মাধ্যমিক বাংলা – পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রশ্নউত্তর

হ্যালো প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, কেমন আছো সবাই?
আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো এবং একদম প্রস্তুত হয়ে উঠছো তোমাদের আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য। পথের দাবী

আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করবো বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ‘পথের দাবী’, যার রচয়িতা হলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

‘পথের দাবী’ – সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

  • উপন্যাসের নাম: পথের দাবী
  • লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • ধরন: দেশপ্রেমমূলক উপন্যাস
  • প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু:

‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি কেবলমাত্র একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ, যুবকদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। লেখক উপন্যাসে দেশপ্রেম, আত্মবলিদান, রাজনৈতিক আদর্শ এবং সমাজ সংস্কারের বার্তা তুলে ধরেছেন।

লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। তিনি সাধারণ মানুষের জীবন, সমাজ এবং নারীর অবস্থান নিয়ে অসাধারণ সব রচনা উপহার দিয়েছেন।

পড়ার পরামর্শ: পথের দাবী

প্রতিটি চরিত্র ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে
লেখকের উদ্দেশ্য বোঝা জরুরি
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং উপন্যাসের সমাজচিত্র আলাদা করে লিখে নেওয়া ভালো
পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় সংক্ষিপ্ত, তথ্যভিত্তিক ও পরিষ্কারভাবে উত্তর লিখতে হবে

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
স্ক্রিনে লেখা: বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:- পথের দাবী

দেখো আমরা প্রথমেই যে সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছি তার মধ্যে প্রথমেই বলছে বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন উত্তর, মানে MCQ। দেখো, প্রথমে বলছে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ।

১. ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত শরৎচন্দ্রের উপন্যাসটি – (a) পথের দাবী (b) শেষপ্রশ্ন (c) গৃহদাহ (d) চরিত্রহীন।
উত্তর: (a) পথের দাবী
এখানে যে সমস্ত প্রশ্নগুলো আলোচনা করা হবে, তোমরা প্লিজ দয়া করে ভালো করে একবার মুখস্থ করে নিও, নতুবা কিন্তু পরীক্ষায় মিস করে যাবে।

২. হলঘরে মোট-ঘাট নিয়ে বসে আছে – (a) জন-পাঁচেক (b) জন-ছয়েক (c) জন-চারেক (d) জন-তিনেক।
উত্তর: (b) জন-ছয়েক

৩. তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা চাকরির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল – (a) রেঙ্গুন (b) কলকাতা (c) দিল্লি (d) কোনোটিই নয়।
উত্তর: (a) রেঙ্গুন

৪. পলিটিক্যাল সাসপেক্টের নাম ছিল – (a) অপূর্ব রায় (b) নিমাই মল্লিক (c) সব্যসাচী চক্রবর্তী (d) সব্যসাচী মল্লিক।
উত্তর: (c) সব্যসাচী চক্রবর্তী

Read More:- আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’

৫. সব্যসাচী ডাক্তারি পাশ করেছিলেন – (a) জার্মানি থেকে (b) বিলাত থেকে (c) আমেরিকা থেকে (d) জাপান থেকে। পথের দাবী
উত্তর: (b) বিলাত থেকে

৬. সব্যসাচী সন্দেহে আটক করা ব্যক্তির বয়স – (a) ত্রিশ-বত্রিশের অধিক নয় (b) ত্রিশ-বত্রিশের কম (c) চল্লিশের মধ্যে (d) চল্লিশের বেশি।
উত্তর: (a) ত্রিশ-বত্রিশের অধিক নয়

৭. সব্যসাচী নিজের কী নাম বলেছিলেন?
উত্তর: (d) গিরীশ মহাপাত্র

৮. গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে যে ফুল মোজা ছিল, তার রং– (a) নীল (b) লাল (c) সবুজ (d) রামধনুর মতো।
উত্তর: (c) সবুজ

