নদীর বিদ্রোহ গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এবং এটি মাধ্যমিক বাংলা ২০২6 পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিডিও/পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি নদীর বিদ্রোহ গল্পের সবরকম গুরুত্বপূর্ণ MCQ (এক নম্বর প্রশ্ন), SAQ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন) এবং LAQ (তিন নম্বরের প্রশ্ন) সহ ব্যাখ্যাসহ উত্তর।
এই ভিডিওটি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও WB SLST Bengali পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই সহায়ক। সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর তৈরি হয়েছে বোর্ড সিলেবাস অনুযায়ী এবং বইভিত্তিক।
নদীর বিদ্রোহ – MCQ (Multiple Choice Questions)
লেখক: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(সঠিক উত্তর প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া আছে)
১. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম –
a) সুবোধকুমার
b) বিভূতি কুমার
c) নির্মল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
d) প্রবোধকুমার
উত্তর: d
২. চারটে ৪৫এ ট্রেনটা কে রওনা করিয়ে দিয়েছিল?
a) নদের চাঁদ
b) নদের নিমাই
c) নদের মানিক
d) নদের কুমার
উত্তর: b
৩. নদের চাঁদ লাইন ধরে কোন দিকে হাঁটতে লাগলো?
a) কোয়াটারের দিকে
b) খেলার মাঠের দিকে
c) হোটেলের দিকে
d) নদীর উপর কার ব্রিজের দিকে
উত্তর: d
৪. কতদিন ধরে অবিরত বৃষ্টি হচ্ছে?
a) তিন দিন ধরে
b) ৫ দিন ধরে
c) সাত দিন ধরে
d) আট দিন ধরে
উত্তর: c
৫. কদিনের টানা বৃষ্টির ফলে নদী কেমন মনে হয়েছিল?
a) ভয়ংকর
b) স্নিগ্ধ
c) যৌবনবতী
d) অপরূপ
উত্তর: a
৬. নদের চাঁদের বয়স কত?
a) পঁচিশ বছর
b) ২৭ বছর
c) ৩০ বছর
d) বত্রিশ বছর
উত্তর: b
৭. নদীর জন্য নদের চাঁদের মায়া ছিল –
a) খুব স্বাভাবিক
b) একটু অস্বাভাবিক
c) বিস্ময়কর
d) লোক দেখানো
উত্তর: b
৮. পেশায় নদের চাঁদ ছিল –
a) স্টেশন মাস্টার
b) রেলের বুকিং ক্লার্ক
c) রেলের বড় অফিসার
d) রেলের সুপারেনটেনডেন্ট
উত্তর: b
৯. নদীর জন্য ভালোবাসার পাগলামি নদের চাঁদকে –
a) দুঃখ দেয়
b) বিরক্ত করে
c) আনন্দ দেয়
d) কিছুই করেনা
উত্তর: c
১০. নিজের দেশের নদী নদের চাঁদের কাছে –
a) অস্পৃশ্যা পেয়েছিল
b) বিরক্তিকর ছিল
c) কোন গুরুত্ব পায়নি
d) দুর্বল আত্মীয়ার মত মমতা পেয়েছিল
উত্তর: d
১১. ব্রিজের কাছাকাছি এসে নদীর দিকে তাকিয়ে নদের চাঁদ –
a) স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল
b) দারুন খুশি হয়েছিল
c) খুব দুঃখ পেয়েছিল
d) ভীষণ বিরক্ত হয়েছিল
উত্তর: a
১২. পাঁচ দিন আগে নদীর চাঞ্চল্য ছিল –
a) খুব স্বাভাবিক
b) সবে মাত্র ছুটতে শেখা বালিকার মত
c) পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ
d) অবিন্যস্ত অগোছালো
উত্তর: b
১৩. ব্রিজের দিকে আস্তে আস্তে নদের চাঁদ ভাবছিল –
a) দেশের সংকীর্ণ ক্ষীণস্রোতার কথা
b) পাহাড়ি নদীর দুরন্তপনার কথা
c) উল্লেখিত নদীর কদিন পূর্বের কথা
d) বর্ষার পর নদীর কি দুর্দশা হবে তার কথা
উত্তর: d
১৪. প্রতিদিন নদের চাঁদ কোথায় বসে নদী দেখতো?
a) নদীর পাড়ে গাছের তলায়
b) নদীর ঘাটে
c) ব্রিজের প্রথম স্তম্ভের কাছে দাঁড়িয়ে
d) ব্রিজের মাঝে মাঝে ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে
উত্তর: d
১৫. পকেট থেকে কী ছুঁড়ে দিয়েছিল নদের চাঁদ?
