যভাগে তাদের মধ্যে যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, তারই পরিণতি হল সাঁওতাল বিদ্রোহ। এর কারণগুলো হল–
(ক) নিরীহ মুন্ডাদের দিয়ে সরকারি কর্মচারী, জমিদার, মহাজনরা দিনের পর দিন বিনা মজুরিতে বেটেবেগার প্রথার কাজ করতে বাধ্য করলে অবশেষে মুন্ডারা বিদ্রোহের পা বাড়ায়।
(খ) ইংরেজ শাসন প্রবর্তিত হলে বাইরের থেকে লোভী মানুষরা এসে নিরীহ কৃষিজীবী মুন্ডাদের জমি জালিয়াতি করতে নিতে থাকে। এবং প্রতারিত করে সেই জমিগুলি দখল করে নিতে মুন্ডা ক্ষুব্ধ হয়।
(গ) ধর্মভীরু হিসেবে জীবন শুরু করলেও বীরাসা মুন্ডার সংস্কারমূলক বিবিধ ব্যবস্থা, খ্রীষ্টানমতাবকে দূর করে মুন্ডাদের সাধা উচ্চ করে বাঁচার শিক্ষা ছিল বিদ্রোহের অন্যতম কারণ।
(iv) ব্রিটিশ শাসন প্রবর্তিত হওয়ার পর মুন্ডাদের খুঁৎকাঠি প্রথা বা জমির যৌথ মালিকানার অবসান ঘটিয়ে জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলে মুন্ডারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
(v) মহাজন, জমিদার, জায়গিরদার, ঠিকাদার, চা ব্যবসায়ীদের মিথ্যা প্রলোভন ও শোষণ এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্মপ্রচার এই বিদ্রোহের ইন্ধন জোগায়।
(vi) ব্রিটিশ শাসকালে মুন্ডাদের চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী মুন্ডারি আইন, বিচার ও সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে নতুন ধরনের আইন প্রবর্তন করলে মুন্ডারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
৯. তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ বা ওহায়াবি আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করো।*
অথবা, বাংলায় ওহায়াবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য চরিত্র ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূমিকাঃ ভারতবর্ষে ওহায়াবি আন্দোলন শুরু করেন দিল্লির বিখ্যাত মুসলিম সন্ত শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও তার পুত্র আজিজ। তবে ভারতবর্ষে ওহায়াবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রায়বেরিলির অধিবাসী সৈয়দ আহমদ।
ওহায়াবি আন্দোলনের উদ্দেশ্যঃ
i. ইসলামধর্মের সংস্কারঃ- ওহায়াবি এর প্রকৃত নাম হল তারিকা- ই- মহম্মদীয়। অর্থাৎ ইসলামধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মহম্মদ প্রদর্শিত পথে ইসলামধর্মের মধ্যে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করে মহম্মদের নির্দেশ অনুসরণ করে সংস্কার করা।
ii. ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজদের বিতাড়নঃ- ওহায়াবি আন্দোলনকারীরা বিশ্বাসী ইংরেজ- শাসিত ভারতকে দার- উল-হারব বা শত্রুর দেশ বলে অভিহিত করত। তারা এই ভারতের ধর্মযুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করার জন্য আন্দোলন করেছিল।
iii. অত্যাচারী জমিদারদের উচ্ছেদঃ- ওহায়াবি আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অত্যাচারী জমিদারদের উচ্ছেদ করা। এই কারণে প্রথমে তারা ধর্মীয় আন্দোলন শুরু করলেও পরবর্তীকালে কৃষক আন্দোলনে পরিণত হয়।
iv. নৈতিক ও আধ্যাত্মিক আদর্শঃ- ওহায়াবি আন্দোলনের এক মহৎ ও সফল জীবনযাত্রা এবং নৈতিক আদর্শের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলায় ওহায়াবি আন্দোলনঃ- বাংলায় তিতুমীরের নেতৃত্বে ওহায়াবি আন্দোলন প্রথম ছিল। তিনি ১৮ শতকের পারগনা জেলার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত হায়দারপুর গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮২২ বয়সে মক্কায় হজ করতে গিয়ে সৈয়দ আহমদের সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং দেশে ফিরে ইসলামধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন কৃষক আন্দোলন -এ পরিণত হয়েছিল। বারাসত অঞ্চলে তিতুমীরের আন্দোলন বারাসত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
তিতুমীরের আন্দোলনের মূল কথা ছিল-
i. একমাত্র আল্লাহকে মান্য করতে হবে।
ii. মুসলমানের ইসলাম ধর্ম বহির্ভূত সংস্কার পরিত্যাগ করতে হবে।
iii. অনুগামীদের দাড়ি রাখতে হবে।
iv. অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধঃ- তিতুমীরের ১৮ পরগনা নদীয়া মালদহ রাজশাহী ঢাকা প্রভৃতি অঞ্চলে কৃষকরা অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধঃ তিতুমীরের ১৮ পরগনা নদীয়া মালদহ রাজশাহী ঢাকা প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জমিদার সাহেবদের ও মুসলমান যোদ্ধারা তিতুমীরের বিরোধিতা শুরু করে। পুরো পুড়রা জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের সঙ্গে তিতুমীরের বিরোধ।
তিতুমীরের বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্যঃ
i) নীলকরবিরোধী চরিত্রঃ নীল বিদ্রোহে নীলকরবিরোধী বিদ্রোহ এটি অন্যান্য বিদ্রোহের মতো জমিদার বা মহাজনবিরোধী বিদ্রোহ ছিল না। নীলকরদের অত্যাচার, নীলকরদের নানাভাবে বিদ্রোহ যোযাণা করেছিল, তা ‘নীল বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
ii) কৃষকদের কঠোর মনোভাবঃ এই বিদ্রোহে বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষকদের কঠোর মনোভাব। এই বিদ্রোহে কৃষক বেশ দুর্বার হয়ে পড়েছিল। সে সময় পর্যন্ত বিদ্রোহীরা বাংলা থেকে নীলচাষ বন্ধ করেছিল।
iii) আন্দোলনে প্রথম ধর্মঘট প্রয়োগঃ এই বিদ্রোহে প্রথম ধর্মঘটের প্রয়োগ। এল নটরাজুন বলেছেন, নীলচাষ করতে অস্বীকার করে বাংলার কৃষকরা ভারতের ইতিহাসে প্রথম ধর্মঘটের নজির সৃষ্টি করে। এই ঘটনা ছিল অতি বিপ্লবী।
iv) ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্রোহঃ ওহায়াবি, ফরাজি, সাঁওতাল, মুণ্ডা প্রভৃতি বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ধর্ম। কিন্তু এই বিদ্রোহে তা ছিল না। নীল বিদ্রোহ ছিল মূলত কৃষকদের অধিকার রক্ষার তাগিদে। এই বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান সব সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে শামিল হয়েছিল।
v) বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারিদের সমর্থনঃ নীল বিদ্রোহের সমর্থনে মিশনারিরা বিদ্রোহিদের সমর্থন করেছিল। জেমস লং নীলদর্পণ নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এজন্য তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল।
উপসংহারঃ- পরিশেষে বলা যায়, নীল বিদ্রোহ বাঙালি সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আন্দোলন সৃষ্টি করেছিল। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় নীলচাষিদের সমর্থনে এগিয়েছিল। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তার হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় নীলচাষিদের সমর্থনে নিয়মিত লেখা প্রকাশ করতেন। তা ছাড়া অন্যান্য পত্রপত্রিকা ও নাটকে যেভাবে নীল বিদ্রোহকে সমর্থন করা হয়েছিল তা ছিল অভূতপূর্ব।
৩. কোল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল বা গুরুত্ব আলোচনা করো।*
উত্তরঃ ভূমিকাঃ বর্তমান বিহারের ছোটনাগপুর, সিংভূম, মানভূম প্রভৃতি অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনকালে কোল উপজাতির মানুষ বসবাস করত। তাদের ওপর ব্রিটিশ সরকার, বহিরাগত জমিদার ও মহাজনদের তীব্র শোষণের তীব্র শোষণের শুরু করে। কোল বিদ্রোহ (1831-32 খ্রি.) নামে পরিচিত। কোলদের বিদ্রোহে দুঃখী ভূমিকা নিয়েছিল আদিবাসী কোলরা।
কোল বিদ্রোহের কারণঃ কোল বিদ্রোহের বিভিন্ন কারণ ছিল—
(১) রাজস্ব আদায়ঃ আগে কোলরা রাজস্ব দিতে অভ্যস্ত ছিল না। কিন্তু ছোটনাগপুর অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা চালু করে। বহিরাগত (দিকু) হিন্দু, মুসলিম ও শিখ মহাজনদের হাতে এখানকার জমির ইজারা দিয়ে তাদের হাতে রাজস্ব আদায়ের অধিকার তুলে দেওয়া হয়।
(২) রাজস্ব বৃদ্ধিঃ জমিদাররা দরিদ্র কোলদের ওপর রাজস্বের পরিমাণ অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয় এবং নতুন নতুন কর আরোপ করে এই কর আদায় করতে গিয়ে তাদের ওপর চরম অত্যাচার চালাত।
(৩) স্ব স্ব জমি থেকে উচ্ছেদঃ ইজারাদাররা কোলদের সর্বস্ব কেড়ে নিতে থাকে, এমনকি জমি থেকেও তাদের উৎখাত করতে শুরু করে।
(৪) নির্যাতনঃ কোলদের ওপর নানারকম নির্যাতন চালানো হয়। কোল রমণীদের মর্যাদা নষ্ট করা হত এবং নানা অজুহাতে কোল পুরুষদের বেগার শ্রম দিতে বাধ্য করা হত।
(৫) অর্থনৈতিক শোষণঃ রাজস্ব তৈরির জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কোলদের বেগার শ্রম দিতে বাধ্য করা হত। কোলদের ইজহার বিরুদ্ধে তাদের খাদ্যশস্যের পরিবর্তে আফিম চাষে বাধ্য করা হত।
কোল বিদ্রোহের ফলাফল ও গুরুত্বঃ ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বিহারের ছোটনাগপুরে অঞ্চলে আদিবাসী কোলরা ব্রিটিশ সরকার এবং তাদের সহযোগী জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে যে নিরক্ষর করোকোল বিদ্রোহের ফলাফলগুলি ছিল নিম্নরূপ—
ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তনঃ কোল বিদ্রোহে কোল অনুষ্ঠিত হলে অঞ্চল ব্রিটিশ কোম্পানি তাদের নীতির কিছু পরিবর্তন ঘটায়।
দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সিঃ সরকার ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি নামে একটি অঞ্চল গঠন করে।
ব্রিটিশ আইন বাতিলঃ দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি অঞ্চলে প্রচলিত দেশীয় আইনকানুন কার্যকর হবে বলে সরকার ঘোষণা করে।
জমি ফেরতঃ জমিদাররা কোলদের যেসব জমিজমা অন্যায়ভাবে দখল করেছিল তা তাদের কাছে থেকে কেড়ে নিয়ে কোলদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
চতুর্থ অধ্যায় ( সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা)
সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখঃ
১. ‘ভারতমাতা’ ছবিটি স্রষ্টা –
উত্তরঃ- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. ‘বন্দেমাতরম’ সংগীতটি নেওয়া হয়েছে –
উত্তরঃ- ‘আনন্দমঠ’ থেকে
৩. সিপাহি বিদ্রোহের প্রথম ঘটনাস্থল ছিল—
উত্তরঃ- ব্যারাকপুর
৪. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুর সেনানিবাসে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন –
উত্তরঃ- মঙ্গল পাণ্ডে
৫. ‘বর্তমান ভারত’ প্রথম প্রকাশিত হয়—
উত্তরঃ- উদ্বোধন পত্রিকায়
৬. জমিদার সভা ছিল একটি –
উত্তরঃ- রাজনৈতিক সংগঠন
৭. সিপাহি বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন—
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং
৮. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন শিল্পকর্মের জন্য বিখ্যাত ?
উত্তরঃ- ব্যঙ্গচিত্র
৯. মহাবিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন –
উত্তরঃ- মহারানি ভিক্টোরিয়া
১০. নানা সাহেবের প্রকৃত নাম কী?
উত্তরঃ- গোবিন্দ ধন্দু পন্থ
১১. ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন –
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং
১২. মহারানির ঘোষণাপত্র জারি হয়েছিল ১৮৫৮ সালের
উত্তরঃ- ১ নভেম্বর
১৩. কোম্পানির আমলের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন—
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং
১৪. রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়
উত্তরঃ- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে
১৫. ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান
উত্তরঃ- বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা
১৬. জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়—
উত্তরঃ- ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে
১৭. দেশীয় সংবাদপত্র আইন প্রবর্তিত হয়—
উত্তরঃ- ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে
১৮. হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠা করেন—
উত্তরঃ- নবগোপাল মিত্র
১৯. ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ভারমাতা চিত্রটি এঁকেছেন—
উত্তরঃ- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২০. জমিদার সভার সভাপতি ছিলেন –
উত্তরঃ- রাধাকান্ত দেব
২১. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত উপন্যাসটি হলো
উত্তরঃ- আনন্দমঠ
২২. ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম জাতীয় বিদ্রোহটি হলো—
উত্তরঃ- সিপাহি বিদ্রোহ
২৩. সিপাহি বিদ্রোহের সময়ে অযোধ্যায় বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দেন—
উত্তরঃ- বেগম হজরত মহল
২৪. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়
উত্তরঃ- ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে
২৫. ১৮৫৭- র মহাবিদ্রোহের সময় দিল্লির মোগল সম্রাট ছিলেন—
উত্তরঃ- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
২৬. পেশোয়া ‘পদ লুপ্ত করেন গভর্নর জেনারেল –
উত্তরঃ- লর্ড ডালহৌসি
২৭. হিন্দুমেলার উদ্দেশ্য ছিল
উত্তরঃ- দেশজ শিল্পের প্রসার
২৮. সিপাহি বিদ্রোহের প্রথম শহিদ নামে পরিচিত—
উত্তরঃ- মঙ্গল পাণ্ডে
২৯. মহারানির ঘোষণাপত্র করে প্রকাশিত হয় ?
উত্তরঃ- মহারানির ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয় ১ নভেম্বর ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে।
৩০. মহারানির ঘোষণাপত্রটি ভারতের কোথায় ঘোষিত হয় ?