৯. গিরীশ মহাপাত্রের মাথায় ছিল – (a) টিনের তোরঙ্গ (b) কম্বল জড়ানো বেডিং (c) বিছানার বান্ডিল (d) বড়ো সুটকেস।
উত্তর: (a) টিনের তোরঙ্গ

১০. গিরীশ মহাপাত্র তার ট্র্যাঙ্ক থেকে কী বার করেছিল? পথের দাবী
উত্তর: (a) একটি টাকা ও গন্ডাছয়েক পয়সা

১১. গিরীশ মহাপাত্রের বুকপকেট থেকে দেখা যাচ্ছিল – (a) একটি রুমালের কিছু অংশ (b) গাঁজার কলকে (c) ফুটবল (d) লাল রঙের ফিতে।
উত্তর: (a) একটি রুমালের কিছু অংশ

১২. গিরীশ মহাপাত্রের কাছ থেকে যে গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল সেটি সে রেখেছিল – (a) সুটকেসে (b) ব্যাগে (c) ট্র্যাঙ্কে (d) পকেটে।
উত্তর: (b) ব্যাগে

১৩. “যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি” বক্তা তুলে রেখেছিল – (a) রুমাল (b) মোজা (c) টিনের বাক্স (d) গাঁজার কলকে।
উত্তর: (d) গাঁজার কলকে

১৪. “পথে কুড়িয়ে পেলাম” – বক্তা পথে কুড়িয়ে পেয়েছিল – (a) কিছু টাকা (b) একটি গাঁজার কলকে (c) কম্পাস (d) একটি দেশলাই। পথের দাবী
উত্তর: (b) একটি গাঁজার কলকে

১৫. নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – (a) কিসে গাঁজা খায় কিনা (b) সে ফুটবল খেলতে জানে নাকি (c) সে কী কী বই পড়েছে (d) সে কোথা থেকে এসেছে।
উত্তর: (a) কিসে গাঁজা খায় কিনা

১৬. কিসের গন্ধে থানাসুদ্ধ লোকের মাথা ধরে গেল?
উত্তর: (d) লেবুর তেলের গন্ধে

১৭. “কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করার দরকার নেই বড়োবাবু!” – একথা বলেছেন – (a) অপূর্ব (b) নিমাইবাবু (c) জগদীশবাবু (d) রামদাস।
উত্তর: (d) রামদাস

১৮. “আমারও অনুমান কতকটা তাই” – বক্তার অনুমান – (a) সব্যসাচী বর্মায় এসেছে (b) তেওয়ারি চুরি করেছে (c) গিরীশ মহাপাত্রই সব্যসাচী (d) সব্যসাচী রেঙ্গুনেই আছে। পথের দাবী
উত্তর: (b) তেওয়ারি চুরি করেছে

১৯. ভাঙা টিনের তোরঙ্গটি ধরে বেরিয়ে এসেছিল – (a) সব্যসাচী রায় (b) নিমাই মহাপাত্র (c) গিরীশ মহাপাত্র (d) অপূর্ব রায়।
উত্তর: (c) গিরীশ মহাপাত্র

২০. রামদাস পেশায় ছিল – (a) করণীক (b) পেশকার (c) সাংবাদিক (d) অ্যাকাউন্টেন্ট।
উত্তর: (d) অ্যাকাউন্টেন্ট

২১. অপূর্বকে প্রতিদিন তার হাতের তৈরি মিষ্টি খাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন – (a) রামদাসের মা (b) রামদাস (c) রামদাসের স্ত্রী (d) নিমাইবাবু।
উত্তর: (c) রামদাসের স্ত্রী

২২. “তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর” – ঠাকুর বলা হয়েছে – (a) অপূর্বকে (b) ঈশ্বরকে (c) রামদাসকে (d) তেওয়ারিকে। পথের দাবী
উত্তর: (d) তেওয়ারিকে

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (বিস্তারিত)
স্ক্রিনে লেখা: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১)

