অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ) | দশম শ্রেণি বাংলা ও SLST | Madhyamik Bengali Suggestion

বন্ধুরা, আজকের পোস্টে আমরা দশম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবিতা, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা ‘অভিষেক’ নিয়ে আলোচনা করব। তাঁর রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত এই কবিতাটি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং WBSLST বাংলা পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য সমস্ত ধরনের প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ, এবং ব্যাখ্যাভিত্তিক) এখানে এক জায়গায় собрано হয়েছে। তোমরা এই একটি পোস্ট ভালোভাবে পড়লেই অভিষেক কবিতার প্রশ্নোত্তর নিয়ে তোমাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারবে।

অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ)

অভিষেক

  • কবি- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  • উৎস- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-র ন-টি সর্গের মধ্যে প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত।
  • সর্গটির নাম – ‘অভিষেক’।

১. মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পাঠ্যাংশটি নেওয়া হয়েছে –
(ক) ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ থেকে
(খ) ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’ থেকে
(গ) ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ থেকে
(ঘ) ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ থেকে
সঠিক উত্তর: (গ) ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ থেকে

২. ‘সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ’ – কবিতায় ‘রথীন্দ্রর্ষভ’ হলেন-
(ক) রাবণ
(খ) রাম
(গ) মেঘনাদ
(ঘ) বিভীষণ
সঠিক উত্তর: (গ) মেঘনাদ

৩. ‘অভিষেক’ শীর্ষক অংশটি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর যে সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে তা হল –
(ক) অভিষেক
(খ) বধ
(গ) সমাগম
(ঘ) প্রেতপুরী
সঠিক উত্তর: (ক) অভিষেক

৪. “কনক-আসন ত্যজি, বীরেন্দ্রকেশরী” – ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ যাকে বলা হয়েছে –
(ক) রাবণকে
(খ) বীরবাহুকে
(গ) মেঘনাদকে
(ঘ) বিভীষণকে
সঠিক উত্তর: (গ) মেঘনাদকে

৫. “ইন্দ্রজিৎ, প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে,”-“ধাত্রী” বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ?
(ক) মন্দোদরীকে
(খ) প্রভাষাকে
(গ) প্রমীলাকে
(ঘ) সীতাকে
সঠিক উত্তর: (খ) প্রভাষাকে

৬. “কি হেতু, মাতঃ, গতি তব আজি / এ ভবনে ?” – কোন ভবনের কথা বোঝানো হয়েছে ?
(ক) রাজপ্রাসাদকে
(খ) যুদ্ধশিবিরকে
(গ) নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারকে
(ঘ) মেঘনাদের প্রমোদ-কাননকে
সঠিক উত্তর: (ঘ) মেঘনাদের প্রমোদ-কাননকে

৭. “কহ দাসে লঙ্কার কুশল।” -‘দাস’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে-
(ক) ইন্দ্রজিৎকে
(খ) বিভীষণকে
(গ) বীরবাহুকে
(ঘ) রামকে
সঠিক উত্তর: (ক) ইন্দ্রজিৎকে

৮. ‘ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা উত্তরিলা;’- ‘অম্বুরাশি-সুতা’ কথার অর্থ কী ?
(ক) সমুদ্রকন্যা (দেবী লক্ষ্মী)
(খ) অগ্নিকন্যা
(গ) পবনকন্যা
(ঘ) রাক্ষসকন্যা
সঠিক উত্তর: (ক) সমুদ্রকন্যা (দেবী লক্ষ্মী)

৯. “ঘোরতর রণে/হত প্রিয় ভাই তব” -কার কথা বলা হয়েছে ?
(ক) কুম্ভকর্ণ
(খ) বিভীষণ
(গ) তরণীসেন
(ঘ) বীরবাহু
সঠিক উত্তর: (ঘ) বীরবাহু

১০. মেঘনাদের খুলে ফেলা অলংকার (কুণ্ডল) পড়েছিল –
(ক) জুঁই ফুলের মতো
(খ) বকুল ফুলের মতো
(গ) অশোক ফুলের মতো
(ঘ) মোরগ ফুলের মতো
সঠিক উত্তর: (গ) অশোক ফুলের মতো