a) একখানা ঠোঙা
b) নিজের লেখা একটা কবিতা
c) একটা পুরাতন চিঠি
d) বাজে কাগজের একটা দলা পাকানো টুকরো
উত্তর: c
১৬. নদী কী করেছে বলে মনে হয়েছিল নদের চাঁদের?
a) চিঠিখানা তাড়াতাড়ি লুকিয়ে ফেলেছে
b) কবিতার খাতাটি কেড়ে নিয়েছে
c) সৃষ্টিকর্মে বিরক্ত হয়ে ফেলে দিয়েছে
d) চিঠিখানি পরম আদরে গ্রহণ করেছে
উত্তর: a
১৭. নদীর সাথে খেলার লোভ সামলাতে না পেরে নদের চাঁদ –
a) নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল
b) নদীতে এপাশ ওপাশ থেকে দেখতে লাগলো
c) চিঠির একটা একটা করে পাতা ছুঁড়ে দেয়
d) নদীর গতির সাথে তাল মিলিয়ে ছুটতে থাকে
উত্তর: c
১৮. নদীর স্রোতের সঙ্গে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ নদের চাঁদকে –
a) উৎফুল্ল করে তুললো
b) বিরক্তিতে ভরে দিল
c) কোনরকম প্রভাবিত করতে পারল না
d) অবশ ও অবসন্ন করে দিল
উত্তর: d
১৯. প্রবল বৃষ্টিতে নদীর উপর বসে থাকা নদের চাঁদ ভাবলো –
a) এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে
b) তার উচিত হয়নি
c) খুব উচিত হয়েছে
d) এমন ভাবে যদি সারা জীবন বসে থাকা যেত
উত্তর: d
২০. যে নদী এমন ভাবে ক্ষেপে যেতে পারে –
a) তাহাকে ভালোবাসতেই হয়
b) ভালো না বাসিয়া উপায় নাই
c) তাহাকে বিশ্বাস নাই
d) তাহার পাগলী রূপকে কে না ভালোবাসে
উত্তর: b
২১. কোন পথ ধরে নদের চাঁদ স্টেশনের দিকে হাঁটছিল?
a. নদীর ধার দিয়ে
b. ট্রেনের লাইন ধরে
c. টাকা সড়ক ধরে
d. মাঠের মাঝ বরাবর সংক্ষিপ্ত পথ ধরে
উত্তর: b
২২. নদীর বিদ্রোহী মনোভাবের কারণ –
a. বিদ্রোহী তার স্বাভাবিকত্ব
b. আত্মাধিকার
c. মানুষের হাতে বন্দিদশা ঘুচানোর প্রবল ইচ্ছা
d. নিজেকে আর ধরে রাখতে না পারা
উত্তর: c
২৩. মানুষের হাতে বাঁধা পড়া নদী ক্রমে –
a. একেবারে শান্ত অনুগত হয়ে উঠবে
b. ক্ষীণস্রোতা হয়ে পড়বে
c. কানায় কানায় পরিপূর্ণ হবে
d. আত্মতৃপ্ত রূপ ধারণ করবে
উত্তর: b
২৪. নতুন রং করা ব্রিজের জন্য নদের চাঁদ এতদিন –
a. গর্ব অনুভব করেছে
b. বিরক্ত হয়েছে
c. মানুষ হিসাবে আত্মগ্লানির জন্য অনুতপ্ত হয়েছে
d. মানুষের স্বাভাবিক কীর্তি বলে মনে করেছে
উত্তর: c
২৫. নদের চাঁদকে পিষে দিয়ে গেল?
a. ৫ নম্বর আপ প্যাসেঞ্জার
b. ৩১১ কে ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার
c. ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার
d. সুপারফাস্ট আপ গাড়িটি
উত্তর: d
২৬. ‘একবার জলে জলময় পৃথিবীর দিকে চাহিয়া বলিল’-
a. আজ্ঞে হ্যাঁ
b. আজ্ঞে না
c. আজ্ঞে
d. যে আজ্ঞে হুজুর
উত্তর: c
২৭. ‘কিন্তু পারিবে কি?’- এখানে যা পারার কথা বলা হয়েছে –
a. নদীকে আপন করে নিতে
b. নদীকে বাঁধ দিতে
c. চিরকাল স্বাধীনভাবে চলতে
d. নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে
উত্তর: b
২৮. চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করে দিয়ে নদের চাঁদ কাকে ডেকেছিল?
a. খালাসিকে
b. ড্রাইভারকে
c. সহকারীকে
d. স্টেশন মাস্টারকে
উত্তর: c
২৯. পকেট থেকে যা বার করে নদের চাঁদ নদীর স্রোতের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়েছিল?