১. পুলিশ-স্টেশনে প্রবেশ করে কী দেখা গেল?
উত্তর: পুলিশ-স্টেশনে প্রবেশ করে দেখা গেল, সামনের হলঘরে জনছয়েক বাঙালি মোট-ঘাট নিয়ে বসে আছে।

২. জনছয়েক বাঙালি কোথায় কাজ করত?
উত্তর: জনছয়েক বাঙালি উত্তরব্রহ্মে বর্মা-অয়েল-কোম্পানির তেলের কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করত।

৩. “সম্মুখে হাজির করা হইল।”—কাকে, কার সামনে হাজির করা হয়?
উত্তর: ‘পলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিককে পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হয়।

৪. “এইটুকু কাশির পরিশ্রমেই সে হাঁপাইতে লাগিল।”—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।

Read More:- বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর

৫. “কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি।”—চোখের দৃষ্টিটি অদ্ভুত কেন?
উত্তর: সন্দেহভাজন গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিকের চোখের পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে—চোখের বর্ণনা দেওয়া বৃথা, তা গভীর জলাশয়ের মতো, সেখানে কী যেন একটা আছে, আর সেখানে কোনো খেলা চলবে না। তার অতলে প্রাণশক্তি লুকানো, মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পায়। পথের দাবী

৬. “মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে সাহস করে না।”—মৃত্যু কোথায় প্রবেশ করতে সাহস করে না?
উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিকের চোখের অতল তলে যেখানে তার ক্ষীণ প্রাণশক্তিটুকু লুকানো—সেখানে মৃত্যু প্রবেশ করতে সাহস করে না।

৭. “দৃষ্টি আকৃষ্ট করিয়া সহাস্যে কহিলেন,”—কে, কী বলেছিলেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পোশাকের বাহার ও পারিপাট্যের প্রতি অপূর্ব দৃষ্টি আকৃষ্ট করে হাসির সঙ্গে পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু বললেন—”বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।”

৮. “মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল।”—কে, কেন হাসি গোপন করে?
উত্তর: সন্দেহভাজন গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক ভীষণ রকমের অস্বাভাবিক ও হাস্যকর হওয়ায় অপূর্ব সেদিকে তাকিয়ে হাসি গোপন করে। পথের দাবী

৯. “ইহার আপাদমস্তক অপূর্ব বারবার নিরীক্ষণ করিয়া কহিল…!”—অপূর্ব কী বলেছিল?
উত্তর: সন্দেহভাজন গিরীশ মহাপাত্রের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে অপূর্ব বলেছিল—লোকটিকে নিমাইবাবু কোনো কথা জিজ্ঞেস না-করেই ছেড়ে দিতে পারেন। কারণ যাকে খোঁজা হচ্ছে সে যে এই ব্যক্তি নন, তার জামিন সে হতে পারে।

১০. “নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন,”—নিমাইবাবু চুপ থাকায় অপূর্ব কী বলে?
উত্তর: নিমাইবাবু চুপ করে থাকলে অপূর্ব বলে, “আর যাই হোক, যাকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখা।”

১১. টিফিনের সময় কারা একসঙ্গে জলযোগ করত?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ রচনায় বনদাস ও পূর্ণ টিফিনের সময় একসঙ্গে জলযোগ করত।

১২. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”—এই প্রশ্নের উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: উক্ত প্রশ্নের উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বলেছিলেন—”আজ্ঞে, পথে কুড়িয়ে পেলাম, যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।” পথের দাবী

১৩. “ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন”—উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: ক্ষণকাল মৌন থেকে নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে বললেন, গাঁজা খাওয়ার সব লক্ষণ তার মধ্যে আছে। তবে কথাটি সে বলতে পারত। তা ছাড়া এই দেহে সে বেশিদিন বাঁচবে বলে মনে হয় না। সে যেন বুড়ো মানুষের কথা শোনে।

১৪. “জগদীশবাবু চটিয়া উঠিয়া কহিলেন…”—জগদীশবাবু চটে উঠে কী বলেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু চটে উঠে বলেছিলেন—”দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খায়নে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!”