উত্তরঃ- মহারানির ঘোষণাপত্রটি ভারতে এলাহাবাদে ঘোষিত হয়।
৩১. মহারানির ঘোষণাপত্র টি এলাহাবাদে কে পাঠ করেন ।
উত্তরঃ- মহারানির ঘোষণাপত্র টি এলাহাবাদে পাঠ লর্ড ক্যানিং।
৩২. কত খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে ?
উত্তরঃ- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।
৩৩. ভারত সচিবের দপ্তরের নাম কী ছিল?
উত্তরঃ- ইন্ডিয়া হাউজ।
৩৪. কার্ল মার্কস ১৮৫৭ – র বিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে কি বলেছিলেন ?
উত্তরঃ- কার্ল মার্কস ১৮৫৭ – র বিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে বলেছিলেন এটি ছিল জাতীয় বিদ্রোহ।
৩৫. ভারতে প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
উত্তরঃ- লর্ড ক্যানিং।
৩৬. ‘মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রকে ভারতীয় জনগণের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
উত্তরঃ- ‘মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রকে ভারতীয় জনগণের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
৩৭. ‘মহাবিদ্রোহ’ ছিল ক্ষয়িষ্ণু অভিজাত তন্ত্র ও মৃতপ্রায় সামন্তশ্রেণির মৃত্যুকালীন আর্তনাদ” — উক্তিটি কার ?
উত্তরঃ- উক্তিটি ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার – এর।
৩৮. মহাবিদ্রোহের নেতা নানা সাহেব তাঁতিয়া টোপি।
উত্তরঃ- মহাবিদ্রোহের নেতা নানা তাঁতিয়া টোপি।
৩৯. মহাবিদ্রোহে দমন করেছিল এমন একজন ব্রিটিশ সেনাপতি হলেন হ্যাভলক।
উত্তরঃ- মহাবিদ্রোহে দমন করেছিল এমন একজন ব্রিটিশ সেনাপতি হলেন হ্যাভলক।
৪০. বিদ্রোহে বাঙালি ‘গ্রন্থটি কার লেখা ?
উত্তরঃ- বিদ্রোহে বাঙালি ‘গ্রন্থটি দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা।
৪১. ভারতে ভাইসরয়ের শাসন কবে থেকে শুরু হয়?
উত্তরঃ- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারতে ভাইসরয়ের শাসন থেকে শুরু হয়।
৪২. ভারত সচিবের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ- ভারত সচিবের সদর দপ্তর ছিল লন্ডনে।
৪৩. বিদেশে ঠাকুরের সঙ্গে স্বদেশি কুকুরের তুলনা করেছেন কে?
উত্তরঃ- কবি ঈশ্বর গুপ্ত।
৪৪. কুকুর ও ভারতীয় প্রবেশ নিষেধ – কোথায় লেখা থাকত?
উত্তরঃ- ভারতে অবস্থিত ইউরোপীয় ক্লাবগুলিতে।
৪৫. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ভারতের আকাশ থেকে মেঘ দূর করেছিল — এ কথা কে বলেছেন ?
উত্তরঃ- ঐতিহাসিক স্যার লেপেল গ্রিফিন – এর।
৪৬. হিন্দুমেলার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?
উত্তরঃ- হিন্দুমেলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৪৭. উনিশ শতকে ভারতে সভাসমিতি গঠনের পরিণতি কোন প্রতিষ্ঠানে রূপায়িত.
উত্তরঃ- উনিশ শতকে ভারতে সভাসমিতি গঠনের চরম পরিণতি জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয়।
৪৮. পুনা সার্বজনিক সভা ( ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ) কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ?
উত্তরঃ- গোপালহরি দেশমুখের নেতৃত্বে পুনা সার্বজনিক সভা ( ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ) পড়ে ওঠে।
৪৯. The revolt of 1857 swept the Indian sky clear of many clouds — উক্তিটি কার?
উত্তরঃ ঐতিহাসিক স্যার লেপেল গ্রিফিন-এর।
৫০. মহাবিদ্রোহের পর গভর্নর জেনারেলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
উত্তরঃ ভাইসরয় নামে।
৫১. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ অ্যালান অক্টেভিয়ান হিউম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন।
একটী বাক্যে উত্তর দাওঃ
১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কাকে ‘হিন্দুস্থানের সম্রাট’ বলে ঘোষণা করা হয়?
উত্তরঃ মঙ্গল পাণ্ডো।
২. সাধারণত জ্ঞানোপার্জিকা সভার মুখপত্র কী ছিল?
উত্তরঃ সাধারণত জ্ঞানোপার্জিকা সভার মুখপত্র ছিল Bengal Spectator
৩. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কাকে ‘হিন্দুস্থানের সম্রাট’ বলে ঘোষণা করা হয়?
উত্তরঃ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে।
৪. জমিদার সভার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ জমিদার সভার প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রসন্নকুমার ঠাকুর।
৫. সিপাহি বিদ্রোহ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
উত্তরঃ ভারত সচিব আর্ল স্ট্যানলি।
৬. সিপাহি বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তরঃ লর্ড ক্যানিং।
৭. সিপাহি বিদ্রোহের প্রথম শহিদ কে ছিলেন?
উত্তরঃ মঙ্গল পাণ্ডে।
৮. নির্বাসনকালে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের বয়স কত ছিল?
উত্তরঃ ৮২ বছর।
৯. নির্বাসনকালে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের সঙ্গে নিশ্বাস ত্যাগ করেন?
উত্তরঃ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ রেঙ্গুনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১০. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে কে ভারতের স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন?
উত্তরঃ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে বিনায়ক দামোদর সাভারকার ভারতের স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন।
১১. কার্ল মার্কস ১৮৫৭ – র বিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে কি বলেছিলেন?
উত্তরঃ কার্ল মার্কস ১৮৫৭ – র বিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে বলেছিলেন এটি ছিল জাতীয় বিদ্রোহ।
১২. ভারতে প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
উত্তরঃ লর্ড ক্যানিং।
১৩. কবে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের অবসান ঘটে?
উত্তরঃ ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের অবসান ঘটে।
১৪. ভারতে ভাইসরয়ের শাসন কবে থেকে শুরু হয়?
উত্তরঃ ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারতে ভাইসরয়ের শাসন থেকে শুরু হয়।
১৫. ভারত সচিবের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ ভারত সচিবের সদর দপ্তর ছিল লন্ডনে।
১৬. বিদেশে ঠাকুরের সঙ্গে স্বদেশি কুকুরের তুলনা করেছেন কে?
উত্তরঃ কবি ঈশ্বর গুপ্ত।
১৭. কুকুর ও ভারতীয় প্রবেশ নিষেধ – কোথায় লেখা থাকত?
উত্তরঃ ভারতে অবস্থিত ইউরোপীয় ক্লাবগুলিতে।
১৮. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ভারতের আকাশ থেকে মেঘ দূর করেছিল — এ কথা কে বলেছেন ?
উত্তরঃ ঐতিহাসিক স্যার লেপেল গ্রিফিন – এর।
১৯. হিন্দুমেলার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?
উত্তরঃ হিন্দুমেলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২০. উনিশ শতকে ভারতে সভাসমিতি গঠনের পরিণতি কোন প্রতিষ্ঠানে রূপায়িত.
উত্তরঃ উনিশ শতকে ভারতে সভাসমিতি গঠনের চরম পরিণতি জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয়।
২১. পুনা সার্বজনিক সভা ( ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ) কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ?
উত্তরঃ গোপালহরি দেশমুখের নেতৃত্বে পুনা সার্বজনিক সভা ( ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ) পড়ে ওঠে।
২২. The revolt of 1857 swept the Indian sky clear of many clouds — উক্তিটি কার?
উত্তরঃ ঐতিহাসিক স্যার লেপেল গ্রিফিন-এর।
২৩. মহাবিদ্রোহের পর গভর্নর জেনারেলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
উত্তরঃ ভাইসরয় নামে।
২৪. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ অ্যালান অক্টেভিয়ান হিউম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন।
২৫. কত খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তরঃ ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৬. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?
উত্তরঃ জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি ছিলেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
২৭. ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি কার লেখা ?
উত্তরঃ আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা।
২৮. মহাবিদ্রোহে ছিল ক্ষয়িষ্ণু অভিজাত তন্ত্র ও মৃত প্রায় সামন্তশ্রেণির মৃত্যুকালীন আর্তনাদ — উক্তিটি কার?
উত্তরঃ ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার-এর।
২৯. ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি কোন উপন্যাসে নেওয়া হয়েছিল ?
উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
৩০. ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ?
উত্তরঃ ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
৩১. কে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের গুরু’ বলেছেন ?
উত্তরঃ অরবিন্দ ঘোষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের গুরু’ বলেছেন।
৩২. কে মহারানির ঘোষণাপত্রকে রাজনৈতিক (Political Bluff) বলেছেন?
উত্তরঃ ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র।
৩৩. পরাধীন ভারতের ‘জাতীয় সংগীত’ কোনটি?
উত্তরঃ পরাধীন ভারতের ‘জাতীয় সংগীত’ ছিল ‘বন্দে মাতরম্’।
৩৪. ‘বর্তমান ভারত’ কার লেখা ?
উত্তরঃ ‘বর্তমান ভারত’ স্বামী বিবেকানন্দের লেখা।
৩৫. ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’ কার লেখা ?
উত্তরঃ ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’ স্বামী বিবেকানন্দের লেখা।
৩৬. ঊনবিংশ শতককে কে সভাসমিতির যুগ বলেছেন?
উত্তরঃ ডঃ অনিল শীল।
২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
১. সভা সমিতির যুগ বলতে কী বোঝো। অথবা উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে সভা সমিতির যুগ বলা হয় কেন?***
*উত্তরঃ-* উনিশ শতকের দ্বিতীয় অর্ধে জাতীয় ভাবনার উন্মেষে দেশবাসী উপলব্ধি করে যে, অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দেশীয় স্বার্থরক্ষা ও সমাজ কল্যাণের জন্য জনমত গঠনের একমাত্র উপায় হল সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন। এই প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক চেতনা গড়ে ওঠে যেমন কলকাতায় প্রায় দশটি এবং বোম্বাই ও মাদ্রাজে জাতীয় জাগরণের উন্মেষে এক একটি জাতীয়তাবাদের বিকাশে নীলচাষিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. বাঙালি বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এই বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিলেন কেন?
উত্তরঃ- ইংরেজ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ ও নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে বাঙালি বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ইংরেজ সরকারের সমর্থনে করেছিল এবং সিপাহি বিদ্রোহের বিপক্ষে ছিল। এ প্রসঙ্গে বাঙালি বুদ্ধিজীবী দুর্গাদাস বন্দোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, জমিদার রাধাকান্ত দেব প্রমুখের কথা বলা যায়।
৩. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বাংলা ব্যঙ্গচিত্রের জনক’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ- উনিশ শতকের বাংলা তথা ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ব্যঙ্গচিত্রের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক সমাজ ও ব্রিটিশ শাসনের বর্বরতা, নিপীড়ন প্রভৃতি নেতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরেছিলেন। যে যুগে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মুখ ফোটার দিকেও ছিল না কেউ। এই ধরনের চিত্র অঙ্কন করা সহজ সাধ্য ছিল না। কেউ এই ধরনের ব্যঙ্গচিত্র আঁকার সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাই তাকে ‘বাংলা ব্যঙ্গচিত্রের জনক’ বলা হয়।
৪. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে কারা, কেন ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ বলে অভিহিত করেছেন?
উত্তরঃ- ঐতিহাসিক আউটট্রাম, ডাফ, রবার্টসন, টেরি ডেলের নেতা ডিসরেলি, সমাজতন্ত্রের বিদ্রোহে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ বলে অভিহিত করেছেন। মুজাফফরনগর, বিহার ও উত্তরপ্রদেশে সিপাহিদের সঙ্গে সংযোগ ছাড়াই বেসামরিক লোকজন ও জমিদারশ্রেণি এই বিদ্রোহে বিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এজন্য তাঁরা এই বিদ্রোহকে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ বলেছেন।
৫. ইলবার্ট বিল বিতর্ক কী?***
*উত্তরঃ-* লর্ড রিপন ভারতে আসার আগে কোন ভারতীয় বিচারকরা কোন অভিযুক্ত ইংরেজদের বিচার করতে পারত না। এই বৈষম্য দূর করতে লর্ড রিপনের পরামর্শে তার আইন সচিব ইলবার্ট একটি বিলের খসড়া রচনা করেন। এই খসড়া বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ অভিযুক্তদের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়। এই খসড়া বিলই ইলবার্ট বিল (১৮৮৩) নামে পরিচিত।
৬. হিন্দু মেলার অপর নাম কি? এর উদ্দেশ্য কি ছিল?***
*উত্তরঃ-* হিন্দু মেলার অপর নাম চৈত্র মেলা।
উদ্দেশ্যঃ
i) বাংলা তথা ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যবোধ জাগ্রত করা।
ii) হিন্দুদের অতীত গৌরবগাথা ছড়িয়ে দেওয়া।
iii) সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটানো। বিশেষ করে শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করা।
iv) জাতীয় প্রতীকগুলিকে মর্যাদা দেওয়া ইত্যাদি ছিল এর উদ্দেশ্য।
ইলবার্ট বিলের সংশোধনঃ এই বিলে ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচারের অধিকার দান করা হলে শ্বেতাঙ্গরা তা মানতে অস্বীকার করে কলকাতা হাইকোর্টের ব্যারিস্টার ব্রানসন-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশন’। ভারত ও ইংল্যান্ডে ইংরেজরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। বাধ্য হয়ে লর্ড রিপন জুরি ব্যবস্থা প্রবর্তন করে বিলের সঙ্গে মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য মেনে নেন। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভারতসভা এই বিলের স্বপক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
৭. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহকে কে এবং কেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন?***
*উত্তরঃ-* প্রখ্যাত বিপ্লবী বিনায়ক দামোদর সাভারকার ১৮৫৭ – র বিদ্রোহকে ভারতের °প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ, প্রথমত, ১৮৫৭ – র বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী বিদ্রোহীরা মনেপ্রাণে ইংরেজ বিতাড়ন করেছিল। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক একসঙ্গে এই বিদ্রোহে জাতীয়তাবাদের সমর্থনে অংশ নিয়েছিল। তৃতীয়ত, ইংরেজদের বিরুদ্ধে এই রকম বিদ্রোহ ও ব্যাপক আন্দোলন ইতিপূর্বে ভারতে আর হয়নি।
৮. মহারানীর ঘোষণাপত্রের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বা গুরুত্ব লেখো।***
*উত্তরঃ* লর্ড ক্যানিং ভারতের রাজশক্তির ক্ষমতা গ্রহণের সংবাদ এলাহাবাদে আয়োজিত এক দরবারে মহারানির নামে প্রচারিত এক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন (১ নভেম্বর ১৮৫৭ খ্রি.)।
তাৎপর্যঃ ভারতীয় জনগণের ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা মহাসনদ বলে অভিহিত মহারানির এই ঘোষণাপত্রে বলা হয়—
১) দেশীয় রাজাদের মর্যাদা দানঃ এখন থেকে দেশীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে পূর্ব সম্পাদিত সমস্ত সন্ধিকে মানা করা হবে এবং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকারকে যথোচিত সম্মান দেওয়া হবে।
২) স্বর্ণবিলোপ নীতি প্রত্যাহারঃ দেশীয় রাজ্যগুলিতে একযোগে ঘোষিত দেশীয় প্রজাসত্বাধিকারীকে স্বীকার করে নেওয়া হয়, দেশীয় রাজারা আগের মতো দত্তকপুত্র গ্রহণ করতে পারবেন এবং স্বর্ণবিলোপ নীতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
৩) রাজাজ্ঞা জারঃ ব্রিটিশ সরকার ভারতে আর রাজ্যবিস্তার করবে না এবং প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশ-হত্যার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া আর সমস্ত ভারতীয় বন্দিদের মুক্তির দেওয়া হবে।
৪) স্বাধীন ধর্মাচরণঃ কারও কোনো ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া হবে না।
৪ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১.ভারতমাতার চিত্র জাতীয়তাবাদের উন্মেষে কি ভূমিকা পালন করেছিল?***
অথবা, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভারতমাতা চিত্রের মাধ্যমে কীভাবে জাতীয়তাবাদী ভাবনার বিকাশ ঘটিয়েছেন?