a. নিজের লেখা একটা কবিতা
b. পুরাতন চিঠি
c. বাজে কাগজের একটা দলা পাকানো টুকরো
d. একখানা পাঁচ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিরহ বেদনা পূর্ণ চিঠি
উত্তর: d
৩০. নদের চাঁদ স্টেশন মাস্টারের দায়িত্ব সামলে ছিলেন –
a. চার বছর
b. তিন বছর
c. দুই বছর
d. সাত বছর
উত্তর: a
৩১. ‘দেখিয়া সে কাঁদিয়া ফেলিল’ – কী দেখে সে কাঁদছিল?
a) নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা দেখে
b) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া দেখে
c) নদীর চাঞ্চল্য দেখে
d) নদীর নির্জীব অবস্থা দেখে
উত্তর: d
৩২. নদীর বিদ্রোহ গল্পের লেখক কে?
a) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
b) আশাপূর্ণা দেবী
c) জহরলাল নেহেরু
d) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: d
৩৩. নদের চাঁদ মানুষ হয় –
a) নদীর কোলে
b) নদীর ধারে
c) নদীর কিনারে
d) নদী থেকে দূরে
উত্তর: c
৩৪. নদের চাঁদ বউকে যে চিঠি লিখেছিল তার পৃষ্ঠা সংখ্যা –
a) ৫
b) ৩
c) ২
d) ১
উত্তর: a
৩৫. পাঁচ পাতার চিঠি লিখতে সময় লেগেছিল –
a) ৫ দিন
b) সাত দিন
c) একদিন
d) দুদিন
উত্তর: b
৩৬. নদীর বিদ্রোহের কারণ ছিল –
a) অতিরিক্ত বর্ষণ
b) অনাবৃষ্টি
c) বন্দি দশা থেকে মুক্তি
d) ক্ষীণস্রোত
উত্তর: c
৩৭. নদীর বিদ্রোহ গল্পে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ছিল –
a) তিনটে ৪৫
b) চারটে ৪৫
c) ৫:৪৫
d) ৬:৪৫
উত্তর: b
৩৮. ‘অবিরত বৃষ্টি হইয়া আজ বিকালের দিকে বর্ষণ থামিয়াছে’ – বৃষ্টি কতদিন ধরে হচ্ছিল?
a) চারদিন
b) ৫ দিন
c) ছয় দিন
d) সাত দিন
উত্তর: b
৩৯. যে ট্রেনটি রওনা করিয়ে সহকারীকে ডেকেছিল সেটার সময় –
a) চারটে ৪৩
b) চারটে ৪৫
c) ৪:৪৬
d) চারটে ৪৭
উত্তর: b
৪০. অবিরত বর্ষণের ফলে নদের চাঁদ নদীকে কতদিন দেখতে পায়নি?
a) ৫ দিন
b) তিন দিন
c) সাত দিন
d) দশ দিন
উত্তর: c
৪১. “কিন্তু শৈশবে কৈশোরে আর প্রথম যৌবনের বড় ছোটর হিসাব আর কে করে?” – কার সম্বন্ধে বলা হয়েছে?
a) নদের চাঁদ
b) নদের চাঁদের সহকারী
c) যেখানে সে কাজ করত সেই নদী
d) নদের চাঁদের দেশের নদী
উত্তর: d
৪২. রেলের উঁচু বাঁধ ধরে হাঁটতে হাঁটতে নদের চাঁদ কল্পনা করছিল –
a) আবার কখন বৃষ্টি শুরু হবে
b) নদীর বর্ষণ পুষ্ট মূর্তি
c) কখন ফেরা যাবে
d) ছোটবেলার ক্ষীণস্রোতা নদীটিকে
উত্তর: d
৪৩. যেই পুরাতন চিঠি নদীতে ছুঁড়ে দেয়, সেটি কার উদ্দেশ্যে লেখা?
a) মায়ের
b) স্ত্রীর
c) বাবার
d) সন্তানের
উত্তর: b
৪৪. নদের চাঁদের মৃত্যু হয় –
a) দুরারোগ্য ব্যাধিতে
b) বাসের ধাক্কায়
c) ট্রামের ধাক্কায়
d) ট্রেনের ধাক্কায়
উত্তর: d
৪৫. প্যাসেঞ্জার ট্রেন কটায় রওনা হতো?
a) আটটা চল্লিশ
b) তিনটে চল্লিশ
c) চারটে ৪৫
d) একটা ৪০
উত্তর: c
৪৬. রেললাইন থেকে ব্রিজের দূরত্ব কত ছিল?
a) ১ মাইল
b) তিন মাইল
c) চার মাইল
d) পাঁচ মাইল
উত্তর: b
৪৭. “এমন ভাবে পাগল হওয়া কি তার সাজে?” – কেন পাগল হয়েছিল?