১৫. “যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।”—কথাটি কে বলেছে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ রচনায় এই কথাটি বলেছে অপূর্ব।

১৬. “নিমাইবাবু উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিলেন,”—নিমাইবাবু উঠে দাঁড়িয়ে কী বললেন?
উত্তর: নিমাইবাবু উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “আচ্ছা, তুমি এখন যেতে পারো মহাপাত্র।” এরপর জগদীশবাবুকে উদ্দেশ করে—তার যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি আছে কি না জানতে চান। পথের দাবী

১৭. “আজ বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পেয়েছেন নাকি?”—কে, কথা এ বা বলেছিলেন?
উত্তর: অপূর্বর মধ্যে অত্যন্ত অন্যমনস্কতা লক্ষ করে তলওয়ারকর চিন্তিতমুখে উদ্ধৃত কথাটি বলেছিলেন।

১৮. “বাড়ির খবর সব ভালো তো?”—বক্তা কে? প্রশ্ন শুনে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশের বক্তা তলওয়ারকর। তিনি এ কথা বলেছিলেন অপূর্বকে। প্রশ্ন শুনে অপূর্ব কিছু আশ্চর্য হয়ে বলে—”যতদূর জানি সবাই ভালোই তো আছেন।”

১৯. অপূর্বর ঘরে চুরি হলে কার কৃপায় টাকাকড়ি ছাড়া আর সব বেঁচে গেছে?
উত্তর: অপূর্বর ঘরে চুরি হলে এক খ্রিস্টান মেয়ের কৃপায় টাকাকড়ি ছাড়া আর সব বেঁচে গেছে।

২০. অপূর্বর হঠাৎ হাসিতে দম আটকে গেল কেন?
উত্তর: অপূর্বর হঠাৎ গিরীশ মহাপাত্র ও তার পোশাক-পরিচ্ছদের কথা মনে পড়ায় হাসিতে দম আটকে গেল।

২১. বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ার অপূর্বকে লাথি মেরে কোথা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ রচনায় বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

২২. ফিরিঙ্গিদের অপূর্বকে লাথি মারার ঘটনা শুনে রামদাসের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: অপূর্বকে লাথি মারার ঘটনা শুনে রামদাস চুপ করে থাকে, কিন্তু তার দুই চোখ ছলছল করে আসে।

২৩. “বাবুজি, ম্যায় নে আপকো তো জরুর কঁহা দেখা”—কথাটির অর্থ লেখো।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ রচনার আলোচ্য পঙক্তিটির অর্থ হল—বাবুজি, আমি আপনাকে অবশ্যই কোথাও দেখেছি।

২৪. “আশ্চর্য্য নেই হায় বাবু সাহেব, চাকরির বাবু কেনা যায়গায় তো ঘুমাতে হয়,”—কথাটির অর্থ লেখো।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ রচনার এই অংশটির অর্থ হল আশ্চর্য নয় বাবুসাহেব, চাকরির খোঁজে কত জায়গায় তো ঘুরতে হয়।

২৫. রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে একদিন সনির্বন্ধ অনুরোধ করে কী বলেছিলেন?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে একদিন সনির্বন্ধ অনুরোধ করে বলেছিলেন—যতদিন তার মা অপূর্বর কাছে না আসে, ততদিন সে যেন তার হাতের তৈরি মিষ্টান্ন গ্রহণ করে।