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ-* ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতবর্ষে চিত্রশিল্পীরা চিত্রের মাধ্যমেও ভারতীয় জাতীয়তাবোধ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ভারতীয় জাতীয়তা বোধ বোধ সৃষ্টিকারী চিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর অঙ্কিত ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি। চিত্রটির মাধ্যমে বিংশ শতকে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসার ঘটায়। ভারমাতার চিত্রটি ‘ভারতমাতা’ চিত্রের রূপকার হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ভারমাতা চিত্রের অঙ্কন কালঃ- 1902 খ্রিস্টাব্দে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বঙ্কিমাতা’ চিত্র অঙ্কন করেন। পরে ভারতে স্বদেশি আন্দোলনের আবহে 1905 খ্রিস্টাব্দে তা ভারতমাতা রূপে খ্যাতি লাভ করে।
ভারমাতা চিত্রের বর্ণনাঃ- ভারতমাতা হলেন গৈরিক বস্ত্র পরিহিতা এক দেবী। ভারতমাতার চারটি হাত। তিনি চারটি হাতে ধরে আছেন ধানের গোছা, সাদা কাপড়, বেদ ও জপমালা। তিনি সবুজ পৃথিবীর উপর দাঁড়িয়ে আছেন, তার পায়ের কাছে চারটি পদদ্মফুল এবং পিছনে নীল আকাশ।
ভাবমূর্তিঃ- ভারতমাতার প্রতিকীর্তিতে তিনি তার সন্তানদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষা প্রদান করেন। ভারতমাতা চিত্রটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জাতীয়তাবাদের প্রতীক পরিণত হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনধীন ভারতে ‘চিত্রটি জনসাধরণের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সঞ্চার করে।
ভগিনী নিবেদিতাঃ- ভারতমাতা -র ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, এই চিত্রটির মাধ্যমে বিমূর্ত জাতীয়তাবাদকে মূর্ত করে তোলা হয়েছে।
২. স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ ভারতের জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ?***
*উত্তরঃ* পৃথিবীর যেকোন দেশে স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা বিকাশের সঙ্গে সেই দেশাত্মবোধক ও জাতীয়তাবাদী সাহিত্যের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দেশাত্মবোধক সাহিত্যের বিকাশ ভারত ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যে সমস্ত মনীষীরা তাদের লেখার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্বামী বিবেকানন্দ এবং তার লেখা দেশাত্মবোধক উপন্যাস ‘বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি 1905 খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থু আকারে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটিতে বিবেকানন্দের ভারত দর্শন এবং ভারত সম্পর্কে তাঁর দার্শনিক তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে যা জাতীয়তাবাদের বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিয়েছে।
সামাজিক মূল্যবোধঃ বিবেকানন্দ বলেন, সমাজের উচ্চস্তরের মানুষের দ্বারা শত শত বছর ধরে শোষিত শূদ্র শ্রেণির মানুষ একসময় সমাজের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, তারা দেশ শাসন করবে। সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে এবং শুরু হবে প্রকৃত মানুষের ‘গণজাগরণ’।
দেশপ্রেমঃ বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে দেশপ্রেম জাগরিত হয়েছে। তিনি ভারতীয় সমাজকে ‘আমার শিশুশয্যা আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী’ বলে বর্ণনা করে প্রত্যেক ভারতবাসীকে সংঘবদ্ধ হতে বলেছেন।
জাতীয়তাবাদের বাণীঃ পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ ছেড়ে বিবেকানন্দ দেশমাতৃকার মুক্তির ডাক দিয়েছেন। তিনি ‘বর্তমান ভারত’-এ উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ জন্ম থেকেই মায়ের জন্য বলি প্রদত্ত।
**পরিশেষে বলা যায়, ‘বর্তমান ভারত’-এ বিবেকানন্দ ভারত ও ভারতবাসীর দুর্বলতাগুলিকে চিহ্নিত করে ও দুর্বলতা কাটিয়ে জাতীয়তাবাদের মহামন্ত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই ঐতিহাসিক আর. জি. প্রধান বিবেকানন্দকে ভারতের জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
৩. 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কি ছিল?***
অথবা, 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় কেন সমর্থন করেনি?
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ-* 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে সেই সময়ের শিক্ষিত বাঙালি সমাজ সমর্থন করার তো দূরের তারা বিরোধী ভূমিকা পালন করে।কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই সমস্ত মনীষীরা তাদের লেখার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্বামী বিবেকানন্দ এবং তার লেখা দেশাত্মবোধক উপন্যাস ‘বর্তমান ভারত’ প্রভৃতি 1905 খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থু আকারে প্রকাশিত হয়।গ্রন্থটিতে বিবেকানন্দের ভারত দর্শন এবং ভারত সম্পর্কে তাঁর দার্শনিক তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে যা জাতীয়তাবাদের বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিয়েছে।
জাতীয় ঐতিহ্যঃ স্বামী বিবেকানন্দ এই গ্রন্থে প্রাচীন ভারতে বৈদিক ঋষিদের দ্বারা সমাজ শাসনকাল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনকাল পর্যন্ত ভারতের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন, পাশ্চাত্যের প্রভাব থেকে ভারতবাসীর মুক্তির প্রয়োজন।কারণ জাতীয় ঐতিহ্য প্রকৃত জাতীয়তাবোধের উৎস।
শিক্ষিত বাঙালি সমাজের বিরোধিতার কারণঃ- শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বিভিন্ন কারণে 1857 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে বিরোধিতা করেছিল।মধ্যযুগীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।তারা মধ্যযুগীয় শাসন পুনর্গঠনের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন।তারা মনে করেছিল বিদ্রোহীরা জয়লাভ করলে ভারতে আবার মধ্যযুগীয় মুঘল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।তারা মনে করেছিল বিদ্রোহী সফল হলে তাদের সামাজিক উন্নয়নে আধুনিক শিক্ষা ও সংস্কারের অবসান ঘটবে।আধুনিকতার অবসানের ভয়েও তারা সমর্থন করেনি।
বিরোধিতাঃ-
a. সভা করে বিরোধিতা করাঃ- বিদ্রোহ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজা রাধাকান্ত দেবের সভাপতিত্বে ব্র্যাঞ্চ সভা ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা হয়।সভায় বিদ্রোহিদের নিন্দা করা হয়।
b. মেট্রোপলিটন কলেজের সভাঃ- রাজা রাধাকান্ত দেবের সভাপতিত্বে বিদ্রোহীভাবিরোধী আরও একটি সভা হয় মেট্রোপলিটন কলেজে (26শে মে, 1857 খ্রি.)।এই সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ববর্গ হলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ, কমলকৃষ্ণ বাহাদুর, হরচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।তারা সরকারকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভায় প্রস্তাব পাস করেন এবং সরকারের কাছে তা পেশ করেন।
c. পত্রপত্রিকায় বিরোধিতাঃ- সংবাদ ভাস্কর, সংবাদ প্রভাকর প্রভৃতি পত্রপত্রিকায় শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বিদ্রোহীদের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত লিখেছিলেন যে, ‘হে বিধু হয়…. ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের জয়পতাকা চিরকাল সমভাবে উড়ীয়মান করা অত্যাচরি অপকারি বিদ্রোহিকার দুর্দিনদিগকে সমুচিত প্রতিফল প্রদান করা।” এছাড়াও বিভিন্ন গ্রন্থু সমূহে বাঙালি মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় নানাভাবে বিরোধিতা
উপসংহারঃ- উনিশ শতকের ভারতীয় সমাজ-সংস্কার আন্দোলন, পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার, বাংলা নবজাগরণের মতো ঘটনা দেখে মনে হয় সত্যি টিকে ছিল সামাজিক টানাপোড়েন।এই সময়ে বৈশিষ্ট্য সেখানে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপ্রাসঙ্গিকতার বাণী ছাড়িয়ে দিয়ে জাতীয়তাবাদের মূল রূপ কি হতে পারে তা ভারতীয়দের সামনে তুলে ধরেন এ গোরা উপন্যাসের মাধ্যমে। এককথায় বলা যায় যে, ‘গোরা’ শুধুমাত্র একটি সাহিত্যই নয় এটি একটি দেশাত্মবোধক উপন্যাস।
৪. ভারতের জাতীয়তাবাদের বিকাশে ‘গোরা’ উপন্যাসের ভূমিকা কি ছিল?*
অথবা, ‘গোরা’ উপন্যাসের দিয়ে কীভাবে স্বদেশভাবনা বা জাতীয়তাবোধ ফুটে উঠেছে, তা লেখ।
অথবা, জাতীয় চেতনা প্রসারে ‘গোরা’ উপন্যাসের অবদান কী?
