অদল বদল (Adal Badal) গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৬

অদল বদল (Adal Badal) গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৬
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা। এই পোস্টে অদল বদল গল্প থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং উত্তরগুলি বিশদে আলোচনা করা হয়েছে, যা তোমাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। অমৃত ও ইসাবের নিখাদ বন্ধুত্বের এই গল্প থেকে আসা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরীক্ষায় সেরা নম্বর পেতে পোস্টটি ভালো করে পড়ো।

১. ‘অদল বদল’ গল্পের লেখক কে?
উঃ- পান্নালাল প্যাটেল।

২. পান্নালাল প্যাটেল কোন ভাষার লেখক?
উঃ- গুজরাটি ভাষায়।

৩. পান্নালাল প্যাটেল কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উঃ- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে।

৪. পান্নালাল প্যাটেলের জন্মস্থান উল্লেখ করো।
উঃ- রাজস্থানের দুঙ্গারপুর।

৫. পান্নালাল প্যাটেল কত খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন?
উঃ- ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে।

৬. পান্নালাল প্যাটেল কত খ্রিস্টাব্দে রঞ্জিত রাম সুবর্ণচন্দ্রক পুরস্কার পান?
উঃ- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে।

৭. পান্নালাল প্যাটেলের মৃত্যু সাল উল্লেখ করো।
উঃ- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।

৮. ‘অদল বদল’ গল্পটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন?
উঃ- অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

৯. কোন দিনের বর্ণনা দিয়ে ‘অদল বদল’ গল্পটির সূচনা হয়েছে?
উঃ- হোলির দিন।

১০. একদল ছেলে কোথায় জড়ো হয়েছিল?
উঃ- নিম গাছের নীচে।

১১. নিম গাছের নীচে জড়ো হয়ে ছেলেরা কী করছিল?
উঃ- ধুলো ছোড়াছুড়ি করছিল।

১২. ‘অদল বদল’ গল্পে কোন দুই বন্ধুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
উঃ- অমৃত ও ইসাব।

১৩. অমৃত এবং ইসাবের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে মিল ছিল?
উঃ- দুজনের গায়ের জামার রং, মাপ ও কাপড় এক। দুজনে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে। রাস্তার মোড়ে দুজনের বাড়ি দুটোও মুখোমুখি। দুজনের বাবা পেশায় চাষি, জমিও প্রায় সমান। সাময়িক বিপদে দুজনের বাবাই সুদে টাকা ধার নেন।

১৪. ‘তফাত শুধু এই যে’ – অমৃত এবং ইসাবের মধ্যে তফাত কী ছিল?
উঃ- অমৃতের পরিবারে আছে তার বাবা, মা আর তিন ভাই কিন্তু ইসাবের পরিবারে আছে শুধু তার বাবা।

১৫. হোলির দিনে অমৃত এবং ইসাব কোথায় এসে বসেছিল?
উঃ- শান – বাঁধানো ফুটপাথে।

১৬. অমৃত এবং ইসাবের একই রকম পোশাক দেখে একদল ছেলেরা তাদের কী প্রস্তাব দিয়েছিল?
উঃ- কুস্তি লড়তে বলেছিল।

১৭. “দেখি তোরা শক্তিতেও সমান – সমান না একজন বড়ো পালোয়ান।” – বক্তা কারা?
উঃ- একদল ছেলে।

১৮. ‘অদল বদল’ গল্পটির উৎস কী?
উঃ- ‘অদল বদল’ গল্পটি সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত পান্নালাল প্যাটেল এর ‘নির্বাচিত গল্প সংকলন’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

১৯. ‘পড়ন্ত’ শব্দটির অর্থ কী?
উঃ- পড়ে আসছে বা শেষ হয়ে আসছে এমন।

২০. ‘লড়ে যা তোরা, বেশ মজা হবে।’ বক্তাকে?
উঃ- একটি ছেলে।

২১. ‘অমৃত দৃঢ়স্বরে বলল’ – অমৃত দৃঢ়স্বরে কী বলেছিল?
উঃ- ‘না, তাহলে মা আমাকে ঠ্যাঙাবে।’

২২. ‘অমৃতের অত জোর দিয়ে বলার কারণ ছিল।’ – অমৃতের জোর দিয়ে বলার কারণটি কী?
উঃ- নতুন জামা পাওয়ার জন্য অমৃত তার মা-বাবাকে অনেক জ্বালিয়েছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এই কথাই অমৃতের মা তাকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিল – যদি জামা ময়লা করে কিংবা ছিঁড়ে আসে তাহলে অমৃতের কপালে দুঃখ আছে।

২৩. ‘শোনা মাত্র অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল’ – অমৃত কী ফতোয়া জারি করেছিল?
উঃ- ঠিক ইসাবের মতো জামা না পেলে স্কুলে যাবে না।

২৪. ‘ফতোয়া’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- রায় / মীমাংসা।

২৫. ‘মা ওকে অনেক বুঝিয়েছিল’ – অমৃতের মা অমৃতকে কী বলে বুঝিয়েছিল?
উঃ- ‘ইসাবকে ক্ষেতে কাজ করতে হয় বলে ওর জামা ছিঁড়ে গেছে, আর অমৃতের জামাটা প্রায় নতুনই রয়েছে’ – এই কথা বলে বুঝিয়েছিল।

২৬. অমৃত তার মায়ের বোঝানো কথাটি শুনে কী করেছিল?
উঃ- কান্না করতে করতে অমৃত নিজের জামার একটা ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরো ছিঁড়ে দিয়েছিল।