Read more:- Madhyamik 2026 Math পরিমিতি

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৩)
১. গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার বর্ণনা দাও।
২. গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-পরিচ্ছদের বিবরণ দাও।
৩. গিরীশ মহাপাত্রের ট্র্যাঙ্কে ও পকেটে কী ছিল?
৪. ‘পলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ সব্যসাচী মল্লিককে কার সামনে হাজির করা হয়? হাজির করা হলে কী দেখা যায়? (১+২)
৫. “কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি।”—এখানে কার কথা বলা হয়েছে? চোখ দুটি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? (১+২)
৬. গাঁজার কলকের ব্যাপারে গিরীশ মহাপাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশকে কী বলেছিল?
৭. “বুড়োমানুষের কথাটা শোনো।”—কে, কাকে উদ্ধৃত কথাটি বলেছেন? এ কথা বলার কারণ কী? (১+২)
৮. “রাজবিদ্রোহীর চিন্তাতেই ধ্যানস্থ হইয়া রহিল।”—কার চিন্তায়, কে ধ্যানস্থ হয়ে রইল? রাজবিদ্রোহী কে? অপরিজ্ঞাত কেন? কথাটির তাৎপর্য লেখ। (১+১+১+২)
৯. “কিন্তু ইহা যে কতবড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।”—’সে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? কোন্ প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে? কথাটির তাৎপর্য লেখ। (১+২+২)
১০. “পরধর্ম ভয়াবহ। ললাটের লেখা তো খণ্ডাবে না।”—এই কথা কে, কাকে বলেছে? কখন বলেছে? কথাটির মর্মার্থ লেখো। (১+২+২)
১১. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খায়নে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!”—কে, কাকে এই কথাটি বলেছে? কখন বলেছে? কথাটির অর্থ পরিস্ফুট করো। (১+২+২)
১২. “তাছাড়া এত বড়ো বন্ধু!”—কে, কাকে এই কথা বলেছে? কার সম্পর্কে বলেছে? সে বড়ো বন্ধু কেন? এই উক্তির মধ্যে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি পরিস্ফুট হয়েছে? (১+১+১+২)
১৩. “আজ্ঞে, পথে কুড়িয়ে পেলাম, যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।”—এই কথাটি কে, কাকে বলেছে? কথাটির তাৎপর্য লেখ। উক্তিটির মধ্যে বক্তার চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে? (১+২+২)
১৪. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল”—অপূর্ব কীসে রাজি হয়েছিল? কেন রাজি হয়েছিল? উক্তিটির মর্মার্থ লেখো। (১+২+২)
১৫. “ইচ্ছা করলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি।”—কে, কাকে বলেছে? কেন বলেছে? কথাটির তাৎপর্য লেখ। (১+২+২)

এবারে আমরা আলোচনা করব রচনাধর্মী প্রশ্ন। প্রত্যেকটা প্রশ্নের মান হচ্ছে পাঁচ। এখানে যে সমস্ত প্রশ্নগুলো আলোচনা করা হয়েছে, তোমরা যদি একবার ভালো করে দেখে নাও, তো অবশ্যই এই চ্যাপ্টার থেকে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোমরা মিস করে আসবে না।
১. ‘পথের দাবী’ রচনাংশটির নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