১১. ‘সংহারিনু আমি/রঘুবরে;’-ইন্দ্রজিৎ রঘুবরকে সংহার করেন-
(ক) প্রাতঃরণে
(খ) দ্বিপ্রাহরিক রণে
(গ) নিশারনে
(ঘ) সান্ধ্যারণে
সঠিক উত্তর: (গ) নিশারনে

১২. “খণ্ড খণ্ড করিয়া কাটিনু” – ইন্দ্রজিৎ কাকে খণ্ড খণ্ড করে কেটেছেন?
(ক) দেবরাজ ইন্দ্রকে
(খ) বৈরীদলকে
(গ) বীরবাহুকে
(ঘ) লক্ষ্মণকে
সঠিক উত্তর: (খ) বৈরীদলকে

১৩. “তব শরে মরিয়া বাঁচিল।”-মরে বেচে ওঠে কে ?
(ক) রাম
(খ) লক্ষ্মণ
(গ) কুম্ভকর্ণ
(ঘ) বিভীষণ
সঠিক উত্তর: (ক) রাম

১৪. এ অদ্ভুত বারতা”- ‘অদ্ভুত বারতা’-টি কী?
(ক) লঙ্কেশ্বর রাবণ হত
(খ) প্রিয় ভাই বীরবাহু হত
(গ) খুল্লতাত বিভীষণ হত
(ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: (খ) প্রিয় ভাই বীরবাহু হত

১৫. “রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী উত্তরিলা”- ‘রত্নাকর রত্নোত্তমা’-কে?
(ক) সীতা
(খ) প্রমীলা
(গ) সরমা
(ঘ) লক্ষ্মী
সঠিক উত্তর: (ঘ) লক্ষ্মী

১৬. ‘সমূলে নির্মূল করিব পামরে আজি!’- ‘পামর’ শব্দের অর্থ-
(ক) পাপী
(খ) ভোগী
(গ) গুণী
(ঘ) সখী
সঠিক উত্তর: (ক) পাপী

১৭. ‘হৈমবতীসুত’ যাকে বলা হয়েছে, তিনি হলেন –
(ক) রাবণ
(খ) ইন্দ্রজিৎ
(গ) কার্তিক
(ঘ) অর্জুন
সঠিক উত্তর: (গ) কার্তিক

১৮. “কিম্বা যথা বৃহন্নলারূপী/কিরীটি,” – ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ বলা হয়-
(ক) অর্জুনকে
(খ) কার্তিককে
(গ) ভীমকে
(ঘ) নারায়ণকে
সঠিক উত্তর: (ক) অর্জুনকে

১৯. “সাজিলা শূর, শমীবৃক্ষমূলে।”-এখানে ‘শূর’ হলেন-
(ক) ইন্দ্রজিৎ
(খ) রাবণ
(গ) অর্জুন
(ঘ) কুম্ভকর্ণ
সঠিক উত্তর: (গ) অর্জুন

২০. ‘কহিলা কাঁদিয়া ধনী;’-‘ধনী’-বলতে বোঝানো হয়েছে-
(ক) মন্দোদরীকে
(খ) সীতাকে
(গ) প্রমীলাকে
(ঘ) চিত্রাঙ্গদাকে
সঠিক উত্তর: (গ) প্রমীলাকে

২১. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।”-বিধুমুখী কে?
(ক) হৈমবতী
(খ) লক্ষ্মী দেবী
(গ) প্রভাষা
(ঘ) প্রমীলা
সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রমীলা

২২. ‘উড়িলা মৈনাক-শৈল,’-মৈনাক হলেন –
(ক) হিমালয় পর্বত
(খ) পার্বতীর পুত্র
(গ) মেনকার পুত্র
(ঘ) মনুর পুত্র
সঠিক উত্তর: (গ) মেনকার পুত্র

২৩. “পক্ষীন্দ্র যথা নাদে মেঘ মাঝে/ভৈরবে।”-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে
(ক) বীরবাহুর মা চিত্রাঙ্গদার পুত্রের জন্য হাহাকারের
(খ) মেঘনাদের ধনুকের টঙ্কারের
(গ) রাক্ষস সৈন্যদের বীরমদে মত্ত হয়ে কৃত নাদের
(ঘ) বীরদর্পে রাবণের আস্ফালনের
সঠিক উত্তর: (খ) মেঘনাদের ধনুকের টঙ্কারের

