আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর (MCQ ও SAQ) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণী বাংলা সাজেশন

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আজকের আলোচনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘আফ্রিকা’ কবিতা। দশম শ্রেণীর বাংলা ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’ পাঠ্যবইয়ের অন্তর্গত এই কবিতাটি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে, আমরা এই পোস্টে আফ্রিকা কবিতার প্রতিটি লাইন খুঁটিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন উত্তর এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) গুলি একত্রিত করেছি। এই প্রশ্নগুলি অনুশীলন করলে তোমরা পরীক্ষায় আসা যেকোনো সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর সহজেই দিতে পারবে।

১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কার লেখা?
উঃ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।

২. ‘আফ্রিকা’ কবিতার উৎস কী?
উঃ- ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থ।

৩. ‘আফ্রিকা’ কবিতা প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উঃ- ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় (১৩৪৩ ব.)।

৪. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থে কত নম্বর সংস্করণে স্থান পায়?
উঃ- দ্বিতীয় সংস্করণে স্থান পায়।

৫. পরবর্তীকালে ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্য সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়?
উঃ- ‘সঞ্চয়িতা’ কাব্য সংকলনে।

৬. আফ্রিকা কী?
উঃ- একটি মহাদেশ।

৭. কবিতা শুরুতে কোন যুগের উল্লেখ আছে?
উঃ- আদিম যুগের।

৮. আদিম যুগটি কেমন?
উঃ- উদভ্রন্ত। (ভিডিওতে ভুলবশত “উদা” লেখা ছিল, পরে সেটিকে “উদভ্রন্ত” হিসেবে বলা হয়।)

৯. ‘উদভ্রন্ত’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- দিশাহীন / উন্মত্ত / বিহ্বল / দিশেহারা।

১০. স্রষ্টার কার প্রতি অসন্তোষ ছিল?
উঃ- নিজের প্রতি।

১১. কে তার নতুন সৃষ্টিকে বারবার ভেঙে গড়ছিলেন?
উঃ- স্রষ্টা।

১২. কে প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল?
উঃ- রুদ্র সমুদ্রের বাহু।

১৩. ‘প্রাচী’- শব্দের অর্থ কী?
উঃ- পূর্ব দিক।

১৪. ‘ধরিত্রী’- শব্দের অর্থ কী?
উঃ- পৃথিবী।

১৫. প্রাচী ধরিত্রী বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে আফ্রিকাকে কোথায় বাঁধা হয়েছিল?
উঃ- কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।

১৬. কার নিবিড় পাহারা আফ্রিকাকে বেঁধেছিল?
উঃ- বনস্পতির।

১৭. ‘অন্তঃপুর’ – শব্দের অর্থ কী?
উঃ- অন্দরমহল।

১৮. কৃপণ আলো বলার তাৎপর্য লেখো।
উঃ- কৃপণ আলো বলতে যেখানে আলো প্রবেশের পথ অত্যন্ত দুর্গম সেই স্থানকে বোঝায়। অর্থাৎ জঙ্গলময় আফ্রিকার দুর্গম অন্ধকারাচ্ছন্নতা বোঝাতেই ‘কৃপণ আলো’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

১৯. “ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে আফ্রিকা”- কোথা থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
উঃ- উত্তাল সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল।

২০. উদভ্রন্ত আদিম যুগে কী ঘটেছিল?
উঃ- স্রষ্টা তাঁর নিজের প্রতি অসন্তোষবশত সৃষ্টিকে বিধ্বস্ত করে আবার গড়ছিলেন।

২১. স্রষ্টার ঘন ঘন মাথা নাড়ার কারণ কী?
উঃ- স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তোষের কারণে সৃষ্টিকে আরো সুন্দর এবং নিখুঁত করার জন্য বারবার অধৈর্যে মাথা নাড়ছিলেন।

২২. রুদ্র সমুদ্রের বাহু বা উত্তাল জলরাশি আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে কোথায় রেখেছিল?
উঃ- আফ্রিকার দুর্গম রহস্যময় এবং ছায়া-ঘেরা কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে রেখেছিল।