a) মায়ের জন্য
b) নদীর জন্য
c) ব্রিজ ভাঙার জন্য
d) নদীর কাছে যাওয়ার জন্য
উত্তর: b
৪৮. “বড় ভয় করিতে লাগিল নদের চাঁদের” – কেন?
a) নদী যদি আবার বন্দি হয়ে পড়ে
b) যদি ব্রিজ ভেঙে যায়
c) যদি নদী তাকে ভুলে যায়
d) আবার যদি নদী শুকিয়ে যায়
উত্তর: c
৪৯. অন্ধকারে রেললাইন ধরে কোথায় যাচ্ছিল?
a) বাড়ির দিকে
b) স্টেশনের দিকে
c) নদীর দিকে
d) উৎসের দিকে
উত্তর: b
৫০. “কিন্তু পারবে কি?” – এখানে কি পারার কথা বলা হয়েছে?
a) নদীর বাঁধ ভাঙতে
b) চিরকাল স্বাধীনভাবে চলতে
c) নদীকে বাঁধ দিয়ে বন্দি করতে
d) নদীকে নিজের করে নিতে
উত্তর: c
৫১. ত্রিশ বছর বয়সে নদের চাঁদের পক্ষে কি অস্বাভাবিক?
a) নদীর জন্য ভালোবাসা
b) দরদ
c) মায়া
d) আকুলতা
উত্তর: d
৫২. নদের চাঁদ কোথায় বসে নদী দেখত?
a) নদীর ধারে
b) গাছতলা
c) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে
d) নদীর ঘাটে
উত্তর: c
৫৩. উন্মত্ততার জন্য কাকে জীবন্ত মনে হয়েছিল?
a) প্রবল বাতাসকে
b) সামুদ্রিক ঝড় কে
c) বৃষ্টিকে
d) জলপ্রবাহ কে
উত্তর: d
৫৪. কিসের আকস্মিক আঘাতে চেতনাহীন হয়েছিল?
a) ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দ
b) বাতাসের প্রবল শব্দ
c) বৃষ্টির ঝাপটা
d) ব্রিজ ভাঙার শব্দ
উত্তর: c
৫৫. ‘…এতকাল গর্ব অনুভব করিয়াছে’ – কিসের জন্য?
a) শৈশবের ক্ষীণস্রোতা নদীর জন্য
b) নদীর প্রতি ভালোবাসার জন্য
c) পেশার জন্য
d) নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য
উত্তর: d
৫৬. কত ঘণ্টার বিরতির পর আবার বৃষ্টি শুরু হয়?
a) দু’ঘন্টা
b) ছ ঘন্টা
c) তিন ঘন্টা
d) ৩০ মিনিট
উত্তর: b
৫৭. নদের চাঁদ কোথায় বসে নদী দেখত?
a) নদীর ধারে
b) গাছ তলায়
c) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে
d) নদীর ঘাটে
উত্তর: c
৫৮. রেলের উঁচু বাঁধ ধরে হাঁটতে হাঁটতে কল্পনা করছিল –
a) কখন বৃষ্টি হবে
b) বর্ষণ পুষ্ট মূর্তি
c) কখন ফেরা যাবে
d) ছোটবেলার ক্ষীণ ও স্রোতা নদীর দিকে
উত্তর: d
৫৯. নদী কী চায়?
a) জলকেলি করতে
b) উন্মুক্ত হতে
c) স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে
d) নিশ্চুপ থাকতে
উত্তর: c
৬০. নদীর বিদ্রোহ গল্পটির উৎস –
a) বিষের বাঁশি
b) সরীসৃপ
c) স্বাধীনতার ইতিকথা
d) ভেজাল
উত্তর: a
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
১) ‘নদীর বিদ্রোহ’ গদ্যাংশটি কার লেখা?
উত্তর: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গদ্যাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা।
২) ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাদ পেশায় কী ছিল?
উত্তর: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ পেশায় ছিল একজন স্টেশনমাস্টার।
৩) নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টারি করতে এসে কতদিন তার পরিচিত নদীটিকে দেখতে পায়নি?
উত্তর: নদেরচাঁদ স্টেশন মাস্টারি করতে এসে পাঁচ দিন তার পরিচিত নদীটিকে দেখতে পায়নি।
৪) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
৫) নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কীরকম ছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।
৬) “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল”-কেন তার এমন বোধ হয়েছিল?