২৪. “উড়েছে কৌশিক-ধ্বজ,”- কৌশিক ধ্বজ কথাটির অর্থ কি?
(ক) কুশ নামাঙ্কিত পতাকা
(খ) চক্র চিহ্নিত পতাকা
(গ) সাদা রঙের পতাকা
(ঘ) রেশমি রঙের পতাকা
সঠিক উত্তর: (ঘ) রেশমি রঙের পতাকা

২৫. “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি!”- কম্পনের কারণ কি?
(ক) রাবণের রণসজ্জা
(খ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়
(গ) সুনামির উত্থান
(ঘ) ইন্দ্রজিতের ধনুকের টঙ্কার
সঠিক উত্তর: (ঘ) ইন্দ্রজিতের ধনুকের টঙ্কার

২৬. “শুনেছি, মরিয়া নাকি বাঁচিয়াছে পুনঃ/রাঘব?” – উক্তিটি কার?
(ক) রাবণের
(খ) ইন্দ্রজিতের
(গ) প্রমীলা দেবীর
(ঘ) বিভীষণের
সঠিক উত্তর: (খ) ইন্দ্রজিতের

২৭. “এ কাল সমরে,/নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা/বারম্বার।”-আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন-
(ক) বিভীষণ
(খ) রামচন্দ্র
(গ) রাবণ
(ঘ) মন্দোদরী
সঠিক উত্তর: (গ) রাবণ

২৮. “নাদিলা কর্বূরদল”- ‘কর্বূর’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) সৈন্য
(খ) রাক্ষস
(গ) বানর
(ঘ) যোদ্ধা
সঠিক উত্তর: (খ) রাক্ষস

২৯. “কি ছার সে নর, তারে ডরাও আপনি,/রাজেন্দ্র?”- ‘রাজেন্দ্র’ বলতে বোঝানো হয়েছে-
(ক) রাজা দশরথকে
(খ) রাজা রাবণকে
(গ) রাজা বলীকে
(ঘ) রাজা সুগ্রীবকে
সঠিক উত্তর: (খ) রাজা রাবণকে

৩০. ‘হাসিবে মেঘবাহন।’- ‘মেঘবাহন’ হলেন-
(ক) অগ্নি
(খ) বারুণী
(গ) দেবরাজ ইন্দ্র
(ঘ) অম্বুরাশি
সঠিক উত্তর: (গ) দেবরাজ ইন্দ্র

৩১. “আমি হারানু রাঘবে;” – বক্তা কতবার হারানোর কথা বলেছেন ?
(ক) একবার
(খ) তিনবার
(গ) দুইবার
(ঘ) চারবার
সঠিক উত্তর: (গ) দুইবার

৩২. ‘অভিষেক’ কবিতাটিতে কার অভিষেক হয়েছে?
(ক) বীরবাহুর
(খ) কুম্ভকর্ণের
(গ) মেঘনাদের
(ঘ) বিভীষণের
সঠিক উত্তর: (গ) মেঘনাদের

৩৩. ‘গঙ্গোদক’ শব্দের অর্থ হল-
(ক) গঙ্গার মাটি
(খ) গঙ্গার জল
(গ) গঙ্গার মাটি ও জল
(ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: (খ) গঙ্গার জল

৩৪. “তায় আমি জাগানু অকালে”- কাকে?
(ক) কুম্ভকর্ণকে
(খ) বালীকে
(গ) বিভীষণকে
(ঘ) ইন্দ্রজিৎকে
সঠিক উত্তর: (ক) কুম্ভকর্ণকে

৩৫. শত্রু নিধনের জন্য ইন্দ্রজিৎ কোন্ অস্ত্র প্রয়োগ করার কথা বলেছেন?
(ক) ব্রহ্মাস্ত্র
(খ) অগ্নিবাণ
(গ) সুদর্শন চক্র
(ঘ) বায়ু-অস্ত্র
সঠিক উত্তর: (ঘ) বায়ু-অস্ত্র

1. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গটির নাম লেখো। কাব্যের মোট ক-টি সর্গ?
Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গের নাম ‘অভিষেক’। এ কাব্যের মোট সর্গ সংখ্যা ন-টি।