২৩. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী সংগ্রহ করছিল?
উঃ- দুর্গের রহস্য।

২৪. ‘নিভৃত’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- নির্জন।

২৫. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী চিনছিল?
উঃ- জলস্থল – আকাশের দুর্বোধ্য সংকেত চিনছিল।

২৬. প্রকৃতির দৃষ্টি অতীত জাদু আফ্রিকার মনে কী জাগাচ্ছিল ছিল?
উঃ- মন্ত্র জাগাচ্ছিল।

২৭. আফ্রিকা কাকে বিদ্রূপ করেছিল?
উঃ- ভীষণকে।

২৮. কোথায় মন্ত্র জাগাচ্ছিল?
উঃ- আফ্রিকার চেতনাতীত মনে।

২৯. আফ্রিকা ভীষণকে কীসের ছদ্মবেশে বিদ্রূপ করেছিল?
উঃ- বিরূপের ছদ্মবেশে।

৩০. আফ্রিকা কাকে হার মানাতে চাইছিল?
উঃ- শঙ্কাকে।

৩১. ‘তাণ্ডব’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- উদ্দাম নাচ।

৩২. আফ্রিকা কেমন ভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল?
উঃ- আপনাকে উগ্র করে।

৩৩. আফ্রিকা কবিতায় আফ্রিকাকে ছায়াবৃতা বলা হয়েছে কেন?
উঃ- জন্মের আদি লগ্ন আফ্রিকা ছিল ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। ফলে জঙ্গলের বড়ো বড়ো গাছ আফ্রিকাকে ছায়া দান করা করত। তাই আফ্রিকাকে ছায়াবৃতা বলা হয়েছে।

৩৪. ‘দুন্দুভিনিনাদ’ কী?
উঃ- যুদ্ধের বাদ্যের শব্দ।

৩৫. কালো ঘোমটার নিচে কী অপরিচিত ছিল?
উঃ- আফ্রিকার মানবরূপ অপরিচিত ছিল।

৩৬. উপেক্ষার দৃষ্টি কেমন ছিল?
উঃ- আবিল।

৩৭. ‘আবিল’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- কলুষিত।

৩৮. কারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসেছিল?
উঃ- সাম্রাজ্যবাদী লোভী ইউরোপীয় শক্তি।

৩৯. “এল মানুষ ধরার দল”- মানুষ ধরার দল বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উঃ- সাম্রাজ্যবাদী লোভী ইউরোপীয় বর্বর শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

৪০. যারা মানুষ ধরতে এসেছিল তাদের নখ কেমন ছিল?
উঃ- নেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ।

৪১. ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের ‘মানুষ ধরার দল’ বলা হয়েছে কেন?
উঃ- আফ্রিকায় সম্পদের খোঁজ পেয়ে ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় এসে সেখানকার মানুষদের ক্রীতদাসে পরিণত করে। তাই তাদের মানুষ ধরার দল বলা হয়েছে।

৪২. সভ্যের বর্বর লোভ কী নগ্ন করেছিল?
উঃ- আপন নির্লজ্জ অমানুষতাকে নগ্ন করেছিল।

৪৩. সভ্যের লোভ কেমন ছিল?
উঃ- বর্বর।

৪৪. মানুষ ধরার দল গর্বে কাদের থেকে বেশি অন্ধ ছিল?
উঃ- সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে বেশি অন্ধ ছিল।

৪৫. আফ্রিকার ক্রন্দন কেমন ছিল?
উঃ- ভাষাহীন।

৪৬. আফ্রিকার ক্রন্দন ভাষাহীন হওয়ার কারণ কী?
উঃ- অমানুষিক অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে আফ্রিকা ভাষা হারিয়ে ফেলেছিল।

৪৭. কার ক্রন্দনে অরণ্যপথ বাষ্পাকুল হয়েছিল?
উঃ- আফ্রিকার ক্রন্দনে।

৪৮. ‘বাষ্পাকুল’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- অশ্রুপূর্ণ বা চোখের জলে পরিপূর্ণ।