২৭. অমৃতের মা অমৃতকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কী করেছিল?
উঃ- নতুন জামা দেওয়ার আগে ইসাবের বাবা ইসাবকে খুব মেরেছিলেন। অমৃত সেই রকম মার খেতে রাজি আছে কিনা তা জানতে চেয়েছিল।

২৮. ‘বেকায়দা’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ- অসুবিধা।

২৯. ‘অমৃত এতেও পিছুপা হতে রাজি নয়’ – অমৃত কোন বিষয়ে পিছুপা হতে রাজি ছিল না?
উঃ- ইসাবকে নতুন জামা দেওয়ার আগে ওর বাবা ইসাবকে খুব মেরেছিলেন। তাই অমৃতের মাও ইসাবের মতো মার খেতে অমৃত রাজি আছে কিনা জানতে চাইলে অমৃত তাতেও পিছুপা হয়নি।

৩০. ‘ও মরিয়া হয়ে বলল’ – অমৃত মরিয়া হয়ে কী বলেছিল?
উঃ- ‘ঠিক আছে, আমাকে বেঁধে রাখো! মারো! কিন্তু তোমাকে ইসাবের মতো একটা জামা আমার জন্য জোগাড় করতেই হবে।’

৩১. অমৃতের মা এসব ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য কী বলেছিলেন?
উঃ- অমৃতের মা অমৃতের বাবাকে গিয়ে বলতে বলেছিল।

৩২. ‘তুইও সেরকম মার খেতে রাজি আছিস?’ – কাকে কার মতো মার খাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উঃ- অমৃতকে ইসাবের মতো মার খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

৩৩. ‘অমৃত জানত’ – অমৃত কী জানত?
উঃ- অমৃত জানত যে, তার মা না বললে বাবার রাজি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

৩৪. ‘কিন্তু অত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র সে নয়’ – কার কথা বলা হয়েছে?
উঃ- অমৃতের কথা বলা হয়েছে।

৩৫. অমৃত তার বন্ধু ইসাবের মতো নতুন জামা পাওয়ার জন্য কী কী করেছিল?
উঃ- স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছিল, খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল, রাত্রে বাড়িতে ফিরতে রাজি হয়নি, ইসাবের বাবার গোয়াল ঘরে লুকিয়ে ছিল।

৩৬. ‘শেষমেষ ওর মা হাল ছেড়ে দিয়ে’ – অমৃতের মা হাল ছেড়ে দিয়ে কী করেছিলেন?
উঃ- অমৃতের মা অমৃতের জন্য জামা কিনে দেওয়ার ব্যাপারে অমৃতের বাবাকে রাজি করিয়েছিলেন।

৩৭. অমৃত তার বন্ধু ইসাবদের গোয়াল ঘরে লুকিয়ে থাকলে তাকে কে বাড়ি নিয়ে এসেছিল?
উঃ- বাবা।

৩৮. সুন্দর সাজগোজ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমৃতের একেবারেই কী ইচ্ছে ছিল না?
উঃ- জামা কাপড় নোংরা হয় এমন কিছু করতে ইচ্ছে ছিল না।

৩৯. ‘ইসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়তে তো একেবারেই গড় রাজি’ – অমৃত ইসাবের সাথে কুস্তি লড়তে চায়নি কেন?
উঃ- ইসাব অমৃতের অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু ছিল। তাছাড়া নতুন জামা পরে বের হওয়ার সময় অমৃতের মা তাকে জামা না ছেঁড়ার ব্যাপারে বা নোংরা না করার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছিলেন।

৪০. ‘এসো আমরা কুস্তি লড়ি’ – বক্তা কে?
উঃ- কালিয়া নামক একটি ছেলে।

৪১. ‘এসো আমরা কুস্তি লড়ি’ – এ কথা বলে কালিয়া অমৃতকে কোথায় নিয়ে এসেছিল?
উঃ- খোলা মাঠে।

৪২. ‘দেখ কালিয়া আমি কুস্তি লড়তে চাই না, আমাকে ছেড়ে দে।’ – বক্তা কে?
উঃ- অমৃত।

৪৩. ‘ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলো’ – ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠেছিল কেন?
উঃ- কালিয়া যখন অমৃতের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে কুস্তি লড়তে গিয়ে অমৃতকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, তখন ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠেছিল।

৪৪. ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠে কী বলেছিল?
উঃ- ‘কালিয়া জিতেছে, অমৃত হেরে গেছে, কী মজা কী মজা।’

৪৫. ‘ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল’ – কেন ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল?
উঃ- অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইসাবের প্রিয় বন্ধু অমৃতকে কালিয়া নামক ছেলেটি জোর করে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এতেই ইসাবের মেজাজ চড়ে যায়।

৪৬. ‘ও কালিয়ার হাত ধরে বলল’ – ও বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উঃ- ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।

৪৭. ‘আয় আমি তোর সঙ্গে লড়ব’ – কে কার সঙ্গে লড়তে চেয়েছে?
উঃ- ইসাব কালিয়ার সঙ্গে লড়তে চেয়েছে।

৪৮. ‘কুস্তি শুরু হয়ে গেল’ – কাদের মধ্যে কুস্তি শুরু হয়ে গেল?
উঃ- ইসাব এবং কালিয়ার মধ্যে।

৪৯. ইসাব কালিয়াকে ল্যাং মারলে কালিয়ার কেমন দশা হয়েছিল?
উঃ- কালিয়া ব্যাঙের মতো হাত পা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে চেঁচাতে লেগেছিল।