উত্তর: নদীকে না দেখতে পেয়ে নদেরচাঁদের অবস্থা ছেলেমানুষের মতো হয়ে গিয়েছিল। সে ছোটছেলের মতো উতলা হয়েছিল নদীকে দেখার জন্য।
৭) নদেরচাঁদের ওপর কীসের দায়িত্ব ছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টার ছিল। তাই সারা দিনরাতে যেসব মেল, প্যাসেঞ্জার ও মালগাড়িগুলি তীব্রগতিতে ছুটে চলে, তাদের গতি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ছিল নদেরচাঁদের ওপর।
৮) নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তার অবস্থা কীরকম হয়েছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল। দুরারোগ্য ব্যাধিতে পরমাত্মীয় মারা যাওয়ার উপক্রম হলে মানুষ যেভাবে কাঁদে সে-ও সেভাবেই কেঁদেছিল।
৯) “দেখিয়া সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল”-সে কী দেখে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটি অনাবৃষ্টির বছরে প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে কেঁদে ফেলেছিল।
১০) “নদেরচাঁদ সব বোঝে;”-নদেরচাঁদ কী বোঝে?
উত্তর: তিরিশ বছর বয়সে নিজের পেশাগত দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হয় এবং আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা নদেরচাঁদ বোঝে।
১১) ‘নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল!’-নদেরচাঁদের স্তম্ভিত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: ব্রিজের কাছে এসে নদীর দিকে প্রথমবার তাকিয়ে নদীর উন্মত্ত চেহারা দেখেই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গেল।
১২) …ফেনিল আবর্ত রচনা করিতেছে।”-কীভাবে নদীতে আবর্তরচনা হয়েছিল?
উত্তর: নদীর জল বর্ষায় অনেকটা বেড়ে গেছিল। তাই নদীর স্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে আবর্ত রচনা করছিল।
১৩) “জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হইতেছিল।”-কেন নদেরচাঁদের নদীর জলপ্রবাহকে জীবন্ত মনে হল?
উত্তর: বৃষ্টির জল পেয়ে নদীর জলপ্রবাহ উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। আর এই উন্মত্ততার জন্যই নদেরচাঁদের নদীর জলপ্রবাহকে জীবন্ত বলে মনে হল।
১৪) “চিঠি পকেটেই ছিল।”-কোন্ চিঠির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে পাঁচ পৃষ্ঠার যে বিরহ-বেদনপূর্ণ চিঠিটি লিখেছিল এখানে সেই চিঠির কথা বলা হয়েছে।
১৫) কীসের সঙ্গে সুর মিলিয়ে নদেরচাঁদ স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিল?
উত্তর: অবিরাম হয়ে চলা বৃষ্টিধারার সঙ্গে সুর মিলিয়ে নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিল।
১৬) নদেরচাঁদের কখন মনে হল তার সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হয়ে আসছে?
উত্তর: নদী থেকে উঠে আসা অশ্রুতপূর্ব একটা শব্দের সঙ্গে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মিশে যেন একটা সংগত পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ওই শব্দ শুনে নদেরচাঁদের মনে হল তার সর্বাঙ্গ যেন অবশ ও অবসন্ন হয়ে আসছে।
১৭) “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদের চাঁদের”-নদেরচাঁদ কেন ভয় পেয়েছিল?
উত্তর: নদীর অবস্থা ভয়ংকর ছিল, নদী যেন রোষে, ক্ষোভে উন্মত্ত ছিল। নদেরচাঁদ নদী থেকে এক হাত উঁচুঁতেই বসেছিল। তাই বর্ষার জলে ফুলেফেঁপে ওঠা নদী যে-কোনো মুহূর্তে বিপদ ঘটাতে পারে-এই ভেবে নদেরচাঁদ ভয় পেয়েছিল।
১৮) “তাহাকে বিশ্বাস নাই।”-কাকে, কেন বিশ্বাস নেই?
উত্তর: নদেরচাঁদ নদীকে বিশ্বাস করতে পারেনি তার উন্মত্ত চেহারার জন্য।
১৯) “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে”-নদীর বিদ্রোহের কারণ নদেরচাঁদ বুঝতে পারল কীভাবে?
উত্তর: শুকনো নদী পাঁচ দিনের বৃষ্টির জলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। উন্মত্ত নদীর তীব্র স্রোতযুক্ত জলধারা দেখে নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল।
২০) “নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে”-নদেরচাঁদ কীসের জন্য গর্ব অনুভব করেছে?
উত্তর: স্টেশনের কাছে নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করেছিল।
২১) কীভাবে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল?
উত্তর: অন্ধকারে অন্যমনস্কভাবে লাইন ধরে স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।
২২) “আজও সে সেইখানে গিয়ে বসল”-কোথায় গিয়ে বসল?