৪৯. আফ্রিকার অরণ্য পথের ধূলি কীভাবে পঙ্কিল হয়েছিল?
উঃ- রক্তে-অশ্রুতে মিশে।

৫০. দস্যুদের পায়ে কেমন জুতো ছিল?
উঃ- কাঁটা মারা জুতো ছিল।

৫১. বিভৎস কাদার পিণ্ড আফ্রিকায় কী দিয়ে গেল?
উঃ- চিরচিহ্ন দিয়ে গেল।

৫২. সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যখন আফ্রিকার উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল তখন সমুদ্রপারের পাড়ায় পাড়ায় কোন দৃশ্য দেখা দিয়েছিল?
উঃ- মন্দিরে মন্দিরে পূজার ঘন্টা বাজছিল এবং শিশুরা মায়ের কোলে খেলা করছিল।

৫৩. মন্দিরে পূজার ঘন্টা কখন বাজছিল?
উঃ- সকাল সন্ধ্যায়।

৫৪. কার নামে মন্দিরে পূজার ঘন্টা বাজছিল?
উঃ- দয়াময় দেবতার নামে।

৫৫. শিশুরা কোথায় খেলা করছিল?
উঃ- মায়ের কোলে।

৫৬. কবির সংগীতে কী বেজে উঠেছিল?
উঃ- সুন্দরের আরাধনা।

৫৭. কোন দিগন্তে ঝড় এসেছিল?
উঃ- পশ্চিম দিগন্তে।

৫৮. ‘প্রদোষকাল’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- সন্ধ্যাবেলা।

৫৯. গুপ্ত গহ্বর থেকে কারা বেরিয়ে এসেছিল?
উঃ- পশুরা।

৬০. গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এসে কেমনভাবে দিনের অন্তিমকাল ঘোষণা করেছিল?
উঃ- অশুভ ধ্বনিতে।

৬১. কবি আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে কাকে আহ্বান জানিয়েছেন?
উঃ- যুগান্তের কবিকে।

৬২. যুগান্তের কবিকে কোথায় দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে?
উঃ- মানহারা মানবীর দ্বারে।

৬৩. মানহারা মানবী বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উঃ- আফ্রিকাকে বোঝানো হয়েছে।

৬৪. “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।” – সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি কী?
উঃ- সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি হল – ‘ক্ষমা করো’।

৬৫. কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আফ্রিকা কবিতাটি কার অনুরোধে লিখেছিলেন?
উঃ- অমিয় চক্রবর্তীর অনুরোধে লিখেছিলেন।

৬৬. ‘এসো যুগান্তের কবি’ – যুগান্তের কবিকে আহ্বান জানানো হয়েছে কেন?
উঃ- অত্যাচারিতা, লাঞ্ছিতা ‘মানহারা মানবী’ অর্থাৎ আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য যুগান্তের কবিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

৬৭. বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে – কীভাবে বিদ্রূপ করেছিল?
উঃ- আফ্রিকা মহাদেশ আদিম রহস্যময়তায় ভয়কে ভয়াবহ ভীষণকে বিদ্রূপ করেছিল।

৬৮. শঙ্কাকে চাইছিলে হার মানাতে – আফ্রিকা কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল?
উঃ- জঙ্গল আকীর্ণ দুর্গম দুর্ভেদ্য ছায়া দ্বারা ঘেরা আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচন্ড মহিমায় বিধ্বংসী তাণ্ডবলীলার প্রচন্ড শব্দে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল।

৬৯. চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে – চিরচিহ্ন বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উঃ- সাম্রাজ্যবাদী লোভী ইউরোপীয় বর্বর শক্তির অত্যাচারে অপমানিত লাঞ্ছিত ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কালো ইতিহাসকে কবি চিরচিহ্ন বলে অভিহিত করেছেন।

৭০. নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা – কীভাবে নির্লজ্জ অমানুষতা প্রকাশ পেয়েছিল?
উঃ- সাম্রাজ্যবাদের লোভে পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মম অত্যাচারে লাঞ্ছিত ক্ষতবিক্ষত এবং অপমানিত হয় আফ্রিকা। আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন অত্যাচার এবং মানুষকে ক্রীতদাসে পরিণত করার মধ্যে দিয়ে নির্লজ্জ অমানুষতা প্রকাশ পেয়েছিল।