৪৯. ‘অমৃত আর ইসাবও রণভূমি ত্যাগ করল’ – তাদের রণভূমি ত্যাগ করার কারণ কী?
উঃ- ইসাব এবং কালিয়ার মধ্যে তামাশা করে কুস্তি লড়ার ব্যাপারটা ঘটলেও কালিয়ার বাবা-মা এসে তাদের পেটাতে পারে। এটা বুঝতে পেরেই ইসাব এবং অমৃতসহ সকল ছেলেরা পালিয়ে গিয়েছিল।

৫০. ‘কিছুটা যেতেই অমৃতের নজরে এল’ – অমৃতের নজরে কী এসেছিল?
উঃ- কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামার পকেটের ৬ ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গেছে।

৫১. “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল” – ওরা কারা?
উঃ- অমৃত ও ইসাব।

৫২. ওদের ভয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার কারণ কী?
উঃ- কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামার পকেটের ছয় ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গেলে বাড়িতে বকুনি খাওয়ার ভয়ে অমৃত ও ইসাব দুজনেই ভয়ে কাঠ হয়ে যায়।

৫৩. ‘এমন সময় শুনতে পেল ইসাবের বাবা ইসাবকে ডাকছেন।’ – কখন ওরা ইসাবের বাবার ডাক শুনতে পেয়েছিল?
উঃ- কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ার পর ইসাবের জামা কতটা পরিমাণ ছিঁড়েছে এটা যখন দুজনে পরীক্ষা করছিল তখন ওরা ইসাবের বাবার ডাক শুনতে পেয়েছিল।

৫৪. ‘ওদের তখন বুকের ধুকপুকানি বন্ধ হওয়ার জোগাড়’ – কখন অমৃত এবং ইসাবের এমন দশা হয়েছিল?
উঃ- কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ার পর ইসাবের জামার পকেট ছিঁড়ে গেলে অমৃত এবং ইসাব জামার ছেঁড়া অংশটা পরীক্ষা করার সময় ইসাবের বাবা যখন ওদের ডেকেছিল তখন দুজনের এমন দশা হয়েছিল।

৫৫. ‘ওরা জানে’ – ওরা কী জানে?
উঃ- ওরা অর্থাৎ অমৃত এবং ইসাব জানে যে, ইসাবের বাবা ছেঁড়া শার্ট দেখামাত্র ওর চামড়া তুলে নেবে।

৫৬. ইসাবের বাবা কার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ইসাবের জামার কাপড় কিনে সেলাই করিয়েছিলেন?
উঃ- সুদখোরের কাছ থেকে।

৫৭. ‘কে কাঁদছে, ইসাব কোথায়’ বক্তা কে?
উঃ- ইসাবের বাবা।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (মান – ১) অদল বদল

১. পাঠানের গল্প শোনার জন্য ঘিরে দাঁড়াল-
(ক) পাড়াপড়শি মায়ের দল (খ) ছেলের দল
(গ) পাড়ার সকলে (ঘ) গ্রাম প্রধান ও তার সঙ্গীরা
সঠিক উত্তর- (খ) ছেলের দল।

২. অমৃত ও ইসাব দু’জনের বাবা পেশায় ছিলেন-
(ক) চাষি (খ) শিক্ষক (গ) জেলে (ঘ) উকিল
সঠিক উত্তর- (ক) চাষি।

৩. অমৃতের বয়স কত?
(ক) ১০ বছর (খ) ১২ বছর (গ) ৮ বছর (ঘ) ১৫ বছর
সঠিক উত্তর- (ক) ১০ বছর।

৪. “এসো আমরা কুস্তি লড়ি!’- ‘আমরা’ বলতে-
(ক) অমৃত ও ইসাব (খ) ইসাব ও কালিয়া
(গ) কালিয়া ও অমৃত (ঘ) পাঠান ও কালিয়া
সঠিক উত্তর- (গ) কালিয়া ও অমৃত।

৫. অমৃতের কতজন ভাই ছিল?
(ক) দুইজন (খ) তিনজন (গ) চারজন (ঘ) একজনও নয়
সঠিক উত্তর- (খ) তিনজন।

৬. অমৃত তার মাকে নতুন জামা কিনতে বাধ্য করার জন্য লুকিয়েছিল-
(ক) এক বন্ধুর বাড়িতে (খ) ইসাবের বাড়িতে
(গ) ইসাবদের গোয়াল ঘরে (ঘ) ইমনদের গোয়াল ঘরে
সঠিক উত্তর- (গ) ইসাবদের গোয়াল ঘরে। অদল বদল

৭. অমৃতের মতো ছেলে পেলে ইসাবের বাবা-
(ক) একুশ (খ) কুড়ি (গ) একত্রিশ (ঘ) ত্রিশ জনকে পালন করতে রাজি ছিলেন।
সঠিক উত্তর- (ক) একুশ।

৮. ‘অদল বদল’ গল্পটিতে কোনো দিনের কথা বলা হয়েছে?
(ক) দুর্গা পুজোর দিন (খ) হোলির দিন
(গ) মহরমের দিন (ঘ) রথযাত্রার দিন
সঠিক উত্তর- (খ) হোলির দিন।

৯. অমৃতের বয়স ছিল-
(ক) এগারো (খ) পনেরো (গ) বারো (ঘ) দশ
সঠিক উত্তর- (ঘ) দশ।

১০. অদল বদল গল্পে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে যাঁর কানে গেল, তিনি হলেন-
(ক) গ্রামরক্ষী (খ) গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী
(গ) গ্রামপ্রধান (ঘ) গ্রামবাসী
সঠিক উত্তর- (গ) গ্রামপ্রধান।