উত্তর: নদেরচাঁদ ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি আর সিমেন্ট দিয়ে গাঁথা ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে গিয়ে বসল।
২৩) “এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল”-উদিষ্ট ব্যক্তি কীসের পাতা জলে ফেলতে লাগল?
উত্তর: নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে লেখা পত্রখানি নদীর জলে ছিঁড়ে ফেলতে লাগল।
২৪) “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে”-নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে আমরা দেখি, নদের চাঁদ অনুভব করে নদীর ওপরে ব্রিজ তৈরি করা ও বাঁধ দেওয়ার কারণেই নদী যেন বিদ্রোহ করেছে।
২৫) “ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলিয়া গেল”-কোন্ ট্রেনটি?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে নেওয়া আলোচ্য অংশে ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কথা বলা হয়েছে।
তিন নম্বরের প্রশ্ন
১) নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এত মায়া কেন তার নিজের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হয়?
নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসা, মায়া, মমতা একটু বেশি রকম ছিল। এমনকি বেশিদিন নদীকে না দেখতে পেলে, নদীকে দেখার জন্য ছেলেমানুষের মতো সে উৎসুক হয়ে উঠত। কিন্তু একজন সাধারণ স্টেশনমাস্টার হয়ে চেনা ছক বা চেনা গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে নদীকে ভালোবাসা কিছুটা হলেও তার পক্ষে যেন বেমানান। তাই নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এত মায়া তার নিজের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হয়।
২) “নদীর জন্য এমনভাবে পাগল হওয়া কি তার সাজে?” কে, কেন এরূপ প্রশ্ন করেছে?
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নায়ক নদেরচাঁদ নদীর জন্য পাগল হত। পেশায় সে স্টেশনমাস্টার। ছোটো হোক, বড়ো হোক, স্টেশনমাস্টারের কাজ দায়িত্বপূর্ণ। দিনরাত মেল, প্যাসেঞ্জার আর মালগাড়িগলির ছোটাছুটি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যাদের, নদেরচাঁদও তাদের মধ্যে একজন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ভুলে সবসময় নদীর জন্য পাগল হওয়া তার সাজে না। তাই নদেরচাঁদ নিজেকেই এই প্রশ্ন করেছে।
৩) “নদীকে এভাবে ভালোবাসবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।” কোন্ প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে? কী কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে? (২+৩)
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ পেশায় ছিল একজন স্টেশনমাস্টার। কিন্তু একজন সাধারণ স্টেশনমাস্টার হয়ে নদীর প্রতি এরকম টান, নদীর জন্য এমনভাবে পাগল হওয়া খানিকটা অস্বাভাবিক মনে হলে নদেরচাঁদের নদীকে এভাবে ভালোবাসার একটা কৈফিয়ত দেওয়ার কথা লেখক বলেন।
নদেরচাঁদের নদীকে ভালোবাসার কৈফিয়তটি ছিল এই যে, তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে নদী। যেহেতু নদীর ধারেই তার জীবনের বেশিরভাগটাই কেটেছে নদীর ধারে তাই চিরদিন সে নদীকে ভালোবেসেছে।
৪) “সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল।”—কী কারণে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল?
নদেরচাঁদের কাছে নদী হল জীবন্ত মানুষের প্রতিমূর্তি। জলপূর্ণ নদী তার কাছে প্রাণময় মানুষের মতো। একবার সে তার জন্মভূমির নদীটিকে শুকিয়ে যেতে দেখেছিল। সেবার অনাবৃষ্টির বছর ছিল। তাই নদীর ক্ষীণ স্রোতোধারা প্রায় বিশুষ্ক হয়ে পড়েছিল। নদীর শুকিয়ে যাওয়া নদেরচাঁদের কাছে মানুষ মৃত্যুর সমতুল্য। তাই সে জন্মভূমির আবাল্য পরিচিত নদীটির জন্য প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।
৫) “দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগিতে ভুগিতে পরমাত্মীয়া মরিয়া যাওয়ার উপক্রম করিলে মানুষ যেমন কাঁদে”—কেন একথা বলা হয়েছে?
‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটগল্পে নদেরচাঁদ চরিত্রটির নদীর ধারে জন্ম, নদীর ধারেই সে মানুষ হয়েছে। তাই নদীর প্রতি তার এক অদ্ভুত টান ছিল। নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব নদীটি অসুস্থ, দুর্বল আত্মীয়ার মতোই তার মমতা পেয়েছিল। একবার অনাবৃষ্টিতে এই ক্ষীণস্রোতা নদীর জল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নদেরচাঁদের ভীষণ কষ্ট হয়েছিল। সে এমনভাবে কেঁদেছিল যেন কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে তার কাছের আত্মীয় মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ এই নদীকে সে পরমাত্মীয়ের মতোই ভালোবাসত।
৬) ‘নদেরচাঁদ সব বোঝে, নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারে না।’—নদেরচাঁদ কী বোঝে? সে নিজেকে বোঝাতে পারে না কেন? (১+২)
নদীর প্রতি নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক। এই কথাটি সে বোঝে।
নদেরচাঁদ জানে তার নদীপ্রীতিকে কেউ সমর্থন করবে না। এটা তার একান্ত নিজস্ব অনুভূতি। এই অনুভূতি সর্বজনীন নয়। তাছাড়া সে যে কাজে নিযুক্ত তাতে নদী সম্পর্কে এত চিন্তা করাটাও বিপজ্জনক। কেননা, সে যে একজন স্টেশনমাস্টার তথাপি নদেরচাঁদ তার মনকে বোঝাতে পারে না। এক অজানা কারণেই তার চঞ্চল মন সর্বদা নদীর কাছেই ছুটে যায়।
৭) নদেরচাঁদের দেশের নদী আর স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত নদী, এই দুই নদীকে ভালোবাসার প্রকৃতি বা স্বরূপ কীরকম ছিল?
নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নদী যেন অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়ের মতোই তার মমতা পেয়েছিল। নদীর জল শুকিয়ে এলে নদেরচাঁদ পরমাত্মীয়র বিয়োগ ব্যথায় কেঁদেছিল।
অন্যদিকে স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত গভীর প্রশস্ত নদী ছিল তার পরমবন্ধু। একদিনও সে নদীকে না দেখে থাকতে পারত না। নদীর স্রোতে নিজের স্ত্রীকে লেখা চিঠি ফেলে এক অদ্ভুত খেলায় নদেরচাঁদ মেতে উঠত। নদীও যেন তার খেলায় যোগ দিয়েছিল। এইরকমই ছিল তার ভালোবাসা।
৮) “চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।”—কেন নদেরচাঁদের কাছে নদীর মূর্তি অপরিচিত বলে মনে হল আলোচনা করো।
উদ্ধৃতাংশটিতে নদেরচাঁদের স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচয় হওয়া বাঁধে বন্দি নদীটির কথা বলা হয়েছে। এই নদী গভীর, প্রশস্ত ও জলপূর্ণ। কিন্তু প্রবল বর্ষায় পাঁচ দিন সে নদীকে দেখতে যেতে পারেনি। পাঁচ দিন পরে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল, নদী যেন তার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিদ্রোহ করছে। নদীর গাঢ় পঙ্কিল জল ফুলেফেঁপে ছুটে চলেছে। নদীর এই ভয়ংকর রূপ নদেরচাঁদ আগে কখনও দেখেনি। তাকে তার অপরিচিত বলে মনে হল।
৯) নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে যে খেলায় মেতে উঠেছিল, সেই খেলাটি কীরকম ছিল?
এক বর্ষার দিনে নদীর কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল নদীর জল ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে এক ফেনিল আবর্ত রচনা করেছে। সে পকেট থেকে অনেকদিন আগে স্ত্রীকে লেখা একটা চিঠি বার করে নদীর স্রোতে ছুঁড়ে ফেলল। চোখের পলকে সেই চিঠি অদৃশ্য হয়ে গেল। চিঠির এক-একটি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে সে নদীর মধ্যে ফেলতে লাগল আর নদীও যেন সেগুলি নিজের মধ্যে লুকিয়ে ফেলতে লাগল। এইভাবে নদেরচাঁদ এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছিল।
১০) “আজ যেন সেই নদী ক্ষেপিয়া গিয়াছে।” নদীর ক্ষেপে যাওয়ার মধ্যে নদেরচাঁদ কোন সত্য উপলব্ধি করেছে?
বর্ষায় নদী টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। প্রবল তার জলস্রোত। পরিপূর্ণতার আনন্দে সে যেন মাতোয়ারা। কোনো বাধা সে মানতে চায় না। প্রমত্ত জলের ঘূর্ণিতে পঙ্কিল আবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নদেরচাঁদ মনে করেছে, নদী এবার বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। মানুষ বিদ্রোহী হলে যেমন দুর্বার দুরন্ত হয়, হয়ে ওঠে প্রতিবাদী, ঠিক তেমনই নদীও যেন আজ আগ্রাসী মানুষের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে চাইছে।
১১) “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” কী কারণে নদেরচাঁদের এমন অবস্থা হয়েছিল লেখো।
নদেরচাঁদ নদীকে বড়ো বেশি ভালোবাসত। বর্ষায় নদী পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সে বিমুগ্ধ চোখে পরিপূর্ণ নদীকে দেখছিল। উন্মত্ত জলস্রোত পাগলের মতো ছুটে চলেছিল। জলস্তর এত উঁচুতে উঠে এসেছিল যে, নদেরচাঁদ হাত বাড়িয়ে তা ছুঁতে পারত। নদী যেন এখন পূর্ণ যৌবনা। অপ্রতিরোধ্য তার গতি। জলের কোলাহল যেন প্রাণের কোলাহল। নদীর এই পরিপূর্ণ রূপ দেখে নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হয়েছিল।
১২) “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের”—কী কারণে নদেরচাঁদের ভয় করতে লাগল?
নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে খেলায় মেতেছিল। মুষলধারে বৃষ্টি নামলেও সে ভিজে ভিজেই নদীর পরিপূর্ণ রূপ দেখছিল। তারপর দিনের ম্লান আলোটুকু ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। চারিদিকে নেমে এল নিবিড় অন্ধকার। বৃষ্টি একটু থেমে আবার প্রবল বেগে শুরু হল। নদীর কলধ্বনি আর বর্ষণের ঝমঝম শব্দ সংগীতের ঐকতান সৃষ্টি করল। নদেরচাঁদের মন থেকে ছেলেমানুষি আমোদ মিলিয়ে গেল। সহসা যেন তার সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হয়ে এল। এই পরিবেশে নদীর রহস্যময়তা দেখে নদেরচাঁদের ভয় করতে লাগল।
১৩) “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে”—কে কীভাবে নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল?
পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পর নদীর কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল নদীর পঙ্কিল জলস্রোত ফুলেফেঁপে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলেছে। নদী যেন কোন্ এক রোষে, ক্ষোভে উন্মত্ত। নদীর জলস্রোত প্রায় ব্রিজের কাছাকাছি উঠে এসে ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে যেতে চাইলে নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল। তার মনে হল, নদী যেন মুক্তি পেতে চাইছে, ফিরে পেতে চাইছে তার স্বাভাবিক গতি, আর তাই তার এই বিদ্রোহ।
১৪) “কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?” কোন্ ব্রিজের কথা বলা হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির তা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে কেন? (১+২)
নদেরচাঁদ যে স্টেশনে স্টেশনমাস্টারির কাজে নিযুক্ত ছিল তার অনতিদূরেই ছিল একটি নদী। এই নদীটির ওপর যে কংক্রিটের ব্রিজ ছিল, এখানে সেই ব্রিজটির কথাই বলা হয়েছে।
আগে নদেরচাঁদ নদীর ব্রিজটিকে নিয়ে গর্ব অনুভব করত। কিন্তু বর্ষায় নদী জলে পরিপূর্ণ হলে নদেরচাঁদের মনে হল ব্রিজটি যেন নদীর পায়ের শেকল। ব্রিজের থামগুলো যেন নদী প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা। নদীর স্বাধীনতাকে অবরুদ্ধ করে এমন কোনো জিনিস নদেরচাঁদের অভিপ্রেত নয়। তাই নদেরচাঁদের মনে হল ব্রিজটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।
১৫) ‘পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?’—কার, কী পারার কথা বলা হয়েছে? মানুষ কীভাবে তাকে রেহাই দেবে না? (১+২)
নদী ইচ্ছা করলে তার তীব্র জলস্রোতে মানুষের গড়া বাঁধ চুরমার করে দিতে পারে।
কিন্তু তবুও মানুষ তাকে রেহাই দেবে না। তারা আবার নতুন করে বাঁধ তৈরি করবে, প্রবাহমান জীবন্ত নদীকে বন্দি করবে ইচ্ছামতো। নীরব নদী মুখ বুজে সেসব সহ্য করবে। এ ছাড়া তার কীবা করার আছে। কারণ মানুষের আগ্রাসন কখনও শেষ হয় না। নদী পেরে ওঠে না তার সঙ্গে।
১৬) “বন্দি নদীকে ভালোবাসিয়াছে”—এখানে কার ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে? কেন নদীকে বন্দি বলা হয়েছে? (১+২)
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে নদেরচাঁদের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।
নদেরচাঁদের স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত হওয়া নদীটি ছিল গভীর, প্রশস্ত ও জলপূর্ণ। তার প্রবল গতিবেগ রুদ্ধ করা হয়েছিল বাঁধ দিয়ে, আর নদীর ওপরে ছিল ব্রিজ। এই বাঁধ আর ব্রিজ যেন নদীকে বন্দি করে রেখেছিল। নদী ফিরে পেতে চেয়েছিল স্বাভাবিক গতি। কিন্তু বাঁধ দিয়ে নদীর প্রবল জলস্রোতকে আটকে সত্যিই তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।