৭১. অপরিচিত ছিল তোমার মানব রূপ উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে – কার মানব রূপ কাদের কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে অপরিচিত ছিল?
উঃ- আফ্রিকার মানব রূপ সাম্রাজ্যবাদী লোভী দেশগুলির কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে ছায়াঘেরা অরণ্যের কালো ঘোমটার নিচে অপরিচিত ছিল।

৭২. সমুদ্র পারে সেই মুহূর্তেই – সমুদ্রের পারে সেই মুহূর্তে কোন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল?
উঃ- একদিকে আফ্রিকার উপর যখন সাম্রাজ্যবাদী লোভীদের নিঃশংস অত্যাচার এবং বর্বরতা চলছিল ঠিক সেই সময় সমুদ্রের পারে পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পূজার ঘন্টা বেজে চলেছিল। শিশুরা মায়ের কোলে খেলা করছিল এবং কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।

১। ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত?
(ক) মানসী
(খ) চিত্রা
(গ) পত্রপুট
(ঘ) গীতাঞ্জলি

উত্তর: (গ) পত্রপুট

২। কবি আদিম যুগের কোন বিশেষণ ব্যবহার করেছেন?
(ক) চেতনাতীত
(খ) দৃষ্টি-অতীত
(গ) অপমানিত
(ঘ) উদভ্রাপ্ত

উত্তর: (ঘ) উদভ্রাপ্ত

৩। নতুন সৃষ্টিকে বারবার কে বিধ্বস্ত করছিলেন?
(ক) কবি
(খ) ছায়াবৃতা
(গ) দয়াময় দেবতা
(ঘ) স্রষ্টা

উত্তর: (ঘ) স্রষ্টা

৪। নিজের সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন কেন?
(ক) বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমা
(খ) সভ্যের বর্বর লোভ
(গ) নিজের প্রতি অসন্তোষ
(ঘ) আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাত

উত্তর: (গ) নিজের প্রতি অসন্তোষ

৫। ‘সমুদ্রের বাহু’ আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে বেঁধেছিল কীভাবে?
(ক) জলতরঙ্গের বন্ধনে
(খ) নিভৃত অবকাশে
(গ) পর্বতকন্দরে
(ঘ) বনস্পতির নিবিড় পাহারায়

উত্তর: (ঘ) বনস্পতির নিবিড় পাহারায়

৬। আফ্রিকার অন্তঃপুরে কেমন আলো ছিল?
(ক) দুর্বোধ্য
(খ) কৃপণ
(গ) আবিল
(ঘ) নগ্ন

উত্তর: (খ) কৃপণ

৭। নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী সংগ্রহ করছিল?
(ক) দুর্বোধ্য সংকেত
(খ) ভাষাহীন ক্রন্দন
(গ) নির্লজ্জ অমানুষতা
(ঘ) দুর্গের রহস্য

উত্তর: (ঘ) দুর্গের রহস্য

৮। প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু আফ্রিকার মনে কী জাগাচ্ছিল?
(ক) বিভীষিকা
(খ) অসন্তোষ
(গ) ক্রন্দন
(ঘ) মন্ত্র

উত্তর: (ঘ) মন্ত্র

৯। আফ্রিকা কাকে বিদ্রূপ করছিল?
(ক) নতুন সৃষ্টিকে
(খ) শঙ্কাকে
(গ) আপনাকে
(ঘ) ভীষণকে

উত্তর: (ঘ) ভীষণকে

১০। আফ্রিকা বিদ্রূপ করছিল ভীষণকে –
(ক) বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
(খ) কালো ঘোমটার নীচে
(গ) বিরূপের ছদ্মবেশে
(ঘ) তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে

উত্তর: (গ) বিরূপের ছদ্মবেশে

১১। কে শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল?
(ক) কবি
(খ) আফ্রিকা
(গ) রুদ্র সমুদ্রের বাহু
(ঘ) দৃষ্টি-অতীত জাদু