2. ইন্দ্রজিৎ কে?
Ans: রাবণ ও মন্দোদরীর সন্তান মেঘনাদ দেবরাজ ইন্দ্রকে জয় করেছিলেন বলে বীরশ্রেষ্ঠ ‘ইন্দ্রজিৎ’ নাম গ্রহণ করেছিলেন।

3. কাকে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে?
Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত অংশে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে। বীরেন্দ্রকেশরীর অর্থ বীরসিংহ।

4. ‘প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে,/কহিলা,-ধাত্রী আসলে কে এবং তাকে কী বলা হয়েছে?
Ans: মধুসূদনের অভিষেক ‘কাব্যাংশে প্রভাষার ছদ্মবেশী ধাত্রী আসলে দেবী লক্ষ্মী। প্রমোদোদ্যানে মেঘনাদ তাঁকে দেখে সেখানে আগমনের কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

5. ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীর চরণে প্রণাম করে তাকে কী বলে সম্বোধন করেন?
Ans: ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত রচনাংশে ধাত্রী ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর চরণে প্রণাম করে তাকে ‘মাতঃ’ বলে সম্বোধন করেন।

6. ‘অম্বুরাশি – সুতা কার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন?
Ans: মধুসূদনের ‘অভিষেক কাব্যাংশে’ ‘অম্বুরাশি – সুতা’ অর্থাৎ লক্ষ্মী, ইন্দ্রজিতের ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রমোদকাননে এসে ইন্দ্রজিৎকে বীরবাহুর মৃত্যু ও রাবণের যুদ্ধযাত্রার সংবাদ দিয়েছিলেন।

7. বীরবাহু কে?
Ans: লঙ্কেশ্বর রাবণ ও গন্ধর্বতনয়া চিত্রাঙ্গদার পুত্র হলেন বীরবাহু। বাল্মীকির রামায়ণে বীরবাহুর উল্লেখ না থাকলেও কৃত্তিবাসী রামায়ণে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়।

8. ‘মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি’ কাকে বলা হয়েছে?
Ans: পাঠ্য ‘অভিষেক’ কবিতায় ‘মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি’ বলতে লঙ্কার অধিপতি রাক্ষসরাজ রাবণকে বলা হয়েছে। পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুতে তিনি মহাশোকী।

9. ‘হায়! পুত্র, কি আর কহিব কনক – লঙ্কার দশা। বক্তা ‘কনক – লঙ্কার দশা’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
Ans: বক্তা প্রভাষার ছদ্মবেশী ‘অম্বুরাশি – সুতা’ অর্থাৎ লক্ষ্মীদেবী ‘কনক – লঙ্কার দশা’ বলতে বীরবাহুর মৃত্যু এবং সেই কারণে রাবণের সসৈন্য যুদ্ধযাত্রার কথা বলেছেন।

10. এবং তার বিস্ময়ের কারণ কী? জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া; – মহাবাহু কে?
Ans: ‘মহাবাহু’ হলেন ইন্দ্রজিৎ। রামচন্দ্রকে রাত্রিকালীন যুদ্ধে তীরের আঘাতে খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলা সত্ত্বেও, তাঁরই হাতে বীরবাহু কীভাবে মারা যেতে পারে এ কথা ভেবে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

11. ‘তবে, এ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, বার্তাটি কী এবং তা অদ্ভুত কেন?
Ans: বার্তাটি হল রাঘবের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু। বার্তাটি অদ্ভুত কারণ ইন্দ্রজিতের তীরের আঘাতে যে – রাঘবের মৃত্যু ঘটেছে, সে কী করে বীরবাহুর হত্যাকারী হয়।

12. ভগবতীর অপর নাম কী?
Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত কবিতা থেকে আমরা জানতে পারি, ভগবতী অপর নাম লক্ষ্মী।

13. রক্ষ রক্ষঃকুলমান, ‘ – বক্তা কে এবং কাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন?
Ans: বক্তা হলেন প্রভাষার রূপ ধারণকারিণী দেবী লক্ষ্মী। তিনি মায়াবী রামচন্দ্রের হাত থেকে রক্ষঃকুলকে রক্ষার জন্য ইন্দ্রজিৎকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন।

14. ইন্দ্রজিতের প্রিয়ানুজকে কে বধ করেছেন?
Ans: ‘অভিষেক’ কবিতা অনুসারে, ইন্দ্রজিতের প্রিয় বৈমাত্রেয় ভাই বীরবাহুকে, রামচন্দ্র সম্মুখসমরে বধ করেছিলেন।