উত্তরঃ ভূমিকাঃ- যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব তাদের লেখা-লেখির মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করার চেষ্টা করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার রচিত ‘গোরা’ উপন্যাসে স্বাদেশিকতার যুগে রচিত এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র গোরা, যাঁকে রবীন্দ্রনাথ একজন নির্ভেজাল দেশপ্রেমিক রূপে গড়ে তুলেছেন। ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন্দ্রীয় চরিত্রের গোরার বক্তব্য ও কার্যকলাপের মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে গঠনমূলক ও সমন্বয়বাদী জাতীয়তাবাদের কথা বলেছেন।
জাতীয়তাবাদের জাগরণঃ
প্রথমতঃ- গোরা উপন্যাসে গোরার চোখে দেশের দলরিত মানুষের দুঃখকষ্ট ধরা পড়েছে।অশিক্ষিত মানুষের প্রতি এদেশীয় ইংরেজি জানা তথাকথিত শিক্ষিত ও ভদ্রশ্রেণী মানুষের অবজ্ঞা ও বিদ্রুপ তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে।
দ্বিতীয়তঃ- নায়ক গোরার কাছে পার্থিব প্রেম-ভালোবাসা, দেশাত্মবোধের কাছে হার মেনেছে।তাই তিনি তাঁর প্রেমিকা সুচরিতার প্রেমবন্ধন ছিন্ন করে দূরে সরে গিয়েছেন।
তৃতীয়তঃ- ব্রাহ্মনেতা পরেশবাবুকে গোরা একদিন বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানটি।জাতীয় সংস্কৃতি, জাতীয় শিল্প ও জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি করা এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করার ছিল হিন্দুসেলোর প্রধান কর্মসূচি।
৫. ব্রিটিশ – বিরোধী জনমত গঠনে বাংলার সভা সমিতিরগুলির বিবরণ দাও।
উত্তরঃ দেশের স্বার্থরক্ষা ও সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য সংঘবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন— ভারতীয়দের এই উপলব্ধি থেকেই উনিশ শতকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যেগুলি ব্রিটিশ – বিরোধী জনমত গঠনে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। এইসব নানা সভা সমিতির মধ্যে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, জমিদার সভা, হিন্দুমেল ও ভারতসভা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভাঃ ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে টাকির মুন্সি কালীনাথ রায়চৌধুরি, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং প্রসন্নকুমার ঠাকুরের যৌথ উদ্যোগে ‘ বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’ গড়ে ওঠে। এর বিভিন্ন সভায় ব্রিটিশদের ভালোমন্দ কাজের পর্যালোচনা করা হত। যোগেশচন্দ্র বাগলের মতে, এটি বাঙালি তথা ভারতবাসীদের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
জমিদার সভাঃ ১২ নভেম্বর ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর , রাধাকান্তদেব ও প্রসন্নকুমার ঠাকুরের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে জমিদার সভা। রাধাকান্তদেব ছিলেন এর সভাপতি, এবং দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্রসন্নকুমার ঠাকুরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা জমিদার সভা। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই জনসাধারণ সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের শিক্ষা লাভ করে।
হিন্দুমেলঃ ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্রের উদ্যোগে ‘জাতীয় মেলা’ গড়ে ওঠে, যা ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুমেলার পরিবর্তে হয়। দেশীয় সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির যথার্থ বিকাশের মাধ্যমেই ভারত ও ভারতবাসীর প্রকৃত মঙ্গল সম্ভব — এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় এই প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতসভাঃ মহাবিদ্রো প্রেসিডেন্ট সদেরদসে নিয়ে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে জুলাই সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু ও শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয়তায় কলকাতায় অ্যালবার্ট হলে তারকসতা প্রতিষ্ঠা করেন।এই সংগঠনে কোনো ইউরোপীয় বা জমিদার শ্রেণির সদস্য না থাকায় তারকসতা সাধারণ ভারতবাসীর রাজনৈতিক সংগঠনর চরিত্রলাভ করে।এই সভাই সর্বপ্রথম ‘হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ওপর জোর দেয় এবং নিম্নবর্গীয় মানুষের গণ–আন্দোলনে শামিল করে।তারকসতার নেতৃত্বে ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস আইনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন ও জনমত গড়ে ওঠে।
উপসংহারঃ- উনিশ শতকে বাংলায় নারীসমাজের সংস্কার আন্দোলনে যে ঘটনা ঘটেছিল তাকে বলা হয় নারীমুক্তি আন্দোলন, পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার, বাংলা নবজাগরণের মতো ঘটনা দেখে মনে হয় সত্যি টিকে ছিল সামাজিক টানাপোড়েন।এই সময়ে বৈশিষ্ট্য সেখানে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপ্রাসঙ্গিকতার বাণী ছাড়িয়ে দিয়ে জাতীয়তাবাদের মূল রূপ কি হতে পারে তা ভারতীয়দের সামনে তুলে ধরেন এ গোরা উপন্যাসের মাধ্যমে। এককথায় বলা যায় যে, ‘গোরা’ শুধুমাত্র একটি সাহিত্যই নয় এটি একটি দেশাত্মবোধক উপন্যাস।
আনন্দমঠের মূল বিষয়ঃ- আনন্দমঠ উপন্যাসে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একদল আত্মত্যাগী সন্ন্যাসীর কার্যাবলির বিবরণ আছে।এই উপন্যাসে সত্যানন্দের আযুদ্ধের মধ্যে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আনন্দমঠ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র পরাধীন দেশমাতার লাঞ্ছিত রূপ তুলে ধরেছেন।তিনি এই দেশমাতাকে মাতৃরূপে কল্পনা করে তাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করার কাজে ব্রতী হন।
বন্দেমাতরমঃ- বন্দেমাতরম গান ও স্লোগানটি আনন্দমঠ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।ভারতীয় মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রসারে বন্দেমাতরম-এর অবদান অপরিসীম। 1896 খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দেমাতরম গানটি গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন।
মূল্যায়নঃ- ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের ও তার বন্দেমা তরম গানটির অবদান অপরিসীম। অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত আনন্দমঠের শ্রেষ্ঠ বঙ্কিমচন্দ্রের জাতীয়তাবাদের ‘প্রকৃত জনক’ বলে।
৬. আনন্দমঠ কিতাবে ভারতে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারে সহায়তা করেছিল?***
*উত্তরঃ ভূমিকাঃ-* পৃথিবীর যেকোন দেশে স্বাদেশিকতা ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা বিকাশের সঙ্গে সেই দেশাত্মবোধক ও জাতীয়তাবাদী সাহিত্যর সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ।উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দেশাত্মবোধক সাহিত্যের বিকাশ ভারত ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।যে সমস্ত মনীষীরা তাদের লেখার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং তার লেখা দেশাত্মবোধক উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’।
আনন্দমঠের রচনা ও প্রকাশঃ
রচনাঃ- আনন্দমঠ’ উপন্যাসের রচয়িতা হলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্রকাশঃ- ‘আনন্দমঠ’ প্রথম প্রকাশিত হয় 1882 খ্রিস্টাব্দের 15 ডিসেম্বর।
আনন্দমঠ উপন্যাসের পটভূমিঃ- আনন্দমঠ উপন্যাসের পটভূমি হল অষ্টাদশ শতকের সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। আনন্দমঠ কর্মে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বর্ণণা আছে।এই উপন্যাসের মূল সুর হল দেশাত্মবোধ এবং পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য সন্তানদের প্রবল প্রচেষ্টা।
সন্তান দলঃ- বাংলায় মুসলিম রাজশক্তি পতন ও ইংরেজ রাজত্বের প্রতিষ্ঠা এক নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে।এই সংকটকালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশমাতার মুক্তির জন্য সন্তান দলের প্রতিজ্ঞা।
৭. ভারত সভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপ আলোচনা কর।
অথবা, ভারতসভার লক্ষ্য কী ছিল ? জাতীয় আন্দোলনের উন্মেষে এই সভা কীভাবে সাহায্য করেছিল?*
উত্তরঃ- সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বুদ্ধিজীবী শ্রেণির নেতা উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের বৃহত্তর জনগণের সংযোগে গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে সমিতি গঠন না করলে সরকার সেই সমিতির দাবিকে মূল্য দেবেন না।প্রকৃতপক্ষে, আগেকার রাজনৈতিক সমিতিগুলি ছিল রক্ষণশীল ও তাদের আচরণ ছিল অভিজাতসুলভ। তা ছাড়া, সর্বভারতীয় স্তরে সমিতি গঠন ও আন্দোলন পরিচালনা না করলে সরকার আঞ্চলিক কোন সমিতির দাবিকে গুরুত্ব দেবে না। একথা বুঝতে পেরে 1876 খ্রিস্টাব্দের 26শে জুলাই কলকাতার অ্যালবার্ট হলে সুরেন্দ্রনাথ ও আরও কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর উদ্যোগে স্থাপিত হয় ‘ভারতসভা’ বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন।
উদ্দেশ্যঃ ভারতসভা’-র চারটি ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল,
(১) জনমত গঠন,
(২) ভারতের সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য স্থাপন,
(৩) হিন্দু-মুসলিম ঐক্য স্থাপন এবং
(৪) রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের জনসংযোগ ঘটানো।
ভারত সভার কার্যাবলিঃ ভারতের জাতীয়তাবোধ বিকাশে ভারত সভা একাধিক আন্দোলন পরিচালনা করে।
a. ব্রিটিশ সরকার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়সসীমা 21 থেকে কমিয়ে 19 করার ফলে ভারতীয় ছাত্ররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে থাকে। ভারত সভা এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আইনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য সুরেন্দ্রনাথ দেশব্যাপী ভ্রমণ করেন।
b. 1876 খ্রিস্টাব্দে লর্ড নর্থব্রুক নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করলে ভারত সভা এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
c. 1878 খ্রিস্টাব্দে লর্ড লিটন দেশীয় সংবাদপত্র এবং অস্ত্র আইন জারি করলে ভারত সভা দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করে।
d. 1883 খ্রিস্টাব্দে বিচারব্যবস্থার ত্রুটি দূর করার নামে বৈষম্যমূলক ইলবার্ট বিল পাস করলে ভারত সভা প্রতিবাদ জানায় এবং আন্দোলন শুরু করে।
উপসংহারঃ ভারতসভা কর্তৃক দাবিদাওয়া গুলি পুরোপুরি সফল না হলেও এই সভা ভারতের রাজনৈতিক জাগরণ এবং জাতীয়তাবাদের বিকাশে প্রকৃত অবদান রেখেছিল। এর ফলস্বরূপ দেশে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। পথ প্রদর্শকের কাজ করেছিল।
৮. মহারানীর ঘোষণাপত্রের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বা গুরুত্ব লেখো।*
উত্তরঃ লর্ড ক্যানিং ভারতের রাজশক্তির ক্ষমতা গ্রহণের সংবাদ এলাহাবাদে আয়োজিত এক দরবারে মহারানির নামে প্রচারিত এক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন (১ নভেম্বর ১৮৫৮ খ্রি.)।
তাৎপর্যঃ ভারতীয় জনগণের ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা মহাসনদ বলে অভিহিত মহারানির এই ঘোষণাপত্রে বলা হয়—
১) দেশীয় রাজাদের মর্যাদা দানঃ এখন থেকে দেশীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে পূর্ব সম্পাদিত সমস্ত সন্ধিকে মানা করা হবে এবং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকারকে যথোচিত সম্মান দেওয়া হবে।
২) স্বর্ণবিলোপ নীতি প্রত্যাহারঃ দেশীয় রাজ্যগুলিতে একযোগে ঘোষিত দেশীয় প্রজাসত্বাধিকারীকে স্বীকার করে নেওয়া হয়, দেশীয় রাজারা আগের মতো দত্তকপুত্র গ্রহণ করতে পারবেন এবং স্বর্ণবিলোপ নীতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
৩) রাজাজ্ঞা জারঃ ব্রিটিশ সরকার ভারতে আর রাজ্যবিস্তার করবে না এবং প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশ-হত্যার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া আর সমস্ত ভারতীয় বন্দিদের মুক্তির দেওয়া হবে।
৪) স্বাধীন ধর্মাচরণঃ কারও কোনো ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া হবে না।
৮ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি আলোচনা করো।***
অথবা, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহকে কি জাতীয় বিদ্রোহ বলা যায়?
*উত্তরঃ* 1857 খ্রিস্টাব্দের ভারতবর্ষে যে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল যা ইতিহাসে মহা বিদ্রোহ নামে পরিচিত। সেই বিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। অনেকের মতে এটা নিছক সিপাহী বিদ্রোহ, কারও মতে এটা সামন্ত বিদ্রোহ, কেউ বলেছেন জাতীয় সংগ্রাম। কেউবা একে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন। নিয়ে আমরা এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সিপাহী বিদ্রোহঃ স্যার সৈয়দ আহমদ খান, দুর্গাদাস বন্দোপাধ্যায়, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, চার্লস রেক্স, ম্যালেশন, জন জে প্রমুখের মতে এই বিদ্রোহই সিপাহী বিদ্রোহ। কারণ – এই বিদ্রোহে যারা যোগদান করেছিলেন এবং বিদ্রোহের সূত্রপাত যারা করেছিলেন তাঁরা হলেন সিপাহী। কোন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষিত সম্প্রদায় এই বিদ্রোহে সমর্থন করেননি।
জাতীয় বিদ্রোহঃ অধ্যাপক সুশোভন সরকার, হোমস, আলেকজান্ডার ডাফ, শশীভূষণ চৌধুরী প্রমুখের মতে এই বিদ্রোহ জাতীয় বিদ্রোহ ছিল। না। এটি ছিল একটি জাতীয় বিদ্রোহ। তাদের যুক্তি শুধুমাত্র সিপাহীরাই নয়, বিভিন্ন স্থানের অসামরিক ব্যক্তিত্বরাও এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেছিলেন।শুধু তাই নয়, বিদ্রোহীরা বাহাদুর শাহকে সম্রাট রূপে ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের পরিচয় দেন। এই বিদ্রোহে একাধিক জাতীয় রূপ নিয়েছিল, অন্যদিকে এটা হয়ে উঠেছিল এক গণবিদ্রোহ।
সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়াঃ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রজনীকান্ত দত্ত, পি সি যোশী প্রমুখের মতে এই বিদ্রোহ ছিল রক্ষণশীল সামন্ততান্ত্রিক শক্তিগুলির অভ্যুত্থান। নানা সাহেব, লক্ষ্মীবাই, কুনওয়ার সিং প্রমুখ সামন্ত শ্রেণীর মানুষেরাই এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন এবং এই বিদ্রোহে ‘ক্ষয়িষ্ণু অভিজাততন্ত্র ও মৃতপ্রায় সামন্তশ্রেণির মৃত্যুকালীন আর্তনাদ।”
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দেশপ্রেমিক বিনায়ক দামোদর সাভারকর তার ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেনডেন্স’ গ্রন্থে মহাবিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন। কারণ, ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিদ্রোহ ছিল নিজ রাজ্যে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ও সর্বোপরি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম বলে বিদ্রোহীরা বিদ্রোহ করেছিল। যদিও এই মতকে বহু ঐতিহাসিকরা অস্বীকার করেছেন।
কৃষক বিদ্রোহঃ ঐতিহাসিক খালদুনের মতে বিদ্রোহ ছিল কৃষক শ্রেণির বিদ্রোহ। কারণ-অতিরিক্ত কৃষকরা এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
মূল্যায়নঃ সিপাহী বিদ্রোহের প্রকৃতি কি ছিল তা এককথায় বলা বেশ কষ্টসাধ্য। এই বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে যেসব মত উঠে আসে তার প্রত্যেকটি যুক্তিই যুক্তি আছে। আবার এইসবের পাল্টা যুক্তিও আছে। তাই এই বিদ্রোহ যে কি ছিল তা সম্পূর্ণভাবে এক কথায় বলা দুঃসাধ্য।
২. লেখায় ও রেখায় ভারতের জাতীয়তাবাদের বিকাশ আলোচনা অথবা, ভারতের জাতীয়তাবাদের বিকাশে সাহিত্য ও চিত্রকলার অবদান আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূমিকাঃ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির অসন্তোষের ফলশ্রুতিতে ভারতে জাতীয়তাবোধ তথা জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। আর এই জাতীয়তাবাদের বিকাশে সাহিত্য সংস্কৃতি এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। বিভিন্ন সাহিত্যিক ও শিল্পী তাদের লেখনী ও চিত্র দ্বারা ভারতীয়দের মনে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছিল।
লেখায় ও রেখায় জাতীয়তাবাদের বিকাশঃ
১. আনন্দমঠ (১৮৮২ খ্রি.)- সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটুভূমিকায় আনন্দমঠ উপন্যাসটি রচনা করেন। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর এই বিখ্যাত উপন্যাসের দেশমাতৃকার যে বন্দনা প্রদান করেন এবং যেখানে দেশপ্রেমকে মুক্তিদায়ী জনগনের মধ্যে পরিস্ফুট করেছেন তা অক্ষয়নীয়। তার এই উপন্যাসে বিদেশিদের হাত থেকে দেশমাতাকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে সন্তান দলের আদর্শ কাজ করেছিল। বঙ্কিমচন্দ্র এই উপন্যাসে ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের দ্বারা দেশাত্মবোধের মন্ত্র প্রদান করেছেন।
২. বর্তমান ভারত (১৯০৫ খ্রি.)- বিশ্ববরেণ্য ভারত সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি আকারে ক্ষুদ্র, স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের মতই সংক্ষিপ্ত। এর জীবনবনের মতই শক্তি ও সম্ভাবনাই শাশ্বত। এই গ্রন্থের দারিদ্র ও বিশ্বের ইতিহাস মন্থন করে ইতিহাসের প্রতি প্রভৃতি সম্পর্কে তার ধারণাকে সংহত আকারে প্রকাশ করেছেন। তিনি ভারতীয় সমাজকে তার লেখার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এছাড়া তিনি পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শূদ্রদের মধ্যে সমাজ সাজানো পরিচালনা সুস্পষ্ট রূপে তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছেন।
৩. গোরা (১৯১০ খ্রি.)- ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্ছল নক্ষত্র নোবেল জয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত হলো ‘গোরা’। রবীন্দ্রনাথ তার বিভিন্ন রচনার মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ জাগরণ এক মঞ্চ প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রকৃত সত্যের পরিচয় ও দেশপ্রেমের আদর্শ তুলে ধরার মাধ্যমে ভারতবর্ষ তথা বাংলাকে বিশ্বের জনমানুষের কাছে জ্যোতির্ময়ী করে তুলেছিলেন।
৪. ভারতমাতা- শুধুমাত্র লেখার মাধ্যমে নয় রেখার দ্বারাও জনমানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদের বিকাশ তা বাস্তব ক্ষেত্রে তুলে ধরেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘ভারতমাতা’ যেখানে তাঁর তুলির টানে তিনি দেশমাতৃকার বন্দনা তুলে ধরেছেন। এই চিত্রে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সন্তানের প্রতি মায়ের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য যথাযথভাবে দৃশ্যতা করেছেন।
৫. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র- বাংলা তথা ভারতবর্ষের চিত্রশিল্পের ইতিহাসে সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গশিল্পী হলেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর উজ্জ্বল নাম। তৎকালীন সময়ে ইংরেজদের অত্যাচার, জমিদারদের আচরণ, সাধারণ মানুষদের অবস্থা তার শিল্পী সত্তার মাধ্যমে ব্যঙ্গ রূপে তুলে ধরেছিলেন। তার চিত্রগুলি ছিল— বিরূপ বজ্র, নবরত্নরাজ, ভোদড় বাহাদুর প্রভৃতি। তৎকালীন বিভিন্ন গ্রন্থে এবং সংবাদপত্রে তাঁর ব্যঙ্গচিত্র জনগণের মনে আলোড়ন জাগাতে সক্ষম হয়েছিল।
মূল্যায়নঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দার্শনিক সমাজ নানাভাবে বিপ্লব গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষদের উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। তারকীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের বিকাশের প্রাক্কালে ভারতীয় বুদ্ধিজীবী সমাজ ও লেখক সাধারণ মানুষের মধ্যে তথা মাতৃভূমির বোধ উন্মিলিতভাবে সকল মানুষের মধ্যে তথা মাতৃভূমির বোধ উন্মিলিতভাবে সকল মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ফলস্বরূপ একের পর এক বৈপ্লবিক আন্দোলনের মাধ্যমে আজকে আমরা স্বাধীন ভারতবর্ষ বসবাসের সুযোগ লাভ করেছি।
৩. দেশপ্রেমের বিকাশে বঙ্কিম চন্দ্র ও বিবেকানন্দের ভূমিকা কি ছিল?