রচনাধর্মী ও ব্যাকরণ প্রশ্ন
২. ‘পথের দাবী’ রচনাংশটির বিষয়বস্তু আলোচনা করো।
৩. ‘পথের দাবী’ রচনাংশটির মধ্যে লেখকের সমাজচেতনার পরিচয় দাও।
৪. ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসরণে গিরীশ মহাপাত্রের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
৫. ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসরণে অপূর্বর চরিত্র বর্ণনা করো।
৬. ‘পথের দাবী’ রচনায় অপ্রধান চরিত্রগুলি লেখো।
৭. “পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।”—নিমাইবাবু কে? সব্যসাচী মল্লিককে কখন নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হয়েছিল? সব্যসাচীর চেহারার বর্ণনা দাও। (১+২+২)
৮. “একেবারে যেন বিচ্ছিন্ন হইয়া কোন এক অদৃষ্ট অপরিজ্ঞাত রাজবিদ্রোহীর চিন্তাতেই ধ্যানস্থ হইয়া রহিল।” কে ধ্যানস্থ হয়ে রইল? ‘রাজবিদ্রোহী’ কে? অপরিজ্ঞাত কেন? কথাটির তাৎপর্য লেখো। (১+১+১+২)
৯. “কিন্তু ইহা যে কতবড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।”—’সে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? কোন্ প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে? কথাটির তাৎপর্য লেখো। (১+২+২)
১০. “পরধর্ম ভয়াবহ। ললাটের লেখা তো খণ্ডাবে না।”—এই কথা কে, কাকে বলেছে? কখন বলেছে? কথাটির মর্মার্থ লেখো। (১+২+২)
১১. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খায়নে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!”—কে, কাকে এই কথাটি বলেছে? কখন বলেছে? কথাটির অর্থ পরিস্ফুট করো। (১+২+২)
১২. “তাছাড়া এত বড়ো বন্ধু!”—কে, কাকে এই কথা বলেছে? কার সম্পর্কে বলেছে? সে বড়ো বন্ধু কেন? এই উক্তির মধ্যে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি পরিস্ফুট হয়েছে? (১+১+১+২)
১৩. “আজ্ঞে, পথে কুড়িয়ে পেলাম, যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।”—এই কথাটি কে, কাকে বলেছে? কথাটির তাৎপর্য লেখো। উক্তিটির মধ্যে বক্তার চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে? (১+২+২)
১৪. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল”—অপূর্ব কীসে রাজি হয়েছিল? কেন রাজি হয়েছিল? উক্তিটির মর্মার্থ লেখো। (১+২+২)
১৫. “ইচ্ছা করলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি।”—কে, কাকে বলেছে? কেন বলেছে? কথাটির তাৎপর্য লেখো। (১+২+২)

Read More:- Madhyamik History Suggestion 2026

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
কারক-বিভক্তি

১. “পুলিশ-স্টেশনে প্রবেশ করিয়া দেখা গেল”—রেখাঙ্কিত পদটি
উত্তর: (ঘ) অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি

২. “কয়েকদিনের জাহাজের দখলে সমস্তই নোংরা হইয়া উঠিয়াছে,”—রেখাঙ্কিত পদটি
উত্তর: (ক) সম্বন্ধপদে ‘এর’ বিভক্তি

৩. “আজ্ঞে, গিরীশ মহাপাত্র”—রেখাঙ্কিত পদটি
উত্তর: (ঘ) সম্বোধন পদে ‘শূন্য’ বিভক্তি

৪. “বাবাই একদিন এর চাকরি করে দিয়েছিলেন”—রেখাঙ্কিত পদটি
উত্তর: (খ) কর্তৃকারকে ‘ই’ বিভক্তি

৫. “দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।”—রেখাঙ্কিত পদটি
উত্তর: (গ) করণকারকে ‘য়’ বিভক্তি

৬. “তুমি একবার সবগুলো দেখে আসো।”—রেখাঙ্কিত পদটি
উত্তর: (গ) কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি

স্ক্রিনে লেখা: সমাস

৭. “ইহারই কোন অতল তলে তাহার ক্ষীণ প্রাণশক্তিটুকু লুকানো আছে,”—’প্রাণশক্তি’ সমাসবদ্ধ পদের ব্যাসবাক্য হবে
উত্তর: (ক) প্রাণরূপ শক্তি

৮. “তাহার বুক-পকেট হইতে বাঘ-আঁকা একটা রুমালের কিয়দংশ দেখা যাইতেছে,”—’বুক-পকেট’—সমাসবদ্ধ পদের ব্যাসবাক্য ‘বুকে স্থিত পকেট’ হলে তার সমাস হবে
উত্তর: (গ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

৯. “এত বড়ো সব্যসাচী ধরা পড়িল না,”—’সব্যসাচী’ পদের ব্যাসবাক্য
উত্তর: (গ) সব্য সাচন করে যে