১১. ‘অদল বদল’ গল্পে ফতোয়া জারি করেছিল-
(ক) অমৃত (খ) গ্রাম প্রধান (গ) ইসাব, (ঘ) কালিয়া
সঠিক উত্তর- (ক) অমৃত।

১২. “আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব।” বক্তা হলেন-
(ক) গ্রামপ্রধান (খ) ইসাবের বাবা
(গ) ইসাবের বন্ধু কালিয়া (ঘ) বাহালি বৌদি
সঠিক উত্তর- (ক) গ্রামপ্রধান।

১৩. ‘ইসাব তবু ইতস্তত করছে’-
(ক) কুস্তি লড়তে (খ) কালিয়াকে উচিত শিক্ষা দিতে
(গ) ছেঁড়া জামা পরতে (ঘ) জামা অদল বদল করতে
সঠিক উত্তর- (ঘ) জামা অদল বদল করতে।

১৪. ‘অদল বদল’ গল্পটি বাংলায় তর্জমা করেছিলেন-
(ক) অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত (খ) নবারুণ ভট্টাচার্য
(গ) সৌরভ চক্রবর্তী (ঘ) অর্ঘ্যকুসুম দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর- (ক) অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

১৫. ‘তোমার কপালে কী আছে মনে রেখো’ – কথাটি বলেছিল-
(ক) অমৃতের মা (খ) ছেলের দল (গ) কালিয়া (ঘ) ইসাবের বাবা
সঠিক উত্তর- (ক) অমৃতের মা।

১৬. বুড়ির বাড়ি আর বাজি পোড়ানো দেখে ফিরছিল-
(ক) হাসান (খ) ছেলের দল (গ) অমৃত ও ইসাব (ঘ) গ্রামপ্রধান
সঠিক উত্তর- (খ) ছেলের দল।

১৭. হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে গায়ের একদল ছেলে ধুলো ছোড়াছুড়ি খেলছিল-
(ক) নিম গাছের নীচে (খ) বটগাছের নীচে
(গ) কাঁঠাল গাছের নীচে (ঘ) তাল গাছের নীচে
সঠিক উত্তর- (ক) নিম গাছের নীচে।

১৮. ইসাবের বাড়িতে খাটিয়া ছিল-
(ক) উঠানে (খ) সামনের দাওয়ায়
(গ) পিছনের দাওয়ায় (ঘ) শোয়ার ঘরে
সঠিক উত্তর- (খ) সামনের দাওয়ায়।

১৯. জামা অদলবদলের গল্প গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কার কানে পৌঁছে ছিল?
(ক) অমৃতের বাবার (খ) ইসাবের বাবার
(গ) অমৃতের মায়ের (ঘ) গ্রাম প্রধানের
সঠিক উত্তর- (ঘ) গ্রাম প্রধানের।

২০. ‘ছেলেরা খুব খুশি হল’-কেন-
(ক) কালিয়াকে পড়ে যেতে দেখে (খ) গ্রামপ্রধানের ঘোষণা শুনে
(গ) জামা অদল বদল দেখে (ঘ) কুস্তিতে অমৃতকে হেরে যেতে দেখে
সঠিক উত্তর- (খ) গ্রামপ্রধানের ঘোষণা শুনে।

২১. ইসাবের বাবা টাকা ধার করেছিল-
(ক) সুদখোরের কাছ থেকে (খ) জমিদারের কাছ থেকে
(গ) গ্রাম প্রধানের কাছ থেকে (ঘ) মালিকের কাছ থেকে
সঠিক উত্তর- (ক) সুদখোরের কাছ থেকে।

২২. জামা অদল বদলের বুদ্ধি প্রথম কার মাথায় এসেছিল-
(ক) অমৃত (খ) ইসার (গ) কালিয়া (ঘ) গ্রামপ্রধান
সঠিক উত্তর- (ক) অমৃত।

২৩. ‘ব্যাঙের মতো হাত পা’-কার সম্পর্কে এ মন্তব্য?
(ক) কালিয়া (খ) ইসাব (গ) অমৃত (ঘ) হাসান
সঠিক উত্তর- (ক) কালিয়া।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান – ১)

১. ‘ছেঁড়া জামা’ দেখে অমৃতের মা কী করেছিলেন?
উত্তর: অমৃতের গায়ে ছেঁড়া জামা দেখে তার মা প্রথমে ভুরু কুঁচকে ছিলেন তারপর সুঁচ-সুতো নিয়ে ছেঁড়া জায়গাটাকে রিফু করে দিয়েছিলেন।

২. অমৃত নতুন জামা পাওয়ার জন্য কী কী কৌশল অবলম্বন করেছিল?
উত্তর: নতুন জামা পাবার জন্য অমৃত খাওয়া ছেড়ে দিল, স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল এবং রাত্রে বাড়ি ফিরতে রাজি হল না।

৩. ‘কিছুটা যেতেই অমৃতের নজরে এল’-অমৃতের কী নজরে এসেছিল?
উত্তর: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি করে ফেরার পথে, অমৃতের নজরে পড়ে যে-ইসাবের জামার পকেট সহ ছয় ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গেছে।

৪. ‘অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না’ কেন?
উত্তর: নিজের নতুন জামা নোংরা হয়ে সাজগোজ নষ্ট হবে, এই কথা ভেবে অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না।

৫. ‘ইসাবের মনে পড়ল’-কোন কথা মনে পড়ল?
উত্তর: ইসাবের মনে পড়ল, অমৃতের বাবা যখন অমৃতকে মারতে যায় তখন সে মায়ের পিছনে লুকায়।

৬. অমৃতকে কে, কেন খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: অমৃতকে কালিয়া কুস্তি লড়ার জন্য জোরপূর্বক খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল।

৭. উনি ঘোষণা করলেন’-উনি কী ঘোষণা করলেন?
উত্তর: গ্রাম প্রধান অমৃতের নাম ‘অদল’ আর ইসাবের নাম ‘বদল’ বলে ঘোষণা করলেন।

৮. “কুস্তি শুরু হয়ে গেল।” কার সঙ্গে কার কুস্তি শুরু হলো?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশে ইসাবের সঙ্গে কালিয়ার কুস্তি শুরু হয়েছিল।

৯. ইসাবের বাবা চেঁচিয়ে কী বলেছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবা হাসান বাহালি বৌদিকে চেঁচিয়ে বলেছিলেন ‘আজ থেকে আপনার ছেলে আমার’।

১০. অমৃত-ইসাবের ভালোবাসার গল্প শুনে গ্রামবাসীরা কীরূপ প্রতিক্রিয়া হয়?
উত্তর: গ্রামবাসীরা গর্বিত হয়।

১১. ‘উনি আসল ঘটনাটি জানেন’-এখানে কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: অমৃত ও ইসাব ভেবেছিল, ইসাবের বাবা ওদের জামা অদল বদলের ঘটনাটি জানেন।

১২. “ওদের তখন বুকের ধুকপুকানি বন্ধ হওয়ার জোগাড়।…” কী কারণে ‘ওদের বুকের ধুকপুকানি বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল?
উত্তর: ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় ইসাবের বাবা মেরে ওর চামড়া তুলে নেবেন, এই চিন্তা করে অমৃত ও ইসাবের বুকের ধুকপুকানি বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল।

১৩. ‘অমৃত এতেও পিছুপা হতে রাজি নয়!’-এতেও’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ইসাবের মতো নতুন জামা পাবার জন্য অমৃত বাবার হাতে প্রহৃত হওয়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও, জামার দাবি থেকে পিছুপা হতে রাজি ছিল না।

১৪. কোথায় একদল ছেলে জড়ো হয়ে ধুলো ছোড়াছুড়ি করে খেলছিল?
উত্তর: নিমগাছের নীচে একদল ছেলে জড়ো হয়ে ধুলো ছোড়াছুড়ি করে খেলছিল।

১৫. ‘অমৃতের বুক টিপটিপ করছিল’-কেন?
উত্তর: ছেঁড়া জামা পরে বাড়িতে ঢুকলে মা-বাবার সম্ভাব্য প্রহারের কথা অনুমান করে ভয়ে অমৃতের বুক টিপটিপ করছিল।

১৬. ইসাব ও অমৃত এই দুই বন্ধু কোথায় বসত?
উত্তর: ইসাব ও অমৃত শান-বাঁধানো ফুটপাথে বসত।

১৭. ‘ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল’-কেন?
উত্তর: কালিয়া অমৃতকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিলে ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠেছিল।

১৮. ‘ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল”-কেন?
উত্তর: কুস্তি লড়তে অরাজি অমৃতকে কালিয়া মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিল, বন্ধুর অপমান দেখে ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল।

১৯. ‘তাহলে মা আমাকে ঠ্যাঙাবে’-কেন এই মন্তব্য? অমৃত কেন কুস্তি লড়তে চায়নি?
উত্তর: নতুন জামা পরে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অমৃতের মা ওকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন যে, নতুন জামা কোনোমতে ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হলে তাকে প্রহৃত হতে হবে। এই কারণে বন্ধু অমৃত কুস্তি লড়ে নিজের জামা নষ্ট করতে চায়নি।

২০. “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।’-ভয়ের কারণ কী?
উত্তর: কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ায়-অমৃত ও ইসাব ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল।

২১. অমৃত ফতোয়া জারি করে কী বলেছিল?
উত্তর: অমৃত ফতোয়া জারি করে বলেছিল, বন্ধু ইসাবের মতো নতুন জামা না পেলে সে আর স্কুলে যাবে না।

২২. “অমৃতের মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল”-কোন বুদ্ধি?
উত্তর: ইসাবের ছেঁড়া জামা দেখে অমৃতের মাথায় নিজের অক্ষত জামার সঙ্গে ইসাবের ছেঁড়া জামার অদল বদল করার বুদ্ধি খেলে গিয়েছিল।

২৩. অমৃতের মা তাকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কী বলেছিলেন?
উত্তর: নাছোড়বান্দা অমৃতকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তার মা বলেছিলেন যে, নতুন জামা কেনার আগে ইসাবের বাবা ইসাবকে খুব মেরেছিলেন। তাই অমৃত যদি মার খেতে রাজি থাকে তবে সেও নতুন জামা পাবে।

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

১. ‘বলতে গেলে ছেলে দুটির সবই একরকম, তফাৎ শুধু এই যে’—ছেলে দুটি কে কে? তাদের মধ্যে মিল ও অমিল উল্লেখ করো। অথবা ‘ছেলে দুটির সবই একরকম’-ছেলে দুটি কারা? তাদের সম্পর্কে এই মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: উৎসঃ গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেল রচিত, অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

  • উত্তরের প্রথমাংশ: প্রশ্নোক্ত অংশে ‘ছেলে দুটো’ বলতে অভিনয় বন্ধু অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
  • উত্তরের দ্বিতীয়াংশ: দুজনের মধ্যে মিলঃ অমৃত ও ইসাবের মধ্যে একাধিক মিল বর্তমান। যথা-
    (ক) দুজনে একই স্কুলের একই ক্লাসে পড়ে।
    (খ) দুজনের বাবাই পেশায় চাষি। তাদের জমিও প্রায় সমান।
    (গ) দুজনের বাবাকেই সাময়িক বিপদ-আপদে সুদে টাকা ধার নিতে হয়।
    (ঘ) রাস্তার মোড়ে অবস্থিত তাদের বাড়ি দুটিও মুখোমুখি।
    দুজনের মধ্যে অমিল: অমৃতের পরিবারে বাবা, মা আর তিন ভাই আছে; কিন্তু ইসাবের রয়েছে শুধুমাত্র বাবা।

২. ‘ওদের বুকের ধুকপুকানি তখন বন্ধ হওয়ার জোগাড়। ওরা কারা? কেন তাদের এই অবস্থা?
অথবা ‘ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল’-ওরা কারা? কেন তাদের এমন অবস্থা হল?
উত্তর: গুজরাটি সাহিত্যের স্বনামধন্য লেখক পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্প থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত এই অংশে ‘ওরা’ বলতে অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু অমৃত ও ইসাবের কথা বলা হয়েছে।

  • হোলির দিন কালিয়া নামের একটি ছেলে কুস্তি লড়তে গররাজি অমৃতকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বন্ধুর অপমানের প্রতিশোধ নিতে ক্ষুব্ধ ইসাব ল্যাং মেরে কালিয়াকে মাটিতে ফেলে দেয়। কালিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ইসাবের জামার পকেট আর ছয় ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা ছিঁড়ে যায়। নতুন জামা ছেঁড়ার অপরাধে ইসাবের বাবা যে ওকে খুব মারবে, এই ভয়েই ওদের বুকের ধুকপুকানি বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল/ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল।

৩. ‘তামাশা করে হলেও এখন ব্যাপারটা ঘোরালো হয়ে পড়েছে-তামাশাটি কী ছিল? তা কীভাবে ঘোরালো হয়ে পড়েছিল?
অথবা ‘এসো আমরা কুস্তি লড়ি-কে, কাকে একথা বলেছে? এই কুস্তির ফলাফল কী হয়েছিল?
অথবা ‘সবাই যে যেদিকে পারে পালিয়ে গেল’-‘সবাই’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা কেন পালিয়ে গিয়েছিল?
অথবা ‘আয় আমি তোর সঙ্গে লড়বো’-কে, কাকে এ কথা বলেছিল? এই লড়াইয়ের পরিণতি কী হয়েছিল?
অথবা ‘কালিয়া ইতস্তত করছিল’-কেন কালিয়া ইতস্তত করছিল? এর পরে কী ঘটেছিল?
অথবা ‘অমৃত আর ইসাব রণভূমি ত্যাগ করল’-অমৃত-ইসাব কোন পরিস্থিতিতে কেন রণভূমি ত্যাগ করেছিল?
অথবা ‘এই বলে সে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে এল’-সে কে? কী বলে কেন সে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল?
অথবা ‘মাটিতে পড়ে গিয়ে চেঁচাতে লাগলো’-কার, কখন এমন অবস্থা হয়েছিল? তারপর কী ঘটেছিল?
অথবা ‘ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলো’-এই আনন্দের কারণ কী? তারা চেঁচিয়ে কী বলেছিল?
অথবা ‘ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল’-ইসাবের মেজাজ কেন চড়েছিল? এর পরিণতি কী হয়েছিল?
অথবা ‘তারা ভয়ে বাড়ির দিকে ছুটে পালাতে লাগল’-কারা কেন এমন আচরণ করেছিল?
উত্তর: উৎসঃ গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেল রচিত, অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

  • উত্তরের প্রথমাংশ: কুস্তি খকের জন্য অমৃতকে কালিয়া জোর করে খোলা মাঠে নিয়ে যায়। কালিয়ার বাঁধন থেকে কুস্তিতে অনিচ্ছুক অমৃত বেরিয়ে আসতে চাইলে, কালিয়া তাকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এই দৃশ্য দেখে ছেলের দল আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে ওঠে-‘কালিয়া জিতেছে, অমৃত হেরে গেছে, কি মজা কি মজা’। তাদের কাছে এই কুস্তি যুদ্ধ ছিল এক তামাশার ব্যাপার।
  • উত্তরের দ্বিতীয়াংশ: বন্ধুর বিপন্নতায়, কালিয়ার উদ্দততা এবং ছেলেদের উচ্ছ্বাস দেখে ইসাবের মেজাজ চড়ে যায়। ক্রুদ্ধ ইসাব কালিয়ার হাত ধরে বলে- ‘আমি তোর সঙ্গে লড়বো’। এরপর ইতস্তত করতে থাকা কালিয়াকে সে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। কালিয়া ব্যাঙের মতো হাত-পা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে।
    তামাশা করে শুরু হলেও, ব্যাপারটা ঘোরালো হয়ে পড়ে। কালিয়ার বাবা-মা এসে সকলকে মারতে পারে, এই ভয়ে ছেলের দলের সঙ্গে অমৃত-ইসাবও রণভূমি ত্যাগ করে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

১. ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে অমৃত ইসাবের বন্ধুত্বের পরিচয় দাও। অথবা ‘অদল বদল’ গল্পে সম্প্রীতির যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। অথবা ‘অমৃত ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাদেরও বুক ভরে গেল’- অমৃত ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার পরিচয় দাও।
উত্তর: প্ৰান্তঃকথনঃ গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক, পান্নালাল প্যাটেল রচিত, অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ গল্পটি ভিন্ন ধর্মের দুটি বালক অমৃত ও ইসাবের নিখাদ বন্ধুত্বের জীবন্ত দলিল। বন্ধুত্বের পরিচয় সমগ্র গল্পে আমরা অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের একাধিক নজির দেখতে পাই। যথা-
(ক) অভিন্ন পোশাক পরতে চাওয়া: বন্ধু ইসাবের মতো হুবহু একই ধরনের জামা পেতে অমৃত এতটাই ব্যাকুল ছিল যে, জামা না পেলে সে আর স্কুলে যাবে না বলে ফতোয়া জারি করেছিল।
(খ) হাত ধরাধরি করে ঘোরা: হোলির দিন দুই বন্ধু পরস্পরের হাত ধরে ঘুরতে বেরিয়েছিল। যা ছিল তাদের আন্তরিক ভালোবাসার পরিচয়।
(গ) কালিয়াকে শায়েস্তা করা: কালিয়া কুস্তি লড়তে অরাজি অমৃতকে জোর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইসাব বন্ধুর অপমানের প্রতিশোধ নিতে, কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।
(ঘ) জামা অদল বদল করা: কালিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে, ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। বন্ধুকে বাবার সম্ভাব্য মারের হাত থেকে বাঁচাতে, অমৃত নিজের অক্ষত নতুন জামাটি ইসাবের ছেঁড়া জামার সঙ্গে অদল বদল করে নেয়।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

২. “উনি ঘটনাটি জানেন শুধু ভালোবাসার ভান করছেন”-আসল ঘটনাটি কী? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি ভালোবাসার ভান করছে কি না বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ লেখক পান্নালাল প্যাটেল-এর লেখা ‘অদল বদল’ শীর্ষক রচনা থেকে প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে।
‘অদল বদল’ গল্পে অমৃতের হেরে যাওয়ার বদলা নিতে ইসাব কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে তার জামা প্রায় ছয় ইঞ্চির মতো ছিঁড়ে ফেলে। ইসাবকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত তার সাথে নিজের জামা অদলবদল করে নেয়, কিন্তু গ্রামের একটি ছেলে এই দৃশ্য দেখে নেওয়ায় তাদেরকে বলল-তোরা অদল বদল করেছিস, হুয়া। এরপর অন্য ছেলেরাও বিষয়টি জেনে ‘অদলবদল অদলবদল’ বলে চিৎকার করতে থাকে। ইসাবের বাবা তাদের বিষয়টি জেনে ফেলবে মনে করে তারা ভয়ে বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে। ইসাবের বাবা তখন বাড়ির সামনের দাওয়ায় বসে হুকো টানছিলেন। তিনি ইসাব-অমৃতের কাছে বন্ধুদের থেকে পালিয়ে আসার কারণ জানতে চান এবং তার কাছে এসে বসতে বলেন। ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনে অমৃত-ইসাবের চিন্তা হয় যে তিনি হয়তো সত্যি ঘটনাটি জেনে ফেলেছেন।
ইসাবের বাবা জামা বদলের ঘটনাটি জেনে ফেললেও তাঁর মধ্যে ভালোবাসার কোনো ভান ছিল না। বন্ধুর প্রতি অমৃতের এরকম ভালোবাস দেখে অমৃতকে জড়িয়ে ধরে ইসাবের বাবা অমৃতের মাকে বলেন-“আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” অমৃতের কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন ‘খাঁটি জিনিস কাকে বলে?” অমৃতের বন্ধুত্বপ্রীতি, মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ইত্যাদি তাঁকে শুধু মুগ্ধই করেনি, জীবন সম্পর্কে তার ধারণাও পালটে দিয়েছে।

৩. ‘ও আমাকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে’-‘খাঁটি জিনিসটি কী? বক্তা কার থেকে কীভাবে তা শিখেছেন? অথবা ‘কি খাঁটি কথা’-খাঁটি কথাটি কী? বক্তা কীভাবে তা বুঝেছেন? অথবা ‘অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে’-অমৃতের কোন জবাব, কাকে কীভাবে বদলে দিল? অথবা ‘কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে’-কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য? এই উক্তির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর: উৎসঃ গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেল রচিত, অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

  • আলোচ্য অংশে খাঁটি জিনিস বলতে সম্পর্কের মূল্যকে বোঝানো হয়েছে। গল্পে আমরা দুটি খাঁটি জিনিসের সন্ধান পাই। যথা- (১) মাতৃহৃদয় ও (২) অকৃত্রিম বন্ধুত্ব।
  • ঘটনাপ্রবাহঃ কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। মাতৃহীন বন্ধুকে বাবার সম্ভাব্য প্রহারের হাত থেকে রক্ষা করতে, অমৃত ইসাবের সঙ্গে নিজের অক্ষত জামাটি অদল বদল করে নেয়।
  • ইসাবের বাবা হাসানের মুখ থেকে অমৃত-ইসাবের জামা অদল বদল গল্পটি পাড়া-প্রতিবেশী মায়ের শুনেছিলেন।
  • (ক) বিকল্পহীন মাতৃহৃদয়: ইসাব অমৃতকে স্মরণ করিয়ে দেয়, ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে তাকেও তো তার বাবার হাতে প্রহৃত হতে হবে। জবাবে অমৃত বলেছিল- ‘আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে। ইসাবের বাবা অলক্ষ্যে থেকে গোটা ঘটনাটি দেখেন ও সম্পূর্ণ কথোপকথন শোনেন। ‘আমার তো মা রয়েছে’-অমৃতের এই সহজ কথাটি ইসাবের পিতা হাসানের হৃদয় তোলপাড় করে দেয়। তার কঠিন হৃদয় স্নেহ রসে দ্রবীভূত হয়ে যায়। তিনি উপলব্ধি করেন সন্তানের কাছে মাতৃহৃদয়ের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই মাতৃহারা সন্তানের পিতাকে শুধুমাত্র পিতৃত্বের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকলেও চলে না, তাকে মা-ও হয়ে উঠতে হয়।
    (খ) নিখাদ বন্ধুত্ব: বন্ধুর জন্য অমৃতের আত্মত্যাগ ইসাবের বাবাকে হতবাক ও মুগ্ধ করেছিল। অমৃত-ইসাবের নিখাদ বন্ধুত্ব ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে তাই বদলে যায় হাসানের কঠিন হৃদয়ের পটকথা। সম্পর্কের মূল্যই ‘খাঁটি জিনিস’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তার সামনে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

৪. ‘অদল বদল’ গল্পে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা বর্ণনা করো।
অথবা, অদল বদল গল্পের মাধ্যমে চিরন্তন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে বার্তা দেওয়া হয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ লেখক পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পে আমরা এমন দুই বন্ধুর কাহিনি পাই যাদের প্রায় সবকিছুর মিল একরকম। এদের নাম ছিল অমৃত ও ইসাব। ধর্মের পার্থক্য কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের মাঝে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাদের দুজনের পরিবারের মধ্যেও সুসম্পর্ক ছিল।
হোলির দিন পড়ন্ত বিকালে দুই বন্ধু অমৃত ও ইসাব ঘুরতে বের হলে তাদের গ্রামের ছেলেরা কুস্তি লড়ার জন্য বলতে থাকে। রাজি না হওয়ায় অমৃতকে কালিয়া নামক একটি ছেলে টেনে নিয়ে এসে জোর করে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং তাকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকা আরেক বন্ধু ইসাব এই ঘটনার প্রতিবাদ করে এবং কালিয়াকে নিজের সঙ্গে কুস্তি লড়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তাকে হারিয়ে দেয়।
এই কুস্তি লড়ার সময় কোনো একভাবে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। তখন বাবার কাছে মার খাওয়ার আশঙ্কায় ইসাব ভীত হয়ে পড়ে। তবে হঠাৎ অমৃতের মাথায় সেইসময় একটা বুদ্ধি খেলে গেল ও ইসাবকে টানতে টানতে বলল “আমার সঙ্গে আয়।” আর টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে অমৃত হুকুম দিল- “তোর জামা খুলে আমারটা পর।” তখন অমৃত নিজে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি পরে নিয়ে ইসাবকে নিজের ভালো জামাটি দেয়। এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে তাদের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা সমস্ত ধর্মের ভেদাভেদকে অতিক্রম করে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।

৫. ‘পাড়া পড়শী মায়ের দল জামা পাল্টানোর গল্প শোনার জন্য ঘিরে দাঁড়াল’-কোন বিষয়ের গল্প বলা হচ্ছিল? গল্পটি নিজের ভাষায় লেখো। এই গল্প সকলের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল? অথবা ‘আজ থেকে আপনার ছেলে আমার’-কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য? মন্তব্যের কারণ কী? অথবা ‘পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাদের বুক ভরে গেল’ কাদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ছিল? এই ভালোবাসার পরিচয় দাও। অথবা ‘উনি অল্প কথায় ছেলেদের জামা বদলের গল্পটা বললেন’-গল্পটি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: উৎসঃ গুজরাটি ভাষার প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেল রচিত, অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহঃ কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। মাতৃহীন বন্ধুকে বাবার সম্ভাব্য প্রহারের হাত থেকে রক্ষা করতে, অমৃত ইসাবের সঙ্গে নিজের অক্ষত জামাটি অদল বদল করে নেয়।

  • ইসাবের বাবা হাসানের মুখ থেকে অমৃত-ইসাবের জামা অদল বদল গল্পটি পাড়া-প্রতিবেশী মায়ের শুনেছিলেন।
  • (ক) বিকল্পহীন মাতৃহৃদয়ঃ ইসাব অমৃতকে স্মরণ করিয়ে দেয়, ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে তাকেও তো তার বাবার হাতে প্রহৃত হতে হবে। জবাবে অমৃত বলেছিল- ‘আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।
    ইসাবের বাবা অলক্ষ্যে থেকে গোটা ঘটনাটি দেখেন ও সম্পূর্ণ কথোপকথন শোনেন। ‘আমার তো মা রয়েছে’-অমৃতের এই সহজ কথাটুকু ইসাবের পিতা হাসানের হৃদয় তোলপাড় করে দেয়। তার কঠিন হৃদয় স্নেহ রসে দ্রবীভূত হয়ে যায়। তখন তিনি, অমৃতের মা ও প্রতিবেশীদের ডেকে অভিনন্দময় অমৃত ও ইসাবের এই অকৃত্রিম বন্ধুত্বের গল্প গর্বিত কণ্ঠে শুনিয়েছিলেন।
    প্রতিক্রিয়া: অমৃত-ইসাবের জামা অদল বদলের এই গল্প সকলের মধ্যে একাধিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। যথা-
    (ক) জাতি-ধর্ম-বিভেদের চোরাস্রোতকে অতিক্রম করে অমৃত-ইসাব বন্ধুত্বের যে অনন্য নজির গড়েছিল, তা শুনে পাড়াপড়শি মায়েদের বুক গর্বে ভরে গিয়েছিল। (খ) অমৃত-ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার এই গল্প শুনে ছেলের দলও খুশি হয়েছিল।
    (গ) দুজনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বকে স্বীকৃতি দিতে, গ্রাম প্রধান অমৃতের নাম ‘অদল’ এবং ইসাবের নাম ‘বদল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

Leave a Comment