উত্তরঃ ভূমিকাঃ ঊনবিংশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষা শিক্ষিত সমাজে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে তার অন্যতম বহরিঃপ্রকাশ সামাজিক মূল্যবোধঃ বিবেকানন্দ বলেন, সমাজের উচ্চস্তরের মানুষের দ্বারা শত শত বছর ধরে শোষিত শূদ্র শ্রেণির মানুষ একসময় সমাজের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, তারা দেশ শাসন করবে। সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে এবং শুরু হবে প্রকৃত মানুষের ‘গণজাগরণ’।
দেশপ্রেমঃ বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে দেশপ্রেম জাগরিত হয়েছে। তিনি ভারতীয় সমাজকে ‘আমার শিশুশয্যা আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী’ বলে বর্ণনা করে প্রত্যেক ভারতবাসীকে সংঘবদ্ধ হতে বলেছেন।
জাতীয়তাবাদের বাণীঃ পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ ছেড়ে বিবেকানন্দ দেশমাতৃকার মুক্তির ডাক দিয়েছেন। তিনি ‘বর্তমান ভারত’-এ উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ জন্ম থেকেই মায়ের জন্য বলি প্রদত্ত।
**পরিশেষে বলা যায়, ‘বর্তমান ভারত’-এ বিবেকানন্দ ভারত ও ভারতবাসীর দুর্বলতাগুলিকে চিহ্নিত করে ও দুর্বলতা কাটিয়ে জাতীয়তাবাদের মহামন্ত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই ঐতিহাসিক আর. জি. প্রধান বিবেকানন্দকে ভারতের জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
পঞ্চম অধ্যায় ॥ বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করঃ-
১. ছেলেদের রামায়ণ বইটির জন্য বিভিন্ন ছবি আঁকেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
২. ভারতে ভূতত্ব অনুসন্ধানের পুরোথা ছিলেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
৩. ভারতে ভূতত্ব অনুসন্ধানের পুরোথা ছিলেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
৪. পৃথিবীর প্রাচীনতম মুদ্রিত গ্রন্থটি যেখানে মুদ্রিত হয়—
উত্তরঃ- চিন
৫. পৃথিবীর প্রাচীনতম মুদ্রিত গ্রন্থটির নাম কী?
উত্তরঃ- হীরক সূত্র
৬. পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থটি কবে প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ- ৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে
৭. প্রথম বই ছাপা হয়েছিল
উত্তরঃ- চিনে
৮. কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
উত্তরঃ- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে
৯. বাংলায় ছাপাখানার কাজ শুরু হয় –
উত্তরঃ- অষ্টাদশ শতকে
১০. ভারতে প্রথম ছাপাখানার প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব হল—
উত্তরঃ- পোর্তুগিজদের
১১. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
উত্তরঃ- ব্রাসি হ্যালহেড
১২. ভারতের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
উত্তরঃ- সমাচার দর্পণ
১৩. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।
উত্তরঃ- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে
১৪. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থে বাংলা অক্ষগুলির ছাঁচ তৈরি করেন—
উত্তরঃ- চার্লস উইলকিনস
১৫. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটি মুদ্রিত বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে ছিল –
উত্তরঃ- প্রথম
১৬. ছাপাখানায় মুদ্রণের জন্য সর্বপ্রথম বাংলা অক্ষর তৈরি করেন
উত্তরঃ- পঞ্চানন কর্মকার
১৭. হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ যেখান থেকে ছাপা হয় –
উত্তরঃ- অ্যান্ড্রুজ ছাপাখানা থেকে
১৮. ইউ রায় অ্যান্ড সন্স প্রতিষ্ঠিত হয়
উত্তরঃ- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে
১৯. ‘বেঙ্গল গেজেট’ পত্রিকাটি বাংলায়
উত্তরঃ- প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের নাম কি?
উত্তরঃ- অন্নদামঙ্গল
২০. উপেন্দ্রকিশোরের নাম—
উত্তরঃ- প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের নাম কি?
উত্তরঃ- অন্নদামঙ্গল
২১. উপেন্দ্রকিশোরের রামায়ণ বইটির জন্য বিভিন্ন ছবি আঁকেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
২২. ‘তোতন’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
২৩. ‘ছেলেদের রামায়ণ’ বইটি রচনা করেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
২৪. বাংলায় উন্নত লাইনো টাইপ কে তৈরি করেন ?
উত্তরঃ- সুরেশচন্দ্র মজুমদার।
২৫. শ্রীরামপুরে কে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- উইলিয়াম কেরি।
২৬. শ্রীরামপুরে কবে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তরঃ- 1800 সালে।
২৭. ‘দিগদর্শন’ ও ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- মার্শম্যান।
২৮. এশিয়ায়ে প্রথম ডিগ্রি কলেজ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- শ্রীরামপুরে।
২৯. ছাপাখানার প্রথম বাঙালি व्यवसायी কে ছিলেন?
উত্তরঃ- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
৩০. “বার্তাভহ যন্ত্র” নামে ছাপাখানা কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- রংপুরে।
৩১. “কর্মমালা “গ্রন্থটি কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ- স্কুল বুক সোসাইটি।
৩২. বাংলায় শিশু শিক্ষা বিষয়ক সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থটি কি ছিল?
উত্তরঃ- বর্ণপরিচয়।
৩৩. শিশু শিক্ষা গ্রন্থটি রচনা করেন?
উত্তরঃ- মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
৩৪. বাংলার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
উত্তরঃ- বেঙ্গল গেজেট।
৩৫. ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- তারকনাথ পালিত।
৩৬. টেগোর অ্যান্ড কোং কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- দ্বারকানাথ ঠাকুর।
৩৭. কে মহর্ষি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩৮. সর্বপ্রথম কোথায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তরঃ- জার্মানিতে।
৩৯. সমাচারচন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৪০. কোন গ্রন্থ বাংলার প্রথম প্রাইমার গ্রন্থ নামে পরিচিত?
উত্তরঃ- শিশুশিক্ষা গ্রন্থটি।
৪১. ভারতে প্রথম ছাপাখানার প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব হল—
উত্তরঃ- পোর্তুগিজদের।
৪২. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
উত্তরঃ- ব্রাসি হ্যালহেড।
৪৩. ভারতের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
উত্তরঃ- সমাচার দর্পণ।
৪৪. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।
উত্তরঃ- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।
৪৫. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থে বাংলা অক্ষগুলির ছাঁচ তৈরি করেন—
উত্তরঃ- চার্লস উইলকিনস।
৪৬. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটি মুদ্রিত বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে ছিল –
উত্তরঃ- প্রথম।
৪৭. ছাপাখানায় মুদ্রণের জন্য সর্বপ্রথম বাংলা অক্ষর তৈরি করেন
উত্তরঃ- পঞ্চানন কর্মকার।
৪৮. হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ যেখান থেকে ছাপা হয় –
উত্তরঃ- অ্যান্ড্রুজ ছাপাখানা থেকে।
৪৯. ইউ রায় অ্যান্ড সন্স প্রতিষ্ঠিত হয়
উত্তরঃ- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে।
৫০. ‘বেঙ্গল গেজেট’ পত্রিকাটি বাংলায়
উত্তরঃ- প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের নাম কি?
উত্তরঃ- অন্নদামঙ্গল।
৫১. উপেন্দ্রকিশোরের নাম—
উত্তরঃ- প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের নাম কি?
উত্তরঃ- অন্নদামঙ্গল।
৫২. উপেন্দ্রকিশোরের রামায়ণ বইটির জন্য বিভিন্ন ছবি আঁকেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
৫৩. ‘তোতন’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
৫৪. ‘ছেলেদের রামায়ণ’ বইটি রচনা করেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
৫৫. বাংলায় উন্নত লাইনো টাইপ কে তৈরি করেন ?
উত্তরঃ- সুরেশচন্দ্র মজুমদার।
৫৬. শ্রীরামপুরে কে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- উইলিয়াম কেরি।
৫৭. শ্রীরামপুরে কবে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তরঃ- 1800 সালে।
৫৮. ‘দিগদর্শন’ ও ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- মার্শম্যান।
৫৯. এশিয়ায়ে প্রথম ডিগ্রি কলেজ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- শ্রীরামপুরে।
৬০. ছাপাখানার প্রথম বাঙালি व्यवसायी কে ছিলেন?
উত্তরঃ- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
৬১. “বার্তাভহ যন্ত্র” নামে ছাপাখানা কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- রংপুরে।
৬২. “কর্মমালা “গ্রন্থটি কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ- স্কুল বুক সোসাইটি।
৬৩. বাংলায় শিশু শিক্ষা বিষয়ক সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থটি কি ছিল?
উত্তরঃ- বর্ণপরিচয়।
৬৪. শিশু শিক্ষা গ্রন্থটি রচনা করেন?
উত্তরঃ- মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
৬৫. বাংলার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
উত্তরঃ- বেঙ্গল গেজেট।
৬৬. বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- তারকনাথ পালিত।
৬৭. টেগোর অ্যান্ড কোং কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- দ্বারকানাথ ঠাকুর।
৬৮. কে মহর্ষি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৬৯. সর্বপ্রথম কোথায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তরঃ- জার্মানিতে।
৭০. সমাচারচন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৭১. কোন গ্রন্থ বাংলার প্রথম প্রাইমার গ্রন্থ নামে পরিচিত?
উত্তরঃ- শিশুশিক্ষা গ্রন্থটি।
৭২. ভারতে প্রথম ছাপাখানার প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব হল—
উত্তরঃ- পোর্তুগিজদের।
৭৩. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
উত্তরঃ- ব্রাসি হ্যালহেড।
৭৪. ভারতের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
উত্তরঃ- সমাচার দর্পণ।
৭৫. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।
উত্তরঃ- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।
৭৬. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থে বাংলা অক্ষগুলির ছাঁচ তৈরি করেন—
উত্তরঃ- চার্লস উইলকিনস।
৭৭. ‘আ গ্রামার অব্ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটি মুদ্রিত বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে ছিল –
উত্তরঃ- প্রথম।
৭৮. ছাপাখানায় মুদ্রণের জন্য সর্বপ্রথম বাংলা অক্ষর তৈরি করেন
উত্তরঃ- পঞ্চানন কর্মকার।
৭৯. হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ যেখান থেকে ছাপা হয় –
উত্তরঃ- অ্যান্ড্রুজ ছাপাখানা থেকে।
৮০. ইউ রায় অ্যান্ড সন্স প্রতিষ্ঠিত হয়
উত্তরঃ- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে।
৮১. ‘বেঙ্গল গেজেট’ পত্রিকাটি বাংলায়
উত্তরঃ- প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের নাম কি?
উত্তরঃ- অন্নদামঙ্গল।
৮২. উপেন্দ্রকিশোরের নাম—
উত্তরঃ- প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের নাম কি?
উত্তরঃ- অন্নদামঙ্গল।
৮৩. উপেন্দ্রকিশোরের রামায়ণ বইটির জন্য বিভিন্ন ছবি আঁকেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
৮৪. ‘তোতন’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
৮৫. ‘ছেলেদের রামায়ণ’ বইটি রচনা করেন
উত্তরঃ- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
৮৬. বাংলায় উন্নত লাইনো টাইপ কে তৈরি করেন ?
উত্তরঃ- সুরেশচন্দ্র মজুমদার।
৮৭. শ্রীরামপুরে কে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- উইলিয়াম কেরি।
৮৮. শ্রীরামপুরে কবে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তরঃ- 1800 সালে।
৮৯. ‘দিগদর্শন’ ও ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তরঃ- মার্শম্যান।
৯০. এশিয়ায়ে প্রথম ডিগ্রি কলেজ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- শ্রীরামপুরে।
৯১. ছাপাখানার প্রথম বাঙালি व्यवसायी কে ছিলেন?
উত্তরঃ- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
৯২. “বার্তাভহ যন্ত্র” নামে ছাপাখানা কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- রংপুরে।
৯৩. “কর্মমালা “গ্রন্থটি কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ- স্কুল বুক সোসাইটি।
৯৪. বাংলায় শিশু শিক্ষা বিষয়ক সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থটি কি ছিল?
উত্তরঃ- বর্ণপরিচয়।
৯৫. শিশু শিক্ষা গ্রন্থটি রচনা করেন?
উত্তরঃ- মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
৯৬. বাংলার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
উত্তরঃ- বেঙ্গল গেজেট।
৯৭. বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- তারকনাথ পালিত।
৯৮. টেগোর অ্যান্ড কোং কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- দ্বারকানাথ ঠাকুর।
৯৯. কে মহর্ষি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১০০. সর্বপ্রথম কোথায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তরঃ- জার্মানিতে।
২ নম্বরের প্রশ্ন
১. ছাপা বইয়ের সঙ্গে শিক্ষাবিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।***
অথবা, ছাপাখানার কীভাবে শিক্ষাবিস্তারে সাহায্য করে?
*উত্তরঃ* ছাপাখানা চালু হওয়ার পর বাংলা ভাষায় প্রচুর বইপত্র যেমন শ্রীরামকৃষ্ণের বচনাবলী, লসনের ‘পশ্বাবলী’, রাধাকান্তদেবের ‘বেঙ্গলী স্পেলিং বুক’, হারলের ‘গণিতঙ্ক’ ছাপা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ পায়। বাংলা দেশে শিক্ষাবিস্তার ঘটে।
২) শিশু-শিক্ষার প্রসারঃ শিশু শিক্ষার অগ্রগতিতে ‘শিশু শিক্ষা’ (এর বিখ্যাত কবিতা ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’) ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত ‘বর্ণপরিচয়’ (১ম ও ২য় ভাগ) এবং রামসুন্দর বসাক রচিত ‘বাল্যশিক্ষা’ প্রভৃতি গ্রন্থের কার্যকরী ভূমিকা বলা যায়।
৩) গণ শিক্ষার প্রসারঃ ছাপাখানার ফলে স্কুল-কলেজ শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি গণ শিক্ষারও বিস্তার ঘটে। কৃষিকাজ, রামায়ণ (১৮০২ খ্রি.), কাশীদাসী মহাভারত (১৮০২ খ্রি.), বাংলার ‘ইতিহাস’ (১৮০৪ খ্রি.) প্রভৃতি গ্রন্থ ও ইতিহাস প্রচুর পরিমাণে ছাপা হয়ে এবং প্রচুর ছাপা বই সুলভ মূল্যে বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্ঞানের ও শিক্ষার প্রসার ঘটে।
৪) সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা উদ্যোগে গতিঃ ছাপাখানার ফলে দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগগুলি গতি পায়। এ প্রসঙ্গে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন ও অন্যান্য উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল বুক সোসাইটির উদ্যোগে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক রচনা ও পরিবেশনার কাজও শুরু হয়।
উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলা ছাপাখানার গুরুত্বের ফলে মহাবিদ্রোহ, নামচা, নকশা ছাপার পাশাপাশি গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, অভিধান, ব্যাকরণ প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তন সম্ভব হয় এবং এর ফলে শিক্ষক ও ছাত্র সমাজের কাছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞানার্জনের দরজা উন্মোচিত হয়।
২. টীকা লেখো : কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ।*
অথবা, আধুনিক বিজ্ঞান চর্চায় কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের কি ভূমিকা ছিল ?
উত্তরঃ সূচনাঃ ঊনবিংশ শতকে বাংলায় আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার বিকাশ ঘটলে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এর পরিস্থিতিতে বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। যার মধ্যে কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ অন্যতম।
কলেজ প্রতিষ্ঠাঃ ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করলে এর বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়। এই স্বদেশী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্যার তারকনাথ পালিত এবং স্যার রাসবিহারী ঘোষ একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেন এবং শেষ পর্যন্ত ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জ কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ বা ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পঠন পাঠনঃ – কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হয়। এই প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান বিভাগ, প্রযুক্তি বিভাগ গুলোয় পঠন-পাঠন চালু হয়।
মৌলিক গবেষণাঃ কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা সক্রিয় সহযোগিতায় পেয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মৌলিক গবেষণার কাজ করার সুযোগ পান। এই বিজ্ঞান কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। এর খ্যাতনামা শিক্ষদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, শিশির কুমার মিত্র প্রমুখ।
মূল্যায়নঃ এই বিজ্ঞান কলেজ কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষক দেশ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই ভারতবর্ষের পাশ্চাত্য বিজ্ঞান চর্চার এই প্রতিষ্ঠানকে ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাদর্শের সমালোচনামূলক আলোচনা করো।
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচক ছিলেন। তিনি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার বিরোধী ছিলেন না। তার মতে ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ভারতীয়দের মধ্যে ভেদবাবেদ ঘটাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষার হেরফের, তোতাকাহিনী, শিক্ষার বিকিরণ প্রভৃতি প্রবন্ধে উল্লেখ করা যায়। তার মতে, শিক্ষা হবে মানবজীবনের পূর্ণতাদানের চাবিকাঠি।
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন ভাবনাঃ –
i) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার নিজস্ব শিক্ষাচিন্তার ভিত্তিতে শান্তিনিকেতনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি চেয়েছিলেন প্রকৃতির কাছাকাছি আদর্শ পরিবেশে মনের বড়ো করে তুলতে হবে।
ii) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাচীন ভারতের আশ্রমিক শিক্ষার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিনিকেতনে রেখে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
iii) রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে গুরু ও শিষ্যের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলতেন, শিক্ষক শ্রদ্ধার সঙ্গে জ্ঞান বিতরণ করবেন আর শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধেয় তা গ্রহণ করবেন।
iv) রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে শিক্ষার্থীদের সৃজনমূলক কাজের উপর গুরুত্ব দিতেন। এর ফলে তাদের শিল্পচর্চা, কলা ও কারুশিল্পের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিপূরণ বিকাশ ঘটবে।
এই বিদ্যালয়ে গতানুগতিক সময়তালিকার বিশেষ গুরুত্ব ছিল না। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুসারে তা নির্ধারণ করা হত।
শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠাঃ – রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠা করে তাকে বিশ্বজ্ঞানের মিলনভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বভারতীতে বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতির চর্চার জন্য অনেক পাঠ্যপুস্তক বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেন। জানা যায় এই সোসাইটি ১১৮ টি গণিত ও ১২টি চিকিৎসাবিষয়ক বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশ করে। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি। এটি একসময় বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।
B. IACS প্রতিষ্ঠাঃ বাংলার খ্যাতনামা চিকিৎসক ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সর্বপ্রথম ‘IACS’ বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। ড. মহেন্দ্রলাল সরকার এদেশে অনুরূপ একটি বিজ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা প্রচার করেন। অবশেষে বিশিষ্ট ব্যক্তি জগদীশচন্দ্র বসুর ও জীবনের সঞ্চিত অর্থ সাহায্য ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বৌবাজার স্ট্রিটে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞান – (১) বিজ্ঞানের প্রসার সাধন ও প্রকৃত গবেষণার মাধ্যমে প্রায়োগিক বিজ্ঞানের পরিধি বিস্তার এবং (২) সম্পূর্ণরূপে নিজেদের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে গবেষণার কাজ করা।
বিজ্ঞানচর্চার বিকাশঃ উনিশ শতকে ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স সকল বিজ্ঞান শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যেমন—প্রথমত, এটিই ছিল ভারতের প্রথম বৈজ্ঞানিক সংগঠন এবং এই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা করা হত।
দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নিয়মিত বিষয়কে (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভূবিদ্যা, গণিত) আলোচনা সভার মাধ্যমে শ্রোতাদের বিজ্ঞান বিষয়ে ওয়াকিবহাল করা।
মূল্যায়নঃ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স প্রতিষ্ঠার ফলে (১) ভারত তথা বাংলা বিজ্ঞান গবেষণার এক নতুন প্রতিষ্ঠান লাভ করে। (২) জাতীয় অর্থনীতি বিকাশে এই প্রতিষ্ঠান লাভ করে। (৩) ভারত তথা বাংলা বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জন্মায় এবং পরে এই প্রতিষ্ঠান লাভ করে। (৪) এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শ দ্বারা জাতীয় অর্থনীতি বিকাশে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
৭. বাংলায় ছাপাখানা বিকাশে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ভূমিকাঃ বাংলার অন্যতম একজন প্রকাশক, মুদ্রক-নির্ভর, পুস্তক ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকতার পথ প্রদর্শক রূপে বাঙালি গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের বিশেষ স্মরণীয়।
কর্মজীবনঃ শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনারি প্রেসের একজন কম্পোজিটার রূপে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে ‘হরিস অ্যান্ড কোম্পানি প্রেসে’ যোগদান করেন, এখানে থাকাকালীন তিনি বইয়ের ব্যবসাও শুরু করেন।
বাঙাল গেজেট প্রেস স্থাপনঃ 1818 খ্রিস্টাব্দে হরচন্দ্র রায়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তিনি কলকাতার চোরাবাগান স্ট্রিটে ‘বাঙ্গাল গেজেট’ নামে একটি প্রেস স্থাপন করেন। এই প্রেসটি ছাপাখানা সর্বাঙ্গারিক উদ্যোগে এই প্রেসটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রকাশিত গ্রন্থঃ এই প্রেস থেকে নিজের লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ যেমন—
বাংলা গ্রামার, ইংরেজি গ্রামার ছাড়াও‘গঙ্গাভক্তিতরঙ্গিণী’, ‘লক্ষ্মীচরিত’, ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ ছাপার যোগ্য প্রভৃতি প্রভৃতি প্রকাশিত হয়। এই প্রেস থেকেই তৎকালীন সাড়া জাগানো বাংলা সচিত্র গ্রন্থ ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।
সংবাদপত্র – সাময়িক পত্র প্রকাশনাঃ প্রথম বাঙালি সাংবাদিক হিসেবে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। তার উদ্যোগে ‘বাঙ্গাল গেজেট’ নামক পত্রিকা দেশীয় উদ্যোগে তিনিই সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্র প্রকাশনার পথপ্রদর্শক ছিলেন। রামমোহন রায়ের সতীদাহ বিরুদ্ধে বিভিন্ন লেখা এখানে প্রকাশিত হয়।
পুস্তক বিক্রেতাঃ পুস্তক বিক্রেতা রূপেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দান করেন। তিনিই ছিলেন প্রথম বাঙালি পুস্তক বিক্রেতা। সেই সময় শিক্ষার বিস্তার ও ছাপাখানার প্রসার ঘটলে তার উপার্জিত ইত্যাদি ইতিহাস বিষয়ক গ্রুপ অন্তর্গত অক্ষাংশ বিভিন্ন রূপে রূপান্তরিত হয়।
উপসংহারঃ শেষ জীবনে তিনি কলকাতা ছেড়ে জন্মস্থানে ফিরে গেলেও সেখান থেকেই মুদ্রণ, প্রকাশনা ইত্যাদি কাজ চালিয়ে যান। তার হাত ধরেই মুদ্রণ, প্রকাশনা, পুস্তক ব্যাবসা, সংবাদ প্রভৃতি ইত্যাদি তবে সহজে উন্নতি প্রসঙ্গে তা সহজ হয়। সামসাময়িক পত্রিকা ‘সমাচার দর্পণ’ ইত্যাদি তবে সহজে উন্নতি প্রসঙ্গে সাহস ও সতেজে উন্নতি প্রসঙ্গে সাহস পায়।
৮. বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূমিকা মূল্যায়ন করো।***
*উত্তরঃ* উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে প্রকাশনা জগতের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজস্ব মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তার পুত্র সুকুমার রায়ের প্রচেষ্টায় এই, সংস্থার খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।
ইউ রায় অ্যান্ড সন্স-এর প্রতিষ্ঠাঃ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বিদেশ থেকে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র এনে ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এই কলকাতা ৩৬/১, শিবনারায়ণ দাস লেনে। পরবর্তীকালে এর ঠিকানা পরিবর্তন ঘটেছিল।
ইউ রায় অ্যান্ড সন্স-এর উদ্যোগে ছাপাখানার বিকাশঃ
হাফটোন ব্লকের ব্যবহারঃ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছাপার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় নিরীক্ষা করেন। তিনি ছাপার কাজে হাফটোন ব্লক তৈরি ও প্রয়োগের উদ্ভাবক ছিলেন। এর ফলে মুদ্রণ শিল্পে অভূতপূর্ব পরিচিতি পরিলক্ষিত হয়। তিনি রায় অ্যান্ড সন্স’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভিতরের পাতায় কীভাবে উন্নত ছবির ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান। এক্ষেত্রে তিনি ক্লিন অ্যাডজাস্টার যন্ত্র, ডায়াফার্ম সিস্টেম প্রভৃতি ব্যবহার করে সে যুগেও রংবেরঙের ছবি ছাপার ব্যবস্থা করেন।
সুকুমার রায়ের প্রচেষ্টাঃ ছাপার বিষয়ে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তার সুযোগ্য পুত্র সুকুমার রায়কে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন। সুকুমার রায় পিতার উদ্ভাবনী দক্ষতার সঙ্গে তাঁর নিজস্ব মেধা প্রযুক্তিতে হতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি রায় অ্যান্ড সন্স’-কে একটি বিশ্বমানের ছাপাখানা সংস্থা হিসেবে পরিচিতিতে হতে সহায়তা করেছিলেন।
প্রকাশনাঃ ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ‘টুনটুনির বই’, ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ‘ছেলেদের মহাভারত’ ইত্যাদি। এই সংস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হল সন্দেশ পত্রিকা প্রকাশ।
উপসংহারঃ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং সুকুমার রায় কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য ছাপা খানা সল’ প্রতিষ্ঠা করেননি। তারা এখান থেকে নিজেদের গ্রন্থও প্রকাশ করেছেন। ছাপার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তাই ছাপাখানার জগতে তাদের এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
৯. বাংলা ছাপাখানার বিকাশে চার্লস উইলকিনস-এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ ভূমিকাঃ 1778 সালে হুগলিতে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এই ছাপাখানা তিনি সর্বপ্রথম বাংলা মুদ্রণ শিল্পের অগ্রদূত সম্পর্কে আলোচনা করো।***
*অথবা, বাংলায় ছাপাখানা বিকাশের ইতিহাসে আলোচনা করা।*
উত্তরঃ ভূমিকাঃ- উনিশ শতকের বাংলায় যে জাগরণ বা নবজাগরণ ঘটেছিল তার কেন্দ্র ছিল মুদ্রণ যন্ত্র বা ছাপাখানা। এই ছাপাখানায় ছাপাখানার আবিষ্কার করলে এক শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপে মুদ্রণ শিল্পের অভাবনীয় প্রসার ঘটে। ভারতে ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে গোয়ায় পর্তুগিজদের হাত ধরে ছাপাখানার আবির্ভাব হয় এবং এর পর বাংলায় ১৭৭০ এর দশকে সৌছায় ১৭৭০ এর দশকে।
বাংলায় ছাপাখানার ইতিহাসঃ-
গ্রাহাম শ নামক একজন ব্যক্তির বিবরণ থেকে জানা যায় যে 1770-1800 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কলকাতা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে প্রায় 40টি ছাপাখানা ছিল। আর এই ছাপাখানা গুলির বেশিরভাগই ছিল সংবাদপত্র প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত। গ্রাহামের বিবরণ থেকে এই সময় চারজন মুদ্রাকরের নাম পাওয়া যায়-
i) ইক্কিঃ জেমস অগাস্টাস হিকি কলকাতায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
ii) জ্যাকেবরিয়া প্রেসঃ- জন জ্যাকেবরিয়া নামক এক খ্রিস্টান মিশনারী 1789 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রেসে ধর্মগ্রন্থ, বর্ষপঞ্জি আদালতে ব্যবহৃত কাগজপ্রত্র ইত্যাদি ছাপা হত।
iii) বার্নড মেসনিকঃ- বার্নড মেসনিক একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। 1780 খ্রিস্টাব্দে তিনি পিরু নামে তার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কলকাতায় একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এর এখান থেকেই ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ইন্ডিয়া গেজেট’ প্রকাশিত হতো।
iv) চার্লস উইলকিনসঃ- চার্লস উইলকিনস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন কেরানি ছিলেন।1778 খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড হেস্টিংস এর নির্দেশে তিনি ‘হ্যালহেডের ব্যাকরণ (A grammar of the Bengal language)’ ছাপাখানার জন্য চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।পরে এই ছাপাখানাটি সরকারি আবরণে শ্রীরামপুরে এই ছাপাখানাটির সরকারি আবরণে শ্রীরামপুর প্রেসঃ- শ্রীরামপুর ত্রয়ী অন্যতম উইলিয়াম কেরি,জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড একটি কাঠের ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন 1800 খ্রিস্টাব্দে। এখান থেকে বহু বই, দিদর্শন, সমাচার দর্পণ, ও শ্রেষ্ঠ অফ ইতিহাস মতো অনেক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। একটা পরিসংখ্যন থেকে জানা যায় যে, 1840 এর দশক পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই কমপক্ষে 50টি ছাপাখানা ছিল এবং পুরো শতকে জুড়ে তার সংখ্যা দাঁড়ায় হাজারেরও বেশি।
পরিবেশে বলা যায় যে, ভাবেই ইউরোপীয়দের উদ্যোগে বাংলায় একাধিক ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্রমে ছাপাখানার শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য অনেক ছাপাখানা গড়ে ওঠে এবং পরে এ শিল্পের বিকাশে বাঙালিরাও এগিয়ে আসে।
মেলবক্সন ঘটতে চলেছিল। এজন্য তিনি এখানে চিন, জাপান, ইউরোপ, আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্ডিতদের নিয়ে এসেছিলেন।
শান্তিনিকেতনে প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটানোঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে প্রকৃতির মধ্যে গাছের তলায় শিক্ষা দেওয়া হত। তা ছাড়া শান্তিনিকেতনের সঙ্গে পাশাপাশি গ্রাম ও তার মানুষদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাই শান্তিনিকেতনের শিক্ষা হয়ে উঠেছিল মানবতাবোধের শিক্ষা।
উপসংহারঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই শান্তিনিকেতনে 1921 খ্রিস্টাব্দে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন ভাবনা শুধু বাংলা বা ভারতে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে একদিকে হয়ে আছে। দেশ-বিদেশের বহু ছাত্র ও শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানে সসম্মানে যুক্ত হয়েছিলেন।
৩. ঔপনিবেশিক ভারতে বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশ সম্পর্কে কী জান?
উত্তরঃ ঊনিশ শতকে ভারতে ইংরেজ কোম্পানি নিশ্চিতের হাত ধরে ভারতে পাশ্চাত্য তথা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পথ প্রশস্ত হয়। এই ব্যতিক্রম ছিল না বাংলা। উনিশ শতক থেকে শুরু করে কুড়ি শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এই জায়গায় অব্যাহত ছিল।
বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশঃ-
ব্যক্তিগত উদ্যোগঃ উনিশ শতকের সূচনাকাল থেকেই বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার অন্তর্ভুক্ত হয়। রায়েনের মতো যে, বাংলায় খ্রিস্টান মিশনারিদের (মার্শম্যান, ওয়ার্ড ও কেরি) উদ্যোগে প্রথম বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটে। জন ম্যাক ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ভাষায় রসায়নবিদ্যার ওপর একটি বই লেখেন। তত্ত্ববোধিনী, বর্ণপরিচয় প্রভৃতি পত্রিকা বাংলায় বিজ্ঞানমনস্ক পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিদর্শক সর্বপ্রথম বাংলায় ৩৫০০টি গাছের নাম সংবলিত ‘হাউস রেনেসেলসিস’ নামক একটি বই লেখেন। এ প্রসঙ্গে জগদীশচন্দ্র বসু ‘ক্রেষ্কোগ্রাফ’ যন্ত্র আবিষ্কার করে উদ্ভিদির বৃদ্ধির হার নির্ণয় করেন। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় আবিষ্কার করেন ‘মারকিউরাস নাইট্রাইট’। রচনা করেন ‘হিন্দু কেমিস্ট্রি’।
প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগঃ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার বিকাশ ঘটে। যেমন-
A. স্কুল বুক ও এশিয়াটিক সোসাইটিঃ ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘স্কুল বুক সোসাইটি’। বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারে এর অবদান অনস্বীকার্য। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পদার্থবিদ্যা, জ্যামিতি প্রভৃতি বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশ করে। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি। এটি একসময় বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।
B. IACS প্রতিষ্ঠাঃ বাংলার খ্যাতনামা চিকিৎসক ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সর্বপ্রথম ‘IACS’ বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। ড. মহেন্দ্রলাল সরকার এদেশে অনুরূপ একটি বিজ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা প্রচার করেন। অবশেষে বিশিষ্ট ব্যক্তি জগদীশচন্দ্র বসুর ও জীবনের সঞ্চিত অর্থ সাহায্য ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বৌবাজার স্ট্রিটে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞান – (১) বিজ্ঞানের প্রসার সাধন ও প্রকৃত গবেষণার মাধ্যমে প্রায়োগিক বিজ্ঞানের পরিধি বিস্তার এবং (২) সম্পূর্ণরূপে নিজেদের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে গবেষণার কাজ করা।
বিজ্ঞানচর্চার বিকাশঃ উনিশ শতকে ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স সকল বিজ্ঞান শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যেমন—প্রথমত, এটিই ছিল ভারতের প্রথম বৈজ্ঞানিক সংগঠন এবং এই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা করা হত।
দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নিয়মিত বিষয়কে (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, ভূবিদ্যা, গণিত) আলোচনা সভার মাধ্যমে শ্রোতাদের বিজ্ঞান বিষয়ে ওয়াকিবহাল করা।
মূল্যায়নঃ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স প্রতিষ্ঠার ফলে (১) ভারত তথা বাংলা বিজ্ঞান গবেষণার এক নতুন প্রতিষ্ঠান লাভ করে। (২) জাতীয় অর্থনীতি বিকাশে এই প্রতিষ্ঠান লাভ করে। (৩) ভারত তথা বাংলা বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জন্মায় এবং পরে এই প্রতিষ্ঠান লাভ করে। (৪) এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শ দ্বারা জাতীয় অর্থনীতি বিকাশে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অবশ্যই। আপনার নির্দেশ মতো আমি আগের পর্বের পর থেকে সম্পূর্ণ টেক্সটটি পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী দেওয়া শুরু করছি।
C. ডন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাঃ বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার অগ্রগতিতে জন্য ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডন সোসাইটি’। এর আবেদন বিষয়ক নানা প্রকাশ করে বাংলায় বিজ্ঞানমনস্ক পরিবেশ গড়েছিল। দি সি রমণ টোলার চেষ্টা করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রাজেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, নীলরতন সরকার প্রমুখ বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ।
D. কলিকাতা বিজ্ঞান কলেজঃ ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন গড়ে তোলেন কলিকাতা বিজ্ঞান কলেজ। এখানে স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান বিভাগ, প্রযুক্তি বিভাগ ও অন্যান্য বিষয়কে পাঠক্রম চালু হয়।
E. বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠাঃ বাংলায় বিজ্ঞানমূলক মৌলিক গবেষণার কাজে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠা করেন ‘বोस ইন্সটিটিউট (যার বর্তমান নাম ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’)। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশবিদেশের গবেষক ছাত্ররা এখানে ভীড় জমান। তাদের হাত ধরে বেরিয়ে আসে একাধিক মৌলিক আবিষ্কার।
F. বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদঃ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রতিষ্ঠা করেন ‘বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ’। বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ওপর বিশেষ জোর দেন। বাংলা ভাষায় জ্ঞান ও বিজ্ঞান নামক একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করে। সোসঅ্যাইট এই এটি এখনও বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলার জন্য তিনি বাংলা ভাষায় জ্ঞান ও বিজ্ঞান নামক একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করেন।
মন্তব্যঃ এইভাবে উনিশ-কুড়ি শতকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার এক সন্তোষজনক পরিবেশ গড়ে ওঠে। ফলে বিজ্ঞান শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় বাঙালির জয়যাত্রা এক অন্য মাত্রা লাভ করে। বলা বাহুল্য যে, সেই ধারা আজও সমানভাবে বহমান।
ষষ্ঠ শতকের ভারতে কৃষক শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন (ষষ্ঠ অধ্যায়)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করঃ-
১. ‘দেশপ্রাণ’ বলা হয়-
উত্তরঃ- বীরেন্দ্রনাথ শাসমলকে
২. ‘ফুনরি’ হল-
উত্তরঃ- গুজরাটের এক কৃষক শ্রেণি।
৩. ‘একা’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন-
উত্তরঃ- মাদারী পাসি
৪. সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন –
উত্তরঃ- লালা লাজপত রায়
৫. সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন –
উত্তরঃ- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
৬. ‘ভাগচাষিদের নেতৃত্ব প্রথম শ্রমিক আন্দোলন ছিল—
উত্তরঃ- আহমেদাবাদের মিল শ্রমিকের আন্দোলন
৭. ‘সর্বভারতীয় কিষাণ সভা’-র প্রথম সভাপতি ছিলেন-
উত্তরঃ- স্বামী সহজানন্দ
৮. ‘তেভাগা আন্দোলন’-টি হয়েছিল-
উত্তরঃ- ১৯৪৬-৪৭ খ্রিস্টাব্দে
৯. জাতীয় কংগ্রেসের বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ছিলেন—
উত্তরঃ- জওহরলাল নেহেরু
১০. বহির্বারতে সর্বপ্রথম যেখানে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি স্থাপিত হয়—
উত্তরঃ- তাসখন্দ
১১. তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়—
উত্তরঃ- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
১২. ‘লাঙল যার জমি তার’ স্লোগানটি কোন্ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ?
উত্তরঃ- তেভাগা আন্দোলনে
১৩. তেলেঙ্গা কৃষক বিদ্রোহের সূচনা ঘটেছিল-
উত্তরঃ- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে
১৪. ভারতে বামপন্থী আন্দোলনের জনক হলেন-
উত্তরঃ- মানবেন্দ্রনাথ রায়ের
১৫. নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ‘মানবেন্দ্রনাথ রায়’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন—
উত্তরঃ- আমেরিকায়
১৬. রাম্পা উপজাতি বিদ্রোহ হয়েছিল-
উত্তরঃ- গোদাবরী উপত্যকায়
১৭. রাম্পা বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটেছিল-
উত্তরঃ- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে
১৮. এম এন রায়ের প্রকৃত নাম হল –
উত্তরঃ- নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
১৯. যে বয়োকটিট বল্লভ ঘোষণা করেন-
উত্তরঃ- লর্ড কার্জন
২০. বঙ্গভঙ্গ যেদিন ঘোষিত হয়েছিল, তা হল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের –
উত্তরঃ- ১৯ জুলাই
২১. বঙ্গভঙ্গ যেদিন ঘোষিত হয়েছিল, তা হল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে –
উত্তরঃ- ১৯ জুলাই
২২. রাম্পা বিদ্রোহের নেতা ছিলেন-
উত্তরঃ- আলুরি সিতারাম রাজু
২৩. ভাইকম সত্যাগ্রহ কোথায় হয়েছিল?
উত্তরঃ- মহারাষ্ট্রে।
২৪. বঙ্গভঙ্গ কার্যকরী হয় ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে –
উত্তরঃ- ১৬ অক্টোবর।
২৫. ‘গণবাণী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
উত্তরঃ- মুজাফফর আহমেদ।
২৬. ‘দি সোস্যালিস্ট’ পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন-
উত্তরঃ- এস. এ. ডাঙ্গে।
২৭. ভারতে প্রথমবার ‘মে দিবস’ পালিত হয়েছিল-
উত্তরঃ- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১ মে।
২৮. AITUC-এর প্রথম সভাপতি-
উত্তরঃ- লালা লাজপত রায়।
২৯. ‘মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন’ কে গঠন করেন?
উত্তরঃ- বি. পি. ওয়াদিয়া।
৩০. তিনকাটিয়া প্রথার অবসান ঘটে –
উত্তরঃ- ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে
৩১. চম্পারণ কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন –
উত্তরঃ- মহাত্মা গান্ধি
৩২. ভারতে গান্ধিজির দ্বিতীয় সত্যাগ্রহ হল –
উত্তরঃ- আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ
৩৩. ‘মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠিত হয়-
উত্তরঃ- ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে
৩৪. ভারতের প্রথম ট্রেড ইউনিয়নটির নাম হল-
উত্তরঃ- মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন।
৩৫. ‘কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল’-এর প্রতিষ্ঠাতা-
উত্তরঃ- জয়প্রকাশ নারায়ণ।
৩৬. আহমেদাবাদ সত্যাগ্রহে ফলে মিল মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করে –
উত্তরঃ- ৩৫ শতাংশ
৩৭. গান্ধিজির নেতৃত্বে ভারতে তৃতীয় সত্যাগ্রহটি হল –
উত্তরঃ- খেদা সত্যাগ্রহ
৩৮. গান্ধিজির নেতৃত্বে ভারতে প্রথম সত্যাগ্রহ অনুষ্ঠিত হয় –
উত্তরঃ- ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে
৩৯. ‘লাঙল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
উত্তরঃ- কাজী নজরুল ইসলাম।
৪০. অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সূচনা ঘটেছিল-
উত্তরঃ- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
৪১. বীরেন্দ্রনাথ শাসমল পরিচিত ছিলেন যে নামে –
উত্তরঃ- দেশপ্রাণ
৪২. অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরে কৃষককদের কর বন্ধ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন –
উত্তরঃ- বীরেন্দ্রনাথ শাসমল
৪৩. ‘চৌরিরচৌরার ঘটনা’ ঘটেছিল-
উত্তরঃ- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে
৪৪. অসহযোগ আন্দোলনের প্রতীক ছিল –
উত্তরঃ- চরকা
৪৫. অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের কৃষক আন্দোলনের নেতা ছিলেন –
উত্তরঃ- বীরেন্দ্রনাথ শাসমল
৪৬. মোপলা বিদ্রোহ হয় –
উত্তরঃ- মালাবার উপকূলে
৪৭. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনকে উত্তরপ্রদেশে কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন –
উত্তরঃ- বাবা রামচন্দ্র
৪৮. ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় –
উত্তরঃ- মাদ্রাজ – এ
৪৯. সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নেতা ছিলেন –
উত্তরঃ- লালা লাজপত রায়
৫০. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস ‘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল –
উত্তরঃ- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
অতিরিক্ত প্রশ্নগুলি উত্তর দাওঃ
১. All India Trade Union Congress (AITUC) কবে স্থাপিত হয়?
উত্তরঃ- All India Trade Union Congress স্থাপিত হয় 1920 সালে।
২. মোপলা বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল?
উত্তরঃ- মোপলা বিদ্রোহ হয়েছিল কেরালায়।
৩. আইন অমান্য আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উত্তরঃ- আইন অমান্য আন্দোলন কবে শুরু হয় 1930 সালে।
৪. সারা ভারত কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ- উত্তরপ্রদেশে
৫. অসহযোগ আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উত্তরঃ- অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় 1920 সালে।
৬. কত খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়েছিল?
উত্তরঃ- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে।
৭. করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে – এটি কার উক্তি?
উত্তরঃ গান্ধীজি
৮. রাম্পা বিদ্রোহের একজন নেতার লেখ।
উত্তরঃ সীতারাম রাজু
৯. সীমান্ত গান্ধী নামে কে পরিচিত?
উত্তরঃ খান আবদুল গফফর খান
১০. একা আন্দোলন কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ উত্তরপ্রদেশে
১১. একা আন্দোলনের দুজন নেতার নাম লেখ।
উত্তরঃ মাদারী পাসী ও বাবা গরীব দাস
১২. তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ সতীশচন্দ্র সামন্ত
১৩. ভারতে প্রথম কবে মে দিবস পালিত হয়?
উত্তরঃ ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে।
১৪. ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের পয়লা মে
উত্তরঃ তেভাগা আন্দোলনের একজন নেতার নাম লেখ।
উত্তরঃ চারু মজুমদার
১৫. সর্বভারতীয় কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী
১৬. All India trade union Congress (AITUC) প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ লালা লাজপত রায়।
১৭. ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব কার?
উত্তরঃ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের।
১৮. কবে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা রুজু হয়?
উত্তরঃ ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে।
১৯. রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ মানবেন্দ্রনাথ রায়।
২০. ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন কার নেতৃত্বে হয়?
উত্তরঃ এম এন জোশির নেতৃত্বে।
২১. কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দলের একজন নেতার লেখ।
উত্তরঃ জয়প্রকাশ নারায়ণ।
২২. কবে বঙ্গভঙ্গ কার্যকরী হয়?
উত্তরঃ- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকরী হয়।
২৩. কে বঙ্গভঙ্গ করেন?
উত্তরঃ- বড়োলাট লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
২৪. কবে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়?
উত্তরঃ- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
২৫. মহাত্মা গান্ধির রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?
উত্তরঃ- মহাত্মা গান্ধির রাজনৈতিক গুরু ছিলেন গোপালকৃষ্ণ গোখলে।
২৬. অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন মালাবার উপকূলে সংঘটিত কৃষক আন্দোলনটির নাম মোপলা বিদ্রোহ।
উত্তরঃ- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন মালাবার উপকূলে সংঘটিত কৃষক আন্দোলনটির নাম মোপলা বিদ্রোহ।
২৭. গাদাবরী অঞ্চলে আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ (১৯২২-২৪ খ্রি.) কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ- গাদাবরী অঞ্চলে আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ রাম্পা বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
২৮. রম্পা বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ- রম্পা বিদ্রোহের নেতা ছিলেন আলুরি সীতারাম রাজু।
২৯. বারদৌলি সত্যাগ্রহ কবে হয়েছিল?
উত্তরঃ- বারদৌলি সত্যাগ্রহ ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল।
৩০. কে বারদৌলি সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন?
উত্তরঃ- বল্লভভাই প্যাটেল বারদৌলি সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন।
৩১. একা আন্দোলনে কে নেতৃত্ব দিয়েছিল?
উত্তরঃ- মাদারী পানি একা কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
৩২. ‘একা’ আন্দোলন কোথায় হয়েছিল?
উত্তরঃ- একা আন্দোলন উত্তরপ্রদেশে হয়েছিল।
৩৩. সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন (AITUC) কবে গঠিত হয়?
উত্তরঃ- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়।
৩৪. AITUC- র প্রথম অধিবেশন কোথায় বসে?
উত্তরঃ- AITUC- র প্রথম অধিবেশন বসে বোম্বাই – এ।
৩৫. AITUC- র বাংলা নাম কী?
উত্তরঃ- AITUC- র বাংলা নাম হল নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন।
৩৬. AITUC কবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উত্তরঃ- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে AITUC প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩৭. AITUC- র প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ- AITUC- র প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়।
৩৮. বারদৌলি সত্যাগ্রহ কোথায় হয়েছিল?
উত্তরঃ- বারদৌলি সত্যাগ্রহ গুজরাটের বারদৌলিতে হয়েছিল।
৩৯. আইন অমান্য আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ- আইন অমান্য আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন মহাত্মা গান্ধি।
৪০. বাংলায় ‘কৃষক প্রজাপার্টি’ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
উত্তরঃ- বাংলায় ‘কৃষক প্রজাপার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন এ কে ফজলুল হক।
৪১. তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তরঃ- তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করেন সতীশচন্দ্র সামন্ত।
৪২. তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বর।
৪৩. ‘ ভগিনী সেনা ‘ কোথায় গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ- ‘ ভগিনী সেনা ‘ মেদিনীপুরে গঠিত হয়েছিল।
৪৪. বাংলার কৃষক প্রজা পার্টির প্রতীক কী ছিল?
উত্তরঃ- বাংলার কৃষক – প্রজা পার্টির প্রতীক ছিল লাঙল।
৪৫. ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টির সভাপতি কে হন?
উত্তরঃ- ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টির সভাপতি এ কে ফজলুল হক।
৪৬. ভারত ছাড়ো আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উত্তরঃ- ভারত ছাড়ো আন্দোলন ৮-৯ আগস্ট, ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়।
৪৭. তেভাগা কথার অর্থ কী?
উত্তরঃ- তেভাগা কথার অর্থ উৎপন্ন ফসলের ২/৩ অংশ কৃষকদের দিতে হবে।
৪৮. ভারতের প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন কোনটি?
উত্তরঃ- মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন (১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ)। ভারতের প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন।
৪৯. তেভাগা আন্দোলনের একজন নেতার নাম লেখ।
উত্তরঃ- তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নাম চারু মজুমদার।
৫০. ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (১৯২০ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ- ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (১৯২০ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় রাশিয়ার তাসখন্দে।
২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
১. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?***
*উত্তরঃ* নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি হল –
(১) সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরোধিতা করা, অর্থাৎ রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করা।
(২) জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণ করে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে যোগদান করা।
২. ত্রিপুরী সংকট কি?***
*উত্তরঃ* 1939 খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের ত্রিপুরী অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র বামপন্থী দলগুলি সমর্থনে 203 ভোটের ব্যবধানে গান্ধীজী মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সিতারামাইয়া কে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। এটি ত্রিপুরী সংকট নামে পরিচিত।
৩. এম এন রায় স্মরণীয় কেন?
অথবা, মানবেন্দ্রনাথ রায় বিখ্যাত কেন?***
*উত্তরঃ* মানবেন্দ্রনাথ রায় ওরফে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ভারতের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও বামপন্থী আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।প্রথম জীবনে বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মানবেন্দ্র রায় বায়রল খ্যাত যতীনের সঙ্গে বিদেশে অস্ত্র আমদানি করে দেশীন করান করার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
৪. কে কবে ‘রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’ তৈরি করেছিলেন?***
*উত্তরঃ* মানবেন্দ্র রায় নাম নিয়েছিলেন ভারতের একজন বামপন্থী স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি 1940 খ্রিস্টাব্দে ‘রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
৫. বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন কেন শুরু হয়?
উত্তরঃ গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি অঞ্চলে সরকার ৩০ শতাংশ ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি করে। এর প্রতিবাদে এখানকার হিন্দু-মুসলমান কৃষকেরা প্রথমে স্থানীয় নেতৃত্ব ও পরে গান্ধিবাদী নেতা বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে ১৯২৮ খ্রি. খাজনা দানের দাবিতে যে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করে। তা বারদৌলি সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত। আন্দোলনের চাপে সরকার খাজনা হ্রাস করতে বাধ্য হয়েছিল।
৬. ভারতে কমিউনিস্ট পার্টিকে দ্বিজ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ ‘দ্বিজ’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হল যার দু-বার জন্ম। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি দু-জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় বলে একে ‘দ্বিজ’ বলা হয়।
৭. ওয়ার্কার্স অ্যান্ড প্রেজেন্ট পার্টি গঠিত হয় ?
উত্তরঃ ভারতে শ্রমিক দল শ্রমিক ও কৃষকদের সঙ্গে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ নেয় সেক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি।
উদ্দেশ্যঃ- ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল—
a. শ্রমিকদের কাজের সময়সীমা কমানো
b. সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ
c. জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ প্রভৃতি।
*৮. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টির যোগ দেয়নি কেন?
*উত্তরঃ* 1941 খ্রিস্টাব্দে ২রা সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই ইংরেজ সরকার ভারতকে যুদ্ধরত দেশ বলে ঘোষণা করে। কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতাতে ভারতে জাতীয়তাবাদী দলের সোভিয়েত রাশিয়ার মিত্র ব্রিটেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সমর্থন জানাতে সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় জাতীয়তাবাদী প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে তারা ব্রিটেনের যুদ্ধকে জনযুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। ভারতের জাতীয়তাবাদের দ্বারা যুদ্ধরত ব্রিটিশ সরকারকে বিব্রত করা অনুচিত মনে করে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শামিল হয়নি।
**৯. সর্বভারতীয় কিষান সভা গঠনের দুটি উদ্দেশ্য লেখ।
*উত্তরঃ* জমিদারির প্রথা উচ্ছেদঃ- জমিদারি প্রথা ছিল কৃষকদের দুর্দশার অন্যতম কারণ। তাই কিষান সভা জমিদারি প্রথার উচ্ছেদের দাবি জানায়।
কৃষিঋণ মকুবঃ- কৃষকরা ঋণ নিয়ে অনন্তকাল ঋণের জালে জড়িয়ে থাকত। কিষান সভা এই ঋণ মকুবের দাবি জানায়। এছাড়াও বেগার প্রথার অবসান, খাজনা হ্রাস, বনসম্পদে অধিকার, জমি প্রদান ইত্যাদি সর্বভারতীয় কিষান সভা গঠনের উদ্দেশ্য বা কর্মসূচি ছিল।
১০. একা আন্দোলন কি?*
অথবা, একা আন্দোলনের কারণ কি ছিল?
উত্তরঃ
a. এই আন্দোলনের কোনো সুনির্দিষ্ট কৃষিবিত্তিক কর্মসূচি যেমন কৃষকদের দুরবস্থার প্রতিকার, খাজনা বৃদ্ধি প্রতিরোধ, জমিদারি অত্যাচার বন্ধ ইত্যাদি বিষয় না-থাকায় কৃষকদের সামিল করা যায়নি।
b. জমিদার ও উচ্চশ্রেণির সাহায্যপুষ্ট হওয়ায় এই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ কৃষকদের আন্দোলনে সামিল করার তাগিদ অনুভব করেন নি।
১৫. আধুরি সীতারাম রাজু কে ছিলেন?
উত্তরঃ রম্পা বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন আধুরি সীতারাম রাজু। ৪ জুলাই ১৮৯৭ সালে জন্ম এবং এই মে ১৯২৪ পরলোক গমন করেন। আঁধার ওনা নাম রামচন্দ্র রাজু। তিনি একজন ভারতীয় বিপ্লবী, যিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘মানয়াম বীরুড়ু’ উপাধি পান। যার অর্থ ‘অরণ্যের বীর’। ১৯২২-২৪ সালের রম্পা উপজাতিদের বিদ্রোহে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
১৬. ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে জনগন কেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে?*
উত্তরঃ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বশেষ বৃহৎ ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হলো ভারত ছাড়ো আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী ঘোষণা করেন যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ত্যাগ করতে হবে। নাহলে কংগ্রেস প্রত্যক্ষ সংগ্রামে নামবে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই আন্দোলনের মাধ্যমে। পুরুষ নারী নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এই ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভ, পূর্ণ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশ নেয়।