১০. “এক অদৃষ্ট অপরিজ্ঞাত রাজবিদ্রোহীর চিন্তাতেই ধ্যানস্থ হইয়া রহিল।”—’রাজবিদ্রোহী’ শব্দের যথার্থ ব্যাসবাক্য
উত্তর: (ঘ) রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যে

১১. “গিরীশ শশব্যস্তে একটা নমস্কার করিয়া কহিল,”—’শশব্যস্ত’ শব্দের যথার্থ ব্যাসবাক্য
উত্তর: (খ) শশকের মতো ব্যস্ত (তাতো)

১২. “তাহার সমস্ত মনশ্চক্ষু একেবারে উধাও হইয়া গিয়াছে।”—’মনশ্চক্ষু’ পদের ব্যাসবাক্য
উত্তর: (গ) মনরূপ চক্ষু

৩ নাম্বার প্রশ্ন ও উত্তর

১. হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন? তিনি কীভাবে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন?
উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্প অনুসারে হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে দাঁড়িয়েছিলেন।
→ পুলিশ-রূপী হরিদার কাছে ধরা পড়ে ছেলেগুলি ভয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল। তারপর মাস্টারমশাই এসে আট আনা ঘুষ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এভাবেই হরিদা মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন।

২. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” দুর্লভ জিনিসটা কী? কে, কীভাবে তা লাভ করেছিল?
উত্তর – সুবোধ ঘোষ রচিত দুর্লভ জিনিসটি হল সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো।
→ জগদীশবাবুর বাড়িতে একবার এক সন্ন্যাসী উপস্থিত হন। সেই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো ছিল অত্যন্ত দুর্লভ। জগদীশবাবু যে-কোনো মূল্যে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিতে চেয়েছিলেন। তাই জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেছিলেন। তখন বাধ্য হয়ে সন্ন্যাসী তাঁর পা এগিয়ে দিয়েছিলেন আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন।

৩. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” – হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী ছিল?
উত্তর – হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে রোজগার করতেন। বিচিত্র সব ছদ্মবেশে তিনি রাস্তায় বেরিয়ে পড়তেন। যারা চিনতে পারত তারা এক-আনা কিংবা দু-আনা বকশিশ দিত। আর যারা চিনতে পারত না, তাদের মধ্যে কেউ কিছুই দিত না অথবা কেউ বিরক্ত হয়ে দু-একটা পয়সা বাড়িয়ে দিত। নানারকম বেশে রাস্তায় বেরোনোই ছিল হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য।

৪. “এবার মারি তো হাতি, লুঠি তো ভান্ডার।” বক্তা কে? তিনি কোন উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন?
বক্তা – গল্পকার সুবোধ ঘোষ ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে নেওয়া আলোচ্য অংশটির বক্তা বহুরূপী হরিদা।
→ উদ্দেশ্য: বহুরূপী সেজে হরিদার উপার্জন ছিল অতি সামান্য। তাই জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসীর খাতির-যত্ন ও অর্থলাভের কাহিনি শুনে হরিদা সিদ্ধান্ত নেন সেখানে যাওয়ার। একবারে এমন উপার্জন করবে, যাতে তাঁর সমস্ত বছর চলে যাবে-এই উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচ্য কথাটি হরিদা বলেছেন।

৫. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” কাকে এ কথা বলা হয়েছে? এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর – বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে এ কথা বলেছেন।
→ কারণ: বিরাগীর বেশে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে এলে জগদীশবাবু তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি তখন বারান্দায় একটা চেয়ারে বসেছিলেন। বারান্দা থেকে জগদীশবাবুর নেমে না আসাটা বিরাগীর ক্ষোভের কারণ হয়। তখন তিনি রুষ্টভাবে বলেন যে, সম্পত্তির অহংকারে জগদীশবাবু নিজেকে ভগবানের থেকেও বড়ো বলে মনে করছেন।

৬. “তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান”-বক্তা কে? তিনি কী উপদেশ শুনেছিলেন?
বক্তা: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পের উল্লিখিত অংশটির বক্তা হলেন জগদীশবাবু।
→ উপদেশ: বিরাগী তাঁকে উপদেশ দিয়েছিলেন—এই ধন, জন, যৌবন সব কিছুই অস্থায়ী, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। মনপ্রাণের সব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু একজনের আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যাঁকে পেলে এই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া যায়।

৭. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”-‘ঢং’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীসে ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যায়?
উত্তর – ‘ঢং’ বলতে এখানে অভিনয়কে বোঝানো হয়েছে।
→ কারণ: হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন বিরাগীর বেশ ধরে অর্থ উপার্জনের জন্য। চাহিদা ও লোভহীন জীবনদর্শনের কথাই তিনি শুধু বলেন না, প্রণামীর টাকা উদাসীনভাবে ফেলে রেখে তিনি আচরণেও তার প্রমাণ রাখেন। হরিদা বলেন যে, বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যাবে।

৮. “টাকা-ফাকা কী করে স্পর্শ করি বল?”-কে বলেছিলেন? কেন তিনি এমন কথা বলেছিলেন?
উত্তর – বহুরূপী হরিদা মন্তব্যটি করেছিলেন।
→ কারণ: উপার্জনের আশায় জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদা সন্ন্যাসী সেজে গিয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা শেষপর্যন্ত বিরাগী চরিত্রের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন যে প্রণামীর একশো এক টাকাও তিনি নেননি। এই ঘটনা হরিদার বন্ধুদের বিস্মিত করে। তাতেই হরিদা বলেন যে টাকা নিলে সন্ন্যাসীর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যাবে বলেই তিনি তা গ্রহণ করেননি।

৯. “হরিদার উনানের আগুন তখন বেশ গনগনে হয়ে জ্বলছে।” – হরিদা কে? উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক পরোক্ষে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর – হরিদা ছিলেন একজন অভাবী মানুষ। তাঁর পেশা ছিল বহুরূপী।
হরিদার ছোট্ট ঘরে উনানে যে আগুন জ্বলে তাতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না। বহুরূপী সেজে সামান্য রোজগারে তাঁর খাবারের সংস্থান হয় না। জগদীশবাবুর বাড়িতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু সন্ন্যাসীর ‘ঢং’ নষ্ট হবে বলে তিনি প্রণামীর টাকা গ্রহণ করেন না। ক্ষিদের আগুন তাই উনানের আগুনের প্রতীকে জ্বলতেই থাকে হরিদার ঘরে।

১০. ‘খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও। উঁচু দরের বলতে কী বোঝায়?
উত্তর – সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহায় থাকতেন। তাঁর বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি। তিনি সারাবছরে কেবল একটি হরিতকী খান।
এখানে ‘উঁচু দরের’ বলতে উচ্চ স্তরের কথা বোঝানো হয়েছে। তিনি আলাদা ও ব্যতিক্রমী। তাঁর পায়ের ধুলো ভয়ানক দুর্লভ জিনিস। জগদীশবাবু তাঁর ঝোলায় একশো এক টাকা ফেলে দিলে, তখন সন্ন্যাসীর মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির স্মিত হাসি। এর থেকেই ‘উঁচু দরের’ স্বরূপটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তো তোমরা দেখতে পেলে আজকের এই আর্টিকেল যে ‘পথের দাবী’ তোমাদের আলোচনা করলাম পাঠ্য বিষয়। ‘পথের দাবী’ তো যে সমস্ত প্রশ্ন আলোচনা করা হলো, সমস্ত প্রশ্ন তোমরা একবার ভালো করে পড়ে নেবে যাতে পরীক্ষাতে এই চ্যাপ্টার থেকে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোমরা মিস না করে আসো।

Leave a Comment