15. রঘুবরকে ইন্দ্রজিৎ কখন সংহার করেছিলেন?
Ans: ‘অভিষেক’ কবিতানুসারে, লক্ষ্মীর কাছে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বিস্মিত ইন্দ্রজিৎ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, রাত্রিকালীন যুদ্ধে তিনি রাঘবকে সংহার করেছিলেন।

16. ইন্দিরা সুন্দরীকে কী কী বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে?
Ans: পাঠ্য রচনাংশে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘ইন্দিরা সুন্দরী’ তথা লক্ষ্মীকে ‘রত্নাকর’ ও ‘রত্নোত্তমা’ বিশেষণে ভূষিত করেছেন।

17. ইন্দিরা সুন্দরীর মুখে প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদের রোষের বহিঃপ্রকাশ কীভাবে ঘটেছিল?
Ans: প্রমোদোদ্যানে ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর মুখে প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদ ফুলমালা ছিঁড়ে, সোনার আভরণ ছুড়ে ফেলে নিজেকে ধিক্কার জানায়।

18. ‘হা ধিক্ মোরে! -বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?
Ans: স্বর্ণলঙ্কা যখন শত্রুপক্ষের ঘেরাটোপে, প্রিয় ভাই যখন নিহত, পিতা যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তখন প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে বিলাসিতা শোভন নয় – তাই এই আত্মধিক্কার।

19. ‘ঘুচাব ও অপবাদ, বধি রিপুকুলে / অপবাদটি কী?
Ans: রামচন্দ্রের হাতে লঙ্কার আক্রান্ত হওয়া ও প্রিয়ানুজ বীরবাহুর মৃত্যুকলে মেয়েদের মাঝে প্রমোদোদ্যানে সময় কাটানো এবং কর্তব্যের গাফিলতিকেই ইন্দ্রজিৎ অপবাদ বলেছেন।

20. ‘সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীর – আভরণে ‘ – রথীন্দ্রর্ষভ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে এবং তিনি কোন্ কোন্ বীরের মতো আভরণে ভূষিত হয়েছেন?
Ans: ‘রথীন্দ্রর্ষভ ‘বা শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা মেঘনাদ তারকাসুর বধ কালে কার্তিকের মতো ও বিরাটরাজের গোধন রক্ষার্থে বৃহন্নলারূপী কিরীটীর মতো বীর আভরণে ভূষিত হয়েছিলেন।

21. মায়াবী মানব বলতে কাকে চিহ্নিত করা হয়েছে?
Ans: ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত পাঠ্য রচনাংশে মায়াবী মানব বলতে লক্ষ্মী, রঘুবর রামচন্দ্রকে চিহ্নিত করেছেন।

22. ‘তব শরে মরিয়া বাঁচিল!’ – কার শর প্রয়োগে কে মরে বেঁচে উঠেছিলেন?
Ans: আলোচ্য ‘অভিষেক’ কবিতায় রক্ষঃকুলবীর ইন্দ্রজিতের তীরের আঘাতে রাঘব মরেও বেঁচে উঠেছিলেন।

23. ‘যাও তুমি ত্বরা করি;‘ – কে কাকে ‘ত্বরা করি’ যাত্রা করতে বলেছেন?
Ans: ‘অভিষেক ‘কবিতানুসারে, স্বর্ণলঙ্কার বর্তমান অবস্থা নিরীক্ষণ করে লক্ষ্মী ত্বরা অর্থাৎ শীঘ্র ইন্দ্রজিৎকে সেখানে যাত্রা করতে বলেছেন।

24. কালসমরে শব্দার্থ বুঝিয়ে দাও।
Ans: পাঠ্য ‘অভিষেক’ কবিতায়, ‘কালসমরে’ বলতে রাবণের সঙ্গে রামচন্দ্রের সম্ভাব্য ঘোরতর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

25. ইন্দ্রজিৎকে ‘রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ বলার কারণ কী?
Ans: ‘রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ শব্দের অর্থ রাক্ষসদের মধ্যে কুলশ্রেষ্ঠ বা শিরোমণি। প্রবল শক্তির অধিকারী ইন্দ্রজিৎ রাক্ষসদের মধ্যে বীর যোদ্ধা, তাই তাকে ‘রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ বলা হয়েছে।