উত্তর: (খ) আফ্রিকা

১২। ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবি কাকে ‘ছায়াবৃতা’ সম্বোধন করেছেন?
(ক) আদিম অরণ্যকে
(খ) আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গী ক্রীতদাসীকে
(গ) আফ্রিকাকে
(ঘ) ঔপনিবেশিক শাসনকে

উত্তর: (গ) আফ্রিকাকে

১৩। কালো ঘোমটার নীচে কী অপরিচিত ছিল?
(ক) উপেক্ষার আবিল দৃষ্টি
(খ) মানুষের শুভবুদ্ধি
(গ) সভ্যের বর্বর লোভ
(ঘ) আফ্রিকার মানবরূপ

উত্তর: (ঘ) আফ্রিকার মানবরূপ

১৪। ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘ওরা’ কী নিয়ে এল?
(ক) লোহার হাতকড়ি নিয়ে
(খ) মানুষ ধরার দল নিয়ে
(গ) অরণ্যপথে
(ঘ) সমুদ্রপারে

উত্তর: (ক) লোহার হাতকড়ি নিয়ে

১৫। ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’ – ওরা কারা?
(ক) ভারতীয়
(খ) আমেরিকান
(গ) ইউরোপীয়
(ঘ) জংলি উপজাতি

উত্তর: (গ) ইউরোপীয়

১৬। মানুষ ধরার দলের নখ কেমন ছিল?
(ক) নেকড়ের চেয়ে তীক্ষ্ণ
(খ) ঈগলের চেয়ে কঠিন
(গ) সিংহের চেয়ে ধারালো
(ঘ) বাঘের চেয়ে নির্দয়

উত্তর: (ক) নেকড়ের চেয়ে তীক্ষ্ণ

১৭। সভ্যের লোভ কেমন?
(ক) নির্লজ্জ
(খ) আবিল
(গ) বর্বর
(ঘ) পঙ্কিল

উত্তর: (গ) বর্বর

১৮। তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে/ পঙ্কিল হল ধূলি তোমার _ মিশে।
(ক) বিরূপের ছদ্মবেশে
(খ) অপমানিত ইতিহাসে
(গ) শেষ রশ্মিপাতে
(ঘ) রক্তে-অশ্রুতে

উত্তর: (ঘ) রক্তে-অশ্রুতে

১৯। যে মন্দিরে পূজার ঘন্টা বাজছিল – কোথায়?
(ক) রুদ্র সমুদ্রে
(খ) সমুদ্রপারে
(গ) সূর্যহারা অরণ্যে
(ঘ) মানবীর দ্বারে

উত্তর: (খ) সমুদ্রপারে

২০। কার নামে পূজার ঘন্টা বাজছিল?
(ক) সভ্য দেশগুলির নামে
(খ) ঔপনিবেশিক শাসকের নামে
(গ) আফ্রিকার রাজার নামে
(ঘ) দয়াময় দেবতার নামে

উত্তর: (ঘ) দয়াময় দেবতার নামে

২১। কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল –
(ক) মধুর ঝংকার
(খ) পূজার ঘন্টা
(গ) সুন্দরের আরাধনা
(ঘ) সুরের মূর্চ্ছনা

উত্তর: (গ) সুন্দরের আরাধনা

২২। শিশুরা খেলছিল _
(ক) মায়ের কোলে
(খ) পাড়ায় পাড়ায়
(গ) গুপ্ত গহ্বরে
(ঘ) বাষ্পাকুল অরণ্যপথে

উত্তর: (ক) মায়ের কোলে

২৩। আজ কোন্ দিকে ঝড় আসছে?
(ক) পূর্ব দিগন্তে
(খ) পশ্চিম দিগন্তে
(গ) উত্তর দিগন্তে
(ঘ) দক্ষিণ দিগন্তে

উত্তর: (খ) পশ্চিম দিগন্তে

২৪। পশ্চিম দিগন্তে কোন সময়ে ঝড় আসছে?
(ক) প্রভাত কালে
(খ) দ্বিপ্রহরে
(গ) গোধূলি বেলায়
(ঘ) প্রদোষ কালে

উত্তর: (ঘ) প্রদোষ কালে

২৫। ‘প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস’ – ‘প্রদোষ’ শব্দের অর্থ – (২০১৭)
(ক) ভোর
(খ) রাত্রি
(গ) দুপুর
(ঘ) সন্ধ্যা

উত্তর: (ঘ) সন্ধ্যা

২৬। স্রষ্টার অসন্তোষ ছিল –
(ক) তাঁর সৃষ্টির প্রতি
(খ) নিজের প্রতি
(গ) আফ্রিকার প্রতি
(ঘ) পশ্চিমী দুনিয়ার প্রতি

উত্তর: (খ) নিজের প্রতি

‘আফ্রিকা’ : প্রশ্নোত্তর।

১) প্রশ্ন: “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে”– ‘তোমার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? দস্যুরা কীভাবে আফ্রিকার ইতিহাসে চিরচিহ্ন এঁকে দিয়ে গিয়েছিল, তা ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসরণে আলোচনা করো। ১+৪

‘অথবা’

★“চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে” – ‘তোমার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘অপমানিত ইতিহাসে’র সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ১+৪ [মা:প: ২০১৯]

উত্তর: △ মানবপ্রেমিক কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃত পঙক্তিটিতে ‘তোমার’ বলতে আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলা হয়েছে।

△△ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আfrica’ কবিতায় একদিকে যেমন আফ্রিকার সৃষ্টি রহস্য উন্মোচিত করেছেন, তেমনি অন্যদিকে আফ্রিকার বুকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বর্বর অত্যাচারকে কাব্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

মানবতাবাদী কবি যখনই পৃথিবীর কোথাও মানবতার অপমান ও লাঞ্ছনা প্রত্যক্ষ করেছেন তখনই প্রতিবাদে তাঁর কলম গর্জে উঠেছে। নবগঠিত আফ্রিকা যখন ধীরে ধীরে আধুনিক পৃথিবীর কাছে নিজেকে উন্মোচিত করতে শুরু করল তখন থেকে সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তি গুলি তার বিপুল সম্পদ ভান্ডারের প্রতি প্রলুব্ধ হলো। আপন লালসা চরিতার্থ করতে তারা আফ্রিকার বুকে উপনিবেশ স্থাপন করল ও ক্ষমতার দম্ভে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের লোহার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে তাদের উপর চালাল নির্মম অত্যাচার। ফলে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের রক্ত ও অশ্রুতে পঙ্কিল হয়ে উঠল আফ্রিকার মাটি।

আফ্রিকার ইতিহাসে এভাবেই চিহ্নিত হয়ে রইলো নিরীহ মানুষদের অত্যাচারের কাহিনী, যা কবির ভাষায় আফ্রিকার ইতিহাসে ‘কলঙ্কের চিরচিহ্ন’ স্বরূপ।

২) প্রশ্ন: “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;/ বলো ‘ক্ষমা করো’–” ‘মানহারা মানবী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কবি কেন তাকে ‘মানহারা মানবী’ বলে সম্বোধন করেছেন? ১+৪

উত্তর: △ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির দ্বারা লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত আফ্রিকাকেই কবি ‘মানহারা মানবী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

△△ কবি আফ্রিকাকে ‘মানহারা মানবী’ বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ- নিবিড় অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা বহুদিন ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। তারপর একদিন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির লোলুপ দৃষ্টি পড়লো আফ্রিকার উপরে। আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলি সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করে শোষণ ও লুণ্ঠন চালাল। সেখানকার নিরীহ অধিবাসীদের উপর চললো বর্বর অত্যাচার। সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তিগুলি আফ্রিকাকে কেবল মাত্র শোষণ করেছে তার সংস্কৃতি তথা অধিবাসীদের কখনো সম্মান বা স্বীকৃতি জানায়নি।

শোষিত অত্যাচারিত আফ্রিকা যেন কবির চোখে লাঞ্ছিত অপমানিত এক নারীর মতোই। তাই লাঞ্ছিতা নারীর সাথে সাদৃশ্য থাকার জন্য কবি আফ্রিকাকে ‘মানহারা মানবী’ বলে সম্বোধন করেছেন।

৩) প্রশ্ন: “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী”–সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণীটি কী ? কবি কেন সেই পুণ্যবাণী উচ্চারণ করার কথা বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ১+২+২

উত্তর: △ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় বর্ণিত যুগান্তের কবি উচ্চারিত শেষ পুণ্যবাণীটি হলো ‘ক্ষমা করো’।

△△ অরণ্য ছায়াঘেরা সমুদ্রবেষ্টিত আফ্রিকা বহুদিন ছিল সভ্য সমাজের লোলুপ দৃষ্টির অন্তরালে। কিন্তু যখন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গুলির দৃষ্টি আফ্রিকার উপর পড়ল তখন তারা একে একে সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করল। লুণ্ঠন করল আফ্রিকার সম্পদ; বর্বরচিত অত্যাচার চালাল আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের উপর। সাম্রাজ্যবাদের এই বর্বর লোভ অপমানিত করেছিল মানবতাকে। মানবতার সেই কলঙ্ক মোচনের জন্য বিশ্বকবি আহ্বান করেছেন যুগান্তের কবিকে, যিনি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গুলির প্রতিনিধি হয়ে ‘মানহারা মানবী’ আফ্রিকার দ্বারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। মানবতার লজ্জা নিবারণ ও মানবিকতার জয় ঘোষণার জন্য কবিগুরু যুগান্তের কবিকে ‘ক্ষমা করো’ এই পুণ্যবাণী উচ্চারণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

△△△ ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি আফ্রিকার মানুষদের উপর যে বর্বরচিত অত্যাচার চালিয়েছিল তা বিশ্বমানবতাকে কলঙ্কিত করেছিল। অন্যায় অত্যাচার ও শোষণ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না, তাই অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে মানবতার জয়গান করার জন্য বিশ্বকবি যুগান্তের কবিকে আহবান জানিয়েছেন। সমগ্র বিশ্ববাসীর প্রতিনিধি হিসাবে যুগান্তের কবি অত্যাচারিত আফ্রিকার দ্বারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সমস্ত অত্যাচার ও শোষণের অবসান হবে ‘ক্ষমা করো’ এই পুণ্যবাণী উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। কবি আশা করেন ‘ক্ষমা করো’ এই শব্দ দুটি হয়ে উঠবে বিশ্বশান্তির বাণী।

৪) প্রশ্ন: “হায় ছায়াবৃতা” – ‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ কী? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন সংক্ষেপে আলোচনা করো। ১+৪ [মা:প:২০১৭]

উত্তর: △ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় কবি অরণ্য ঘেরা মহাদেশ আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলে সম্বোধন করেছেন। নিবিড় বনস্পতি ঘেরা আফ্রিকায় দিনের বেলাতেও সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না। তাই সেখানকার পরিবেশ সব সময় ছায়াচ্ছন্ন থাকে। সে কারণেই কবি আফ্রিকা ‘ছায়াবৃতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

△△ কবি ‘আফ্রিকা’ কবিতায় একদিকে যেমন আফ্রিকা মহাদেশ সৃষ্টির ভৌগলিক তত্ত্বকে কাব্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্ণনা করেছেন তেমনি কবিতায় তিনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নগ্ন রূপকে উন্মোচিত করেছেন। কবিতার প্রথমে কবি আফ্রিকা মহাদেশের সৃষ্টি তত্ত্ব ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, আফ্রিকার জন্ম লগ্নে স্রষ্টা যেন বারবার ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে তাকে গড়ে তুলেছিলেন নিবিড় অরণ্যঘেরা রহস্যময় এক ভূখণ্ড রূপে। তাই কবি তাকে উল্লেখ করেছেন ছায়াবৃতা বলে। আফ্রিকার সৃষ্টি লগ্নে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল দুর্গম অরণ্য সংকুল। প্রকৃতির এই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করার অদম্য ইচ্ছায় আফ্রিকা জল-স্থল-আকাশের দুর্গম সংকেতকে চিনে নিয়ে ধীরে ধীরে চৈতন্য লাভ করতে থাকে।

ইউরোপীয় জাতিগুলির কাছে অবগুণ্ঠনাবৃত নারীর মতো আফ্রিকা ছিল অপরিচিত ও রহস্যবৃতা। এরপর ধীরে ধীরে তাদের কাছে প্রকাশিত হতে থাকলো আফ্রিকার বিপুল সম্পদ ভান্ডার। তারা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করলো। আফ্রিকার মানুষদের লোহার হাতকড়ি দিয়ে বন্দী করে চালালো বর্বর অত্যাচার। ফলস্বরূপ আফ্রিকার মাটি ভিজে গেল তার অধিবাসীদের রক্ত আর অশ্রুতে– ‘পঙ্কিল হলো ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে।’ এভাবেই ছায়াবৃতা আফ্রিকার ইতিহাসে চিরচিহ্নিত হয়ে রইলো ঔপনিবেশিক প্রভুদের অত্যাচারের কাহিনী।

৫) প্রশ্ন: “গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।” –উদ্ধৃত অংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করো। +৩

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় বর্ণনা করেছেন, জন্মলগ্নে প্রাচী ধরিত্রীর থেকে বিচ্ছিন্ন আফ্রিকা জল-স্থল-আকাশের দুর্বোধ্য সংকেত সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে জয় করে তার জড়তা কাটিয়ে জেগে উঠছিল। সেই মুহূর্তে তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির লোলুপ দৃষ্টি পড়লো তার উপর। অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকা এতদিন ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। বৃহৎ বনস্পতি ঘেরা আফ্রিকায় সূর্যালোকেরও প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী প্রভুরা তাদের সভ্যতার গর্বে অন্ধ হয়ে সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করল, আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে বর্বর পাশবিক অত্যাচার চালাল। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক প্রভুদের এই নির্লজ্জতা সমগ্র মানবজাতিকে লজ্জিত করেছিল। তাই প্রতিবাদী কবি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির অহংকার আর ঔদ্ধত্যকে বক্রোক্তির মাধ্যমে ব্যঙ্গের কষাঘাত করেছেন উদ্ধৃত পঙক্তিটিতে।

৬) প্রশ্ন: “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে”– তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। +৩

উত্তর: মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখনই পৃথিবীর কোথাও মানবতার অপমান ও লাঞ্ছনা প্রত্যক্ষ করেছেন তখনই প্রতিবাদে তাঁর কলম গর্জে উঠেছে। বর্তমান ‘আফ্রিকা’ কবিতাটিতেও তাঁর সেই প্রতিবাদী সত্তার প্রকাশ ঘটেছে।

[নবগঠিত আফ্রিকা যখন ধীরে ধীরে আধুনিক পৃথিবীর কাছে নিজেকে উন্মোচিত করতে শুরু করল তখন থেকে সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তি গুলি তার বিপুল সম্পদ ভান্ডারের প্রতি প্রলুব্ধ হলো। আপন লালসা চরিতার্থ করতে তারা আফ্রিকার বুকে উপনিবেশ স্থাপন করল। ক্ষমতার দম্ভে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের লোহার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে তাদের উপর চালাল নির্মম অত্যাচার। ফলে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের রক্ত ও অশ্রুতে পঙ্কিল হয়ে উঠল আফ্রিকার মাটি।
আফ্রিকার ইতিহাসে এভাবেই চিহ্নিত হয়ে রইলো নিরীহ মানুষদের অত্যাচারের কাহিনী। যা কবির ভাষায় আফ্রিকার ইতিহাসে ‘কলঙ্কের চিরচিহ্ন’ স্বরূপ।]

আফ্রিকা কবিতাটি থেকে এই ছটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই ছিল। আশা করছি তোমাদের কাজে লাগবে। সবাই খুব ভালো থেকো দেখা হবে আবার পরের ভিডিওতে। সকলকে অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Comment