26. মহাবলী মেঘনাদের কুসুমদাম ছেঁড়ার কারণ কী?
Ans: প্রভাষা ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে ইন্দ্রজিৎ স্বর্ণলঙ্কার দুর্দশার কথা এবং রাঘবকে সংহার করা সত্ত্বেও তাঁর বেঁচে থাকার কথা জানতে পেরে মেঘনাদ প্রচণ্ড রোষে কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলেন।

27. ইন্দ্রজিতের কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলা ও অন্যান্য জিনিস ছুড়ে ফেলাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
Ans: ‘অভিষেক ‘কবিতায় ইন্দ্রজিতের কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলা ও অন্যান্য জিনিস ছুড়ে ফেলাকে, অশোক গাছের তলায় অশোক ফুলের আড্ডা বিচ্ছুরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

28. ‘বৈরিদল বেড়ে / স্বর্ণলঙ্কা, – ‘বৈরিদল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? ‘বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা’ বলতে কী বোঝ?
Ans: এখানে ‘বৈরিদল ‘অর্থাৎ শত্রুপক্ষ বলতে রামচন্দ্র ও তাঁর বানরসেনাদের বোঝানো হয়েছে।

29. “এ অদ্ভুত বারতা, জননি/কোথায় পাইলে তুমি,…”–অদ্ভুত বার্তাটি কী? বার্তাটিকে বক্তা অদ্ভুত কেন বলেছেন? ১+২
উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে প্রভাষা ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী মেঘনাদকে লঙ্কার কুশল বার্তা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, মেঘনাদের প্রিয় ভাই বীরবাহু রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এই বার্তাটিকেই কাব্যাংশে অদ্ভুত বলা হয়েছে। এবার দ্বিতীয় অংশটি দেখো, বার্তাটিকে অদ্ভুত কেন বলা হয়েছে?

30. “এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি!”– বক্তা কে? কোন্ মায়া তার বোধের অগম্য? ১+২
উত্তর: কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ। এটি হলো প্রথম অংশের উত্তর। দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে কোন্ মায়া তার বোধের অগম্য? এই অংশের উত্তরটি দেখো, আমরা একটি প্যারাগ্রাফ চেঞ্জ করে নেব। তারপর লিখব –
মেঘনাদ প্রমোদ উদ্যান থেকে প্রত্যাবর্তন করে পিতা রাবণকে আক্ষেপের সুরে বলেছেন, রামচন্দ্রকে তিনি দু’বার নিশা-রণে পরাজিত ও হত্যা করেছেন। কিন্তু দৈববলে বলীয়ান মায়াবী মানব রামচন্দ্র পুনর্জীবন লাভ করে বীরবাহুর মতো লঙ্কার বীর যোদ্ধাদের হত্যা করেছেন। মায়াবী মানব রামচন্দ্রের এই পুনর্জীবন লাভ ও পরবর্তী ঘটনা মেঘনাদের মায়া মনে হয়েছে। তাই তার কাছে তা বোধের অগম্য।

31. “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।” – বক্তা কে? তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী? ১+২
উত্তর: কবি মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের অন্তর্গত উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ। এবার দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী? দেখো প্যারাগ্রাফ চেঞ্জ করে আমরা লিখব –
পুত্র মেঘনাদ রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রায় উদ্যত হলে লঙ্কাধিপতি রাবণ আক্ষেপের সুরে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছিলেন। কারণ ইন্দ্রজিৎ পূর্বে দু’বার রামচন্দ্রকে পরাজিত ও হত্যা করেছিল কিন্তু দেবী কৃপায় তিনি পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠেন এবং লঙ্কা আক্রমণ করে যুদ্ধে বীরবাহুকে হত্যা করেন। বিধাতা বিরূপ বলেই অলঙ্ঘ্য সমুদ্র রামচন্দ্রের দ্বারা সেতুবন্ধনে বাঁধা পড়েছে।

এখানেই অভিষেক কাব্যাংশটি থেকে ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তরগুলি শেষ হলো। সবাই খুব ভালো থেকো। দেখা হবে আবার পরে। সকলকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment